

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজুর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নওগাঁ-৬ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং নওগাঁর সিভিল জজ আদালতের (ধামইরহাট) বিচারক সাথি ইসলাম এ নোটিশ জারি করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও সিএনজি অটোরিকশার পেছনে স্টিকার ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ অবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না অথবা কেন অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নওগাঁর সিভিল জজ আদালতের বিচারক সাথি ইসলামের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, ‘নোটিশের বিষয়টি শুনেছি। আমরা নির্বাচনের কোনো পোস্টার লাগাইনি। সিএনজির পেছনে যেগুলো রয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের অনেক আগের। সেগুলোতেও নির্দিষ্ট করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কোনো আহ্বান নেই। আগামী ১৫ জানুয়ারি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে আমার ব্যাখ্যা প্রদান করবো।’
মন্তব্য করুন


ন্যায় ও ইনসাফের নতুন বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সাধারণ একজন নাগরিক অপরাধের জন্য যেই শাস্তি পাবে প্রেসিডেন্টও অপরাধ করলে একই শাস্তি পাবে। বিচারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অপরাধ বিবেচ্য বিষয় হবে। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রতি ৬ মাস পরপর জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি হতে হবে’’। বিগত ৬ মাসে জনগণের জন্য কী কী কাজ করেছে এবং পরবর্তী ৬ মাসে জনগণের জন্য কী কী কাজ করবে তার হিসাব জনগণকে দিতে হবে। জনগণের টাকায় দেশ চললে অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনপ্রতিনিধির নামে জনগণকে শোষণ করার দিন শেষ। জনপ্রতিনিধিদের শাসক নয় সেবক হতে হবে। দেশের সব নদী, খাল-বিল রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের বছরে ৪ বার নদী ও খাল-বিলে গোসল করানো হবে। কোনো এমপি, মেয়র, কমিশনার, চেয়ারম্যান বা মেম্বার ক্ষমতার প্রভাবে নদী, খাল-বিল দখল করতে পারবে না এবং ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করতে হবে না। যদি করে তাকে ময়লার ভাগাড়েই গোসল করতে হবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-৪ ও ৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছে। এই অঞ্চল শহীদের রক্তে রঞ্জিত। এই অঞ্চলের দায় রাষ্ট্রকেই শোধ করতে হবে। ঢাকা-৪ ও ৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা নিজ-নিজ এলাকার যেই সমস্যাগুলো তুলে ধরেছে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সকল সমস্যা গুলো সমাধান করা হবে।
কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিটি সরকার চরম অবহেলা করেছে। কওমী মাদ্রাসার সিনিয়র লেভেলের সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হলেও নিচের দিকের কোনো সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কেউ তাদের স্বীকৃতি না দিলেও জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে কওমী মাদ্রাসার সর্বস্তরের সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজি ভাষার উপর গুরত্বারোপ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাবিশ্বে আমাদের আগামী প্রজন্ম দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগ সৃষ্টি করবে। যুবকদের বেকার ভাতার নয় দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, বেকারত্ব জাতির অভিশাপ। যারা জাতিকে নিয়ে ভাবে না, জাতির জন্য যাদের পরিকল্পনা নেই; তারাই যুবকদের বেকার ভাতার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। জামায়াতে ইসলামী যুবসমাজকে দক্ষ জাতি হিসেবে গড়ে তুলবে।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘পরিবারের মতোই দেশকে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে’’। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতিতে সমানভাবে নারীরা অংশগ্রহনের সুযোগ পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে, ‘‘নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় মহিলাদের জন্য বড় শহরে ইভেনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে’’। নারী সমাজের অধিকার, স্বাধীনতা, মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, সহ্য করা হবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের ছায়ামুক্ত বাংলাদেশ চাই, আধিপাত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যারা জনগণের মুখের ভাষা বুঝতে পারে না, জনগণ তাদেরকে ১২ ফেব্রুয়ারি সেটি বুঝিয়ে দিবে। নতুনরূপে কোনো ফ্যাসিবাদ জনগণ মেনে নেবে না। দেশের জনগণের অর্থে কেনা অস্ত্রে জনগণের বুকে আর গুলি চালানোর দৃশ্য দেখতে চাই না।
যারা চাঁদাবাজি নামক নতুন পেশা চালু করেছে তাদের উদ্দেশ্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা কোনো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজ হতে দেবো না। চাঁদাবাজরা যদি তাওবা করে সরল পথে ফিরে আসে তাদের জন্যও আমরা কর্মের ব্যবস্থা করবো। তাদের আমরা বলবো যেই যেই ব্যবসায়ী থেকে চাঁদা নিয়েছিলে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে আসো। চাঁদাবাজরা চাঁদা ফেরত দিয়ে আসলে রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একটি সুখি-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সমাজের অপরাধ দমনের জন্য যা যা করণীয় তার সব কিছু করা হবে। চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করতে বিশেষ অ্যাপস চালু হবে। সেই অ্যাপসের তথ্যের আলোকে চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। পরিশেষে তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেনম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি- ‘না’ মানে গোলামী।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ আসনে জলাবদ্ধতায় মানুষ নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছে। এই এলাকাকে ময়লার ভাগাড় করে রাখা হয়েছে। বিগত সময়ে এই এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এখানকার দুটি জুটমিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে বন্ধ থাকা জুটমিল দুটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া সহ মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমীরে জামায়াতের নির্দেশনার আলোকে জামায়াতের কোনো এমপি শাসক হবে না সেবক হবে। ভোগবিলাসের জন্য জনপ্রতিনিধি না হওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যত্যয় করে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকাকে নতুনরূপে গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চান।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকা হচ্ছে অবহেলিত এলাকা। আগামীতে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচিত করলে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে আধুনিক ঢাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, এই এলাকায় খেলাধুলার জন্য কোনো মাঠ নেই যার ফলে যুব সমাজ খেলাধুলার পরিবর্তে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। যুবসমাজের খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের জন্য এই এলাকায় একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। এখানে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নেই, সড়কের বেহাল দশা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দূরবস্থা, গ্যাস সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী। জনগণের যাবতীয় সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করাই তার মূল লক্ষ্য বলে তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মুফতি মুখলেসুর রহমান কাসেমী, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য এবং জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৫ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুস সালাম, ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক ও কদমতলী থানা আমীর আব্দুর রহিম জীবন।
যাত্রাবাড়ী মধ্য থানা আমীর এডভোকেট এ.কে আজাদের পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ আসলামের বোন শারমিন, এনসিপির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মুফতি সানাউল্লাহ আমিনী, নেজামে ইসলাম পার্টি যাত্রাবাড়ী থানা সভাপতি মাওলানা ওহিদুজ্জামান, খেলাফত আন্দোলন যাত্রাবাড়ী থানা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান, ঢাকা-৫ আসন কমিটির সহকারী পরিচালক ও যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা আমীর মো. শাহজাহান খান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দীন রুবেল, ঢাকা-৫ আসন কমিটির সদস্য সচিব ও ডেমরা মধ্য থানা আমীর মোহাম্মদ আলী, ঢাকা-৪ আসন কমিটির সদস্য সচিব ও কদমতলী মধ্য থানা আমীর মো. মহিউদ্দীন, যাত্রাবাড়ী উত্তর থানা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন, শ্যামপুর থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দীন, কদমতলী দক্ষিণ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, শ্যামপুর পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা আব্দুর রব ফারুকী, যাত্রাবাড়ী থানা আমীর মাওলানা সাদিক বিল্লাহ, ডেমরা উত্তর থানা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, যাত্রাবাড়ী-কোনাপাড়া থানা আমীর মো. আখতারুজ্জামান চয়ন, যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা আবুল হোসাইন, ডেমরা দক্ষিণ থানা আমীর মির্জা মো. হেলাল, ডেমরা পশ্চিম থানা আমীর মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সকল থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জননেতা আব্দুস সবুর ফকির বলেন, যাত্রবাড়ী শহীদের রক্তে রর্জিত এক ভূমি। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পালিয়ে যাওয়ার পরও যাত্রাবাড়ীতে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলি চালানো হয়েছে। গুলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণের বুকে গুলি চালানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যাত্রাবাড়ী এলাকার জনগণের ত্যাগ সর্বোচ্চ। এই ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই এলাকাকে নতুনরূপে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, যাদের সামজের কল্যাণে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নাই তারাই এখনো একাত্তরের পরে আছে। জনগণের কল্যাণে কর্মসূচি না থাকলে আওয়ামী লীগের মতোই দেশ থেকে বিদায়ী নিতে হতে পারে উল্লেখ করে তিনি সকল দলকে জনগণের কল্যাণে জাতির স্বার্থে রাজনীতি করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার
সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ মধ্যরাতের পরে অথবা কালকে সকালের ভেতরে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে
বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৪ ডিসেম্বর ) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার
হাসপাতালের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
এই
সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন চিকিৎসক, দলের নেতাকর্মীসহ ১৪ জন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা
ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তারা
হলেন—পুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান, ডা. জাহিদ হোসেন, ডা. এনামুল
হক চৌধুরী (চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা), ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. সাহাবুদ্দিন
তালুকদার, ডা. নুরুদ্দিন আহমেদ, ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, ডা. মোহাম্মদ আল মামুন, হাসান
শাহরিয়ার ইকবাল (এসএসএফ), সৈয়দ সামিন মাহফুজ (এসএসএফ), আব্দুল হাই মল্লিক (ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যানের সহকারী), মাসুদের রহমান (অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রাইভেট সেক্রেটারী), ফাতেমা
বেগম (গৃহকর্মী), রুপা শিকদার (গৃহকর্মী)।
ডা.
জাহিদ জানান, বেগম খালেদা জিয়াকে আজ মধ্যরাতের পরে অথবা কালকে সকালের ভেতরে লন্ডনে
নিয়ে যাব। আমরা সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছি।
দীর্ঘদিন
ধরে খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায়
ভুগছেন। গত বছরের ৫ আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া
মুক্তি পান। এরপর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া।
চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি।
মন্তব্য করুন


তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।
মন্তব্য করুন


মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়। জামালপুরের মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক মো. আহমাদুল কবির সাকিল নোটিশটি জারি করেন।
নোটিশে বলা হয়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলার ডিগ্রিরচর বাজার এলাকায় এমপি প্রার্থী ছামিউল হক ফারুকী মিছিল, জনসমাবেশ এবং প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন—এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগটি যাচাই করে প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা মিলেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় তাকে আগামী ২২ জানুয়ারি সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ছামিউল হক ফারুকীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বতী সরকারের
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটিও গঠন হয়ে
গেছে। প্রজ্ঞাপনে হয়তো প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষরও করেছেন। আজ অথবা কালকের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন
জারি হবে। আমাদের নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হয়ে গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর)
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ কথা বলেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা আসিফ
নজরুল বলেন, সার্চ কমিটি হয়ে গেলে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। এরপর ভোটার তালিকা সংশোধন
করা হবে। ভোটার তালিকা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন ছিল। আগের নির্বাচনগুলো ছিল ভুয়া। ফলে ভোটার
তালিকা নিয়ে কারও কোনো মাথা ব্যথা ছিল না। আমরা তো ভুয়া নির্বাচন করব না। আমরা অসাধারণ,
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করব। ফলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর
সঙ্গে কথা বলে প্রধান উপদেষ্টা সবকিছু ঠিক করবেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা
ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে। আচরণবিধি
প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
আজ
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ও গণভোট উপলক্ষে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেল’-এর
সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এরআগে ‘ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন
টিম’ -এর সঙ্গেও মতবিনিময় সভা করেন নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচন
কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা
করা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় যেসব নিরাপত্তা-সংবেদনশীল
বিষয় রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে
কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা
হচ্ছে।
রাজনৈতিক
দল ও প্রার্থীদের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনে তাদের
মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তঃদলীয় সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, যা একটি
ইতিবাচক লক্ষণ। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসুক, কোনো দল যেন সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে- এভাবে
একটি উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করাই সবার প্রত্যাশা।
তিনি
বলেন, আজ আমরা যে সমন্বিত বাহিনীর প্রস্তুতি দেখেছি, তাতে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। বৃহত্তর
চট্টগ্রামে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে তুলে ধরা গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব।
অপতথ্য ও গুজব রোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অপতথ্য ছড়ানো যেমন
অপরাধ, তেমনি অপতথ্য শেয়ার করাও অপরাধ- এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচন
নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে,
তাহলে নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ
অস্ত্রধারীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট
ফেজ-২’ নামে অভিযান চলছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা
ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। অতীতে যে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ছিল, সামনে তার
পুনরাবৃত্তি হবে না- ইনশাআল্লাহ।
এরআগে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময় সভায় ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আপনারা যে অপারেশনগুলো
করছেন, অপারেশনের পরে তা মিডিয়ায় দিয়ে দিবেন। কোনো গোষ্ঠী বা দল যদি অপকর্ম করে পার
পেয়ে যেতে চায় তাহলে তারা যেন উৎসাহিত বোধ না করে। কারণ তারা জানবে অপকর্ম করলে ধরা
পড়তে হবে এবং অপকর্ম লোকালি থাকবে না জাতীয় বিষয় হয়ে যাবে। লোকাল ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয়
ক্ষতি হবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করুক।
নির্বাচনকে
ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য
রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকায় (চট্টগ্রাম) সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে
ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে
পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মতবিনিয়ম
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের
ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার
নাজির আহমদ খাঁন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড মুহাম্মদ ইউনূস বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্যে মাইলস্টোন স্কুলের কাছে উত্তরা ১২ নম্বরে সিটি কর্পোরেশনের কবরস্থানে জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে এই কবরস্থান তাঁদের স্মৃতি রক্ষার্থে সংরক্ষণ করা হবে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
(সূত্র-বাসস )
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা চালু করার বিষয়ে
অগ্রগতি অর্জিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বিভিন্ন খাতে দেশটির বিনিয়োগ প্রস্তাবকে
স্বাগত জানান।
আজ বুধবার (৭ মে) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন
যমুনায় ইউএই’র টলারেন্স এ্যান্ড এক্সিসটেন্স বিষয়ক কেবিনেট মন্ত্রী শেখ নাহায়ান
বিন মুবারক আল নাহায়ানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় অধ্যাপক ইউনূস ইউএই’কে ধন্যবাদ জানান।
শেখ নাহায়ানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি আজ
দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় স্বল্প সময়ের সফরে পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ বিন আলি আল সায়েঘ, বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের
আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুর রহমান আল হাওয়ি।
আল নাহায়ান প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, বাংলাদেশের
প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং আমাদের বন্ধুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে ‘আমি আমাদের প্রেসিডেন্টের
নির্দেশে এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, আমাদের দুই দেশের সরকারের মধ্যে
সাম্প্রতিক সময়ের বাড়তি সংলাপকে আমরা প্রশংসা করি। আমরা বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ভিসা
পর্যন্ত সব খাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি এবং আমরা একসাথে কাজ করতে ইচ্ছুক।
এই সৌহার্দ্যমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, আমরা এ ধরনের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতাকে স্বাগত জানাই। আমরা বিভিন্ন খাতে
বিনিয়োগ প্রস্তাবকেও স্বাগত জানাই।
ভিসা নীতিতে শিথিলতার কথা উল্লেখ করে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ভিসার দরজা খোলার জন্য ধন্যবাদ। এখনও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া বাকি আছে,
আশা করি আমরা সম্পৃক্ত থাকবো এবং সমস্যাগুলো সমাধান করবো।
সম্প্রতি ইউএই প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট
ভিসা ইস্যু করছে।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের জন্য ভিসাগুলোও সাম্প্রতিক
সময়ে দ্রুত অনুমোদিত হচ্ছে। সেইসাথে, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন
ভিসা সিস্টেম পুনরায় চালু করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিপণন ব্যবস্থাপক,
হোটেল কর্মীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ভিসাও এই
পদ্ধতিতে দেওয়া হয়।
এ ছাড়াও, নিরাপত্তা রক্ষীদের জন্য ৫০০ ভিসা
ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে এবং আরও এক হাজার ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত ইউএই রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি
আল হমোদি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদও বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী
বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের
প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি
ভবন যমুনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য (এমইপি) মুনির সাতোরির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের
সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলকে জানান, আমরা ইতিমধ্যেই
নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছি। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে, রমজানের
ঠিক আগে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনসাধারণ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে
নির্বাচনী উৎসাহ বাড়ছে, কারণ দীর্ঘদিন পর-কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দশকেরও বেশি সময়
পর-ছাত্র সংসদ নির্বাচন আবার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু,
স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর।
তিনি যোগ করেন, কিছু শক্তি এখনো নির্বাচন বিলম্বিত
করার চেষ্টা করছে, তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, তরুণ ভোটাররা এবার
রেকর্ড সংখ্যায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, কারণ ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর অনেকেই প্রথমবারের
মতো ভোট দেবে।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য
এক নতুন সূচনা বয়ে আনবে। এটি আমাদের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে-জাতির জন্য
এক নতুন যাত্রা।
এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা ও ইউরোপীয়
আইনপ্রণেতারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক
রূপান্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অব্যাহত সমর্থন এবং চলমান রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়ে মতবিনিময়
করেন।
আগামী নির্বাচন বাংলাদেশে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
হয়ে উঠতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা। একজন আইনপ্রণেতা প্রধান উপদেষ্টা
ও তাঁর সরকারের গত ১৪ মাসের ‘অসাধারণ’ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
একজন ডাচ আইনপ্রণেতা মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ কতিপয়
দেশের মধ্যে অন্যতম, যেখানে ‘ঘটনাগুলো সঠিক পথে এগোচ্ছে।’
প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিচল সমর্থনের
জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর
জন্য বাড়তি তহবিল প্রদানের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন সচিবরা।
আজ (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এই প্রথমবারের মতো সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করছেন সরকারপ্রধান।
জানা গেছে, সাধারণত সচিব সভায় কয়েকটি নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডার বাইরেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এবার এ বৈঠকের জন্য বিস্তারিত এজেন্ডা থাকছে না। এছাড়া সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে সারা দেশে প্রশাসনিক কাজগুলো কীভাবে দ্রুত স্বাভাবিক ধারায় আনা যায়, এ-সংক্রান্ত পরামর্শ শুনতে চাইতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তার সরকার এসব বিষয়ে কী ভাবছে, সে সংক্রান্ত নির্দেশনা সরাসরি সব সচিবকে দেবেন ড. ইউনূস।
মন্তব্য করুন