

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও রোগমুক্তি কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য, কুমিল্লা–৬ আসনের জননেতা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের উদ্যোগে শনিবার বিকালে নগরীর কান্দিরপাড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে এ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত হয়ে দেশনেত্রীর দীর্ঘায়ু ও দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করেন।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এ বারী সেলিম, মাবুবুর রহমান, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ রতন, মাহাবুবুর রহমান দুলাল ও আতাউর রহমান ছুটি। এছাড়াও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান কামাল, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিরুল পাসা সিদ্দিকী রাকিব, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এ কে এম শাহেদ পান্না, যুবদল নেতা মনছুর নিজামী, মশিউর রহমান সজিব, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জোবায়ের আলম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ধীমানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক, যিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করেছেন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, ভোটের মর্যাদা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষে সংগ্রাম করে। বর্তমানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রতিটি ঘরে ঘরে দোয়ার আহবান জানানো হয়।
এসময় দলের কর্মী–সমর্থকরা আবেগাপ্লুত হয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন। নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মানুষকে দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা–৬ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন এর উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এর উদ্যোগে দেশনেত্রীর জন্য নানা স্থানে দোয়া মাহফিল, কোরআন খতম এবং স্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুলের তোড়া পাঠিয়েছেন প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত
চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আপনারা জানেন- আজ গণতন্ত্রের মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন। তিনি এ দিনটি উদযাপন করেন না, তবে দল থেকে সারাদেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আজ বিকেলে ম্যাডামের (বেগম জিয়া) জন্য ফুলের তোড়া পাঠিয়েছেন। তাঁর কর্মকর্তারা এটি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবনে পৌঁছে দেন।
বিকেল
প্রায় ৪টায় প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম ও প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় গিয়ে তাঁর একান্ত সচিব
এবিএম আবদুস সাত্তারের হাতে ফুলের তোড়াটি হস্তান্তর করেন।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলায়েত হোসেন, বিএনপি মিডিয়া সেলের
সদস্য শায়রুল কবির খান এবং চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত উইংয়ের কর্মকর্তা মাসুদ রহমান।
এর
আগে, বৃহস্পতিবার রাতে চীনের রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকেও বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্য
জন্মদিনের ফুলের তোড়া পাঠানো হয়।
বেগম
খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন


কৃষি
ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)
বলেছেন, মিনি
কোল্ড স্টোরেজ কৃষকের ক্ষতি কমাবে। শীত মৌসুমে দেশে প্রচুর সবজি উৎপাদিত হয়, যা সংরক্ষণের
ব্যবস্থা না থাকায় পঁচে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মিনি কোল্ড স্টোরেজে সবজি
সংরক্ষণ করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ
বুধবার (২৭ আগস্ট) মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের
মেদুলিয়া এলাকায় ফার্মারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে
কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান,
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলমসহ সরকারি বিভন্ন
দপ্তরের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি
ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,
মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষি সিন্ডিকেট করে বড় বড় বিল্ডিংয়ের মালিক হচ্ছেন। কৃষকরা
কুঁড়ে ঘরেই থাকতে হচ্ছে। ফার্মারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ কেবল ফসল সংরক্ষণ নয়, বরং কৃষি
অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এ প্রকল্পকে আরো
সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের হাতে প্রযুক্তি পৌঁছে
দেওয়া হবে। মানিকগঞ্জে
গাজর, শীতকালীন
সবজি বেশি উৎপাদন হয়। এই ব্যবস্থায় কৃষক,
ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। এ মিনি কোল্ড স্টোরেজ পরে আরো বাড়ানো হবে।
প্রয়োজনে কৃষকরা নিজেরাও বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারবেন অল্প খরচে। নকল ও ভেজাল
বীজের ব্যাপারে উপদেষ্টা বলেন,
‘নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর
আগে উপদেষ্টা কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এসময় খাল বেদখল, বিদ্যুৎ
সংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন এবং এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট
দপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করেন।
কৃষি
জমি যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয়,
সেজন্য আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই কৃষি জমি সুরক্ষা আইন পাশ করা হবে জানিয়ে
উপদেষ্টা বলেন, ‘শিল্প
কারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য আলাদা জমি থাকবে। সড়ক অধিগ্রহণের সময় সড়ক বিভাগ
জমির মালিককে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিলেও এলজিইডি কোনো অর্থ দেয় না। নতুন আইন প্রণয়ন
হলে এলজিইডির প্রকল্পেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তার
ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার
(১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ারের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
জাহিদ হোসেন
বলেন, বেগম জিয়াকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন। চিকিৎসকরাসহ
সবাই অত্যন্ত আশাবাদী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে যাবেন।
বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র
ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন তারা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করছেন।
বিএনপির স্থায়ী
কমিটির এ সদস্য আরও জানান, ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। তার (বেগম
জিয়ার) ছোট ভাই, বোন সবাই খোঁজ নিচ্ছেন।
চলতি বছরের
২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
সেদিন স্বেচ্ছায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বেগম জিয়াকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।
তার একদিন পরেই
শ্বাসকষ্টের জটিলতা প্রকট হওয়ায় ঘটে স্বাস্থ্যের অবনতি। ২৩ নভেম্বর ভর্তি হন রাজধানীর
এভারকেয়ার হাসপাতালে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে হার্ট এবং ফুসফুসে। অবস্থার আরও অবনতি হলে
তাকে স্থানান্তর করা হয় সিসিইউতে। এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত
একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মাইক্রোক্রেডিটই
ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ।
তিনি মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করার
আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনজিও ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ের ধারণা
গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধারণা গ্রহণ করেই ঋণগ্রহিতাকে সেবা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট এখনো এনজিও। এই এনজিও থেকে উত্তরণ
ঘটাতে হবে। এনজিও পর্যায়ে থেকে গেলে ব্যাংকিং মেজাজ আসবে না। মেজাজে আসতে হলে এটাকে
ব্যাংক হতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করতে
হবে।’
আজ শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটির (এমআরএ) নতুন ভবন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রফেসর ইউনূস
বলেন, আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংক করলাম তখন আপত্তি উঠলো এটাকে ব্যাংক বলা যাবে কি না।
আমরা বললাম, আমাদেরটাই প্রকৃত ব্যাংক, তোমাদেরটা লোক দেখানো। ব্যাংক যে শব্দ থেকে উৎপন্ন
হয়েছে সেটা হলো ট্রাস্ট, তোমরা যেটা করছো সেটা ডিসট্রাস্ট। আমাদের ব্যাংকিং মানুষের
বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়েছে। জামানতবিহীন ব্যাংক, বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা টাকা দেই।
আজ এমন সময় আমরা আলাপ করছি যখন জামানতওয়ালা ব্যাংক, যারা নিজেদের প্রকৃত ব্যাংক বলে
দাবি করত তাদের অনেকে আজ হাওয়া। টাকা নিয়ে লোপাট। ব্যাংক শেষ। আর মাইক্রোক্রেডিটের
পরিসংখ্যান দেখেন। কেউ পয়সা নিয়ে পালায় নাই। এই হলো পরিহাস।’
মাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটাই প্রকৃত ব্যাংকিং, আগামী দিনের ব্যাংকিং যেটাতে মানুষ
নিজের পরিচয়ে কাজ করবে, নিজের বিশ্বাসের ওপরে ব্যাংকিং চলবে, টাকার উপরে না।’
মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে
প্রধান উপদেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের
পর প্রত্যেক এনজিও চেষ্টা করলো একইরকম কিছু করতে। ক্রমে ক্রমে প্রসার হতে আরম্ভ করল।
নানারকমের নতুন নতুন জিনিস, নানা আইডিয়া নিজেদের সুবিধার জন্য ঢোকাতে আরম্ভ করল। এটা
ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে মনে করে একটি রেগুলেটরি অথরিটির প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের
সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল ‘আমাদের কাজ না’। অর্থ মন্ত্রণালয় শুরুতে
গুরত্ব দিল না, পরে বলল ‘আচ্ছা কী করতে হবে জানাও’। তখন আমরা বললাম, ‘রেগুলেটরি অথরিটি
হওয়া দরকার, কারণ যে হারে বাড়ছে বড় রকমের সমস্যা হতে পারে।
‘তৎকালীন গভর্নর ফখরুদ্দীন সাহেব আমাদের সমর্থন করলেন। কিন্তু
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এটা হতে পারবে না। তারা ব্যাখ্যা চাইল। আমি বললাম, এটা বহু
দেশে বলেছি, এখনো বলি, গ্রামীণ ব্যাংকও ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংক। কিন্তু তফাত
অনেক। উদাহরণ দেই, আমেরিকান ফুটবলও ফুটবল। ইউরোপিয়ান ফুটবলও ফুটবল। কিন্তু খেলা ভিন্ন।
আপনি যদি ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেফারিকে দিয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলা চালাতে চান ইট উইল বি
অ্য ডিজাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে তো ক্ষুদ্রঋণ
জানেই না। সে তো ইউরোপীয় ফুটবলের রেফারি,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, ‘অবশেষে ফখরুদ্দীন সাহেব রাজি হলেন। গভর্নরকে
দিয়ে এটা পরিচালনা করানোর ব্যাপারেও তাঁকে রাজি করাতে হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে
এর অফিস করার আলোচনা ছিল। আমরা বললাম, আলাদা জায়গায় অফিস হতে হবে... আজকে নতুন ভবন
হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এটিকে বোঝার চেষ্টা করেছেন, নিয়মকানুন করেছেন। তারা
যদি অন্যান্য ব্যাংকের রেগুলেটরি নিয়মের ওপর এটা স্থাপন করত তাহলে মাইক্রোক্রেডিট সেদিনই
শেষ হয়ে যেত, আর খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন
জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
কে হবে এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ না, যে দেশেই মাইক্রোক্রেডিট হয়েছে সে দেশই সমস্যায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বারে বারে বলে এসেছি তোমাদের এত কিছু
চিন্তা করতে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এর সমাধান দিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে তা না এটা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের জন্যে
সহায়ক হয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেগুলেটরের ওপর কড়া
না হয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন যেন হয় সেভাবে আইন করা, যেন কোনোকিছু চাপিয়ে না দেয়া
হয়। এমআরএ’কে এখন রেগুলশনের পাশাপাশি প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিও দেখতে হবে।
সেভিংসের রিটার্ন, সার্ভিস চার্জ যেন সহজ হয় সেদিকে নজর দিন। উপকারভোগীদের জন্য যেন
সহজ হয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তাঁর বক্তব্যে বলেন,
‘মাইক্রোক্রেডিট আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ১০ শতাংশ সমপরিমাণ সম্পদ
আছে মাইক্রোক্রেডিট সেক্টরে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকিং খাতে যে জায়গাগুলোতে দুর্বলতা
আছে, মাইক্রোক্রেডিট সে জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সদস্যদের সঞ্চয় বেড়ে ৬৮ হাজার
কোটি টাকার ওপর, পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত বেড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকার উপরে হয়েছে। এটা বড় অর্জন।
তারা নিজেদের সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলছে। বিদেশি সহায়তা, অনুদান নাই
বললেই চলে। দাতা তহবিল তিন হাজার কোটি টাকার মতো। এটা খুবই নগণ্য।’
‘বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে।
মাইক্রোক্রেডিটের শাখা আছে ২৬ হাজারের মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এখানে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফরমাল সেক্টরের পদচারণা
বাড়ছে, বাড়বে। মাইক্রোফাইন্যান্স ইন্সটিটিউটটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে
হবে। মাইক্রোক্রেডিট আরও ফাংশনাল করতে রেগুলেটরি অথরিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে
কাজ করবে,’ বলেন তিনি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি নিয়ে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকারের
কাছে শিগগিরই নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার
বিশেষ সহকারী ড. এম আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শুক্রবার এ কথা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার প্রখ্যাত কবি ফররুখ আহমদের পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শনকালে শফিকুল আলম আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তার মতে, রাজনৈতিক বৈচিত্র্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক দিক। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক। যদি না থাকত, তাহলে আলাদা দল থাকত না।
এসময় তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলেও আশ্বস্ত করেন শফিকুল আলম।
পাশপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দেন।
প্রেস সচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রেস সচিব এটিকে ‘ভিত্তিপ্রস্তর নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে চোখের যত্ন ও পরিষেবা সম্প্রসারণের জন্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সাথে কাজ ও সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের
প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেরেক হডকির সাথে এক বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে চোখের যত্নের সেবা
সম্প্রসারণ করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে আরা অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।
আজ শুক্রবার (২২
নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হড, অরবিস ফ্লাইং আই হাসপাতালের প্রশিক্ষণ
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডেরেক বাংলাদেশ সফর করছেন। এখন চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ চলছে। ডেরেকে
গত বুধবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীতে অধ্যাপক ইউনূসের সাথে তার কার্যালয়ে দেখা করেন।
অরবিস বাংলাদেশের
কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মুনির আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতের সময় ডেরেকের সাথে
ছিলেন। অরবিস প্রেসিডেন্ট প্রধান উপদেষ্টাকে ফ্লাইং আই হাসপাতালের একটি মডেল সংস্করণ
উপস্থাপন করেন। অধ্যাপক ইউনূস এটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ডেরেক অরবিস ইন্টারন্যাশনালের
কাজ সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবিহিত করেন। অরবিস ১৯৮২ সালে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি-সংরক্ষণ
কর্মসূচি শুরু করেছিল। অরবিস গত ৩৯ বছর ধরে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের
সাথে কাজ করছে।
ডেরেক বলেন, এই সময়ের
মধ্যে, অরবিস এ পর্যন্ত কমিউনিটি আউটরিচ ইভেন্টে ৭.৮ মিলিয়নেরও বেশি চোখের স্ক্রীনিং
পরিচালনা করেছে, প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ৪.৫ মিলিয়নেরও বেশি ব্যক্তিকে ওষুধ ও
অপটিক্যাল চিকিৎসা প্রদান করেছে, ২৫৮,০০০টিরও বেশি চোখের সার্জারি করেছে এবং বাংলাদেশের
৪০ হাজারের বেশি লোককে চোখের যত্ন নেয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষিত করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে
চক্ষু স্বাস্থ্য খাতে অরবিসের অবদানের কথা স্বীকার করেন এবং ফ্লাইং আই হাসপাতালের প্রতি
তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অরবিস এখন বাংলাদেশে ১১তম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা
করছে।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি
অরবিসকে ভালোবাসি। আমি ফ্লাইং আই হসপিটালকে ভালোবাসি।’ তিনি উলে¬খ করেন যে, অরবিস বাংলাদেশে
চোখের স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম।
ডেরেক বলেন, অরবিস
ব্যক্তি, পরিবার ও জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করার জন্য বিশ্বব্যাপী ২ শতাধিক দেশ ও ভূখণ্ডে
দৃষ্টি সংরক্ষণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বিশ্বজুড়ে প্রায় এক
বিলিয়ন মানুষ সম্পূর্ণভাবে পরিহারযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা নিয়ে
বসবাস করছে উলে¬খ করে ডেরেক বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অরবিস জোরদার ও টেকসই চোখের
যত্ন ব্যবস্থা নিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে।
অরবিস প্রেসিডেন্ট বলেন, অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকায় বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে এবং প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ করছে।
তিনি বলেন, গত চার
দশক ধরে অরবিস শিশুদের চোখের যত্ন, মাইক্রোসার্জারি, রেটিনাল সার্জারি, কর্নিয়ার রোগ,
প্রিম্যাচুরিটি রেটিনোপ্যাথি এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের
স্থানীয় অংশীদারদের দক্ষতা ও জ্ঞানের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।
ডেরেক এ সময় প্রধান
উপদেষ্টাকে আরো অবিহিত করেন যে, অরবিস সারা দেশে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ৪২টি দৃষ্টি
সেবা কেন্দ্র স্থাপন করে চোখের যত্নের সাথে জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেছে; ১৭টি সেকেন্ডারি
হাসপাতাল, চারটি তৃতীয় হাসপাতাল, দুটি ওয়েট ল্যাব, একটি মানসম্পন্ন রিসোর্স সেন্টার
ও একটি ডিজিটাল ট্রেনিং হাব প্রতিষ্ঠা বা উন্নতিতে সহায়তা করেছে।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন,
১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একই সামাজিক-রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপট থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট ২০২৪
সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে,
এই দুটি গণআন্দোলনের পেছনের পরিস্থিতির মধ্যে খুব সামান্যই পার্থক্য রয়েছে।
আজ শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে
‘নভেম্বর থেকে জুলাই : বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন
তিনি।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন,
স্বাধীনতার পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা-এই দুই ঘটনার
পটভূমি তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা দুর্নীতি
ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলেই ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়
এবং প্রায় একই পরিস্থিতি ২০২৪ সালেও পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ
একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে- যখন দেশ প্রতিষ্ঠানিক গঠন, সামরিক বাহিনীকে
শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার মতো কার্যক্রম শুরু করে, এসব বিষয়গুলো
আজও প্রাসঙ্গিক।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
অবদানের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমান কল্যাণমুখী রাজনীতির
সূচনা করেন এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে কাজ করেন। আজও দেশ তাঁর স্থাপিত
ভিত্তির ওপর পরিচালিত হচ্ছে, যা আমাদের রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনায় প্রতিফলিত হয়।
এ সময় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
সভাপতি রিফাত রশিদ। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান
মজিবুর রহমান মঞ্জু, কবি ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার, ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, শাপলা প্রতীক পেতে এনসিপির আইনগত কোনো বাধা নেই। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী যে নির্বাচন কমিশন এসেছে তারা অবশ্যই এ স্বেচ্ছাচারিতা করবে না। আমরা আশা করি অবশ্যই শাপলা প্রতীক পাব, এ প্রতীকেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনায় এনসিপির জেলা সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টের হলরুলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। এছাড়াও নেত্রকোনা জেলার জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ২৫টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত ৭৬ জন প্রার্থী ও স্বতন্ত্র চার প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান কুমিল্লা-১ আসনে প্রতীক বরাদ্দের মধ্যদিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে আসনভিত্তিকভাবে প্রার্থীদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতীক বরাদ্দ ঘিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতীক বরাদ্দের সময় অধিকাংশ প্রার্থী নিজে উপস্থিত না থেকে তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতীক সংগ্রহ করেন। কুমিল্লা- ৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলাীর প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহামম্মদ, কুমিল্লা-৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ, কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী হআবুল কালাম আরও কিছু প্রার্থী নিজ নিজ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হয়ে প্রতীক গ্রহণ করেন।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রার্থীরা প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ ও মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপির তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তারা পছন্দের প্রতীক গ্রহণ করেছেন।এরমধ্যে কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ মতিন খান পেয়েছেন তালা প্রতীক। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। কুমিল্লা ৭ চান্দিনা আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চান্দিনা উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আতিকুল আলম পেয়েছেন কলস মার্কা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেদওয়ান আহমেদ।
কুমিল্লা ৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।
কুমিল্লার ১১টি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮০ জন প্রার্থী। এরমধ্যে মধ্যে ৭৬ জন তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন। চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লার ১১টি আসনে ২৫টি দলের ৭৬ জন প্রার্থী এবং চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। একজন প্রার্থী হাইকোর্টের রায় নিয়ে এসেছেন, এটা যাচাই-বাছাই করেছি।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন