

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ ও চকবাজার এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এর নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা ট্রাফিক বিভাগের অ্যাডমিন সরওয়ার মোহাম্মদ পারভেজ।
অভিযান চলাকালে রাজগঞ্জ ও চকবাজার এলাকার ফুটপাত দখল করে বসানো অবৈধ হকার ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি রাস্তার পাশে দোকানদারদের ফেলে রাখা মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।
ট্রাফিক বিভাগের অ্যাডমিন সরওয়ার মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ও যানজট সৃষ্টি করে এমন অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন কার্যকর অভিযানে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তারা আশা করছেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে নগরীর যানজট ও ফুটপাত দখলের সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।
মন্তব্য করুন


শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল বিস্ফোরণে একটি বসতঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সোহান বেপারী (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে একটি বসতঘরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরটির দেয়াল ও চালা সম্পূর্ণ উড়ে যায়। খবর পেয়ে জাজিরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি ফসলি জমিতে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি ওই গ্রামের দেলোয়ার বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী। বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার বিলাসপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বিরোধের জেরে এলাকায় একাধিকবার সহিংসতা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে।
নিহতের বোন মাজেদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় নাসির বেপারীর সঙ্গে তাঁর ভাই সোহান বেপারীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে সোহান বাড়িতে থাকতে পারতেন না এবং আত্মগোপনে ছিলেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন সকালে তাঁর মরদেহ পাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, বিস্ফোরণে একটি ঘরের বেড়া ও চালা উড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের শরীরে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন না করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। রোববার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন ৫৪ জন প্যারাট্রুপার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করে প্যারাস্যুট জাম্প করবেন, যা স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তির প্রতীক হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। এই দলের একজন সদস্য হলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
জানা গেছে, আশিক চৌধুরী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ছবি সংবলিত একটি বিশেষ হেলমেট পরে এই জাম্পে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১১টা থেকে ঢাকার তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পৃথক ফ্লাইপাস্ট মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে পরিবেশিত হবে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ ব্যান্ড শো। পরে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং প্রদর্শন করবেন।
এই পুরো আয়োজন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ঢাকার
দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের
পর র্যাব বলছে, ‘অনৈতিক প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে হত্যা করা
হয়েছে।
সন্দেহভাজন
২৮ বছর বয়সি মিলন মল্লিক নিহতের বাবার খাবার হোটেলের কর্মী ছিলেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক
থাকা মিলনকে রোববার রাতে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এ বিষয়ে জানাতে সোমবার বিকেলে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন
আয়োজন করা হয়।
সেখানে
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, হোটেল কর্মচারী হিসেবে
বিভিন্ন সময়ে হোটেলের কাজে ভিকটিমের বাসায় আসা যাওয়া ছিল মিলনের। বেশ কিছুদিন ধরে মিলন
ওই কিশোরীকে ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ দিয়ে আসছিল। তিনি বলেন, ঘটনার আগের
রাতে আবারো অনৈতিক প্রস্তাব দিলে মিলনকে গালাগালি করে ওই কিশোরী। এর জেরে পরদিন মিলন
ওই কিশোরীকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
শনিবার
বিকালে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
১৭ ব্ছরের এ কিশোরী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার
সময় তার বাবা-মা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে ছিলেন। বড় বোন শোভা আক্তার দুপুরে ব্যায়াম
করতে করতে জিমে গিয়েছিলেন। বড় বোন শোভা ফিরে এসে বোনের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর
দেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. সজিব। অজ্ঞাতনামা
এক বা একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় সন্দেহভাজন কারো নাম নেই।
বাসার
সামনে শাহজালাল হোটেল নামে একটি খাবারের হোটেল আছে সজিবের। তিনি তার ছেলে শাকিল ও কর্মচারী
দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দুই মেয়েকে বাসায় রেখে স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে গত ৭
জানুয়ারি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য হবিগঞ্জে গিয়েছিলেন সজিব। হোটেল মালিক গ্রামের বাড়ি
গেলে হোটেলের ৩ কর্মচারীও ছুটিতে যান, কেবল মিলন থেকে যান। সেজন্য মিলন সজিবের বাসা
থেকে খাবার আনতেন।
র্যাব
কর্মকর্তা ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “মিলন ঘটনার দিন ১টা ৩৬ মিনিটে ওই বাসায় প্রবেশ করে
এবং খাবার নিয়ে ১টা ৪১ মিনিটে ভিকটিমের বোন শোভার সাথে বেরিয়ে যায়।“শোভা
জিমে থাকাকালীন সময়ে মিলন আবারো ২টা ২৫ মিনিটে ভিকটিমের বাসায় যায় এবং পৌনে ৩টায় বেরিয়ে
যায়।”
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগের রাতে ভিকটিমের
গালিগালাজে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মিলন। ঘটনার দিন সে নাইলনের
দড়িসহ ভিকটিমের বাসায় যায় এবং ভিকটিমকে পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেয়।“প্রস্তাবে
রাজি না হওয়ায় ভিকটিমের গলায় রশি দিয়ে পেচিয়ে ধরলে সে মাটিতে পরে যায়। ভিকটিম চিৎকার
করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় মিলন রান্না ঘরের বটি দিয়ে তাকে গলাকেটে হত্যা
করে।”
হত্যার
পর মিলন বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার
করেছে বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা ফায়েজুল আরেফীন। মিলনের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময়
পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি
ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।
র্যাব-৩
অধিনায়ক ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা
তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”
মন্তব্য করুন


মুম্বাইয়ের
ব্যস্ত সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি। মার্কিন ডিজে
ডেভিড গেটার কনসার্টে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এক মদ্যপ গাড়িচালকের ধাক্কায় আহত হন তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুর্ঘটনায় নোরার মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে।
সানবার্ন ফেস্টিভ্যালে
ডেভিড গেটার সঙ্গে পারফর্ম করার কথা রয়েছে নোরার। সেই লক্ষ্যেই অনুষ্ঠানস্থলের দিকে
যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে হঠাৎ একটি দ্রুতগামী গাড়ি নোরার গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
পুলিশি তদন্তে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে যে, ঘাতক গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই
নোরাকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যানসহ
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। তবে মস্তিষ্কে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি বা চোট হওয়ায় চিকিৎসকরা
তাকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।
অসুস্থ শরীর
ও চিকিৎসকদের বারণ সত্ত্বেও ভক্তদের নিরাশ না করতে সানবার্ন ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার
সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন তিনি। এই কনসার্টে ডেভিড গেটা ও আমেরিকান গায়িকা সিয়ারার সঙ্গে
তার নতুন আন্তর্জাতিক সিঙ্গেলের এক ঝলক ভক্তদের উপহার দেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করা হচ্ছে। আগামীকাল রোববার থেকে টানা নয় মাস দ্বীপটিতে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। শনিবার চলতি পর্যটন মৌসুমের শেষ দিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও চলতি মৌসুমে সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে নভেম্বর মাসজুড়ে পর্যটকদের রাতযাপন নিষিদ্ধ ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌসুম সংক্ষিপ্ত হওয়ায় ব্যস্ত সময়েও তারা কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারেননি। ফলে টানা নয় মাস পর্যটন বন্ধ থাকলে জীবিকা সংকট আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন দ্বীপবাসী।
দ্বীপের স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে এসেছেন। সব মিলিয়ে মোট পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার। তবে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তেমন লাভবান হননি বলে জানান তারা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, শনিবার পর্যটকদের নিয়ে সব জাহাজ চলাচল করবে। রোববার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। ভবিষ্যতে সরকার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান জানান, অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবার লাভ করতে পারেননি, বরং অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নির্বাচন শেষে যদি পুনরায় পর্যটন চালুর অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রায় প্রতিটি পরিবার কোনো না কোনোভাবে পর্যটনখাতের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
রিকশাচালক নুর আজিম জানান, রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু দুই মাসেও তা শোধ করতে পারেননি। এখন পর্যটক না থাকায় ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
কটেজ মালিক মো. জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে বলেন, কিছু বড় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয়রা প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের বিধিনিষেধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দ্বীপের সাধারণ মানুষ।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বা আরও কয়েক মাস পর্যটন চালু রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ আয়োজন, কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ কোনো ধরনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরচালিত যান চলাচল এবং পলিথিনের ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত
হয়েছে।
আজ
শনিবার ( ২৯ নভেম্বর ) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত
হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সভায়
বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর
খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায়
পরিবর্তন এসেছে। এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে। অনুদান অবমুক্তর শর্তগুলোও সহজ করা
হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন
হবে না।
এছাড়াও,
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর খসড়া উত্থাপিত হয়েছিল। তবে অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে
এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
সভায়
প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে
বিভিন্ন সময়ে বন্দী থাকা বাকি ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে
অবহিত করেন। তিনি জানান, দুই-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।
মন্তব্য করুন


শিল্প,
গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর
রহমান খান বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা
করছে।
শনিবার
দুপুরে মাদারীপুরে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত ও স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন
শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি আসন্ন নির্বাচনে বাধা
দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন
আয়োজন করবে। যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
উপদেষ্টা
আরও বলেন, বাংলাদেশের কোনো দেশপ্রেমিক মানুষই নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করবে না। দেশের
প্রতিটি নাগরিকই আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এগিয়ে আসবে এবং সরকারকে সহযোগিতা
করবে।
এর
আগে তিনি মঠের বাজার এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ নাইমুর রহমান ও শহীদ মামুনের কবর জিয়ারত
করেন এবং স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে শিবচর উপজেলায় হাউজিং প্রকল্প
ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
এ
সময় মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আল নোমানসহ প্রশাসনের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা
বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন জেলায় গিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শনের পাশাপাশি
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করা হচ্ছে এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের লড়াই এখনো চলমান রয়েছে। আমরা
অবশ্যই আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করব এবং মাতৃভূমিকে নতুন করে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু
করে দাঁড় করাব।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব
পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় যুব দিবস- ২০২৪ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তরুণ, যুবক ও ছাত্ররা
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে একটি নতুন পথ দেখিয়েছেন। পুরো পৃথিবী এখন দেখতে
চায়, এই তারুণ্য, এই যুবশক্তি বাংলাদেশকে এরপর কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদী। আমরা
বলি, তারুণ্য হবে দেশের চালিকাশক্তি। আমরা বলেছিলাম বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন
আমরা দেখছি। সেই স্বপ্ন আজ বাংলাদেশের সবাই দেখছে। এবং তরুণদের এ স্বপ্ন বাংলাদেশে
পূরণ হবে, সেটিই সবার প্রত্যাশা। যুব অধিদপ্তর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনেক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আমরা আশা করব, নতুন বাংলাদেশে সেই ভূমিকা তারা পালন করবে।তরুণরা
বাংলাদেশকে নতুন করে পথ দেখিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে তরুণরা নেতৃত্বে আসবেন,
সেটিই সবার প্রত্যাশা। রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি সব কিছুতেই তরুণরা নেতৃত্বে আসার জন্য
প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যে প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, স্বপ্ন দেখিয়েছে, সেই প্রজন্ম স্বপ্নও
পূরণ করতে পারে, তা প্রমাণ করতে হবে। আমাদের এ সামষ্টিক অগ্রযাত্রায় সবার সহযোগিতা
পাব, সবাই তরুণদের জায়গাটি করে দেবেন, আমাদের এমন প্রত্যাশা থাকবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সভাপতিত্বে
ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য
দেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম
ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সফল যুব উদ্যোক্তাদের
হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


খেজুরের রসে মারাত্মক প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খেজুরের রস বিক্রেতাদের কাঁচা রস বিক্রি বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে ।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম) ডা. শ. ম. গোলাম কায়ছার স্বাক্ষরিত জরুরি এক স্বাস্থ্য বার্তায় অধিদপ্তর জানায়, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি। ২০২২-২৩ সালে দেশে এই রোগে আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই মৃত্যুবরণ করেন। তাই প্রতিরোধই হচ্ছে এই রোগ থেকে বাঁচার উপায়।
এতে বলা হয়েছে, নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। সাধারণত শীতকালে নিপাহ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কাঁচা খেজুরের রসে বাদুড়ের বিষ্ঠা বা লালা মিশ্রিত হয় এবং ওই বিষ্ঠা বা লালাতে নিপাহ ভাইরাসের জীবাণু থাকে। ফলে খেজুরের কাঁচা রস পান করলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ।
স্বাস্থ্য বার্তায় আরো বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরেরা নিপাহ ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই খেজুরের কাঁচা রস সংগ্রহ, বিক্রয় ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাছিকে এবং জনসাধারনগণকে প্রাণিবাহিত সংক্রামক ব্যাধি রোগ নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে অবহিত করা হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিজ্ঞপ্তিতে খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় খেতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানায়,নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি। ২০২২-২৩ সালে দেশে এ রোগে আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই মৃত্যুবরণ করেন। অধিদপ্তর জানায়, প্রতিরোধই হচ্ছে এই রোগ থেকে বাঁচার উপায়। খেজুরের রস বিক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ কেউ কাঁচা রস খেতে চাইলে বিক্রি করবেন না।
নিপাহ রোগের প্রধান লক্ষণ সমূহ :
১. জ্বরসহ মাথা ব্যাথা
২. খিচুনি
৩. প্রলাপ বকা
৪. অজ্ঞান হওয়া
৫. কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হওয়া
নিপাহ রোগ প্রতিরোধে করণীয় :
১. খেজুরের কাঁচা রস খাবেন না
২. কোনো ধরনের আংশিক খাওয়া ফল খাবেন না
৩. ফল-মূল পরিস্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খাবেন
৪. নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে অতি দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাবেন
৫. আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর সাবান ও পানি দিয়ে দুই হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলবেন
মন্তব্য করুন


সামাজিক ব্যবসার (সোশ্যাল বিজনেস) রূপান্তর
সক্ষম শক্তি এবং এর মাধ্যমে ইতিবাচক টেকসই পরিবর্তন আনার শক্তিশালী উপায়ের ওপর গুরুত্ব
দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সামাজিক ব্যবসা শুধু বাংলাদেশ
নয়, বরং পুরো বিশ্বকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং নতুন সভ্যতাও তৈরি করতে পারে। এই
ব্যবসার মাধ্যমে ‘একটি সুন্দর ও উন্নত বিশ্ব’ গড়ে তোলা সম্ভব, যা বর্তমানের হতাশা থেকে
মুক্তি এনে তাৎপর্যপূর্ণ রূপান্তর ঘটাতে পারবে।
আজ শুক্রবার সাভারের জিরাবো সামাজিক
কনভেনশন সেন্টারে দু’দিনের ‘সোশ্যাল বিজনেস ডে’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য
দিয়ে ১৫তম সামাজিক ব্যবসা দিবসের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস মূল বক্তা হিসেবে যোগ দেন।
ইউনূস সেন্টার ও গ্রামীণ গ্রুপ যৌথভাবে
১৫তম সামাজিক ব্যবসা দিবসের আয়োজন করেছে।
‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে
সর্বোত্তম পথ হলো সামাজিক ব্যবসা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের সামাজিক ব্যবসা
দিবস উদ্যাপন করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শক্তিশালী ও আবেগঘন
মূল বক্তব্যে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিশ্ব একটি ভুল পথে চলছে এবং কেবল নিঃস্বার্থ,
ভালো কাজের জন্য স্বপ্নবান হওয়া এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই
ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, পৃথিবীতে
সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একমাত্র সঠিক পথ হল সামাজিক ব্যবসা। এর মাধ্যমে
স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি তরুণদেরকে বৈশ্বিক পরিবর্তন আনার
আহ্বান জানিয়ে বলেন, উদ্যোক্তা হিসেবে ছোট থেকে শুরু করতে হবে, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে
এবং একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে, যার বৈশিষ্ট্য হবে তিনটি শূন্য-‘শূন্য
দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য গড় কার্বন নিঃসরণ।
চাকরি প্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে
নিজেকে প্রস্তুত করার মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রথম দিন থেকেই যেন জানেন-তারা
চাকরির জন্য এখানে আসেনি। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্রদের স্বপ্ন দেখতে দেওয়া
হয় না। আমি বলি-শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম দায়িত্বই হলো-স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেওয়া।’
ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে স্বপ্ন
দেখতে হবে। তারপর কীভাবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, সেই পথ খুঁজে বের করো।
একে অপরকে চ্যালেঞ্জ দাও। এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে সোশ্যাল বিজনেস শিক্ষার গুরুত্ব
আমাদের কাছে এত বড় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন,
তরুণদের বলবো, যদি তুমি একজন চাকরি প্রার্থী হও, তবে সেটি আমাদের জন্য লজ্জার। কারণ
আমরা তোমাকে নিজেকে আবিষ্কার করার মত সাহায্য করতে পারিনি।’ যদি তুমি নিজেকে আবিষ্কার
করো—তাহলে কখনোই চাকরি প্রার্থী থাকবে না। তুমি একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে।
ভারত-পাকিস্তান, ইরান-ইসরায়েল-ফিলিস্তিন
এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই বছরের প্রেক্ষাপট অতীতের
যেকোনো সময়ের চেয়ে খারাপ। আগের সোশ্যাল বিজনেস ডে‑গুলোতে আমরা অনুভব করতাম যে,পৃথিবী
একটা আশাব্যঞ্জক দিকে এগোচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম-বিশ্বে যুদ্ধের অধ্যায় শেষ হচ্ছে। আমরা
আশা করেছিলাম-মানবজাতি এখন শান্তিতে বাস করবে। কিন্তু হঠাৎ করেই এই বছর নানা ভয়াবহ
ঘটনা ঘটতে শুরু করল। দরিদ্র মানুষ এই যুদ্ধে পিষ্ট হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সামাজিক ব্যবসার বার্তা কী-এই প্রসঙ্গ
উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, সামাজিক ব্যবসার একটি বার্তা হলো পৃথিবীকে
বদলে দেওয়ার বার্তা-এবং এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি জাতির অংশগ্রহণ, প্রতিটি জাতির উচিত
সেইসব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা যেগুলো তারা এত বছর ধরে তুলে ধরেছেন। এবং এই বার্তাটি
খুবই সহজ, যা আমরা বারবার পুনরাবৃত্তি করে আসছি। বার্তাটি হলো—আমরা ভুল পথে চলছি। যদি
আমরা এই পথেই এগিয়ে যেতে থাকি, তাহলে আমাদের সবার জন্যই এক বিশাল বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।
আমরা তার থেকে রক্ষা পাবো না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্য একটি
পথ অনুসরণ করার খুবই সহজ উপায় রয়েছে এবং এর জন্য সবকিছু রাতারাতি ধ্বংস করার প্রয়োজন
নেই। ‘আপনি কেবল ধীরে ধীরে ভিন্ন এক পথে হাঁটতে শুরু করুন। ব্যাস, এটাই। এটা খুবই বাস্তবসম্মত
এবং সহজে বাস্তবায়নযোগ্য।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা বারবার
বিশ্বকে যা বোঝাতে চেয়েছি তা হলো—পুরো পৃথিবী গড়ে উঠেছে মানুষের স্বার্থপরতার একমাত্রিক
ভিত্তির উপর এবং মানুষকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে স্বার্থপর সত্তা হিসেবে। আমরা এর বিরোধিতা
করছি। আমরা বলছি, হ্যাঁ, আমাদের ভেতরে স্বার্থপরতা আছে, তবে এটাও ভুলে যাবেন না যে
আমাদের ভেতর নিঃস্বার্থ মানসিকতাও আছে।
মন্তব্য করুন