

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে দুইটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ে শতাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে চলতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এলাকা বিদ্যুতবিহীন হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার পাচুড়িয়া ও বানা ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অসংখ্য গাছপালা ভেঙে এবং উপড়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের উপরে গাছ পড়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে অন্ধকার হয়ে যায় দুটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম।
বানা ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হোসেন জানান, বানা ইউনিয়নের শিরগ্রাম, গড়ানিয়া, পাকুড়িয়া, টাবনী, টোনাপাড়া, শিয়ালদি চরপাড়া, জয়দেবপুর, আউশির হাট, কঠুরাকান্দি, মাজপাড়া, আড়পাড়া গ্রামে ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ে কাচাঁ-আধাপাকা ঘরবাড়ি, গাছপালা, পেঁয়াজ, রসুন, মশুরি, ধনিয়া, ধান, গমসহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গ্রামগুলোতে বিদ্যুত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে।
পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. আমিনুর রহমান বলেন, ঝড়ে আমার ঘরবাড়ি, ফসলি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও যুগীবরাট, ভাটপাড়া, চাদড়া, পাচুড়িয়া, দেউলি, চরনারানদিয়া, ধুলজুড়ি, চরভাটপাড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, বুধবার রাত একটার দিকে ঘূর্ণিঝড়ে দুই ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক কাঁচাপাকা বাড়িঘর ও কয়েকশ গাছপালা উপড়ে যায়। বিস্তীর্ণ জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেন। ঘটনাস্থলে পোঁছে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুত সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব জোনাল অফিসের এজিএম ফাহিম হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সেখানে কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুতের তাঁর ছিড়ে গেছে, কয়েকটি খুঁটি ভেঙ্গে অনেকগুলো আঁকাবাঁকা হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে কাজ চলছে।
এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমীন ইয়াছমীনের মোবাইল নম্বারে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় নিখোঁজের একদিন পর রেল সড়কের পাশ থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার বিকেলে নিখোঁজ জামশেদ ভূঁইয়ার লাশ পালপাড়া রেললাইনে পাশে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। এ দিন সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার এর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মহিনুল ইসলাম ।
নিহত জামশেদ ভূইয়া কুমিল্লা নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড কালিয়াজুরী ভূইয়া বাড়ি সাবেক কমিশনার মরহুম আব্দুল কুদ্দুস ভুইয়ার তৃতীয় পুত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় বাসা হতে মাগরিবের নামাজ আদায় করার জন্য বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই বিষয় কোতোয়ালি মডেল থানায় তার বড় ভাই একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত সপ্তাহে একই এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সুমাইয়া আক্তার ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার শিকার হয়েছিলেন। সপ্তাহ না পেরোতেই আবারো একই এলাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী।
এই বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মহিনুল ইসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় নিহত জামশেদ ভূঁইয়ার ভাই থানায় অভিযোগ করেছিলেন । তিনি বলেছিলেন মাগরিবের নামাজ পড়তে গিয়ে তার ভাই বাসায় ফেরেননি । রোববার সন্ধ্যায় আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। হত্যার রহস্য উদঘাটনে আমরা কাজ করছি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় মুসলিম বাল্যবন্ধুর জানাজার পেছনে বসে কাঁদা আলোচিত সেই সুধীর বাবু মারা গেছেন।
তিনি মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের চাপাচৌঁ গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান ।
সুধীর বাবুর ছেলে অর্জুন চন্দ্র দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার রাতে বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”
এর আগে ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুধীর বাবুর একটি ছবি ভাইরাল হয়। সেই সময় ছবিটি সম্পর্কে জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের চাপাচৌঁ গ্রামের আমির হোসেন নামে একজনের জানাজা চলছিল। সে সময় জানাজার পেছনে একটি গাছের গুঁড়িতে বসে কাঁদছিলেন সুধীর। মৃত আমির হোসেন সওদাগর সুধীর বাবুর বাল্যবন্ধু ছিলেন। বিষয়টি উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
স্থানীরা জানান, সুধীর বাবু ও আমির হোসেন ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে আড্ডা ও খেলাধুলা করে বড় হয়েছেন। বয়সের একপর্যায়ে দুজন গুণবতী বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার শত ব্যস্ততার ভিড়েও সুযোগ পেলেই দুই বন্ধু ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতেন। অবসর সময় কাটাতেন একসঙ্গে। ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বন্ধু আমির হোসেন মারা যাওয়ার ৪ বছর পর বন্ধু সুধীর বাবুও মারা গেলেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা পুলিশ লাইনে ছাত্র জনতার উপর হামলার ঘটনায় মনির হোসেন নামে আওয়ামী লীগের সক্রিয় এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
সোমবার রাতে কৃষ্ণপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি মনির হোসেন (৪৫) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিনুল ইসলাম জানান, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান কুমিল্লা নগরীর পুলিশ লাইনে ছাত্র জনতার উপর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ২৬১জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০০/১৫০ জন লোকের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদর্শ সদর উপজেলার চাঁনপুর এলাকার বাসিন্দা ইনজামুল হক রানা বাদী হয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলার এজহার নামীয় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে ছাত্র জনতার উপর হামলাকারীদের একজন মনির হোসেন। মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার এড়াতে সে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে তাকে আদালতে নেয়া হলে বিজ্ঞ বিচারক কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


এমদাদুল হক সোহাগ, কুমিল্লা:
পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের নীল জলরাশির মিতালীতে মুখর পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে বার্ষিক কর্পোরেট ট্যুর সম্পন্ন করেছে কুমিল্লার প্রথিতযশা সিসিএন শিক্ষা পরিবার। গত ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিসিএন ইউএসটি), সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং সিসিএন মডেল কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই আনন্দভ্রমণ বা ‘কর্পোরেট রিট্রিট’ অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনব্যাপী এই ট্যুরে সিসিএন পরিবারের প্রায় ১২০ জন সদস্য রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। রাঙামাটির নীল জলরাশি ঘেরা অনন্য সুন্দর ‘দ্যা গ্র্যান্ড হিল তাজ রিসোর্ট’-এ অবস্থানকালে অংশগ্রহণকারীরা এক অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠেন। তৈরি হয় প্রকৃতি ও আনন্দের অনন্য মেলবন্ধন।
নৌ-বিহারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা উপভোগ করেন শুভলং ঝর্নার শীতল ধারা। পাহারি জীবন, বিভিন্ন ধরনের নৌকার আধিক্য, এছাড়াও আদিবাসী গ্রাম ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখার পাশাপাশি কাপ্তাই লেকের সুস্বাদু মাছ ও ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নেন তারা। তাছাড়া আদিবাসীদের পোষাক কিনে, সেই পোষাক পড়ে আবার ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেক নারী শিক্ষক-ছোট শিশুরা। এই দৃশ্য অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ভিন্ন আনন্দ যোগ করেন। বিনোদনের অংশ হিসেবে ছিল ডার্ক বোর্ড, ব্যাডমিন্টন ও নারীদের জন্য বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা। রাতের আবহে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো বারবিকিউ পার্টি। আধুনিক ও বিলাসবহুল স্যুটের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় অনেকে রাত কাটিয়েছেন তাঁবুতে (ক্যাম্পিং), যা ট্যুরে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। তাবুতে আবার অনেকে মেতে ওঠেন গান-আড্ডা আর গানের কলি খেলায়। গ্র্যান্ড হিল তাজ রিসোর্ট-টিতে দোলনা হতে শুরু করে রিসোর্টের শৈল্পিক নির্মান বা স্ট্রাকচার অনেকটা ঐতিহাসিক তাজমহলের মতো। নীল জলরাশির কাছাকাছি পাহাড়ের বাজে ভাজে বসার জন্য বেঞ্চ, দোলনা, বাহারি সিড়ি, সবুজের সমারোহ বাড়তি আনন্দ যোগ করে। এর আগে কুমিল্লা থেকে রওনা হওয়া বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের বিশাল বহরটি যখন পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পিচঢালা পথে এগোচ্ছিল, তখন জানালার ওপাশে ধরা দিচ্ছিল প্রকৃতির ভিন্ন এক রূপ। একদিকে আকাশছোঁয়া সবুজ পাহাড় আর বিরল সব বৃক্ষরাজি, অন্যদিকে গভীর খাদের রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় ভাসছিলেন সিসিএন পরিবারের সদস্যরা। যাত্রাপথে দুচোখ ভরে উপভোগ করেছেন পাহাড়ের ঢালে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জনবসতি আর তাদের সহজ-সরল জীবনধারা। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে প্রকৃতির এই আদিম ও অকৃত্রিম রূপ যেন সফরের ক্লান্তি ভুলিয়ে সবার মনে বুলিয়ে দিচ্ছিল এক প্রশান্তির পরশ।
আনন্দভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ডক্টর তারিকুল ইসলাম চৌধুরী। অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, "কাজের একঘেয়েমি দূর করতে এবং সহকর্মীদের মধ্যে আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক জোরদার করতে এ ধরণের ভ্রমণ অত্যন্ত জরুরি। সিসিএন পরিবার একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি, যা আজকের এই আনন্দঘন পরিবেশের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হলো।" একটি সফল কনভোকেশন শেষে এমন ভ্রমণ আনন্দের মাত্রা বহুগুন বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বড়ো পরিসরে এমন আয়োজন করার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো: জামাল নাছের, লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন ডক্টর আলী হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য বিভাগীয় প্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। ট্যুর কো-অর্ডিনেটর ছিলেন, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে ফিরতি যাত্রা শুরু হয়। ফেরার আগে পাহাড় আর হ্রদের পটভূমিতে সবাই মিলে ফ্রেমবন্দি হন একটি গ্রুপ ছবিতে, যা এই ভ্রমণের স্মৃতিকে অমলিন করে রাখবে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, পাহাড়-প্রকৃতির মাঝে এমন আয়োজন তাদের কর্মস্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
কুমিল্লার
নাঙ্গলকোট উপজেলায় গরু ছুটে গিয়ে গাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে দুপক্ষের
সংঘর্ষে ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন।
আজ
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা
ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা
হলেন- রোকন আলীর স্ত্রী শরিফা বেগম (৬০),বশির আহম্মেদের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৫৫),
জাকির হোসেনের ছেলে ওসমান (১৬), জাকির হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০)।
তাদের
প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো
হয়েছে।
দায়িত্বরত
ডাক্তার শিমা মজুমদার জানান, দুপুর ১ টার পর তিন নারী ও এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে
চিকিৎসা নেন। তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গুলিবিদ্ধ
হোসনেয়ারা বেগম বলেন, বেলা ১১টার দিকে দোতলা মসজিদের সামনে শেখ ফরিদের লোকজন এসে আমাদের
গুলি করে। এতে আমিসহ অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়।
এ
বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি একে ফজলুল হক জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে
ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীসহ পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর
পাইনি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লাস্থ নাঙ্গলকোট ফোরাম'র নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। কাজী নজির আহম্মদ সভাপতি ও সাংবাদিক সহিদ উল্লাহ মিয়াজীকে সেক্রেটারি করে ১৫ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। ৩১ জানুয়ারী শুক্রবার রাতে কুমিল্লা নগরীর একটি হল রুমে সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তাগণ হলেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক নাছির আহম্মেদ মোল্লা ও ডা: সিরাজুল ইসলাম। সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইছরাইল মজুমদার, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাদাৎ ইবনে সালেহ, ব্যবসায়ী নেতা মিজানুর রহমান ও মাইনুল হক মজুমদার বাবলু। সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আফসার মজুমদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শহীদ উল্লাহ মজুমদার, অফিস ও অর্থ সম্পাদক প্রভাষক মাওলানা ইব্রাহীম মুসাফির, প্রচার সম্পাদক শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম সেলিম, ক্রীড়া সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, আপ্যায়ন সম্পাদক নুরুল আমিন আজাদ ও ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসান মামুন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ৮ কেজি ৫শত গ্রাম গাঁজা ও ৩০১ বোতল ফেন্সিডিলসহ
দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
২৩ ডিসেম্বর রাতে
র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার
কোতয়ালী মডেল থানাধীন আমতলী এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে
আসামী ১। মোঃ সোহেল এবং ২। মোঃ আমির হোসেন নামের দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে।
এ সময় আসামীদ্বয়ের কাছ থেকে ৮.৫ কেজি গাঁজা, ৩০১ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক পরিবহণ কাজে
ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা
হলো- ১। মোঃ সোহেল (২৬) লক্ষীপুর জেলার রামগতি থানার চরমেহার গ্রামের আব্দুল মমিন এর
ছেলে এবং ২। মোঃ আমির হোসেন (৩১) নারায়নগঞ্জ জেলার সদর থানার সৈয়দপুর গ্রামের মোঃ রমজান
আলী এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা
দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত কাভার্ড ভ্যান ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে
মাদকদ্রব্য গাঁজা ও ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী
ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির
বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
৫৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলার ডিবি (দক্ষিন)।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম এর নির্দেশনায়, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ সাইদুল ইসলাম (অফিসার ইনচার্জ ডিবি (দক্ষিন), ঢাকা জেলা এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম কেরানীগঞ্জ মডেল ও দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২৯/১০/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ ২০.১৫ ঘটিকায় কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মাসুকুর রহমান (৪৫), পিতা-মৃত একরাম হোসেন, সাং-মৌটুপী, থানা-ভৈরব, জেলা-কিশোরগঞ্জ‘কে ৩৫০ (তিনশত পঞ্চাশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং হাওয়া (৩৬), পিতা-মোঃ মনু মিয়া, মাতা-আমেনা বেগম, সাং-কলাতলী, থানা-করিমগঞ্জ, জেলা-কিশোরগঞ্জ‘কে ২০০ (দুইশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৬ জন।
আজ বুধবার কুমিল্লার দাউদকান্দির চান্দিনা, নিমসা ও চৌদ্দগ্রামে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি বারোপাড়া এলাকায় অজ্ঞাতনামা একটি বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে আব্দুল বারেক (৫৩) এবং মোস্তফা (৫২) নিহত হন । তারা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সরকারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এছাড়া ঢাকাগামী লেনে বুড়িচং নিমসার বাজার সংলগ্ন ইউটানে তিন জন নিহত হন। তারা হলেন— বেগমগঞ্জ থানার লালপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম (২৭), মেহেরপুর জেলার মেহেরপুর সদর কেশবপুর গ্রামের সোহেল রানা (৩৫) এবং চান্দিনা এলাকায় বড় গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র তাইম।
অপরদিকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে বাসচাপায় আরো একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
দাউদকান্দি আমিরাবাদ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, অজ্ঞাত একটি বাস দাউদকান্দি এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে দুই জন নিহত হয়।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ইনচার্জ আব্দুল মমিন জানান, বুড়িচং নিমসার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, ‘আইনের বাইরে গিয়ে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। আইন মেনেই সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।’
শনিবার বিকেলে কুমিল্লা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের প্রতিজ্ঞা— আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করব না। আইনের শাসন মেনেই চলতে হবে। অতীতে যা ঘটেছে, তা নতুন করে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমার মেয়াদকালে আইন মেনে প্রকল্প বাস্তবায়নই প্রাধান্য পাবে।’
সভায় কুমিল্লায় গণপূর্ত বিভাগের অধীনে নির্মাণাধীন স্থাপনা, নতুন প্রকল্প ও চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন মন্ত্রী। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থানাভবন নির্মাণ, কুমিল্লা কারাগারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, ‘অপব্যয় রোধ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিগত সময়ে নেওয়া স্থগিত বা বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলো প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনরায় চালু করা হবে।’
এ সময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহ আলম, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন জেলার ঊর্ধ্বতন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
মন্তব্য করুন