খেলার ছলে শেখা কৌশল দিয়ে মায়ের প্রাণ বাঁচালেন দুই কন্যা

খেলার ছলে শেখা কৌশল দিয়ে মায়ের প্রাণ বাঁচালেন দুই কন্যা
সংগৃহীত

বাড়িতে লজেন্স খাচ্ছিলেন মৌসুমী মুখোপাধ্যায়। হঠাৎ সেটা তার গলায় আটকে যায়। দমবন্ধ হয়ে কথা বলার শক্তিও চলে যায় তার। মাকে ওই অবস্থায় দেখে প্রাথমিক ভাবে ঘাবড়ে গেলেও অসুবিধা বুঝতে দেরি করেনি দুই মেয়ে।

গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে খেলার ছলে দুই বোন শিখেছিলেন হাইমলিখ কৌশল। সেটাই যে এ ভাবে কাজে লেগে যাবে, কে জানত! আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়া মাকে সুস্থ করে তুললেন কলেজপড়ুয়া দুই বোন। শনিবার (১৩ জুলাই) বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের পাথরমোড়া গ্রামের ঘটনা।

বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় এবং চতুর্থী মুখোপাধ্যায় নামে দুই মেয়ের জন্য প্রাণে বাঁচলেন তাদের মা মৌসুমী মুখোপাধ্যায়।

মায়ের উপর হাইমলিখ কৌশল প্রয়োগ করেন তারা। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা চালানোর পর মায়ের গলা থেকে লজেন্সের টুকরো বার করে আনতে সমর্থ হন বৃষ্টি এবং চতুর্থী। কোনও চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই মাকে সুস্থ করে তুলতে পেরে খুশি দুই বোন।

বৃষ্টি বলেন, মা আমাদের সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। মুখে একটা লজেন্স ছিল। হঠাৎ কথা বন্ধ হয়ে যায় মায়ের। গলা থেকে অদ্ভুত একটা শব্দ বার হতে থাকে। ধীরে ধীরে জিভ বার হয়ে আসছিল। বুঝতে পেরেছিলাম মা সাধারণ বিষম খাননি। শ্বাসনালীতে লজেন্স আটকে শ্বাসরোধ হয়েছে। দ্রুত আমরা দুই বোন মায়ের উপর হাইমলিখ পদ্ধতি প্রয়োগ করে লজেন্স বার করে আনি। মা আবার স্বাভাবিক হন।

চতুর্থী বলেন, ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির রাধানগর শাখা বেশ কিছু দিন আগে আমাদের গ্রামে একটি অনুষ্ঠান করেছিল। সেই অনুষ্ঠানেই আমরা হাইমলিখ কৌশল শিখেছিলাম। ওই কৌশল শেখা না থাকলে জানি না মায়ের কী হত! আগামিদিনে যাতে এই কৌশল অন্যদেরও শেখাতে পারি, সেই চেষ্টা করব।”

মৌসুমী মুখোপাধ্যায় বলেন, দুই মেয়ে এই কৌশল না জানলে হয়তো মারাই যেতাম গতকাল।

ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌম্য সেনগুপ্ত বলেন, খাবার বা পানীয় আমাদের গলা দিয়ে পেটে যাওয়ার সময় একটি মাংসপেশি আমাদের শ্বাসনালী আটকে দেয়। শ্বাস নেওয়ার সময় তা খোলা থাকে। কিন্তু খাবার সময় কথা বললে বা মাংসের হাড় থেকে মজ্জা জোরে শুষে খাওয়ার সময় কিছু ক্ষেত্রে খাবার শ্বাসনালীতে গিয়ে শ্বাসরোধ করে দেয়। ফলে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়। কথা বলার শক্তিও থাকে না তখন। অল্প সময়ের মধ্যে রোগী ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন। এই সময় রোগীর শ্বাসনালী থেকে খাবার বার করে আনার জন্য হাতে সময় থাকে মাত্র ৪ মিনিট। ফলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়টুকুও থাকে না। এ ক্ষেত্রে আশপাশে থাকা লোকেদের সাহায্যে বিশেষ কৌশলে ফুসফুসে চাপ দিয়ে খাবারের অংশ বার করে আনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী কৌশল ‘হাইমলিখ’। এই কৌশল ব্যবহার করে সারা পৃথিবীতে লক্ষাধিক রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হয়েছে। বৃষ্টি আমাদের অনুষ্ঠানে ‘হাইমলিখ’কৌশল রপ্ত করে রাখায় তার মাকে সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন।

global fast coder

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেসি চলে গেলে আর্জেন্টিনা আর আগের মতো থাকবে না: স্কালোনি

১

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা, কমানো হবে বিদেশি শিক্ষার্থীও: মেলোনি

২

ইতিহাস বলছে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা

৩

বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করা একমাত্র ফুটবলার মেসি

৪

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন

৫

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

৬

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ভারতীয় হাইকমিশনের শ্রদ্ধা

৭

সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কড়া সমালোচনা করে বরখাস্ত সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী

৮

বাল্যবিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিচ্ছে আফগানিস্তান

৯

প্রবাসীদের রেমিটেন্সেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে: প্রধান উপদেষ্টা

১০