

শিক্ষার্থীদের
নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড.আ
ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ
করেন।
শিক্ষামন্ত্রী
বলেন, কোনও মন্তব্যে শিক্ষার্থীরা আহত হলে দুঃখিত। এ ছাড়া প্রয়োজনে ১৩ জুলাইয়ের এইচএসসি
ও সমমানের পরীক্ষা ফের নেয়া হবে।
বন্যার
মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা
বলছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সেখানে
পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে
ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’ বিষয়টি সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ফেসবুকে
ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
খোঁজ
নিয়ে জানা যায়, সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়।
ওই ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।
রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ কথোপকথন হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর
আগে মঙ্গলবার বিকেলে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার
প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
এদিন
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায়
৪৫ মিনিট পর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট হয়ে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে
সরে যেতে বললে শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে কিছু সময় অবস্থান করেন।
দুপুরের
পর শিক্ষার্থীরা আবারও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ফিরে দ্বিতীয় দফায় প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ
করেন। এরপর তারা জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি সায়েন্স ল্যাব
থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হয়। আসাদ গেট এলাকায় পুলিশ
ব্যারিকেড দিলেও শিক্ষার্থীরা সেটি অতিক্রম করে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার গেটের সামনে
পৌঁছে অবস্থান নেন।
আন্দোলনরত
শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং তাদের উত্থাপিত
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের
তদন্তে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক
আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তার্ক।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার
(৩০ আগস্ট) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র
রাভিনা শামদাসানি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের এই মুখপাত্র
জানান, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সত্য অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনুসের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন ফলকার তার্ক। গত ১ জুলাই থেকে
১৫ আগস্টের ঘটনাগুলোর তদন্তে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য আগামী সপ্তাহের কোনো একসময় বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল আসার কথা রয়েছে। দলটিকে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন


নেত্রকোনার
কলমাকান্দা উপজেলায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই যুবকের
মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার
নাজিরপুর ইউনিয়নের রহিমপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন- কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের পূর্ব বাজার এলাকার নয়ন মিয়ার ছেলে নিরব (২৪) এবং একই
ইউনিয়নের ঘোষপাড়া এলাকার সজীব মিয়ার ছেলে সোহান (২০)। আহত ব্যক্তি মোটরসাইকেলের চালক।
তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের
হন। একপর্যায়ে রহিমপুর এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে
থাকা একটি তালগাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই গুরুতর আহত
হন।
দুর্ঘটনার
পর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিরব ও সোহানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মোটরসাইকেলচালকের
অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো
হয়।
কলমাকান্দা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, তিন বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে
ঘুরতে বের হয়েছিলেন। রাতের কোনো একসময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তালগাছের সঙ্গে
ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। আহত চালক বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসি
আরও বলেন, নিহত দুই যুবকের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর
করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


পরিবার
নিয়ে কিশোরগঞ্জের হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিন
মিলন। নৌকায় ভ্রমণের একপর্যায়ে করিমগঞ্জ উপজেলা শেষ সীমান্তে মিঠামইনের হাসানপুর ব্রিজ
এলাকায় একটি সড়কের কাছে নৌকা থামিয়ে তারা গোসল করতে নামেন।
গোসল
করার সময় হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় তার মেজো মেয়ে মন্ত্রী আক্তার। মেয়েকে
বাঁচতে হাওরের পানিতে ঝাঁপ দেন তিনি। প্রাণপণ চেষ্টায় মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন
মিলন। কিন্তু মেয়েকে বাঁচানোর পর তীব্র স্রোতের সঙ্গে আর পেরে ওঠেননি বাছির। কিছুক্ষণের
মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয়দের চেষ্টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একটি পরিবারের আনন্দভ্রমণ কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরিণত হয় আজীবনের শোকে।
শুক্রবার
(২৪ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের বালিখলা হাওরের পাশে মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর
ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ সার্কিট
হাউসের সামনে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মৃত
বাছির উদ্দিন মিলন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল পেট্রোল পাম্প এলাকার মো. আবু বাক্কার
মাস্টারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট।
করিমগঞ্জ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেয়েকে
উদ্ধার করতে গিয়ে বাছির উদ্দিন মিলন পানিতে তলিয়ে মারা গেছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায়
তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান
মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার
দুদক কার্যালয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা চেয়ারম্যানের সঙ্গে তারা কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ শেষে সমন্বয়ক হাসনাত
আবদুল্লাহ বলেন, অনেকের নামে দুদকে মামলা হচ্ছে এসবের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের
কোনো সম্পর্ক নেই। দুদক স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, আমাদের নাম
ব্যবহার করে কেউ যদি কোথাও চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে
দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই
আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি)
হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার
(৯ জুন) বিচারিক আদালত থেকে এ নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার (৭ জুন) ঢাকা
মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে
ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে।
একইসঙ্গে
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড
কার্যকর হবে। এ ছাড়া আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা
করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনি উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।
জরিমানা
অনাদায়ে সংশ্লিষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির
মাধ্যমে ওই অর্থ রামিসার আইনি উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে আরও
বলা হয়েছে, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায়
এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক
অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে
পাঠানো হয়।
১
জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬
জন সাক্ষ্য দেন এবং একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায়
আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।
১৯
মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা
পালিয়ে যায়। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয় এবং নারায়ণগঞ্জের
ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রামিসার
বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২১ মে আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দি দেন।
ভিকটিম
রামিসার বাবা পরিবারের সঙ্গে পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং
বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয়
শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মন্তব্য করুন


বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে ।
গত মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের জাতীয় মেধাতালিকা নিয়ে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে সভায় বসে এনটিআরসিএ। সভায় জাতীয় মেধাতালিকার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেলিটকের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় এক বিষয়ে একাধিক প্রার্থী সনদ অর্জন করেন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী প্রার্থীদের জাতীয় মেধাতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এনটিআরসিএ এই মেধাতালিকা অনুযায়ী পরবর্তীতে নিয়োগের সুপারিশ করে ।
গত বছরের ৫ ও ৬ মে অনুষ্ঠিত এই নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় ২৬ হাজার ২৪২ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে ২৫ হাজার ২৪০ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলপ্রকাশিত হয়।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর
হাতিয়ায় ১১ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে হেলাল উদ্দিন নামে এক জামায়াত
কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে তাকে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা
করা হয়।
বুধবার
(৫ আগস্ট) সকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি
ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সালিশ বসে।
অভিযুক্ত
হেলাল উদ্দিন পেশায় পল্লী চিকিৎসক। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন
ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে
সম্পৃক্ত।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এক শিশু পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি
ফেরার পথে হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার আরও এক ছোট বোন
ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে যান তিনি। সেখানে
তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করলে শিশুটি চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে বিষয়টি
জানাজানি হলে বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রাম্য
সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, শিশুর পরিবারের অনুরোধে সালিশের আয়োজন করা হয়।
সালিশে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। তবে শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার
অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত সবার সম্মতিতে হেলাল উদ্দিনকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার
টাকা জরিমানা করা হয়।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভিকটিম পরিবার গরিব এবং অসহায়।
তাই তারা প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের
সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনার তদন্ত করে তার শাস্তি নিশ্চত করতে হবে। যাতে
ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সাহস না পায়। অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এ
ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা
হচ্ছে।
হরণী
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিচার গ্রাম্য
সালিশে বা ইউনিয়ন পরিষদে করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ
করতে চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।
হরণী
ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির
সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর অনেকেই নিজেকে রক্ষার জন্য জামায়াত বা বিএনপির
বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। হেলাল উদ্দিনও জামায়াতের বিভিন্ন
কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন। তবে তাকে দলের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা সদস্য করা হয়নি।
হাতিয়া
থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন
হওয়ায় সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। বিষয়টি এখন আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।
মন্তব্য করুন


পিরোজপুরের
নেছারাবাদে প্রায় ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নৌপুলিশ।
সোমবার
(৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ভরতকাঠি বেলুয়ানদীতে দৈহারী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.
নিয়াজ মোর্শেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ ওই মাংসসহ তাদের
গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা
হলেন, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খাসতবক গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. খলিল (৪১)
এবং একই উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের চান মিয়া মাঝির ছেলে বাবুল ফরাজি (৪২)।
নেছারাবাদের
দৈহারী পুলিশ ফাঁড়ির নৌপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
সোমবার দুপুরে উপজেলার বেলুয়া নদীর ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময়
একটি ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে মাংস বহনের
সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খলিল ও বাবুল ফরাজিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দীর্ঘদিন
ধরে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন নৌপথে নেছারাবাদে অবৈধভাবে হরিণের মাংস আনার
অভিযোগ রয়েছে। কাঠবোঝাই, গোলপাতাবোঝাই এমনকি মাছ ধরার ট্রলারেও এসব মাংস পরিবহন করা
হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে নেছারাবাদের বিভিন্ন স্থানে থাকা কথিত চোরাকারবারিদের
কাছে এসব মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সময়ের অভিযানে হরিণের মাংস বিক্রির সঙ্গে
জড়িত কয়েকজন আটক হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এই অবৈধ বাণিজ্য।
অভিযোগ
রয়েছে, চোরাই পথে আনা এসব মাংসের একটি অংশ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করায় পচা অবস্থায় বাজারজাত
করা হয়। আবার কখনো হরিণের মাংসের সঙ্গে শিয়ালের মাংস মিশিয়ে গোপনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি
করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নেছারাবাদ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে
একটি মাছ ধরার ট্রলারে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এ বিষয়ে
দুজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আগামীকাল আদালতে তাদেরকে পাঠানো হবে বলেও জানান
তিনি।
মন্তব্য করুন


রক্তাক্ত
দুটি মানুষ ছটফট করছেন রাস্তার ধারে। ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া এক নারী আর তার নিথরপ্রায়
স্বামী পড়ে আছেন তপ্ত পিচের ওপর। অথচ তাঁদের বাঁচানোর কোনো আকুতি ছুঁয়ে গেল না পাশে
জমা হওয়া শত শত মানুষকে। চোখের সামনে যখন মৃত্যুর মুখোমুখি এই দম্পতি, তখন উপস্থিত
জনতার পুরো মনোযোগ কেড়ে নিল কেবলই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু কাঁচা-পাকা আম। নিস্পৃহ একদল
মানুষ মগ্ন হলেন আম লুটের উৎসবে। ভারতের বিহার রাজ্যের মুজাফফরপুরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক
সড়ক দুর্ঘটনাটি কেবল একটি তাজা প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং আরও একবার উলঙ্গ করে দিয়ে গেছে
আধুনিক সমাজের বুক চিরে জেগে ওঠা এক চরম ও কুৎসিত মানবিক অবক্ষয়কে।
রোববার
(১৫ জুন) ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভয়াবহ
এই দুর্ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক
সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় শুরু হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিহারের জাতীয় সড়ক-২৭-এর ওপর দুর্ঘটনাকবলিত
গাড়িটি উল্টে পড়ে আছে। রক্তাক্ত মানুষ পাশে কাতরালেও উপস্থিত লোকজন যে যেভাবে পারছেন
রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমের স্তূপ থেকে আম কুড়িয়ে নিয়ে পালাচ্ছেন।
স্থানীয়
পুলিশের ভাষ্যমতে, ৪০ বছর বয়সী অজয় পাসোয়ান তার স্ত্রী সান্তারা দেবীকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ
থেকে আমবোঝাই করে মুজাফফরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি
উল্টে গেলে দুজনেই গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় ওই দম্পতি দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকলেও সেখানে ভিড় জমানো
সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো তাগিদ বা ন্যূনতম মানবিকতা
দেখা যায়নি। উল্টো সবাই ব্যস্ত ছিলেন বিনামূল্যে আম ঘরে তুলতে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। তবে হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজয় পাসোয়ানের মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী সান্তারা দেবী বর্তমানে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
মুজাফফরপুরের
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রাকেশ কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ খবর
পাওয়া মাত্রই দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। আম লুটের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও
লজ্জাজনক ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


যশোরে
বিশেষ অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। এ সময় তাদের
কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল
জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ
জানায়, গত ১৫ জুলাই
দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে
যশোর সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই (নিরস্ত্র) মো. জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে একটি দল কোতোয়ালি মডেল
থানার আরবপুর ইউনিয়নের ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার পশ্চিম পাশের সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. ইমদাদুল হক জিসান (২৪)
ও মো. তৌহিদুজ্জামান রাসেল (২৪)-কে আটক করা
হয়। এ সময় আরও
কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশের
দাবি, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সরকার কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়ার প্ল্যাটফর্ম
ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন ও অনলাইন জুয়ার
কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো পর্যালোচনা করে অনলাইন জুয়া পরিচালনার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে
আটক দুইজনের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি সুজুকি
মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আটকরা হলেন শার্শা উপজেলার গোকর্ণ এলাকার বাসিন্দা মো. ইমদাদুল হক জিসান এবং
ট্যাংরালী এলাকার বাসিন্দা মো. তৌহিদুজ্জামান রাসেল। পুলিশ জানায়, ১৬ জুলাই তাদের
আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত
ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন