

নীলফামারীর
ডিমলা থানায় দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ করে ডিউটি অফিসারের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা ধসে
পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
পাশাপাশি একটি সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।
শুক্রবার
১৪ আগস্ট রাত ১২টার দিকে ডিমলা থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ
সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে ডিউটি অফিসার হিসেবে থানার এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন ওই
কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই ছাদের একটি বড় অংশের পলেস্তারা ধসে সরাসরি
তার টেবিলের ওপর পড়ে। এতে তিনি কাঁধে আঘাত পেয়ে আহত হন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত
পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন জানান, তিনি যথারীতি ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব
পালন করছিলেন। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়লে তিনি কাঁধে আঘাত পান। এছাড়া থানায় পুলিশি
কার্যক্রমে ব্যবহৃত সরকারি একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে।
এ
বিষয়ে ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে
পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন
এবং দ্রুত মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, আট বছর বয়সী
স্কুলছাত্রী রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
তিনি
বলেন, “দ্রুত চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে রামিসা হত্যা মামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দ্রুত
সম্পন্ন হবে বলে আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করতে পারি। তবে শাস্তি নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য
করতে পারি না।”
স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রামিসা হত্যা মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের
প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী
বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সব ধরনের জঘন্য অপরাধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
দিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি
আরও বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো জঘন্য অপরাধের উদাহরণ দেখাতে পারবেন না,
যেখানে বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে বা দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
রামিসা
হত্যা মামলার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি
সোহেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


রাজবাড়ীর
কালুখালীতে নিখোঁজের পরদিন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি পাটক্ষেত থেকে আসাদুল ইসলাম
(২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার পর তার লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার
চেষ্টা করা হয়।
সোমবার
(১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের সূর্যদিয়া
মাদ্রাসার পাশের পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কালুখালী থানা পুলিশ।
এর
আগে রোববার রাত ১০ টার দিকে আসাদুল ইসলামের নিখোঁজের বিষয়টি থানায় অবগত করেন তার পরিবার।
আসাদুল
ইসলাম মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি বালিয়াকান্দির
মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী বলে দাবি
করেছেন জেলা জামায়াতে অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম।
জানা
গেছে, রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন আসাদুল ইসলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খোঁজাখুঁজি
করে সন্ধান না পেয়ে রাত ১০ টার দিকে স্থানীয় থানা পুলিশকে নিখোঁজের বিষয়টি অবগত করে
তার পরিবার।
সোমবার
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পাংশা
সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, সকালে পাটক্ষেতে থেকে নিখোঁজ হওয়া
আসাদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আসাদুলকে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা
হয়েছে। আসাদুলের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
হত্যার কারণ উদঘাটন ও এরসঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাজবাড়ী
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আসাদুল মদাপুর ইউনিয়নের
৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সেক্রেটারি ছিলেন। গতকাল বিকেলে সোনাপুর
হাটে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অবহিত করা
হয়। আজ সকালে একটি পাটক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।
মন্তব্য করুন


সাম্প্রতিক
বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে প্রাথমিকভাবে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ
২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়, যেখানে
ক্ষতির পরিমাণ ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা।
চট্টগ্রাম
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,
রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে প্রাণিসম্পদ খাত
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন
অনুযায়ী, বন্যায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৯৪টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪২টি গবাদিপশু এবং ১০ হাজার ৯৯১টি খামার। জেলাভিত্তিক হিসাবে
কক্সবাজারে ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা, রাঙামাটিতে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা,
খাগড়াছড়িতে ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা এবং বান্দরবানে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত
খামারগুলোর মধ্যে ৪ হাজার ৭৫৬টি গবাদিপশুর খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং
৬ হাজার ২৩৫টি হাঁস-মুরগির খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া ৯১০ টন দানাদার পশুখাদ্যে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ১৪ হাজার ২৬৫ টন খড়ে
২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৯ হাজার ১২৯ টন ঘাসে ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকার
ক্ষতি হয়েছে। মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার
৭৪০ টাকা।
শুধু
চট্টগ্রাম জেলাতেই ১৫টি উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ২১৮টি গবাদিপশুর খামারে ১২ কোটি
৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার ৬৭৪টি হাঁস-মুরগির খামারে ১৭ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার
টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১৬২ টন পশুখাদ্যে ৯২ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৬ হাজার ৯৬০ টন ঘাসে
৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং মৃত গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিতে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার ১৪০ টাকার
ক্ষতি হয়েছে।
বন্যার
পানিতে চট্টগ্রামের ১ হাজার ১ একর, কক্সবাজারের ৭ হাজার ৮৪০ একর, বান্দরবানের ৫১০ একর
এবং রাঙামাটির ১ হাজার ১২৯ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। এতে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল,
৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২ হাজার ৫০৮টি হাঁস মারা গেছে। এর মধ্যে
শুধু চট্টগ্রামেই মারা গেছে ৩৯টি গরু, ৯৫টি ছাগল, ৪২টি ভেড়া, ১ লাখ ৪২ হাজার ১৩৭টি
মুরগি এবং ১ হাজার ৩০০টি হাঁস।
এদিকে
বন্যার কারণে পাঁচ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯০টি গরু, ৪ হাজার ৭৫৫টি মহিষ, ১ লাখ ৬০ হাজার
৮৭টি ভেড়া, ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৮টি মুরগি এবং ৭০ হাজার ৩৭০টি হাঁস অসুস্থ হয়েছে। এ পর্যন্ত
১১ হাজার ৮৯৭টি পশু এবং ৮৪ হাজার ৬৫০টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি
১০ হাজার ৬৮৯টি পশু ও ১৯ হাজার ২৭টি হাঁস-মুরগিকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
এ
ছাড়া বন্যার পানিতে চট্টগ্রামের তিনটি, কক্সবাজারের একটি এবং বান্দরবানের চারটি প্রাণিসম্পদ
কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপপরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল
হাসান বলেন, মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। তবে তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও চলমান থাকায় এ হিসাব পরিবর্তিত
হতে পারে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের
আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে রমজান মাস শুরু।
সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী
ফরিদুল হক খান।
আজ
রাতেই এশার নামাজের পর ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা তারাবির নামাজ আদায় শুরু করবেন এবং শেষরাতে
সাহরি খাবেন।
তার
আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৈঠক
করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি
মো. ফরিদুল হক খান। সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র
রমজান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়,
বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন
প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার মুরাদনগরে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৪টায় মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তিনি প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন।
বাংলাদেশ পুলিশের মুরাদনগর থানার একটি চৌকস ইউনিট উপদেষ্টাকে নিজ উপজেলায় প্রবেশের পর গার্ড অফ অনারে বরণ করে নেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষাবিদরা।
আয়োজকরা জানান, কোরআন হিফজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং মেধাবীদের সম্মাননা জানানোর উদ্দেশ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, "কুরআন হিফজকারীরা সমাজের গর্ব। তাদের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সমুন্নত থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগকে সবসময় উৎসাহিত করা হবে।"অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজক কমিটির হাফেজ মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান জানায়, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এই ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী
লীগ সরকারের সময় একাধিকবার উত্থাপন করা হলেও অনুমোদন পায়নি পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প।
অবশেষে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময় অনুমোদন পেল প্রকল্পটি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম
পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।
বুধবার
(১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয়
অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের
কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে বড় অংকের অর্থ
ব্যয় করে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্প ২০৩৩
সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পটির
পুরো অর্থাৎ করবে সরকার। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এর
আগে গত ৬ মে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা জরিপের কাজ শেষ
হয়ে আসার কথা জানিয়েছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। প্রকল্পটি গ্রহণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- ভারতের ফারাক্কা
বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানির অভাব দেখা দেয়। এর ফলে যে শুষ্ক ও লবণাক্ততার
সৃষ্টি হয়, তা রোধ করা।
প্রকল্প
প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ
করে পানি সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া নদীর নাব্য
রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।
খুলনা,
ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯ জেলা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। প্রকল্প প্রস্তাবনায়
হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থাপনাকে
পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত,
যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ
বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবনায়। প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, এ প্রকল্পের
মূল অংশ পদ্মা ব্যারেজ, যা ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো হিসেবে
৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস ও নেভিগেশন লক রয়েছে।
এ
ছাড়া গড়াই অফ-টেক, চন্দনা অফ-টেক ও হিসনা অফ-টেক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে
এই মেগা প্রকল্পে। একই সঙ্গে ১১৩ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও দেখানো
হয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্যারাজ থেকে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফ-টেক থেকে ৩৬ দশমিক
৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের
আওতায় গড়াই-মধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং হিসনা নদী ব্যবস্থাপনায়
২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ কিলোমিটার এফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের
পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ
প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব, আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পানি
বণ্টন নিয়ে বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে। এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা
হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন
পায়নি।
মন্তব্য করুন


নিম্নচাপের
প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে আবারও পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা
এড়াতে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে
সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও
মসজিদকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার
সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ
এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতেও নগরের বিভিন্ন
পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
এদিকে
রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায়
নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর চট্টগ্রামেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি
নিয়ে সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
জেলা
প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারির পর পাহাড়ধসের
ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
চট্টগ্রামের
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত
রয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে
সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ এলাকায়
তদারকি করছেন। মাইকিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া
হয়েছে।’
তিনি
আরও বলেন, ‘নগরের আকবরশাহ এলাকার ঝিল-১, ঝিল-২ ও ঝিল-৩, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়
এবং বেলতলীঘোনা পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।’
চান্দগাঁও
সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘টাংকির পাহাড়, আমিন জুট
মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসাময়িক গৃহ নির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর
রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এসব এলাকার নিকটবর্তী
কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
আগ্রাবাদ
সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান জানান, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি,
ঢেবারপাড়, আমবাগানসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা এবং উত্তর হালিশহর সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় মাইকিং
করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পাহাড় কেটে গড়ে
ওঠা বসতি কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ঢালের নিচে বসবাসকারীদের কোনো অবস্থাতেই সেখানে অবস্থান
না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়নে খনন করা
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের তিনটি স্তরে মিলেছে জ্বালানি গ্যাস। বাংলাদেশ
পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) আশা করছে এ
থেকে দৈনিক এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে ।
সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে বিষয়টি
নিশ্চিত করে বাপেক্সের ভূ-পদার্থিক বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার ওহিদুল
ইসলাম বলেন, ওয়াছেকপুর গ্রামে খনন করা বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপে মিলেছে গ্যাসের
অস্তিত্ব। ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া খননকাজের পর ডিএসটি টেস্ট শেষে এখন চলছে
সর্বনিম্ন স্তরের উৎপাদন টেস্ট। প্রাথমিকভাবে কূপটির তিনটি স্তরে পর্যাপ্ত গ্যাস
আছে। এ টেস্ট শেষে জানা যাবে এখানে মজুত থাকা মোট গ্যাসের পরিমাণ।
বাপেক্স সূত্রে আরো জানা যায়, কূপটিতে তিন হাজার ১১৩ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা
হয়, যার মধ্যে এক হাজার ৯২১ থেকে এক হাজার ৯৭৩ মিটার পর্যন্ত প্রথম স্তর, দুই
হাজার ৫৪৮ মিটার থেকে দুই হাজার ৫৮৫ মিটার পর্যন্ত দ্বিতীয় স্তর এবং তিন হাজার ৮১
মিটার থেকে তিন হাজার ১০১ মিটার পর্যন্ত তৃতীয় স্তরে গ্যাসের অস্তিত্ব মিলেছে।
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপের তিনটি স্তর থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন
ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
হাওলাদার ওহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি গ্যাস মিলতে পারে বলে
ধারণা করছি। এখন পর্যন্ত টার্গেট চারটি জোনের মধ্যে তিনটি জোন থেকে বাণিজ্যিকভাবে
গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করছি।’
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুক্তাদির বলেন, ‘প্রাকৃতিক
গ্যাসের সন্ধানে বাপেক্স দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছে। বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) কূপটিতে
খনন কাজ শুরু এ বছরের ২৯ এপ্রিল। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকায়
আমাদের খনন কাজেও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দিনশেষে আমরা সফল হতে পেরেছি।’
বেগমগঞ্জ-৪ (পশ্চিম) মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. প্রিন্স আল
হেলাল বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার
লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। তবে লোয়ার জোনে গ্যাসের কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে, আরও ভালো কিছু
আশা করা যাবে। উৎপাদন টেস্ট শেষে মোট গ্যাসের মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ড্রিলিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটি খনন করতে আমাদের নানা
প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমরা আজ আলোর মুখ দেখছি।
একসময় গ্যাসকূপ খননের কাজে বিদেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তারা যুক্ত থাকতেন। কিন্তু এখন
তার পরিবর্তন হয়েছে। এ কূপ খননের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী
সবাই বাংলাদেশের। এটাও আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’
এর আগে, ১৯৭৬ সালে বেগমগঞ্জ-১ ও ১৯৭৮ সালে বেগমগঞ্জ-২ গ্যাসকূপ খনন করা হলেও সেগুলো
থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে বেগমগঞ্জ-৩ কূপ খনন করা হয় এবং
সেখান থেকে এখনো প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ফেনী-নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক
সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে বেগমগঞ্জ-৫ ও বেগমগঞ্জ -৬ কূপ
খননের পরিকল্পনা রয়েছে বাপেক্সের।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের
সিদ্ধিরগঞ্জে স্ত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও শারীরিক সম্পর্ক করতে চাওয়ায় জহিরুল ইসলাম
(৩২) নামের এক যুবকের গোপনাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী সাবিকুন্নাহার
মীমকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার
(১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সানারপাড়
এলাকার শাহ আলম মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতের বড় বোন মোছা. শাহনাজ সিদ্ধিরগঞ্জ
থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
আহত
জহিরুল ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার মো. জামশেদ মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে স্ত্রী সাবিকুন্নাহার
একই থানার মৃত মোস্তফা কামালের মেয়ে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী যুবক ও তার স্ত্রী সানারপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস
করে আসছেন। বুধবার রাতে জহিরুল ইসলাম বাসায় ফিরে স্ত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক
শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ইচ্ছা ও অনিচ্ছা নিয়ে তাদের উভয়ের
মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্ত্রী রাগান্বিত হয়ে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে দেন।
এ
সময় যুবকের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে
অভিযুক্ত সাবিকুন্নাহার জানান, তার স্বামী জহিরুল ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মৌখিকভাবে
তাকে তালাক দেন। তালাকের পরও নিয়মিত তার বাসায় যাতায়াত করতেন। এর মধ্যে গত তিন মাস
আগে জহিরুল আরেকটি বিয়ে করেন। তার পরও তিনি বিষয়টি মেনে নেন।
তিনি
আরো জানান, ভরণপোষণ না দিয়ে উল্টো তিনি (সাবিকুন্নাহার) বেতন পেলেই বাসায় চলে আসতেন।
প্রায়ই জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। ঘটনার দিনও তিনি জোরপূর্বক শারীরিক
সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলে এ ঘটনা ঘটান বলে জানান সাবিকুন্নাহার।
ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল
হক বলেন, ‘ঘটনার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা স্ত্রীকে আটক করেছি। ভুক্তভোগীকে ঢাকা
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়
একটি মামলা করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হয়েছে।’
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
সরাইল রিজিয়নে ময়মনসিংহ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১২০০ কিলোমিটারে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইন চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবি। সর্বশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্তে অনুপ্রবেশ চেষ্টাকারী চারজনকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ভারত থেকে এই পুশইন ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের (সরাইল) রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবির ব্যবস্থাপনায় তিন বছরে কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন ও ৬০ ব্যাটালিয়নের মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানান, গত তিন বছরে এ দুই ব্যাটালিয়ন ২০ হাজার ২০০ অপারেশন চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আটক ও জব্দ করেছে। এ সময় ৫২৬ জনকে মাদকসহ হাতেনাতে ধরা হয়েছে এবং পলাতক রয়েছে আড়াইশরও বেশি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার, ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, ১০ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ, র ্যাব অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক সার্কেল পরিদর্শক নজরুল ইসলামসহ অন্যরা।
বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি এবং ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও জব্দ করে। এর মধ্যে ভারতীয় ফেনসিডিল ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল, ভারতীয় স্কাফ সিরাপ ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল, ভারতীয় বিয়ার ১৮ হাজার ৪৯ বোতল, ভারতীয় হুইস্কি ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল, ভারতীয় গাজা ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি, ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ৩ লাখ ১০৫৯৮ পিস, খোলা মদ ২৪.৫ লিটার।
এছাড়া আইপি ইনজেকশন ১৩ হাজার ৩৩৮ পিস, সেনেগরা ট্যাবলেট ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২ পিস্, টার্গেট ট্যাবলেট ২৮হাজার ৮২০ পিস, নিমোসলাইড ট্যাবলেট ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪০ পিস, সিপরোহিপটাডিল ট্যাবলেট ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৫০ পিস্, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ৪ লাখ ৪২ হাজার ১০২১ পিস্, হার্বেচ রেট ২৩৮ বোতল, ডেক্সোন ট্যাবলেট ১৯ হাজার ২১০ পিস্, সিনিক জেড ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ পিস্, ল্যাব জিনসেন ২ হাজার ২৮০ পিস সহ বিপুল পরিমাণ সিগারেট, জর্দা ও বিড়ি।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, কুমিল্লার ১০ ব্যাটালিয়নের অধীনে ৯৬.১০ কিলোমিটার ও সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধীন ৭৯.১০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি একক অভিযান এবং বিভিন্ন টাস্কফোর্স এর মাধ্যমে আটক এসব মাদকদ্রব্য গত তিন বছরে জব্দ করা হয়। জনস্বার্থে এসব মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে ধ্বংস করে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, সীমান্তরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি মাদক উদ্ধারে সফলতা দেখাচ্ছে। আমরা আশা করব সব বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদকের চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। আমরা সবাইকে সতর্ক ও সচেতন করতে চাই। যত
বিজিবি সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মূলত এই ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান। পুরো রিজিয়নে এই মাদক উদ্ধারের পরিমান আরো বেশি। আমরা চাই সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় মাদকের এই সরবরাহ চেইন ধ্বংস করতে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসা মাদকের আগ্রাসনে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হোক- সেটা আমরা চাই না।
মন্তব্য করুন