

কিশোরগঞ্জের
ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিতে নৌপথ অবরোধ করা হয়েছে। কর্মসূচি শেষে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) একযোগে
সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের
ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
(২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে নৌপথ অবরোধ।
এ
বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু ইউসুফ জানান, ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন জংশনে আন্দোলনকারীরা উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে রাখে। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে । আন্দোলনের একপর্যায়ে
ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে ট্রেনের ক্ষতি সাধন করে। শুধু তাই নয় এ সময়
যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এদিকে
জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে বিক্ষোভ সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় গণঅধিকার
পরিষদের মুখ্য সংগঠক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, জেলা বাস্তবায়ন মঞ্চের নেতা সাইদুর রহমান শাহরিয়ারসহ বক্তারা জানান, তাদের কর্মসূচি বাতিলের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ
বিষয়ে ভৈরব নৌ- থানার( ওসি) মো. রাশেদুজ্জামান জানান, ভৈরব থেকে বিভিন্ন রুটে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক
আছে। কোনো সমস্যা নেই। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠক করেছেন ।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন উপদেষ্টারা। পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণসহ অগ্রাধিকার করণীয় নিয়েও আলোচনা হয় এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের নয়টি জেলা। বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো– ফেনী, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও খাগড়াছড়ি। এসব জেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি ও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, বন্যা কবলিত এলাকা ফেনী-নোয়াখালীর উদ্দেশে ২৫০ উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ইতোমধ্যে ৫০-এর বেশি উদ্ধারকারী নৌকা রওনা দিয়েছে এবং সারাদিনে আরও দুইশ নৌকা যাওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়াও,
পদোন্নতি বঞ্চিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনসহ বেশ কিছু বিষয়ে
বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


আজ (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগরসহ সারা
দেশে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক নকল ও ভেজাল পণ্যের উপর তদারকিসহ
বন্যার ত্রাণসামগ্রী (মুড়ি, চিরা, গুড় ইত্যাদি) ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল
ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাতে
অধিদপ্তরের ৬ জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৬ টি টিম কর্তৃক ঢাকা মহানগরীর বনানী বাজার, কল্যাণপুর,
কলাবাগান ও মোহাম্মদপুর টাউনহল এলাকায় বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আজ দেশের ৫২টি জেলায় অধিদপ্তরের ৫৭টি
টিম কর্তৃক পরিচালিত এ অভিযানে ১১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬,২১,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানান, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় অধিদপ্তরের এসকল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


রিটার্নিং
কর্মকর্তাদের কাছে বাতিল হওয়া মনোনয়ন নির্বাচন কমিশনে আপিল করে ফিরে পেয়েছেন তাসনিম
জারা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী
ডা. তাসনিম জারা।
আজ
শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে তার মনোনয়ন
ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় কমিশন।
এর
আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের
সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। তবে নির্বাচনের পূর্বাভাসে তিনি জান-মালের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কালবেলার প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সময় তাহেরী বলেন, “লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। ফেসবুকে আমার সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব নিয়ে আমি শঙ্কিত। আসন্ন নির্বাচনে জান-মালের নিরাপত্তা নিয়ে আমি ভাবছি।”
নির্বাচন চলাকালীন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত আছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ২২ জানুয়ারি শুরু হবে। তখনই বুঝতে পারব নির্বাচনী মাঠ সমান আছে নাকি কোনো দিকে হেলে পড়েছে।”
সম্পদ ও হলফনামা:
তাহেরী বলেন, “আমার জমানো টাকা থেকে যে সুদ আসে, সেটি আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করি না। আমার স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, নিজের নামে আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ। এসব স্বর্ণ আমি বিভিন্ন সময়ে উপহার হিসেবে পেয়েছি এবং স্ত্রীর ও মেয়েদের জন্য নিজের নামে ক্রয় করেছি। পরিবারের প্রধান হিসেবে সকল সম্পত্তি নিজের নামের।”
ভোটের উৎসাহ ও প্রত্যাশা:
মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী আরও জানান, “সাধারণ মানুষ আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ। আশা করি উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ভোটেই আমি এমপি হিসেবে জয়ী হবো।”
হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত এই প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ‘মোমবাতি’ প্রতীকে তিনি নির্বাচন করবেন। বৃহত্তর সুন্নিজোট তাকে সমর্থন দিয়েছে। তাহেরির বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা গ্রামে। মাধবপুরে তার শ্বশুরবাড়ি।
মন্তব্য করুন


রাজধানী
ঢাকায় আবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত
হয় বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
রুবাইয়াত কবির।
রুবাইয়াত
কবির বলেন, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। এটা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প।
এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশালে।
গত
শুক্র (২১ নভেম্বর) ও পরদিন শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারবার
ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে
৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল
ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে ১০ জন নিহত হয়। আহত হয় ছয়শ’র
বেশি মানুষ।
বিশিষ্ট
ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন
আখতার আজ প্রথম আলোকে বলেন, আজ ভোরের দিকে সিলেটে এবং কক্সবাজারের টেকনাফে দুই দফা
ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অর্থা গত শুক্রবার পর থেকে এখন আজ পর্যন্ত ৬ দফায় ভূমিকম্প অনুভূত
হলো।
অধ্যাপক
হুমায়ুন আখতার বলেন, ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার যে ভূমিকম্প
হয়েছিল, এটা স্মরণকালের মধ্যে দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। ভূপৃষ্ঠে এত তীব্রতা এর
আগে আমরা কখনো অনুভব করিনি। স্বাভাবিকভাবেই ঢাকার নগরবাসী সাংঘাতিক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
আজও
ঘটনাক্রমে ভূমিকম্পের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে খুবই কাছে নরসিংদীর পলাশে।
ছয়টির মধ্যে তিনটি ভূমিকম্পরেই উৎপত্তিস্থল হলো নরসিংদী।
এই
এলাকা হলো বার্মা প্লেট এবং পশ্চিমেরটি ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল বা সাবডাকশন জোন।
এর এলাকা বিশাল। আজ সিলেটে ও টেকনাফে যে ভূমিকম্প হয়েছে তাও এই সাবডাকশন জোনের অর্ন্তর্ভূক্ত।
মন্তব্য করুন


আগামীকাল
বুধবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। সঞ্চালন লাইনের আন্তঃসংযোগ
আইসোলেশন কাজের জন্য সাময়িক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
আজ
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হরিপুর ভাল্ভ স্টেশন মডিফিকেশন এবং জিটিসিএল ও তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন
লাইনের আন্তঃসংযোগ আইসোলেশন কাজের জন্য বুধবার রাত ১০টা থেকে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর)
রাত ১০টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘণ্টা ইজিসিবি ৪১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইজিসিবি ৩৩৫
মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইজিসিবি ২×১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিটি
ইকোনমিক জোন, রহিম এনার্জি লি., কাঁচপুর, যাত্রামুড়া, মদনপুর, বন্দর, রূপগঞ্জ, কাঞ্চন,
মুড়াপাড়া, ভুলতা, আধুরিয়া, আড়াইহাজার, শ্যামপুর (বিসিক এলাকা) ও তৎসংলগ্ন এলাকাসহ শীতলক্ষা
নদীর পশ্চিম দিকের পুরো নারায়ণগঞ্জ এলাকায় বিদ্যমান সকল শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ
বন্ধ থাকবে।
মন্তব্য করুন


গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৮৭ জনের মৃত্যুর তথ্য জানাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর চলতি সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ২০ ডেঙ্গু রোগীর।
একই সময়ে সারা দেশে ৬৬৮ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরে এযাবৎ মোট ৪১ হাজার ৬৩৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২৯৩ জন, বরিশাল বিভাগের ১৫৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১০৬ জন, খুলনা বিভাগের ৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগের ৩৫ জন, রংপুর বিভাগের ৫ জনের রোগী রয়েছেন।।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮৭ জনের। যাদের মধ্যে পুরুষ ৯৫ জন এবং নারী ৯২ জন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে হাজীপুরা স্টুডেন্ট ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত হাজীপুরা প্রিমিয়ার লীগ (এইচপিএল-৯) ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে স্থানীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনাল খেলায় মৌলভী-বাড়ী চ্যালেঞ্জার্সকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে চেয়ারম্যানবাড়ী ভিক্টোরিয়ান্স চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় জাতীয়ত-াবাদী ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক আজকের জীবন পত্রিকার সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্রীড়া যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ জাগ্রত হলেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। আগামী দিনের মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সচেতন, দায়িত্বশীল ও জাগ্রত ছাত্র-যুবকদের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ছাত্র ও যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। হাজীপুরা স্টুডেন্ট ক্লাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির, মৈশাতুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মৈশাতুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদ-ে লর আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম সুমন, ডেন্টাল চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব ডা. শাহজাহান মজুমদার, ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য মঞ্জুর রহিম প্রমুখ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সেলিম হাসনাত বিজয়, দ্বীন ইসলাম মজুমদার, ইকবাল হোসেন মুজাহিদ, মাহমুদুল হাসান রাহিম, সাইমন মিয়া, দেওয়ান সাদ্দাম ও ফারুক হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের মাঝে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন একটি
দিন, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি
একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।২০২৪
সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদি
সরকার। তারা নির্বিচারে গুলি করেছে, গ্রেপ্তার করেছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের
তথ্য লুকাতে চেয়েছে, রাতের অন্ধকারে এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদের আটক করেছে।
তিনি
দেশবাসীকে কোন ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা না নোয়াতে এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণকর
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টে গুলিবিদ্ধ আহতদের তারা হাসপাতালে চিকিৎসা
নিতে দেয়নি। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন আহতদের ভর্তি না করা হয়। এ কারণে
বহু মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল
জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। ভালো ফলাফল করেও
চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি,
তদবির বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি
তার চাকরি হয়নি। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক
কোটা পদ্ধতি, যেটা মূলত ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটা হাতিয়ার, এর বিরুদ্ধে তরুণ
সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদী শাসকের টনক নড়েনি। দীর্ঘ এই সময়
প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল, যারা
আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে, কাজ করবে। স্বৈরাচারের
পক্ষের সঙ্গী হলেই তার চাকরি হবে, কাজ মিলবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এমনকি বিচার ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক
মণ্ডলেও এই ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। এদেশের গরীব-মেহনতি মানুষের পয়সা
লুট করে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। সীমাহীন দুর্নীতির
কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।
বিগত
১৬ বছরের নিপীড়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দেড় যুগে প্রতিটি নায্য
দাবি, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের
পিটিয়েছে। গত ১৬ বছরে যারাই সরকারের সমালোচনা করেছে, নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে কথা
বলেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার অথবা গুম করা হয়েছে। লাখ লাখ বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের
নির্বিচারে আটক-গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের
ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ—সবাই একত্রিত হয়েছে এক নতুন দিনের প্রত্যাশায়।
সমস্বরে তারা বলে ওঠে, এবার ফ্যাসিবাদকে যেতে হবে। তবু দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে
শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবসে জাতির সূর্য সন্তান জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত
কামনা করছি। জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টি হারিয়েছেন জাতির
পক্ষ থেকে আমি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এ জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ
থাকবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ এবং
যাবতীয় বিষয়াদির প্রশাসনিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা
হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৮৩৬টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি শহীদ পরিবারকে মোট ৯৮ কোটি ৪০
লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট যাঁরা আছেন,
তাঁদেরও কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর
পাশাপাশি আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ টাকা ও চেক বাবদ
মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও জানান, এর মধ্যে ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত জুলাইযোদ্ধাকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড,
তুরস্ক এবং রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বাবদ এ পর্যন্ত
৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
জুলাইযোদ্ধাদের
চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জেলা ও উপজেলা
পর্যায়ের সকল সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ
থেকে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জুলাইয়ের মহানায়কদের
আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন এই দেশকে আমরা একটি সত্যিকারের জনকল্যাণকর দেশ হিসেবে
গড়ে তুলতে পারব। আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের
সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এদেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র
থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বৈষম্যহীন
ও জনকল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, আজ আমরা কেবল অতীত
স্মরণ করতে আসিনি,আমরা একটি শপথ গ্রহণ করতে এসেছি। শপথ এই যে—আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের
কাছে মাথা নোয়াব না, আমরা প্রতিষ্ঠা করব একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র, যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ
আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাঁদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথচলার প্রেরণা। তাঁদের স্বপ্নই
হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।
মন্তব্য করুন


দ্রুত
পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জোরদারের ব্যাপারে
গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ
গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই।
আজ
বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি ) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি)
‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আগামী পৃথিবী মৌলিকভাবে ভিন্ন হবে। আজ যা আমরা কল্পনাও করতে
পারছি না, সেটাই বাস্তবতায় পরিণত হবে। পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। এই বৈশ্বিক গতির সঙ্গে
যদি আমরা নিজেদের গতি বাড়াতে ও সামঞ্জস্য আনতে না পারি, তাহলে আমরা কতটা পিছিয়ে পড়ব,
তা ভেবে দেখা দরকার।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, দেখে মনে হতে পারে বাংলাদেশ অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু
বাস্তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে— চিন্তায় পিছিয়ে, কাজে পিছিয়ে এবং নিজেদের
প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে যথাযথ গুরুত্ব
না দেওয়ার কারণেই এই পিছিয়ে পড়া। আইসিটিকে তিনি ‘মূল খাত’
হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই খাত থেকেই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে। আমি এই খাতের কথা বলছি, কারণ—
এটি একটি প্রধান খাত। ভবিষ্যৎ এই খাত থেকেই গড়ে উঠবে।’
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাতগুলো টিকে থাকবে ঠিকই। তবে, প্রযুক্তি খাতই হবে
চালিকাশক্তি— হাওয়ার মতো, বাতাসের মতো; যা প্রতিটি খাতকে স্পর্শ করে
নতুনভাবে রূপ দেবে। এ কারণে এখনই প্রস্তুতি শুরু করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই খাতের
নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এক্সপো
প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনগুলোতে আমরা কী ধরনের আলোচনা করি, কী
ধরনের ভবিষ্যৎ কল্পনা করি এবং সে অনুযায়ী কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করি—
দেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।’
প্রজন্মগত
পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে প্রায় সহজাতভাবেই
যুক্ত। প্রজন্মগুলোর মধ্যে এই বাড়তে থাকা দূরত্ব একটি নেতৃত্ব সংকট তৈরি করছে। বয়স্ক
প্রজন্ম তরুণদের নেতৃত্ব দিতে পারছে না— কোনো খারাপ উদ্দেশ্যের কারণে নয়, বরং
তাদের চিন্তাভাবনার ধরন এক নয়।’
বাংলাদেশের
আইসিটি খাতেও এখনো পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন,
‘জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছাতে প্রকৃত ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা চালু করতে হবে।
মানুষ সরকারের কাছে আসবে না, বরং সরকারি সেবা মানুষের কাছে যাবে। এটি বাস্তবায়ন করা
গেলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’
চার
দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক
কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’
প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এক্সপো চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার
বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব
শীষ হায়দার চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল
ইসলাম।
মন্তব্য করুন