

সাভারের আশুলিয়ায় দুটি কারখানার শ্রমিকদের
মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে রোকেয়া বেগম নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন শ্রমিক।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার
জিরাবো এলাকায় মাসকট নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার সামনে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত নারী শ্রমিক রোকেয়া বেগম আশুলিয়ার
জিরাবো এলাকার মাসকট গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার সহকারী সেলাই মেশিন অপারেটর।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, আজ সকালে
মাসকট শ্রমিকরা কাজ না করে কারখানার বাইরে চলে আসে। এসময় তাদের কারখানার সামনে রেডিয়্যান্ট
গার্মেন্টসের কাজ বন্ধ করতে মাসকট কারখানার শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে দুই গার্মেন্টসের শ্রমিকরাই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন।
এতে ইটপাটকেলের আঘাতে মাসকট কারখানার রোকেয়া বেগম নামে এক শ্রমিক নিহত হন। উভয়পক্ষের
আরও অন্তত ২০ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশসহ জেলা
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।
মন্তব্য করুন


১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর সাতরাস্তায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা করে ট্রাফিক
বিভাগ। মামলার তদন্ত ও বিচার শেষে শুধু মিনিবাস চালকের সাজা হয়।
ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট আ.জলিলের দায়ের করা এজাহারে বলা হয়, ১৯৯২ সালের ১৪
অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটায় তেজগাঁও পলিটেকনিকের কাছে সাতরাস্তার মহাখালী রোডে একটি মিনিবাস
দ্রুতগতিতে ও বেপরোয়াভাবে চালিত হয়ে একটি বেবিটেক্সিকে ধাক্কা দেয়। এতে বেবি চালকসহ
যাত্রীরা আহত হন। এক যাত্রী ও চালক হাসপাতালে ভর্তি হন। মিনিবাস চালক পালিয়ে
যায়।
মামলার তদন্তকালে বেবি চালক কলিমউদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন। তদন্ত শেষে মিনিবাস চালক
সেলিমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
সেই সাজা থেকে রেহাই পেতে আপিল ও রিভিশন করেন বাস চালক সেলিম। ৩২ বছর শেষে অবশেষে
হাইকোর্ট তার সাজা বহাল রাখেন।
২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রায়টি দিয়েছেন বিচারপতি মো.আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট
বেঞ্চ। সম্প্রতি এই রায়টি প্রকাশ করা হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো.আশেক মোমিন,
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট লাকী বেগম ও ফেরদৌসী আক্তার।
তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
এ ঘটনায় করা মামলার বিচার শেষে ১৯৯৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
শওকত আলীর আদালত রায় দেন। রায়ে সেলিমকে পৃথক ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক
হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। জামিনে থাকা সেলিম রায়ের সময় পলাতক
ছিলেন।
পরে মহানগর দায়রা আদালতে আপিল করা হয়। ৩৫৬৯ দিন পর এ আপিল করা হয়। ২০০৫ সালের
৩০ নভেম্বর আপিলটি গ্রহণ না করে সরাসরি খারিজ করেন মহানগর দায়রা জজ মো.মমিন উল্লাহ।
পরবর্তীতে এর বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে হাইকোর্টে রিভিশন করেন সেলিম। শুনানি শেষে ২০২৩
সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।
রায়ে রিভিশন খারিজ করে হাইকোর্ট বিচারিক আদালত ও আপিল আদালতের রায় বহাল রাখেন।
রায় পাওয়ার ত্রিশ দিনের মধ্যে আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আসামিকে
গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (দারুস সালাম জোন) মফিজুর রহমান পলাশ জানান,রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৬০০ রাউন্ড গুলি সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ব্লাঙ্ক ফায়ারের জন্য ব্যবহৃত গুলি বিশেষ ।
তিনি আরো বলেন, আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে শাহ আলীর চিড়িয়াখানা রোডে সড়ক বিভাজকের ওপরে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাগজের প্যাকেটের মধ্য রাখা গুলি সদৃশ বস্তু জব্দ করা হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, গুলি সদৃশ এসব ধাতব বস্তু শনাক্তে আদালতের নির্দেশনা সাপেক্ষে সিআইডির ব্যালেস্টিক শাখায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠাবো হবে এবং যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
মন্তব্য করুন


ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানী ঢাকাকে নিরাপদ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদা তৎপর। পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। প্রত্যেক পেট্রল পাম্পে রাতে একবার হলেও পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে। অবরোধ চলাকালে পুলিশের কর্মকাণ্ড কিন্তু দৃশ্যমান। পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করছে। আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম ও অব্যাহত আছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, কীভাবে নিরাপদে আমরা সামনের দিনগুলোতে চলতে পারি, এটাই এখন আমাদের মূল উদ্দেশ্য। একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি চলছে। আপনারা জানেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে, এটিই স্বাভাবিক। সবাইকে এটি মেনে নিতে হবে। কারণ আমরা একেকজন একেক দল পছন্দ করি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে যারা গাড়িতে আগুন দিচ্ছে,পেট্রল বোমা মারছে, সহিংসতা-নাশকতা করছে তাদের অনেককে আমরা হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছি, অনেককে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন বললেন ডিএমপি কমিশনার ।
তিনি আরও বললেন নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিলে ২০ হাজার নগদ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিরোধ গড়তে হবে, এ ধরনের ঘটনা যাতে তারা না ঘটাতে পারে, বলেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ঢাকায় যানজট কমাতে চালু হওয়া মেট্রোরেল যাত্রীদের মাঝে ছড়িয়েছে উচ্ছ্বাস। আর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলা মেট্রোরেল মতিঝিলে বর্ধিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে র্যাপিড পাস বিক্রি। এদিকে মেট্রোরেল কেন্দ্রিক যাত্রী টানতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) চালু করেছে শাটল বাস।
উত্তরা (হাউজ বিল্ডিং) থেকে দিয়াবাড়ি ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) স্টেশন পর্যন্ত বিআরটিসির পরিচালিত মেট্রোরেল শাটল বাস সার্ভিসের জন্য গত বুধবার থেকে টিকিট কাউন্টার স্থাপন হয়েছে। তবে র্যাপিড পাস বিক্রির ক্ষেত্রে যাত্রীদের থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
ডিটিসিএ- এর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্লানার ধ্রুব আলম বলেন, রোববার (৫ নভেম্বর) ১০০টি র্যাপিড পাস বিক্রি হয়েছে। সোমবার (৬ নভেম্বর) থেকে ২৫০টি করে বিক্রি করা হবে। তিনি বলেন, আজ থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছে। মতিঝিল আর দিয়াবাড়িতে। যতক্ষণ মেট্রোরেল চলবে ততক্ষণ পর্যন্ত। মতিঝিলে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ছিল। আজ ৫০টা ৩০ মিনিটে বিক্রি হয়েছে।
র্যাপিড পাস বিক্রির লোকেশন বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সোমবার মিরপুর ১০, আগারগাঁও, মতিঝিল ও দিয়াবাড়ি।এর আগে বুধবার ডিটিসিএ-র নির্বাহী পরিচালক সাবিহা পারভীন দিয়াবাড়ি মেট্রো স্টেশনে উপস্থিত থেকে এটি উদ্বোধন করেন। উত্তরা (হাউজ বিল্ডিং) ও দিয়াবাড়ি এমআরটি স্টেশনে দুইটি অস্থায়ী টিকিট কাউন্টারের উদ্বোধন করেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকার উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রথম মেট্রোরেল যেটা এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত। এ প্রকল্প সরকার হাতে নেয় ২০১২ সালে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর এ পথের প্রথমাংশ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হলেও দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল চলতি সালের শেষ দিকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
আর মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিতাংশ চালু হতে পারে ২০২৫ সালে। এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের সর্বোমোট ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী জাইকার অর্থায়ন ১৯ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা ও সরকারি অর্থায়ন ১৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।
মন্তব্য করুন


গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীর গোপীবাগে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ট্রেনে আগুন দেওয়ার পর ট্রেনটির চলাচল বন্ধ ছিল।
পাঁচদিন পর ১৪১ জন যাত্রী নিয়ে আবারও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বেনাপোল এক্সপ্রেস। বেনাপোল রেলস্টেশন ম্যানেজার শাহিদুজ্জামান নিশ্চিত করে বলেছেন বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়েছে । এরমধ্যে ঢাকার যাত্রী রয়েছেন ৫৫ জন।
শাহিদুজ্জামান জানান, পাঁচদিন পর ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ট্রেনটি সাপ্তাহিক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও আজ ট্রেনটি চালু করা হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে ট্রেনটি। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। পৌঁছাবে শুক্রবার সকাল ৭টায়।
যাত্রীরা জানান, ৫ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মনে মনে সামান্য ভয় কাজ করলেও ট্রেন ভ্রমণ অনেক আরামদায়ক এবং স্বল্প খরচ। তাই ট্রেনে যাচ্ছি।
গত ৫ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে চলন্ত অবস্থায় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজন মারা গেছেন। দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ জন। তাদের অবস্থা ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।আগুনে পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো চেনার উপায় নেই। মরদেহের পরিচয় জানতে পারেননি স্বজনরা। চারটি মরদেহের দাবিদার স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নিয়ে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ কাজ করছে। মরদেহের নমুনার সঙ্গে স্বজনদের পরিচয় শনাক্তের পর হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
আর এ ঘটনার পরদিন ট্রেনটির পরিচালক (গার্ড) এস এম নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।
ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার হোসেন বলেন, গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের ঘটনায় সরাসরি কে বা কারা জড়িত, এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আগুনে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাত্রদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের সাথে একজোট হয়ে কাজ করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ এনে দিয়েছে, তা ব্যবহার করে আমরা অতীতের পচা বাংলাদেশ থেকে একটা নতুন তরতাজা বাংলাদেশের সৃষ্টি করতে চাই। আসুন, এ লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করি।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ন্যাশনাল বিজনেস সংলাপে তিনি আরো বলেন, “এটা কোনও কল্পকাহিনী না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস- আপনার মনস্থির করে এগিয়ে এলে খুব দ্রুত গতিতে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।”
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এবং জাতীয় পর্যায়ের ১৫টি বাণিজ্যিক সংগঠন এ সংলাপের আয়োজন করে।
সবাই মিলে একজোট হয়ে কাজ করলে তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা অবশ্যম্ভাবী- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে ব্যবসায়ীদের
উদ্দেশে নোবেলবিজয়ী ড. ইউনূস বলেন, “আমরা যে বড় কিছু করতে পারি তার প্রমাণ হলো ব্যবসায়ীরা। বিরাট দুঃসাহস নিয়ে আপনারা উদ্যোক্তা হয়েছেন। বাংলাদেশিদের
কাছে শিল্পপতি হওয়া দুঃস্বপ্ন ছিল, কিন্তু আপনারা সেটা করতে পেরেছেন। আপনারা বিশ্বমানের উদ্যোক্তা। যুবকরা যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা কাজে লাগিয়ে আপনারা স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবেন।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ পারস্পারিকভাবে পরিচিত এবং একজনের সঙ্গে আরেকজনের যোগসূত্র রয়েছে। দুনিয়ায় এমন কোনও দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ। এখানে হয়তো কেউ সরকারে আছেন, কেউবা সরকারের বাইরে আছেন বা ব্যবসা করছেন। অথবা কেউ আছেন বিদেশে। কিন্তু আমাদের সবার সঙ্গে একটা যোগসূত্র আাছে। পারস্পারিক এই যোগসূত্রই আমাদের বড় শক্তি যা আমাদের স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।”
তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নোবেলবিজয়ী ড. ইউনূস বলেন, “যে কয়টা দিন সরকারে থাকি- আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আমাদের অঙ্গীকার হলো- নতুন বাংলাদেশের জন্য যা আছে তা করবো। যেন বলে যেতে পারি- এই দেশ আমাদেরকে একটা সুযোগ দিয়েছিল, আমরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছি।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণরা প্রাণ দিয়েছে। যে বাংলাদেশে তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা তা অসহ্য হয়ে উঠেছিল। এ কারণে যখন ছাত্রদের প্রাণ ঝরছিল- তখন সারাদেশের মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে এমন কোনও মানুষ ছিল না তাদের সমর্থন করেনি। তাদের প্রাণের ফলে আমরা একটা নতুন সুযোগ পেয়েছি।”
ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. ইউনসূ বলেন, “সংস্কার কেবল সরকারের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আসুন সবাই মিলে সংস্কার করি। যেখানে ভুল দেখবেন, আত্ম-জিজ্ঞাসা করবেন-সেখান থেকে বেরিয়ে আসার। ছেলেদের আত্মাহুতির দিকে তাকিয়ে ভুলপথ পরিহার করুন।”
শ্রমিক-মালিকের মধ্যে সরকার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের মেয়াদকালে আমরা শ্রমিক-মালিকের সম্পর্ক সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা এখনও জেনেভা কনভেনশনে যোগ দিতে পারিনি। আমাদেরকে সাহস দিন, এগিয়ে আসুন, আমরা সবাই মিলে আইএলও কনভেনশনে স্বাক্ষর করি।”
তিনি শ্রমিকদের যা প্রাপ্য, মালিকদের তাতে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় অনেক বাধা রয়ে গেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “ব্যবসায় বাধার কোনও সীমা নেই। ব্যবসা করা এক মহা সংগ্রাম। তবে আমরা এসব বাধা পেরিয়ে যেতে আজ একযোগে সরকার, সরকারের বাইরে সবাই এক পরিবারের সদস্য হিসেবে কাজ করে যাবো।”
তিনি ব্যবসায়ীদের
উদ্দেশে বলেন, “বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য-আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হলে রফতানির ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা হারাবে। কিন্তু আমাদের প্রতিযোগিতায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।”
দেশের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যবসায়ীদের সামাজিক ব্যবসা চালুর আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আপনার গ্রাম, উপজেলা কিংবা আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এলাকায় সামাজিক ব্যবসা গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ও পরিবেশ উন্নয়নমূলক সামাজিক ব্যবসা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি বিনিয়োগ করবেন মুনাফার জন্য নয়, অন্যের সহায়তা বা সুবিধার জন্য।”
সংলাপে অর্থ উপদেষ্টা ড, সালেহউদ্দিন
আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন
মাহমুদ এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বক্তব্য রাখেন। সূত্র: বাসস
মন্তব্য করুন


রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লা ভিঞ্চি হোটেলের পাশে টিনশেড ঘরে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের আধা ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবার (১৮ মে) সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে টিনশেড ঘরটিতে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক
মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনসকে (বিসিপিএস)
কার্যকরী ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছেন।
(২৪ জুন) সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড
সার্জনস (বিসিপিএস)-এর নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ এর বিষয়টি নিয়ে
ব্রিফ করে ।
প্রেস সচিব জানান, বিসিপিএস এর কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাতকালে বিসিপিএস-এর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব
দেন। তিনি বিসিপিএস এর একাডেমিক কার্যক্রম ও ডিগ্রি প্রদানের সার্বিক প্রক্রিয়া রাষ্ট্রপতিকে
জানান।
বিসিপিএস এর কার্যকরী ভূমিকা রাখা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসা মানুষের অন্যতম
মৌলিক অধিকার। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও
দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার
পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও তাগিদ দেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি
করা গেলে চিকিৎসা সেবার জন্য বিদেশমুখীতার প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি মূল্যবান বৈদেশিক
মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। জনগণও কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।
অধ্যাপক সহিদুল্লা জানান, বিসিপিএস থেকে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৮১৫ জন চিকিৎসক ফেলাশিপ
(এফসিপিএস) এবং ৩ হাজার ৭৯১ জন চিকিৎসক মেম্বারশীপ (এমসিপিএস) লাভ করেছেন। বাঙালি জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৬ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে যুক্তরাজ্যের
রয়েল কলেজগুলোর আদলে বিসিপিএস প্রতিষ্ঠা করেন।
এই কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য
ভূমিকা রাখছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও
ইনস্টিটিউটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের
পাঁচটি ইউনিটের প্রচেষ্টায় শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টা ২৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে
আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ
করছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকক্ষের
ডিউটি অফিসার লিমা খানম আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে
শিশু হাসপাতালে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দ্রুত প্রথমে দুই ইউনিট ও পরে আরও
তিন ইউনিট হাসপাতালে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এরপর দুপুর ২টা ২৮ মিনিটে আগুন
নিয়ন্ত্রণ ও ২টা ৩৯ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণরূপে নির্বাপণ হয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার
কারণ ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
এদিকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল
ও ইনস্টিটিউটের দায়িত্বরত চিকিৎসকের কক্ষের এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে
মনে করছেন হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি আরও বলেছেন, আগুনে রোগীদের
কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। রোগীদের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে
পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে আগুন লাগার তথ্যটি
ভুল। আগুন লেগেছে কার্ডিয়াক বিভাগে। ওই বিভাগের আইসিইউতে থাকা ১৭ জন রোগীকে সরিয়ে
নেওয়া হয়েছে। এ ব্লকের রোগীদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে রোগীদের শিফট করা হবে।
মন্তব্য করুন


চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে সচিবালয় অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও হামলার মামলায় রাজধানীর পৃথক চার থানার মামলায় গ্রেপ্তার ৩৯০ জন আনসারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশাররফ হোসেনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
৩৯০ জন এর মধ্যে রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও বিমানবন্দর থানার পৃথক চার মামলায় তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার ১৯১ জন, রমনা থানায় ৯৮ জন, পল্টন থানায় ৯৫ জন ও বিমানবন্দর থানার মামলায় ৬ আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে আনা হয়। এ চার থানার মামলায় অন্তত ৪২৬ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়। এছাড়াও অন্তত দশ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় আনসার সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।
এসব মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সচিবালয়ের সামনে সাধারণ আনসার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় কিছু আনসার সদস্যরা পল্টন মডেল থানাধীন জিরো পয়েন্ট এলাকায় চাকরি জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজপথ অবরোধ করে রাখে। এসময় পুলিশ তাদের ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুরোধ অমান্য করে রাস্তা অবরোধের মাধ্যমে যান চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এদিকে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টারা তাদের দাবি-দাওয়ার
প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাধারণ আনসারদের পক্ষে কয়েকজন প্রতিনিধির
সঙ্গে তাৎক্ষণিক বৈঠক করেন এবং আংশিক দাবি পূরণ করেন। এছাড়াও অন্যান্য যৌক্তিক দাবিগুলো
একটি কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন