

টাঙ্গাইলের
মধুপুরে পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে যাওয়া একটি ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে
আক্রান্ত হয়ে বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার
(২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেলকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন- জলই গ্রামের চিননের ছেলে বাবুল হাদিমা (৪৮), তার শিশু পুত্র নেইমার ম্রং (১০),
একই গ্রামের বাদলের ছেলে রতন নকরেক (২৪) ও করিমের ছেলে গাবরিয়েল নকরেক (৩২)।তারা সবাই
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য।
ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে এম ফজলুর হক।
তিনি
বলেন, একটি ছাগল পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে গেলে সেটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে একজন
গর্তে নামেন। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজন গর্তে প্রবেশ করেন।
একপর্যায়ে সম্ভবত বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে গর্তের ভেতরেই চারজনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের
বরাতে পুলিশ জানায়, সকালে পরিত্যক্ত কূপটিতে একটি ছাগলের ছানা পড়ে যায়। তখন নেইমার
ম্রং ছাগলটি উদ্ধার করতে কূপে নামে। পরবর্তীতে তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একে একে আরো
তিন জন কূপটিতে প্রবেশ করেন। কিন্তু তাদের কারোই সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় লোকজন মধুপুর
ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানায়।
মধুপুর
ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার লাভলু তরফদার বলেন, কূপটির আনুমানিক ৯-১০ ফিট গভীর। ছাগলের
বাচ্চা তুলতে গিয়ে প্রথমে এক শিশু সেই গর্তে নেমে অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। পরে ওই
শিশুকে উদ্ধারে পরিবারের সদস্যসহ আরো একে একে তিন জন কূপের মধ্যে নামলে তারাও মারা
যায়।
পরে
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। লাশ পুলিশকে হস্তান্তর
করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইনি
প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান এ পুলিশ
কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম
চৌধুরী র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন ।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব সদর
দপ্তরে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দিয়ে
বলেন, র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। র্যাব গঠনের সময় বলা
হয়েছিল, বাহিনীটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু পরবর্তীকালে তা
মানা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, র্যাব গঠনের শুরুর দিকে এটি একটি সুশৃঙ্খল ও
সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে মানুষের সম্মান, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে। পুলিশ ও
সশস্ত্র বাহিনীর সেরা অফিসারদের এখানে পদায়ন করা হতো। যখনই রাজনৈতিক বিবেচনায় এ
বাহিনীতে নিয়োগ ও পদায়ন শুরু হয়, তখন থেকে এতে পচন ধরতে শুরু করে। সাধারণ মানুষের
মনে বদ্ধমূল ধারণা এই যে, যখন থেকে র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা শুরু
হয়, তখন থেকেই র্যাব গুম, খুনসহ বিভিন্ন বেআইনি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হতে শুরু
করে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভালোবাসা, ব্যবহার ও পারফরম্যান্সের
মাধ্যমে র্যাবের হারানো গৌরব ও সম্মান পুনরুদ্ধার সম্ভব উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, সেজন্য আইনের মধ্যে থেকে র্যাবকে কাজ করে যেতে হবে। ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের বেআইনি আদেশ মানা যাবে না। অননুমোদিত ও বেআইনিভাবে কাউকে আটক রাখা
যাবে না। ক্রসফায়ার, গুম, খুন থেকে র্যাবকে দূরে থাকতে হবে।
সভায় র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানসহ বাহিনীর বিভিন্ন
পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরে অনুষ্ঠানে র্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে উপদেষ্টাকে
অবহিত করা হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে উপদেষ্টা র্যাবের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন
এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


বেসামরিক বিমান পর্যটন ও ভূমি উপদেষ্টা
এ এফ হাসান আরিফের মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ রবিবার (২২ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের এক বিশেষ সভায় এই শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহিত হয়।
সভায় রিজওয়ানা হাসান জানান, আগামীকাল
সকাল সাড়ে দশটায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের
কবরের পাশে হাসান আরিফকে সমাহিত করা হবে।
সভার শুরুতে উপদেষ্টা হাসান আরিফের
মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ
অন্য উপদেষ্টারা হাসান আরিফের স্মৃতিচারণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, আজ ছোট ছোট অনেক কথাই মনে পড়ছে, তিনি সবসময় আমাকে মনে করিয়ে দিতেন- আমরা
কিন্তু সমবয়সী। শিশুর মতো সরল ব্যবহার ছিল তার। যতরকম সমস্যা দেখা দিয়েছে, যেখানে কোনো
কোন্দল দেখেছেন, তিনি হাজির হয়েছেন তার সমাধানে। এ এক অপূর্ব লোক, আমাদের মাঝ থেকে
চলে গেলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন
আহমেদ বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন একজন বিরল ব্যক্তিত্ব এবং সদা হাস্যময়।
অতীতের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে
পাট বস্ত্র ও নৌপরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে হাসান আরিফের
মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ বলেন, এখানে কাজ করতে এসে উনার সঙ্গে একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে
উঠেছিলো। উনি আমাদের জন্য ছিলেন এক ইতিবাচক প্রেরণা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা
আখতার বলেন, আজকে আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আমরা হাসান আরিফকে মিস করছি। উনাকে
ছাড়া আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান
খান আইনজীবী হিসেবে হাসান আরিফের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, উনি ছিলেন
মানবাধিকার রক্ষায় সব সময় সোচ্চার।
সভায় আদিলুর রহমান জানান, মানবাধিকার
সংগঠন অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন হাসান আরিফ।
আইন ও বিচার এবং প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন একজন কর্মনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী মানুষ। সবগুলো নথি তিনি
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন,
হাসান আরিফ কখনো কোনো কাজকে কম গুরুত্বের সঙ্গে নিতেন না।
স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী বলেন, হাসান আরিফ ছিলেন অমায়িক এক মানুষ, যেকোনো সমস্যা উনার সঙ্গে আলোচনা
করে সমাধান করা যেত।
জ্বালানি ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা মুহাম্মদ
ফাওজুল কবির খান বলেন, আমাদের সমাজে বিভেদ অনেক বেশি। এই বিভেদ জোড়া লাগানোর মানুষ
আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। সর্ব মহলে উনার গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় হাসান আরিফের ভূমিকা স্মরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা
সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, উনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষদের নিয়ে অনেক ভাবতেন। তাঁর মৃত্যুতে
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের।
স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ
মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে এসে হাসান আরিফকে চিনেছি, উনাকে সব সময় শিক্ষকের
মতো পাশে পেয়েছি।
তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, উনার
সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একবারও আমাদের বয়সের পার্থক্য বুঝতে পারিনি। তিনি সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে
মিশতেন।
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন,
২০০৮ সালে অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন আয়োজনে আন্তরিকভাবে কাজ করতে দেখেছি উনাকে। এবারও
উনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী পরিষদ
সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, বেসামরিক বিমান সচিব নাসরীন জাহান, ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ
আহমেদ।
মন্তব্য করুন


আগামী বছরই রাজনৈতিক সরকার আসতে পারে
বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদুদ্দিন মাহমুদ।
আজ শনিবার সকালে গুলশানের একটি হোটেলে
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক উন্নয়ন কনফারেন্সে তিনি
এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা খুব স্বল্পকালীন একটি
সরকার। আর আগামী বছরই রাজনৈতিক সরকার আসার বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত মতামত। জানি না আসলে
কি হবে। আগামী বছরই হয়তো আমরা রাজনৈতিক সরকার দেখতে পাবো। অর্থনৈতিক ও আয়বৈষম্য এই
মুহূর্তে বড় একটি দুশ্চিন্তার বিষয়। বৈষম্য দূর করতে মানসম্পন্ন শিক্ষা দরকার, যেখান
থেকে অনেক দূরে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে উন্নত দেশ থেকে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখার
ব্যাপারে আলোচনা চলমান। অনেক দেশই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
এ সময় মধ্যম আয়ের ফাঁদ থেকে বাঁচতে
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশ্বব্যাংকের মুখ্য
অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত এস গিল। আর এই কর্মযজ্ঞে যেন উদ্যোক্তা তৈরি হয় ও প্রযুক্তির
ব্যবহার বাড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
এ জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো
দরকার বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। ইন্দরমিত বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্বিপক্ষীয়
ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে কৌশলী হওয়ার পাশাপাশি সেবা ও উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সংযোজন
বাড়াতে বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিতে হবে।
উক্ত সেমিনারে আগামীতে নিরবচ্ছিন্ন
জ্বালানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজানোর
পরামর্শ দেয় বিশ্বব্যাংক।
মন্তব্য করুন


তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের
সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত বিষয়টি ঝুলে থাকার কারণে এতে কোনো দেশেরই
লাভ হচ্ছে না বলে জানান তিনি। (খবর এনডিটিভির)
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম পিটিআইকে দেয়া
এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন ড. ইউনূস। ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎকার দেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, আমি যদি জানি, আমি কতটুকু পানি পাব, সেটা ভালো হতো। এমনকি পানির পরিমাণ
নিয়ে যদি আমি খুশি নাও হই, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। এই বিষয়টি সমাধান হতেই হবে। কারণ
পানি বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে বসে থাকার ফলে এতে কোনো কাজ হচ্ছে না।
তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে অন্তর্বর্তী
সরকার ভারতকে চাপ দেবে কিনা- পিটিআইয়ের এমন প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, চাপ শব্দটি অনেক
বড়। আমি এই কথা বলছি না। আমরা আলোচনা করব। তবে আমাদের একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করতে
হবে।
২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর অনেকটা চূড়ান্ত হয়ে
গিয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই চুক্তিকে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানানোর
ফলে চুক্তি আর হয়নি। তখন মমতা দাবি করেছিলেন, তার রাজ্যেই পানির সংকট রয়েছে।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন নতুন কোনো ইস্যু নয়, এটি অনেক পুরাতন ইস্যু।
বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। এমনকি পাকিস্তান পিরিয়ডেও কথা হয়েছে। আমরা সবাই
চেয়েছি এটির সমাধান করতে, এমনকি ভারত সরকারও এর জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের
সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমরা চাই এর সমাধান করতে। ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের
পানি পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
মন্তব্য করুন


ভারতের
উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগরে যৌতুকের এক লাখ টাকা দিতে না পারায় মুফিদুন্নিশা নামে
এক তরুণীকে বিয়ের ৪৫ দিনের মধ্যে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ
জানায়, গত মে মাসে মুফিদুন্নিশার বিয়ে হয়েছিল সিদ্ধার্থনগরের শামসের আহমেদের সঙ্গে।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে নানাভাবে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন
করতেন স্বামী। বিষয়টি বাবার বাড়িতে জানিয়েছিলেন তরুণী। তাদের বাড়ি থেকে বিষয়টি মিটমাটের
চেষ্টাও করা হয়।
নিহত
মুফিদুন্নিশার মা জানান, গত ১৪ জুলাই তাকে মেয়ের জামাই ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনার
মেয়েকে মেরে ঘরে পুঁতে দিয়েছি। এসে নিয়ে যান।’ এই ফোন পাওয়ার পরই আতঙ্কিত হয় পড়েন
তিনি। পরে বিষয়টি আত্মীয়দের জানান। এরপর বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়।
অভিযোগ
পেয়ে মুফিদুন্নিশার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। আটক করা হয় মুফিদুন্নিশার
স্বামী, শ্বশুর এবং শাশুড়িকে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসের দাবি করেন, ঘরের মধ্যেই স্ত্রীকে
পুঁতে রেখেছেন।
শামসেরের
দাবি অনুযায়ী, ঘরের মেঝে খোঁড়া হয়। সেখানেই মেলে মুফিদুন্নিশার দেহ। তারপরই গ্রেপ্তার
করা হয় মুফিদুন্নিশার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের।
মন্তব্য করুন


আজ সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিপিএলের উদ্বোধন
ঘোষণা করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)
শুরু হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর।
এ সময় ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
বলেন, আমরা একটা দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজকের এই বাংলাদেশে আছি। আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ
গড়ার স্বপ্ন দেখছি। সেই নতুন বাংলাদেশের অংশ হিসেবে আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে সংস্কারের
উদ্যোগ নিয়েছি। তারই অংশ হিসেবে বিপিএলটাকেও নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের বিপিএলে থিম সং ও মাসকটসহ কিছু নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠের খেলাও যেন
উপভোগ্য হয়। সেজন্য বিসিবি অনেক কাজ করেছে। আজকের এই আয়োজনকে সফল করার জন্য ও একটি
সুন্দর বিপিএল সবাইকে উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের
এই উদ্যোগের সঙ্গে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা নিজেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন। আশা করি এবারের
বিপিএলে নতুন বাংলাদেশের একটি নতুন বিপিএল হিসেবে সবার নিকট উপভোগ্য হবে।
মিরপুরে আজকের বিপিএল ফেস্টে বিসিবি
সভাপতি ফারুক আহমেদ ছিলেন মঞ্চে।
মন্তব্য করুন


ভারতের
উত্তরপ্রদেশের প্রেমের সম্পর্কের জেরে মা ও দুই ভাই মিলে এক তরুণীকে হত্যা করেছেন।
তবে তারা বিষয়টিকে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বলে চালিয়ে তার মরদেহ দাহও করে ফেলেছে। কিন্তু
প্রেমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পরে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যারমধ্যে ওই তরুণীল
মা-ভাই ছাড়াও আরও দুই চাচা রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম
টাইমস অব ইন্ডিয়া রোববার (২৬ জুলাই) জানিয়েছে, গত শুক্রবার ওই তরুণীর প্রেমিক হার্ষিত
পুলিশের দারস্থ হন। তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, তার প্রেমিকাকে পরিবারের সদস্যরা
হত্যা করেছে।
অভিযোগে
হার্ষিত বলেছেন, তার প্রেমিকার নাম হিমার্ষী। ২০ বছরের হিমার্ষীর সঙ্গে তার দেড় বছরের
বেশি সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যরা হিমার্ষীকে হত্যা করার পর ওইদিন
রাতেই তার মরদেহ দাহ করে ফেলে। যেন কেউ বুঝতে না পারেন তারা তাকে হত্যা করেছেন। অভিযোগের
পর পুলিশ তদন্ত করে শুক্রবার রাতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রেমিক হার্ষিত আরও বলেছেন,
তিনি ও তার প্রেমিকা ভিন্ন বর্ণের হওয়ার কারণে হিমার্ষীর পরিবার অব্যাহতভাবে এ সম্পর্কের
বিরোধীতা করে আসছিল।
এদিকে
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা গেছে,
হিমার্ষী তার বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি দোকানে গেছেন। সেখানে আগে থেকেই তার প্রেমিক উপস্থিত
ছিল। এপর হিমার্ষীর পরিবার সেখানে গিয়ে দুজনকেই মারধর করে। প্রেমিক হার্ষিত বলেছেন
তিনি নিজেও এখন তার জীবনের শঙ্কা করছেন।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
ইসলামপুর উপজেলায় জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন
পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৭০)।
বুধবার
(৫ আগস্ট) নিজ বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ
অংশ নিয়ে খাবার গ্রহণ করেন। আব্দুস সামাদ ওই গ্রামের মৃত শুকর আলীর ছেলে।
স্থানীয়
বাসিন্দা দানেছ আলী জানান, আব্দুস সামাদের সংসারে তিন মেয়ে ও চার ছেলে রয়েছে। মেয়েদের
বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেদের কেউ আলাদা সংসার করছেন, আবার কেউ পড়াশোনা করছেন। বয়স ও শারীরিক
দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে তিনি নিজের সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নেন। একই সঙ্গে তার মনে প্রশ্ন জাগে, মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা চল্লিশার আয়োজন যদি
না করে। সেই ভাবনা থেকেই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে জীবিত অবস্থায় নিজেই চল্লিশার আয়োজনের
সিদ্ধান্ত নেন।
অনুষ্ঠানে
অংশ নেওয়া লালচাঁন মিয়া বলেন, জীবিত একজন মানুষ নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন । এটি
সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আয়োজনে উপস্থিত হয়ে তারা আনন্দের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করেছেন।
আব্দুস সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, বাবার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারের সবাই
এ আয়োজনের সঙ্গে একমত হয়েছেন। মেয়ে সাজেদাও জানান, বাবার মনের সংশয় দূর করতেই পরিবারের
সদস্যরা এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।
আব্দুস
সামাদ বলেন, বয়সের ভারে আমি এখন শারীরিকভাবে দুর্বল। নামাজ-ইবাদত ছাড়া তেমন কোনো কাজ
করতে পারি না। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠানের
জন্য তিনি প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু এবং ২০ হাজার টাকা মূল্যের
একটি খাসি ক্রয় করা হয়েছিল বলে জানান।
মন্তব্য করুন


রমজান মাসে লোডশেডিং না
দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৪ কার্গো অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির করা হচ্ছে
বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
রবিবার (২ মার্চ) আসরের নামাজের পর রাজধানীর সার্কিট হাউজ জামে
মসজিদের সামনে সাংবাদিকদের উপদেষ্টা বলেন, রমজানে ৪ কার্গো অতিরিক্ত এলএনজি
আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আশা করছি রমজান মাসে ইনশাআল্লাহ কোনো লোডশেডিং হবে
না।
তিনি বলেন, আমাদের যে গ্যাস ছিল সেই গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমরা
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছি। এবারের রোজা কিছুটা
গরমের মধ্যে পড়ছে। এ সময় আমাদের সেচের জন্য অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। বিদ্যুতের
চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ৯ থেকে ১০ হাজার
মেগাওয়াট। সেচ ও গরমের কারণে এই বিদুতের চাহিদা গরমে ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াট
হয়ে যায়। এর মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট লাগে আমাদের সেচ কাজে। কিন্তু সেচ বন্ধ
করা যাবে না। সেচ বন্ধ হলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।
বিদ্যুৎ চুরির বিষয়ে উপদেষ্টার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু
যে বিদ্যুৎ চুরি হয় তা নয়, গ্যাসও চুরি হয়। সেজন্য আমরা অবৈধ গ্যাস সংযোগ
বিচ্ছিন্ন করছি। বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।
উপদেষ্টা বলেন, শীততাপ
নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত আলোকসজ্জ্বার জন্য ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে।
এজন্য আমরা ইমাম সাহেব এবং মুসল্লিদের মাধ্যমে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছি এসির
তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি রাখার জন্য। এই ২৫ ডিগ্রি বেশ ভালো তাপমাত্রা। এ তাপমাত্রায়
মানুষ খুব আরামে ইবাদাত করতে পারবে। জুয়েলারি শপেও যেন অতিরিক্ত আলোকসজ্জ্বা না করা হয়। এজন্য আমি
এবং আমার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের সহকর্মীরা সবার কাছে যাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


চীনের
মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকং-এ অবস্থানরত শেনচৌ-২৩ মিশনের তিন নভোচারী মহাকাশে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক
পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন।
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ হলো- অণুমাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে ধান চাষের যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন তারা।
এই তিন নভোচারী হলেন চু ইয়াংচু, চাং চিইউয়ান ও লাই খা-ইং।
গেল
২৪ মে উৎক্ষেপণ হওয়া শেনচৌ-২৩ মহাকাশযানে ধানের বীজসহ বিভিন্ন গবেষণা উপকরণসহ থিয়ানকং-এ
পাঠানো হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় পরিচর্যার পর নভোচারীরা প্রথম ধাপের ধানের নমুনা
সফলভাবে সংগ্রহ করেছেন।
এই
গবেষণার লক্ষ্য হল- মহাকাশে ‘বীজ থেকে বীজ, আবার বীজ’—এভাবে
ধানের দুটি পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অণুমাধ্যাকর্ষণ ধানের জিনগত
স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা বের করা।
এ
ছাড়া নভোচারীরা মহাকাশ চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলোক পরিবেশের প্রভাব, জরুরি উদ্ধার মহড়া
এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি
সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদী মানব অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন