

২৭
লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী মেহজাবীন
চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
আজ
সোমবার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. আদনান জুলফিকার শুনানি
শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ
বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বলেন, আমরা দুজনের পক্ষে আদালতে জবাব দাখিল
করেছি। আদালতকে বলেছি মামলার ৭৯ লাইনের বক্তব্য সাজানো ও মনগড়া।
বাদীর
সঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাইয়ের কোনো দেখা হয়নি। হুমকি-ধামকির কোন প্রশ্নই আসেনা।
শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি নথিজাত করেছেন।
এদিন
মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান আদালতে উপস্থিত হন।
এসময়
মেহজাবীনের মুখে কাল মাস্ক ছিল। পরে তাদের উপস্থিতি শুনানি হয়। শুনানি শেষে তারা আদালত
প্রাঙ্গণে ছেড়ে যান।
এর
আগে গত ১০ নভেম্বর পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ও হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জারি করা হয়।
এ
বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। পরে ১৬ নভেম্বর
মেহজাবীন ও তার ভাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন।
মামলার
সূত্রে জানা গেছে, আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে
মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং
বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক
কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিবো,
কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা
চাইতে যান তিনি।
তাকে
১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন
ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
তারা
বলেন "এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না।তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে
জানে মেরে ফেলব।' এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন
করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের
করার জন্য পরামর্শ দেয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকার
সাভারে ভবঘুরে পরিচয়ে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সিরিয়াল কিলারের
পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর নিজেকে ‘মশিউর রহমান খান
সম্রাট’ বলে পরিচয় দিলেও তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ বলে নিশ্চিত
করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার
(২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান
এ তথ্য জানান।
পুলিশ
জানায়, সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বড়
বোনের নাম শারমিন। তার জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া
ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের একাংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।
পুলিশের
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নাম ও পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে
শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পাতত সবুজ।
পরে
তাদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত। ওই নারীরা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ
তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাদের হত্যা করত। এসব হত্যাকাণ্ডের
বিষয়ে আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে দেওয়া সবুজের তথ্যগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখা
হচ্ছে।
তিনি
আরও জানান, সর্বশেষ ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে
তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসে সবুজ। সেখানে ওই তরুণীর
সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটলে প্রথমে যুবককে ভবনের দোতলায় নিয়ে
হত্যা করে। পরে তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে দুজনের মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে
গিয়ে একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
রোববার
(১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সবুজ শেখকে আটক করে পুলিশ। পরে সাভার
পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের
ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সোমবার
পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে হাজির করলে জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে
জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে
১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজ শেখ ওরফে সম্রাটকে সোমবার রাতেই কারাগারে
পাঠানো হয়।
প্রাথমিক
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট ওরফে সবুজ প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন
রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে।
পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক
যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর
মরদেহ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সবুজ হত্যা করে বলে স্বীকার
করে।
সাভার
থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত নেশা করার
কারণে কিছুটা মানসিক বিকারগ্রস্ত। মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়েছিল। তার ভাষায়,
হত্যাকে তিনি “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ”
বলে উল্লেখ করতেন।’
হেলাল
উদ্দিন আরও বলেন, ‘সাভারে আসার পর ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটিয়েছেন
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে।
২০২৫
সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার পর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত
ভবনে চলে আসেন এবং ওই সেন্টারের নিচতলায় আস্তানা গাড়ে। এর পর থেকেই কমিউনিটি সেন্টারের
ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার হতে থাকে। গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার
করা হয়। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সেন্টারে নিয়মিতভাবে নজরদারি চালানো হতো। সম্রাটও
সন্দেহের বাইরে ছিলেন না। কিন্তু কোনো ক্লু বা প্রমাণের অভাবে তাকে আইনের আওতায় আনা
যাচ্ছিল না।’
হেলাল
উদ্দিন জানান, নজরদারির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে
এক কিশোরীকে সম্রাটের (ছদ্মনাম) বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় সম্রাট পাশেই
দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানতে চাইলে ওই কিশোরী সম্রাটকে তার ভাই বলে সম্বোধন করেন এবং তিন
দিন আগে কমিউনিটি সেন্টারে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন।
পরের
রাতেই (শনিবার রাত) ওই কিশোরীরসহ দুজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট।
পরদিন রোববার দুপুরের পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে
খুনের সঙ্গে সম্রাটের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার
করা হয়।
গতকাল
সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয় খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার
কথা স্বীকার করেছেন।
হেলাল
উদ্দিন বলেন, ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার দিনের বেলায় থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর
রাতে তার দেখা মিলত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা পদচারী-সেতুতে। যেসব ভবঘুরে বা পাগল নারী-পুরুষ
রাতে পদচারী-সেতুতে ঘুমাতেন, তাদের কাউকে কাউকে ফুসলিয়ে তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারে
নিয়ে আসতেন। যারা তার কথায় কমিউনিটি সেন্টারে আসতেন, তারাই খুনের শিকার হতেন।
জানতে
চাইলে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, খুনি ধরা পড়েছেন এবং
খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। এখন ভিকটিম, অর্থাৎ যারা খুন হয়েছেন,
তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
আরমান
আলী আরও বলেন, ‘শুধু এই ছয় খুনই নয়, সম্রাট আরও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
তদন্ত চলছে। আশা করি, সব তথ্য বের হয়ে আসবে।’
গত
বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সবুজ।
এর
আগে সাভারে ছয় খুনের ঘটনায় আটক হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই সিরিয়াল কিলার
খুনের দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন ‘কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে
দেখলেই তাদের “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ”
করে দিতাম।’
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের
মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে
বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে
উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া
ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো
সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিরলসভাবে গত প্রায় নয় মাস ধরে
কাজ করেছে। এ সময় কমিশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের
সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ধৈর্য্যসহকারে রাজনৈতিক
দলগুলো কমিশন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে।
মতের পার্থক্য থাকলেও তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। অনেক বিষয়েই ঐকমত্যে আসতে পেরেছে।
দেশবাসী সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রম দেখতে পেরেছেন। এটি বাংলাদেশের
রাজনীতির ক্ষেত্রে তো বটেই, পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এটি ভবিষ্যৎ
রাজনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক। তিনি ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে
গণতান্ত্রিক চর্চার এই আসাধারণ আয়োজনকে সফল করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই
সনদে সংবিধান বিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য
তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিছু প্রস্তাবে সামান্য ভিন্নমত আছে। বাকি অল্প
কিছু প্রস্তাবে আপাতদৃষ্টে মনে হয় অনেক দূরত্ব আছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক
কিছু নয়। তবে খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এসব প্রস্তাবগুলোর ক্ষেত্রেও আসলে মতভিন্নতা খুব
গভীর নয়। কেউ সংস্কারটা সংবিধানে করতে চেয়েছেন, কেউ আইনের মাধ্যমে করতে চেয়েছেন। কিন্তু
সংস্কারের প্রয়োজনীতা, নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে কারো মধ্যে মতভেদ নেই। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রকাশ্য বক্তব্য যতখানি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে আছে বলে মনে হয়, জুলাই সনদ সঠিকভাবে
বিশ্লেষণ করলে ততখানি মত পার্থক্য দেখা যায় না। এটি আমাদের অনন্য অর্জন। এতে জাতি এগিয়ে
যেতে সাহসী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এসব বিবেচনায় রেখে এবং
রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে মূল দলিল হিসেবে ধরে নিয়ে অন্তর্বর্তী
সরকার আজকের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ,
২০২৫ অনুমোদন করেছে। এটি বিরাট খবর। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর শেষে এটি ইতোমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন
করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আদেশে আমরা গুরুত্বপূর্ণ
কিছু বিধান গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবনার ওপর
গণভোট অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত। আমরা সকল
বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন
করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত
হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী
হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।’
জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও
নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন।
প্রশ্নটি হবে এরকম:
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন
আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর
প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন
কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন
করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত
হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে
ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির
ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ
বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো
বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক
দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণভোটের দিন
এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত
জানাবেন।
তিনি বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক
হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত
হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ
তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের
মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে
নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটিও আজকে অনুমোদিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে।
নিয়োগ পদ্ধতি শিক্ষক নিবন্ধন সনদের পরিবর্তে সরাসরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া করবে সরকারি কর্ম কমিশনের আদলে গঠিত একটি কর্তৃপক্ষ।
তবে এ নিয়ে বর্তমানে আইন তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। এজন্য প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। আর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বিজ্ঞপ্তির পর সনদের ভিত্তিতে আবেদন করলে আবেদনপত্রের ভিত্তিতে নিয়োগে সুপারিশ করে থাকে এনটিআরসিএ।
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস এম মাসুদুর রহমান বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন আইন তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আইনটি পাস হলে শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো নিবন্ধন সনদের দরকার হবে না। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর এনটিআরসিএর জন্য নতুন আইন তৈরি সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়।
শিক্ষক নিয়োগে নতুন আইন প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক অনুবিভাগ-২) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন আইন তৈরির কাজ চলমান। আশা করছি, আইনটি পাসের জন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদে তোলা হবে।
এদিকে এনটিআরসিএর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নির্বাচন এবং নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সুপারিশ কর্তৃপক্ষ সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে। তবে এই নতুন আইন কার্যকর হতে দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর এই সময় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আগের নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে হবে।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে এনটিআরসিএর সনদধারীরা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন করলে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এ ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব-৩৫ বা নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৩ বছর রয়েছে এমন সব প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পান। ফলে অনেকেই বঞ্চিত হয়ে থাকেন। তবে নতুন আইন কার্যকর হলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়স উল্লেখ থাকবে। এতে বঞ্চিত হতে হবে না কাউকে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন সনদ দিয়ে আসছে এনটিআরসিএ। প্রথম দশকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি। তবে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এতে পরিবর্তন আসে। সনদ দেয়ার পাশাপাশি নিয়োগের জন্য সুপারিশের ক্ষমতা দেয়া হয় এনটিআরসিএকে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর
শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা আজ বৃহস্পতিবার (২১
নভেম্বর) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ
করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে
এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
এসময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি
চৌকস দল প্রধান উপদেষ্টাকে সালাম জানান। এসময়
বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
প্রধান উপদেষ্টা সেখানে রাখা দর্শনার্থীদের বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে শিখা অনির্বাণে পৌঁছলে সেখানে
তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধ্যাপক ইউনূসকে
স্বাগত জানান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে সেনা,
নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয় এবং তারা পাকিস্তানি হানাদার
বাহিনীর ওপর সর্বাত্মক হামলা চালায়।
স্বাধীনতার পর থেকে এই ঐতিহাসিক দিনটিকে
প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা বাজারে অবস্থিত নিউ রানা জুয়েলার্সে
দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোর চক্রের সদস্যরা দোকান থেকে ৭০ ভরি স্বর্ণ, ৬০০ ভরি
রুপা ও চার লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে শাটার ও কেচি গেট ভেঙে এ চুরির ঘটনা
ঘটে।
দোকানের মালিক মাসুদ রানা জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ
করে তিনি বাসায় যান।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে দোকান খুলতে এসে কেচি গেটের তালা ভাঙা দেখতে
পান। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং সিন্দুকসহ
সব স্বর্ণ ও রুপা নিয়ে গেছে চোরেরা।
তিনি বলেন, দোকানে নিজের ৫০ ভরি স্বর্ণ ও বন্ধকি রাখা ২০ ভরি স্বর্ণ
ছিল। এছাড়া ৬০০ ভরি রুপা, নগদ চার লাখ টাকা এবং স্বর্ণ কেনাবেচার রশিদসহ পুরো সিন্দুক
নিয়ে গেছে অজ্ঞাত চোর চক্র।
লুট হওয়া ৭০ ভরি স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং
৬০০ ভরি রুপার মূল্য প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৩টা ২১ মিনিটের দিকে একদল চোর দোকানের
ভেতরে প্রবেশ করে। তারা গ্লাস ভেঙে সিন্দুক বের করে বেশ কিছু সময় ভেতরে অবস্থান করে।
পরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে সিন্দুকসহ স্বর্ণ ও রুপা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে
মিজান বলেন, চুরির বিষয়টি জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে এবং একাধিক টিম
চোর চক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন


রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বসবাসরত সকল নাগরিককে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিবেন না।
মন্তব্য করুন


সাজেকে বন বিভাগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সাজেক থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রোববার দুপুরে মাচালং একুইজ্জাছড়ি এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনভূমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে ইউপিডিএফ নেতা সচিব চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ ও একটি ফেডারেশনের নারী কর্মীরা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়।অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তারা মাচালং বাজারে অবস্থিত বন বিভাগের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলার সময় বন কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে অপহরণের চেষ্টা হলে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।ঘটনার পর হামলাকারীরা গাছ কেটে সাজেক সড়ক অবরোধ করলে পর্যটকসহ বহু মানুষ দীর্ঘ সময় আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনী সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এ ঘটনায় বন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা করেন। সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


পদ্মা সেতুতে দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে তোফায়েল মিয়া (২৭) নামের এক বাস হেলপার প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে সেতুর ২৯ নম্বর পিলারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত তোফায়েল মিয়া মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ফকির মাহমুদ আকন কান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী ‘পদ্মা স্পেশাল পরিবহন’-এর একটি বাস সেতুর ওপর লেন পরিবর্তনের চেষ্টা করছিল। ওই সময় পেছন দিক থেকে আসা ভাঙ্গাগামী ‘বসুমতী পরিবহন’-এর আরেকটি বাস সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বসুমতী পরিবহনের হেলপার তোফায়েল মিয়া গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত আটজন যাত্রী আহত হন।খবর পেয়ে সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। পরে পুলিশ এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও সেতু কর্তৃপক্ষের রেকার ব্যবহার করে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি আলাদা লেনে সরিয়ে নেওয়ার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির আহমেদ জানান, বাস দুর্ঘটনায় তোফায়েল নামে এক হেলপারের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বন্যার্তদের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে ৬ষ্ঠ দিনের মতো চলছে গণত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম। এতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। যে যা পারছেন অর্থ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করছেন।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, সকাল থেকেই, নানা শ্রেণিপেশার মানুষ নগদ অর্থ, ওষুধ, পোশাক ও ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছেন। আর এই কার্যক্রম চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। বন্যার্ত ও অসহায় মানুষদের সহযোগিতায় নগরীর সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
প্রসঙ্গত, এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায়
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার ৫ম দিন সন্ধ্যা ৬টা অব্দি সংগৃহীত
অর্থের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এতে জানানো
হয়, আজ মোট সংগ্রহ হয়েছে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, শহীদ মিনার আমাদের প্রতিরোধ ও বিজয়ের
প্রতীক। এখান থেকেই শুরু করেছিলাম এবং এখানে এসেই আমরা বিজয় উদযাপন করতে পেরেছিলাম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষক, সমাজকর্মী ও সংস্কৃতি কর্মীরা রাজপথে নেমে
কারফিউ ভেঙে শহীদ মিনারে প্রোগ্রাম করেন, যা আমাদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে। সবদিক
বিবেচনায় শহীদ মিনার আমাদের প্রতিরোধ ও বিজয়ের অনুষঙ্গ। এখান থেকেই ৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে
এক দফা ঘোষিত হয়েছিল।
আজ
শনিবার (২ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই পুনর্জাগরণ র্যালী-
২০২৫ এর শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
র্যালীটি
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন চত্বর থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, গত বছরের অভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হন, ২০
থেকে ২৫ হাজার মানুষ আহত হন। এই আত্মত্যাগ স্মরণেই আমাদের কার্যক্রম। যতদিন আমরা শহীদদের
স্মরণে রাখবো, আহতদের মর্মপীড়া আমরা যতদিন অনুভব করবো, ততদিন আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের
প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবো। শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যেহেতু একটা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি,
বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ার একটা সুযোগ পেয়েছি, সেই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আমরা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যার একটি
বড় অংশ বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। হয়তো বাংলাদেশের সাধারণ
মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এক বছরে সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের চেষ্টা ছিল, এই চেষ্টা অব্যাহত
থাকবে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কারণে অনেকে ন্যায্য অধিকার পাননি, বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন,
এখন ১৬ বছর পর তারা সেই অধিকার ও ন্যায্যতার দেখা পেয়েছেন। বৈষম্যহীনতার দেখা পেয়েছেন।
২০২৪
এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ১৭ জুলাই গায়েবানা জানাজায় হামলার পর আমরা
আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারিনি। ক্যাম্পাস থেকে আন্দোলন তখন ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলাদেশে,
বিশেষ করে ঢাকার প্রবেশপথের অন্তত আটটি পয়েন্টে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। মানুষ
দলমত নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করে, অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছিল এই আন্দোলনে।
তথ্য
উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটা পরিবর্তনের শুরু মাত্র। কিন্তু
এক বছর-দুই বছর অথবা একটা সরকার বা দুইটা সরকারের এটা বিষয় না। সরকার আসবে-যাবে, কিন্তু
জুলাই অভ্যুত্থানের কারণে পুরাতন ব্যবস্থা ও পুরাতন বন্দোবস্তে ছেদ পড়েছে। আমরা একটা
পর্ব পেরিয়ে নতুন পর্বে রওয়ানা দিয়েছি। আমি মনে করি এই পর্বে সকল গণতান্ত্রিক ও বহুমাত্রিক
প্রকাশ এক বা দুই বছরে দেখা যাবে না। আমি মনে করি, আমাদের যেই প্রজন্ম এই গণতন্ত্রের
অভিযাত্রা সূচনা করেছে, তাদের যদি দেশের সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠান স্মরণ রাখবে, যখন জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের
অবিরত চেষ্টা চালিয়ে যাবে, আমরা আশা রাখি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত
হবে।
(সূত্র-
বাসস)
মন্তব্য করুন