

৭০০
বছরের রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের
দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে।
সোমবার
(২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিলগালা করা দানের বড় তিনটি
ডেগের মুখ খোলা হয়।
শাহজালাল
মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন। এর আগে মাজারের ইতিহাসে এভাবে প্রকাশ্যে
দানের টাকা গণনা করা হয়নি।
হযরত
শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণের (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন
সিলেটের জেলা প্রশাসক (সদ্য প্রত্যাহার) মো. সারওয়ার আলম। এতে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা
দেখা দেয়। এরই মধ্যে রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সারওয়ার আলমকে
জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত
করা হয়।
এ
ঘটনায় সিলেটজুড়ে তোলপাড় চলছে। প্রত্যাহার করা জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে সিলেটে বহাল
রাখার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনর ব্যানারে আন্দোলন চলছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গণনা কার্যক্রমে মাদরাসার
শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। পুরো কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
জেলা
প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, গণনা শেষে মোট দানের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। পরে
এ অর্থ কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত
নেবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন নয় বিশ্বব্যাংক। বরং বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় সংস্থাটি। অন্তর্বর্তী সরকারকে সব বিষয়ে সহায়তা দিয়ে পাশে থাকতে চায় বিশ্বব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। তিনি জানান, আমরা বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জেনেছি। যার ফলে আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতির সংস্কারে কীভাবে সহযোগিতা করবো সেটিও আলোচনা করেছি। কারণ জটিল কিছু সংস্কার বাংলাদেশের প্রয়োজন। এখানে আর্থিক খাতে সংস্কার প্রয়োজন, বাণিজ্যে সংস্কার প্রয়োজন- আমরা এগুলোতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, আমরা এখন এ দেশে বেসরকারি খাতে চাকরির বাজার সৃষ্টিতে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে যুবকরা এখানে বড় সম্পদ। এছাড়া এখানে জলবায়ু পরিবর্তন অনেক বড় ঝুঁকি, সেখানে অন্তর্বর্তীমূলক বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ক গড়তে কাজ করছি আর আমরা মোটেই বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমি অনেক দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, এটি কখনোই আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের স্থবির অর্থনীতিকে চালু করার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দরকার বিশ্বব্যাংক তা দেবে। আইএফসি ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছি আমরা। তারা বলেছে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তারা যে কোনো কিছুই করতে পারে। নিয়মকানুন মেনে তারা বিনিয়োগ করবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শিক্ষার্থীদের জন্য শোক জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এ সময়ে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সংস্কারেও পাশে থাকবে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে যাকাত শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৬ মার্চ) বিকাল ৪ টায় নগরীর গোল্ডেন স্পুন অডিটরিয়ামে মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড.আবরার আহমেদ।বিশেষ আলোচক হিসাবে আলোচনা করেন ড.মাসুদুল হক চৌধুরী,আড়াইবাড়ী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতী আমিনুল ইসলাম।
কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতে সেক্রেটারী মু.মাহবুবর রহমান এর সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন,মহানগর জামায়াতে নায়েবে আমীর যথাক্রমে মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন,অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন,মহানগর জামায়াতে কর্মপরিষদ সদস্য এড এয়াকুব আলী চৌধুরী,অধ্যাপক মজিবুর রহমান,কাজী নজীর আহম্মেদ,অধ্যাপক জাকির হোসেন,কাজী মোতাহের আলী দিলাল প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে হবে। আল্লাহতাআলার আইন দিয়ে দেশ না চললে কেউ সুখ শান্তি পাবে না। এখানে চুরি, হত্যা রাহাজানিসহ যতধরনের অপকর্ম চলতে থাকবে। ইসলাম মানেই সুবিচার, ইসলাম মানলেই সুবিচার হবে। ইসলাম যতদিন না থাকবে কোথাও সুবিচার কায়েম হবে না। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইসলাম কায়েমের মাধ্যমেই সমাজের সকল স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সমাজ, রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগ চালাবে না তারা কাফের, ফাসেক ও জালেম।
সেমিনার সম্মিলিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন


সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) কর্তৃক ৭৭,১৭,৬১৫ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমান মাদক ও বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এর
দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার
সীমান্ত হতে শংকুচাইল, শশীদল, সালদানদী এবং বড়জ্বালা বিওপি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী আখাউড়া ও কসবা উপজেলার
সীমান্ত হতে ঘাগুটিয়া, চন্ডিদার, কসবা ও মাদলা বিওপি
কর্তৃক ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
তারিখ হতে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
তারিখ পর্যন্ত মাদক ও চোরাচালান বিরোধী
অভিযান পরিচালনা করে ৭৭,১৭,৬১৫
(সাতাত্তর লক্ষ সতেরো হাজার ছয়শত পনেরো) টাকা মূল্যের বিপুল পরিমান ভারতীয় অবৈধ মাদক ও বিভিন্ন প্রকার
মালামাল জব্দ করে।
জব্দকৃত কিসমিস ৩১২ কেজি, গরু ৩ টি, চিনি ১,০৩৫ কেজি, বাঁজি ৮৮,২০০ পিস, বাংলাদশী স্টীলের আলমারী ১ টি, বাংলাদেশী সিএনজি ১ টি, সিগারেট ৬৭৫০ প্যাকেট, হুইস্কি ১৪ বোতল, বিয়ার ৩৬ বোতল, গাঁজা ১৮.৯ কেজি, ইস্কাফ সিরাপ ৭ বোতল, ফেন্সিডিল ৩৪ বোতল এবং ইয়াবা ট্যাবলেট ৪৯০০ পিস।
বিজিবি জানান, সর্বদা সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৬০ বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ মাদকদ্রব্য জব্দ করে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গরমে অসুস্থ
হয়ে পড়েছিল একজন রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে রক্ষা পেল রিকশাচালকের
প্রাণ। প্রচণ্ড গরমে রিকশা চালানো অবস্থায় হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে সড়কে পড়ে
যান ওই ব্যক্তি। এমন ঘটনা দেখে ট্রাফিক পুলিশরা দ্রুত গিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলেন।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার
দিকে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ঘটে এমন ঘটনা। জানা যায়, সেখানে দায়িত্বরত
ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পবিত্র বিশ্বাস। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্বরত
অন্যান্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় রিকশাচালকের মাথায়, চোখে ও মুখে পানি ছিটিয়ে
দেন। এরপর পুলিশ বক্স থেকে নিয়মিতভাবে সাধারণ জনগণের জন্য বিলি করা পানি ও স্যালাইন
অসুস্থ রিকশাচালককে খাওয়ালে তিনি ক্রমাগত সুস্থ হয়ে সাধারণ অবস্থায় ফিরে আসেন।
সুস্থ হওয়ার পর রিকশাচালক জানান, তিনি
রিকশা চালাচ্ছিলেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে হঠাৎ তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তখন
তিনি চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান। পুলিশের দ্রুত সহযোগিতার জন্য তিনি তার প্রাণ
ফিরে পেয়েছেন। তা না হলে হয়তো হিট স্ট্রোকে তার মৃত্যুও হতে পারতো।
এ সময় তিনি ট্রাফিক পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, এমন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগামী ২০ এপ্রিলের পর শুরু হবে। এতে প্রথম ধাপে ১৫২টি উপজেলার মাঠ পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. শরিফুল আলম জানান, সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ সব নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধানের উপর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এর আওতায় আগামী ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১ম ও ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ এবং ২য় পর্যায়ের তফসিলে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এছাড়া বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডি নথিবিষয়ক প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে।
আবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নতুন করে যোগ দেওয়া এবং সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ১ম ও ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও চলমান রয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী— সাইবার সিকিউরিটি প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, ঈদে মহাসড়কে বিশেষ নজরদারিতে থাকবে পুলিশ। এ সময় সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে তাদের। মহাসড়কে নসিমন, করিমন ও ভটভটি অথবা এ ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে চলাচল করতে পারবে না ফিটনেসবিহীন কোনো যান।
পুলিশ সদর দপ্তরে ঈদুল ফিতর এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে ব্যক্তিগত তদারকির কথা বলেন আইজিপি। সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
ঈদে শহর ছেড়ে যাওয়া মানুষের বাসা-বাড়ি, মার্কেট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। আনন্দমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া নৌ দুর্ঘটনা ও নৌ ডাকাতি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌ পুলিশকে নির্দেশনা দেন তিনি।দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে আইজিপি বলেন, ‘গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি না হয় সে জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশকে তৎপর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
সভায় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলামসহ অন্যান্য অতিরিক্ত আইজিপি, বিশেষায়িত ইউনিটের প্রধান, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং রেঞ্জ ডিআইজি উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কুড়িগ্রামের
উলিপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মুনতাহা (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার থেতরাই
ইউনিয়নের বসুনিয়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটি কিশোরপুর গ্রামের বাসিন্দা
শহিদুল ইসলামের মেয়ে।
এলাকাবাসী
জানান, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে শিশু মুনতাহা বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে
পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলেপ উদ্দিন গোসল করতে পুকুরে নামলে তার
পায়ে কোনো একটি বস্তু স্পর্শ করে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পানিতে
ডুব দিয়ে পানির নিচ থেকে মুনতাহাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা করেন।
উলিপুর
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দীক বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে
খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


নেত্রকোনায়
বাসের চাপায় মা-মেয়েসহ ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন
পাঁচ যাত্রী।
রোববার
(৩১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সদর উপজেলার চল্লিশা নামক
স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন- নেত্রকোনার সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলি কেশবপুর গ্রামের নূর জাহান (৪৫),
তার মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৫) এবং আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় শিশু।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনাগামী মহুয়া পরিবহনের একটি বাস চল্লিশা
বাইপাস মোড়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই
মা মেয়েসহ ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত ও পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়
লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনায় নিহত
মা নূরজাহান, তার মেয়ে স্মৃতি আক্তার এবং আরও এক শিশুর লাশ হাসপাতালে আনা হয়।
হাসপাতালের
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য নিহত নূর জাহানের
স্বামী আইনুল হকসহ পাঁচজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। হতাহতদের সবার
পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ
ব্যাপারে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে
যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি
করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে
সড়ক দুর্ঘটনা পর উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কে সব ধরনের
যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল
বারী ঘটনাস্থলে গিয়ে স্পিডব্রেকারসহ গোল চত্বর নির্মাণের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ
তুলে নেয়। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মন্তব্য করুন


একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার মন্নাস আলী ছিলেন ২০ বছরের তরুণ। সেসময়
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে সেটি তার পেটে লাগে। প্রচুর রক্তক্ষরণ
হয়; কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
সেই
সময় থেকে গুলিটি তার পেটেই ছিল। সারাজীবন এজন্য তাকে অনেক ভোগান্তি ও কষ্ট পোহাতে হয়েছে।
কিন্তু টাকার অভাব আর ভয়ের কারণে গুলিটি আর বের করা হয়নি।
এখন
যন্ত্রণা অসহ্য পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। ৫৫ বছর পর শনিবার দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মন্নাস আলীর গুলিটি বের করেছেন।
মন্নাস
আলীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব
দেওয়া দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তানজিরুল
ইসলাম রায়হান। মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।
স্বজনরা
বলেন, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময়
গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে মাটিচাপা
দেন।
এর
প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে হামলা চালায়।
হামলার সময় তারা অর্ধশতাধিক মানুষকেও আটক করে। পরে তাদেরকে একটি ঘরের ভেতরে আটকে রেখে
বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি করা হয়।
এতে
অধিকাংশই নিহত হন। মাত্র কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে পারেন। মন্নাস আলীও তাদের
মধ্যে একজন ছিলেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি গুলি তার পেটে
বিদ্ধ হয়।
মন্নাস
আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, “বাবা বেশিরভাগ সময়ই অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা
করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করা নিয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় বাবার শরীর থেকে গুলিটি
বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।”
মন্নাস
আলীর পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, “আমার শ্বশুর সব সময় বলতেন, তার শরীরে গুলি রয়েছে।
আজ গুলি বের করার পর আমরা নিজের চোখে সেটি দেখলাম। বাবা বলতেন, মৃত্যুর পর যেন গুলি
বের না করে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন, আজ গুলিটি বের
হয়েছে।
দুর্গাপুর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, “টাকার অভাবে তিনি
এতদিন চিকিৎসা নিতে পারেননি। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করেছি।”উদ্ধার
হওয়া গুলির বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক।
মন্তব্য করুন


জয়পুরহাটের
কালাই উপজেলায় রাস্তার ওপর ধানবোঝাই ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের
মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হওয়া বিরোধ মুহূর্তেই
রূপ নেয় সংঘর্ষে। এতে এক নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা
গুরুতর হওয়ায় তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা
হয়েছে।
শনিবার
(২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
আহতরা
হলেন— মাহমুদুল হাসান মেহেদুল, আবু জাফর মো. সৌরভ, তুষার হোসেন,
আনোয়ার হোসেন, আরাফাত হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, আব্দুল মোত্তালেব, হবিবর
রহমান, দুদু মিয়া ও মজিদা বিবি। তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম ও আবু জাফর মো. সৌরভ গুরুতর
আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়
সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভ্যানচালক আতিকুল ইসলাম তার ভ্যানে ধানবোঝাই
করে রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসময় গ্রামের ভেতর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাইগুনী
চারমাথা বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন আবু জাফর মো. সৌরভ। তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের সামনে এসে তিনি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ধান বোঝাই ভ্যানের কারণে আটকে
যান। এরপর তিনি টানা হর্ন বাজাতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হর্নের শব্দে বিরক্ত
হয়ে আতিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং ভ্যান সরানোর চেষ্টা
করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে
পড়লে দুই পক্ষের স্বজন ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয়
পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।
আহত
আতিকুল ইসলামের মামা জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ধান
বোঝাই ভ্যান সরাতে কিছুটা সময় লাগবেই। সে শুধু একটু সময় চেয়েছিল। কিন্তু মোটরসাইকেল
চালক কোনো কথা না শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাগ্নেকে মারধর করে। পরে তাদের লোকজন এসে
আরো কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। আমার ভাগ্নের অবস্থা গুরুতর, তাকে বগুড়ায় ভর্তি করা
হয়েছে।
অন্যদিকে
আহত আবু জাফর মো. সৌরভের মামা মো. আমজাদ হোসেন দাবি করেন, ভ্যান সরাতে বলায় আতিকুল
আমার ভাগনাকে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় তার শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলা
হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের পক্ষের ছয়জন
আহত হয়েছেন। আমার ভাগ্নের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।
কালাই
থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত
ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে
কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো
পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন