

কুমিল্লায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক মামলায় তিতাস গ্যাসের পিয়ন (অফিস সহায়ক) জহিরুল ইসলামের ৩ স্ত্রীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রায় এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
গতকাল রোববার (৭ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বেগম শামসুন্নাহার ৩টি মামলায় জহিরুলের ৩ স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ রায় দেন।
অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ঢাকার অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলামের ৩ স্ত্রীকে এই সাজা দেওয়া হয়। তবে ৩ স্ত্রীর সাজা হলেও স্বামী জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সকল মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয় তাকে।
অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে। স্ত্রীদের সঙ্গে প্রতিটি মামলাতেই দ্বিতীয় আসামি হিসেবে নাম ছিল জহিরুলের। রায় ঘোষণার সময় জহিরুল ও তার ৩ স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক।
দুদক কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৯ ফ্রেব্রুয়ারি দায়েরকৃত পৃথক ৩টি মামলায় সেলিনা আক্তার, আকলিমা আক্তার ও আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ তদন্তপূর্বক মামলার বাদী ছিলেন, দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান।
দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, স্থাবর, অস্থাবর অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের দায়ে তিতাস গ্যাসের ঢাকা অফিসের অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তারকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা আক্তারকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩৪ লাখ ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া তৃতীয় স্ত্রী আছমা আক্তারকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫১ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নাশকতা ঘটিয়ে ছাত্রজনতা হত্যা চেষ্টা সহ নাশকতা মামলার ০২ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত ২০ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখ সন্ধ্যায় র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন বড়পুকুরপাড় এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নাশকতা ঘটিয়ে ছাত্রজনতা হত্যা চেষ্টা সহ নাশকতা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ১। আদনান হায়দার (৪০) এবং ২। মোঃ দুলাল (৩৮) নামক ০২ জন নাশকতাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী ১। আদনান হায়দার (৪০) কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের আখলাক হায়দার এর ছেলে এবং ২। মোঃ দুলাল (৩৮) একই থানার পূর্বহুড়া গ্রামের মৃত আক্কাছ আলী এর ছেলে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নাশকতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৪/০৮/২০২৪ ইং তারিখ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার অন্তর্গত নাজিরা বাজার এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দিন ব্যাপী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছিল।
উক্ত কর্মসূচিকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ধৃত আসামী ১। আদনান হায়দার (৪০) ও ২। মোঃ দুলাল (৩৮) সহ তার অপরাপর সহযোগীরা তাদের হাতে থাকা ককটেল, রামদা, লোহার রোড সহ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারী নিরীহ ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিত হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গুলি বর্ষণ করে। উক্ত ঘটনায় অনেক নিরীহ ছাত্র ককটেল, দেশীয় অস্ত্র ও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। তৎপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানায় একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের হয়, যার মামলা নং-০৭, তারিখ-০৭/০৯/২০২৪। মামলা দায়ের করার পর হতে র্যাব-১১, সিপিসি-২, এর আভিযানিক দল পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত আরম্ভ করে। পরবর্তীতে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে গত ২০ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখ সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার বড় পুকুরপাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। আদনান হায়দার (৪০) ও ২। মোঃ দুলাল (৩৮)’দ্বয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ে
গ্রফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বুড়িচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ মামলায় অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা বিভাগের দাবিতে কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি) আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘কুমিল্লা সবসময়ই উন্নয়নবঞ্চনার শিকার। যে ন্যায্য দাবি নিয়ে আপনারা রাস্তায় নেমেছেন, তার প্রতি আমি ঐক্যের ডাক দিচ্ছি-এটা কুমিল্লার ইজ্জতের প্রশ্ন।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা আজও অনেক মৌলিক অবকাঠামো থেকে বঞ্চিত। ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলেও এ রাস্তায় যথাযথ উন্নয়ন হয়নি। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর এ মহাসড়ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বছরের পর বছর পিছিয়ে গেছে। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, সার্ভিস লেন-কিছুই হয়নি।’
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার দুই পৌরসভা একীভূত হওয়া সত্ত্বেও কোনো নতুন অবকাঠামো, জনবল বা প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি, যা কুমিল্লার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করেছে।
তিনি কুমিল্লা অঞ্চলের কয়েকটি বড় বঞ্চনার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বহু বছর বিলম্বিত হওয়া, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু না হওয়া, ওই অঞ্চলে শিল্প-বাণিজ্য ও শিক্ষা খাতে বৈষম্যমূলক বরাদ্দ। তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান-কেউই কুমিল্লাকে প্রাপ্য মর্যাদা দেয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশেও এই চিত্র বদলায়নি।
নোয়াখালীকে বাদ দিয়ে ‘কুমিল্লা বিভাগ’ গঠনের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কেউ রাজি না হলে আলাদা পথ খুঁজতে হবে। নোয়াখালীর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করব। প্রয়োজন হলে আপনাদের নিয়েই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।’
আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মনিরুল হক বলেন, ‘রাজপথে আপনাদের সঙ্গে থাকব। আন্দোলনকে সংগঠিত করতে আপনারা আমাকে সময় দিন। কুমিল্লার ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।’
কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম. মোশাররফ হোসাইনের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ইকবাল হোসেন মজুমদার, বৃহত্তর কুমিল্লা বনশ্রী-আফতাবনগর সমিতির সভাপতি এনামুল হক বাবলু, নাঙ্গলকোট উন্নয়ন ঐক্য ফোরামের সভাপতি মাইনুল হক বাবলু, ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রানা চৌধুরী।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন, সিজেএফডি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডিইউজে’র যুগ্ম-সম্পাদক দিদারুল আলম, সহ-সভাপতি এম এস দোহা, ডিইউজে’র অর্থ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসেন, ডিআরইউ’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মঈনুল আহসান, সিজেএফডি’র যুগ্ম-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন জসিম, অর্থ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন দরবেশ, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, সাবেক অর্থ সম্পাদক সায়ীদ আবদুল মালিক, জনকল্যাণ সম্পাদক জহির আলম সিকদার, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ আজম ও নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ এবং হালিম মোহাম্মদ, নার্গিস জুঁই, ড. শাহজাহান মজুমদার, মাহবুব মোর্শেদ, রানা চৌধুরী, শাহজালাল উজ্জল, গোলাম মোস্তফা রবি, ইমাম হোসেন ইমন, নুরুল ইসলাম খান মামুন, মঈন উদ্দিন শাহীন, আকাশ খান এবং মেরি আক্তার।
এছাড়াও সমাবেশে কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র সদস্য, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে যাকাত শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৬ মার্চ) বিকাল ৪ টায় নগরীর গোল্ডেন স্পুন অডিটরিয়ামে মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড.আবরার আহমেদ।বিশেষ আলোচক হিসাবে আলোচনা করেন ড.মাসুদুল হক চৌধুরী,আড়াইবাড়ী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতী আমিনুল ইসলাম।
কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতে সেক্রেটারী মু.মাহবুবর রহমান এর সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন,মহানগর জামায়াতে নায়েবে আমীর যথাক্রমে মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন,অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন,মহানগর জামায়াতে কর্মপরিষদ সদস্য এড এয়াকুব আলী চৌধুরী,অধ্যাপক মজিবুর রহমান,কাজী নজীর আহম্মেদ,অধ্যাপক জাকির হোসেন,কাজী মোতাহের আলী দিলাল প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে হবে। আল্লাহতাআলার আইন দিয়ে দেশ না চললে কেউ সুখ শান্তি পাবে না। এখানে চুরি, হত্যা রাহাজানিসহ যতধরনের অপকর্ম চলতে থাকবে। ইসলাম মানেই সুবিচার, ইসলাম মানলেই সুবিচার হবে। ইসলাম যতদিন না থাকবে কোথাও সুবিচার কায়েম হবে না। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইসলাম কায়েমের মাধ্যমেই সমাজের সকল স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সমাজ, রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগ চালাবে না তারা কাফের, ফাসেক ও জালেম।
সেমিনার সম্মিলিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টি'র (এনসিপি'র) কেন্দ্রীয় সদস্য সালাউদ্দিন জামিল সৌরভ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিভাগ সংখ্যা বৃদ্ধি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই প্রেক্ষাপটে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে কুমিল্লা একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগের মর্যাদা পাওয়ার উপযুক্ততা বহু আগে থেকেই অর্জন করেছে।
১. ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক গুরুত্ব:
কুমিল্লা দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর আশপাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও লাকসাম-নাঙ্গলকোট অঞ্চলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই অঞ্চলগুলো মিলে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করে, যা একটি আলাদা বিভাগের প্রাকৃতিক কাঠামো উপস্থাপন করে।
২. জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয়তা:
কুমিল্লা জেলা নিজেই বাংলাদেশের অন্যতম জনবহুল জেলা। কুমিল্লা অঞ্চল ও আশেপাশের জেলা মিলে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি। একটি বিভাগের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় বিভাগগুলোর তুলনায় এই অঞ্চলকে একটি আলাদা বিভাগে উন্নীত করলে জনগণের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমবে এবং সেবা পৌঁছাবে আরও দ্রুত।
৩. অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
কুমিল্লা প্রাচীন কালে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। ময়নামতি, শালবন বিহার, এবং অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এই জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। কুমিল্লা শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়েও এগিয়ে রয়েছে। এখানকার ইপিজেড, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং কৃষিপণ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য। একটি বিভাগীয় শহর হিসেবে কুমিল্লার অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা হলে এই অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে, উন্নয়ন প্রকল্প আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।
৫. দূরত্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে:
চট্টগ্রাম বিভাগের অংশ হিসেবে বর্তমানে কুমিল্লা অনেক প্রশাসনিক কাজে চট্টগ্রাম নির্ভরশীল। কিন্তু কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ফলে সাধারণ মানুষকে বিভাগীয় কাজের জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিভাগ স্থাপন হলে এই জটিলতা দূর হবে।
৬. জনআকাঙ্ক্ষা ও দীর্ঘদিনের দাবি:
কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি অনেক পুরনো এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। এই দাবি শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নয়, বরং এটি স্থানীয় মানুষের আত্মপরিচয়, মর্যাদা ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের এমন যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা অনুচিত।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
৫২ কেজি গাঁজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
আজ
(৬ জানুয়ারী) রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত এসআই(নিঃ) শেখ মফিজুর রহমান ও সঙ্গীয়
ফোর্স সহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ৪নং আমরাতলীর
বাসমঙ্গল চৌমুনী পাকা রাস্তায় ৫২ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ রাফিন ফার রহমান প্রঃ
মাটি(২৫) কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত
আসামী হলো: মোঃ রাফিন ফার রহমান প্রঃ মাটি(২৫), পিতা মৃত-শাকিল আহম্মেদ প্রঃ নিজাম
উদ্দিন, মাতা-মরিয়ম বেগম প্রঃ মারিয়া আক্তার, সাং-কুচাইতলী (মধ্যপাড়া, লিটন মেম্বারের
বাড়ী সংলগ্ন), থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা- কুমিল্লা।
উক্ত
ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল,প্রতিবেদক:
‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সংবাদকর্মীদের নিয়ে টাইফয়েড টিকাদান বিষয়ক কনসালটেশন কর্মশালা।
আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে জেলা তথ্য অফিস, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ও জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া জামারিন আনসারী।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল হক।
আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল, মীর শাহালম,সাদিক মামুন, কামাল উদ্দিনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশে সংক্রমণজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ টাইফয়েড জ্বর। এটি স্যালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়, যা মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে।
টাইফয়েড প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিসিভি টিকা কার্যকর ও নিরাপদ। সারা বিশ্বে শিশুদের এ টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং সামান্য জ্বর, ব্যথা বা অস্বস্তি ছাড়া কোনো জটিল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
আসন্ন জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইনে দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের ইপিআই স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে টিসিভি টিকা দেওয়া হবে।
টিকা প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের উরুর মধ্যভাগের বাইরের অংশের মাংসপেশিতে এবং দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদের বাহুর উপরিভাগে ইনজেকশনের মাধ্যমে ০.৫ এম.এল. টিকা দেওয়া হবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়, তাই এ বয়সী শিশুদের এক ডোজ টিকা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস বয়সী শিশুদের এ টিকা দেওয়া হবে।
আয়োজকদের মতে, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে টাইফয়েড প্রতিরোধে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। তারা আশা করেন, টিকা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে পড়লে শিশু-কিশোরদের মধ্যে টাইফয়েড সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় নিখোঁজের ৭ দিন পর ডোবা থেকে “আদিবা জাহান মীম” নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের হাত ও গলায় রশি পেঁচানো ছিল।
আজ , বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন সিমানাপাড় গ্রামের একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। শিশু মীম ওই গ্রামের হানিফ মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে স্থানীয় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মৃত শিশু মীমের বাবা হানিফ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়ে যদি পানিতে ডুবে মরত, তাহলে ভেসে উঠত। কিন্তু তার হাতে আর গলায় রশি বাঁধা ছিল। কেউ আমার মেয়েকে হত্যা করে ডোবায় ফেলে রেখে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আউয়াল বলেন, শিশুটির মরদেহ দেখে মনে হয়েছে, সে (মীম) পানিতে ডুবে মারা যায়নি, বিষয়টি রহস্যজনক।
বাঙ্গরা বাজার থানার ( ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে । মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা:
সাবেক
রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর
রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লায় আলোচনা সভা, খাবার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল
অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার
শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দলীয় কার্যালয়ে ও বিভিন্ন স্থানে দোয়ার আয়োজন
করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী
উপলক্ষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় আলোচনা সভা
ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিন-উর
রশিদ ইয়াছিন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আশিকুর রহমান
মাহমুদ ওয়াসিম, যুগ্ম আহবায়ক আমিরুজ্জামান আমির, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী
আবুসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের যুবলীগ নেতা জামাল উদ্দিন বাক্কা হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২ ও র্যাব-৭, সিপিসি-৩ এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার বায়োজিদ বোস্তামী থানাধীন অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে চৌদ্দগ্রামের যুবলীগ নেতা জামাল উদ্দিন বাক্কা হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী হলো: কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন কুলাসার গ্রামের মৃত ইসমাইল ভেন্ডার এর ছেলে মোঃ মোশারফ হোসেন (৪৫)।
র্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন