

রাজধানীর চকবাজারের রহমতগঞ্জ ডালপট্টি মহল্লার একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন। তিনি জানান, বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। এরপর মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে, ৪টা ৪৮ মিনিটে প্রথম ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আরও ছয়টি ইউনিট এসে তৎপরতায় যোগ দেয়।
এখনও আগুন কীভাবে লেগেছে বা কতটুকু ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে
রাজশাহীতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটের
দিকে ঢাকার একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
তবে বিমান থেকে নামার সময় তারেক রহমান নিজেই লাগেজ
নিয়ে নেমেছেন। এমন একটি ছবি কালবেলার ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তন করে তারেক রহমান
ইতোমধ্যেই বেশকিছু ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড করেছেন। যার জন্য তিনি প্রশংসায় ভাসছেন। মানবিক
এই নেতা এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর মহাখালীতে কড়াইলবাসীর আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল শুরুর আগে এক হুজুর মঞ্চের সামনে
এগিয়ে এলে বসার জন্য চেয়ার প্রয়োজন হয়। তখন তারেক রহমান নিজের ব্যবহৃত চেয়ারটি এগিয়ে
দেন।
ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা
নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বেশ কয়েকজন নেতা
তাকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে গেলে তিনি সেটি করতে দেননি। এমন নানা প্রশংসিত কাজ করে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আর আজ রাজশাহী
বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার সময় নিজের লাগেজ নিজে বহন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন
তিনি।
দুপুর ২টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী
সমাবেশে উপস্থিত হন। এই জনসভায় রাজশাহী জেলা ও মহানগরের পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও
নাটোরের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় নওগাঁর এটিএম মাঠে নির্বাচনী
জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ জনসভায় জয়পুরহাটের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে
নিজ জেলা বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তারেক রহমান বগুড়ায়
আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। রাত সাড়ে ৮টায় রাতযাপনের
উদ্দেশে তিনি হোটেল নাজ গার্ডেনে চলে যাবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা
ময়দানে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শুরু হয়। সকাল থেকেই
রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানা-উপজেলা ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার বিভিন্ন
এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। মানুষের ঢলে মাদ্রাসা ময়দান
ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল থেকেই রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা ও উপজেলা
থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। মিছিলে নানা ধরনের
স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ময়দান। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বড়
বহর মাঠে প্রবেশ করলে উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়। বিপুল মানুষের চাপে সমাবেশস্থলের আশপাশের
সড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। অনেক তরুণকে প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার আশায় গাছ,
উঁচু দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনার ওপর উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ-
সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মাদ্রাসা ময়দান পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
সমাবেশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী। মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। সভামঞ্চের
সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আকাশে ড্রোন
উড়তে দেখা গেছে, যার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে
জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার
(২২ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে
তিনি এ কথা জানান।
এ
সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সব
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো শঙ্কার কারণ নেই।
তিনি
আরও বলেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আসন্ন বড়দিন উপলক্ষে আতশবাজি
পোড়ানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি
বড়দিনে সড়ক অবরোধ করে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না বলেও জানান স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


আগামী
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেশজুড়ে চলছে বিশেষ কর্মসূচির প্রস্তুতি।
বিজয়
দিবসের দিন সকাল ১১টা থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,
নৌ বাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই পাস্ট মহড়া পরিচালনা করবে। চলবে বিজয় দিবসের
বিশেষ ব্যান্ড-শো।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১১টা ৪০ মিনিট
থেকে ‘টিম বাংলাদেশ’ এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার স্বাধীনতার
৫৪ বছর উদ্যাপনে পতাকা হাতে স্কাইডাইভিং করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, গতকাল বুধবার বিজয় দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজ নেন জাতীয়
নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


দেশের
গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন
বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতীয়
মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকের ইমামতিত্বে বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায়
উপস্থিত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার বড়ো ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ
পরিবারের অন্য সদস্যরা, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও
বিমানবাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথি, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ।
নামাজে
জানাজাকে ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সব এলাকায় বিপুল জনসমাগম ঘটে। নীরবতা
ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ দেশের এই শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রীকে শেষ বিদায়
জানাতে উপস্থিত হন।
এর
আগে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল
থেকে গুলশানে তাঁর বড়ো ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে নেয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য,
স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা শেষ বারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বেগম জিয়ার মরদেহ
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনা হয়।
নামাজে
জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর
রহমানের পাশে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
জানাজা
ও দাফন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় যান চলাচল
নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
বেগম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রীকে হারাল,
যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন


ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ঘুষ নেওয়া
নিয়ে সর্তকবার্তা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের হুশিয়ারী দিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ভূমি অফিসে
ঘুষ দেওয়ার মাত্রা কমে যাওয়ায় সেখানে কর্মীদের কাজে অনীহা দেখা যাচ্ছে এবং কাজ স্লো
করে দেওয়া হয়েছে। ভূমি অফিসের কর্মীরা যদি ঘুষের অভ্যাসের অভাবে কাজে অনীহা দেখান এবং
কাজ স্লো করে দেন, তাহলে এটি তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার অভাবকেই প্রকাশ করে। যাদের পেশাগত
দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে, তাদের বিকল্প চিন্তা করা সরকারের দায়িত্ব। আপনারা যারা কাজ
স্লো করে দিয়েছেন, এখনো সময় আছে, সাবধান হয়ে যান। না-হয় আপনাদের রিপ্লেসমেন্টও চলে
আসবে।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের
বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তার কাছে প্রশ্ন ছিল, সরকার কেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
করতে পারছে না?
জবাবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, আগে
যে সিন্ডিকেট ছিল তা নিয়ন্ত্রণ করত আওয়ামী লীগ সরকার, কিন্তু সিন্ডিকেটের ভেতরে ছিল
ব্যবসায়ীরা। এখন তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলে আশ্রয়
নিয়েছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।
“কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে
জড়িত অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিন্ডিকেট ভাঙতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সহযোগিতা করতে
হবে। কারণ, দলগুলো যদি আগের সেই প্রাকটিসে ঢুকে যায়, তাহলে এতগুলো মানুষের জীবন দেওয়ার
কোনো দরকার ছিল না। এখন দলগুলোর মধ্যে একটা পজিটিভ বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। দলগুলো কর্মীদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আশা করি তৃণমূলেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তাহলে
স্থানীয় চাঁদাবাজি কমে আসবে। সরকারি পর্যায়েও এ বিষয়ে আমরা কঠোর হব। দুর্গাপূজা নিয়ে
একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, সেটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, সিন্ডিকেটের
বিরুদ্ধে ড্রাস্টিক অ্যাকশনে যাব। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় ইনভলব। বন্যার
কারণে শাকসবজির সরবরাহ কমেছে। পর পর দুটো বন্যা হয়ে গেছে। সেই বিষয়টি আমাদের মাথায়
রাখতে হবে। তবে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদেরকে হার্ডলাইনে যেতে হবে। যেসব করপোরেট প্রতিষ্ঠান
সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দাম বাড়াবে তাদেরকে অ্যারেস্ট করব।
মন্তব্য করুন


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রভাগে থাকা সাহসী যোদ্ধা ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শুক্রবার এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন নির্ভীক সম্মুখযোদ্ধা, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং দৃঢ়চেতা সংগঠক। অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান নিপীড়িত ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উৎস।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শরিফ ওসমান হাদি মানুষের হৃদয়ে সাহস, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের যে দীপ্তি জ্বালিয়েছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে তাঁর অবদান তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রাখবে।উপদেষ্টা বলেন, তাঁর অকাল প্রয়াণ জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর আদর্শ, সাহস ও দেশপ্রেম থেকে প্রেরণা লাভ করবে।উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি গত বৃহস্পতিবার রাতে আনুমানিক রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের
কালিয়াকৈরে সাফিয়াতুল উম্মাহ ক্যাডেট মডেল নামের একটি মাদরাসা থেকে পালাতে গিয়ে ছাদ
থেকে পড়ে আলিফ ইসলাম (১১) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার
(৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সফিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত
শিক্ষার্থী আলিফ ইসলাম উপজেলার মৌচাক রতনপুর কৌছাকুড়ি গ্রামের শহিদুল সাদানের ছেলে।
সে ওই মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
মাদরাসা
কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্র জানা যায়, নিহত আলিফ ইসলামের মা ওমান প্রবাসী। শিক্ষার্থীর
অভিভাবকরা তাকে মাদরাসায় ভর্তির পর থেকেই কয়েকবার পালাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মঙ্গলবার
রাতে শিশুটি বাড়িতে যেতে চাইলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমুর মাধ্যমে
শিক্ষার্থীর মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিলে সে শান্ত হয়। এক পর্যায়ে বুধবার সকালে সাড়ে
ছয়টার দিকে ওই শিক্ষার্থী সাত তলা ভবনের ছাদ থেকে পাইপ দিয়ে নেমে পালাতে গিয়ে পড়ে
যায়। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফজিলাতুনন্নেছা কেপিজে হাসাপাতালে
নেওয়া হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ
ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার নাছির উদ্দিন বলেন, শিশু শিক্ষার্থী
নিহতের বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকার যে ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে-বিচার ও সংস্কার দৃশ্যমান করার মধ্য দিয়ে তাদের
নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। এজন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন অন্তর্বর্তী সরকার
ততটুকু সময় পেতে পারে।
আজ
শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর
বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের বিরতিতে এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমন কথা বলেন।
আখতার
হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে বিচার ও সংস্কারের দৃশ্যমান রোডম্যাপ সরকারকে উপস্থাপন
করতে হবে। আমরা নির্বাচন প্রলম্বিত করার পক্ষে নয়, তবে তার আগে বিচার এবং সংস্কারকে
যেন অবশ্যই দৃশ্যমান করা হয়। সে ব্যাপারে আমরা জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আমরা
এখন পর্যন্ত সংবিধানের বিষয়ে আলোচনা করেছি। এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন,
জনপ্রশাসন, দুদক এবং পুলিশ সংস্কার কমিশনের মতো বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে পারিনি। তবে
পুলিশ সংস্কার কমিশিনের রিপোর্ট কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি সে বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন
করেছি। আমাদের মতামতগুলো জানাতে চেয়েছি।
বর্তমান সংবিধানের অধীনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত সম্ভব
নয় উল্লেখ সম্ভব নয় উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে একচ্ছত্র
ক্ষমতায়ন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সাংবিধানিকভাবেই স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ
তৈরি হয়েছে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলেছি এবং সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের কথা
আমরা বলেছি। কীভাবে নতুন একটি সংবিধান পুনর্লিখন করা যায়। গণপরিষদ নির্বাচনের বাস্তবতা
নিয়ে আমরা কথা বলেছি।
এনসিপি’র
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের ১৬৬টি বিষয়ের মধ্যে
১২৯টি বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। যেসব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি সেসব বিষয়ে আমাদের অবজারভেশন
রয়েছে। এসব বিষয়ে সংযোজন, বিয়োজনের নোট আমরা ঐকমত্য কমিশনে দিয়েছি। আমরা মূলত এখন পর্যন্ত
তিনটি বিষয়ে কথা বলেছি। প্রথমত, প্রটেকশন অব সিটিজেন (নাগরিকদের নিরাপত্তা)। আমরা দেখেছি,
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রে নাগরিকদের নিরঙ্কুশ অধিকার কখনো স্বীকৃত হয়নি। সেসব
বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কথা বলেছি।
দ্বিতীয়ত,
আমরা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে কথা বলেছি। আমরা প্রতিনিয়ত দেখেছি, যখনই ক্ষমতা
হস্তান্তরের একটি সময় এসেছে তখনই দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একটা সরকার
থেকে অন্য সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে হবে এই বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা
হচ্ছে।
তৃতীয়ত,
সংসদের স্থিতিশীলতার নামে আর্টিকেল ১৭ দিয়ে আমাদের কন্ঠ রোধ করে রাখা হয়েছে- এ বিষয়ে
কথা হয়েছে। আমাদের সংসদকে আরো বেশি কীভাবে কার্যকর করা যায় ওই বিষয়টি নিয়ে আমাদের কথা
হয়েছে।
উক্ত বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
এনসিপি’র
পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক
সরোয়ার তুষার, জ্যেষ্ট যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
মুখ্য সংগঠক (দাক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-৮
আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক
ও অপরিবর্তিত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
আজ
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে একটি সিটি স্ক্যান করার পর এক ব্রিফিংয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের নিউরোসার্জন ড. মো. আব্দুল আহাদ জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলির অনেক
অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে স্প্লিন্টারের কিছু অংশ মস্তিষ্কে থেকে গেছে। মস্তিষ্কে
অক্সিজেনের স্বল্পতা ছিল এবং সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে আছে।
তিনি
আরও বলেন, হাদির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। সকালে তার পুনরায় সিটি স্ক্যান করা হয়েছে।
এতে দেখা গেছে, মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। মস্তিষ্কের পাশাপাশি কিডনির কার্যক্ষমতাও
কাজ করছিল না, যদিও পরে কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে এসেছে। এ ছাড়া গুলি মস্তিষ্কের টেম্পোরাল
ব্যারিয়ার ভেদ হয়ে গেছে।
হাদিকে
এক্সপার্ট হাতে গুলি করা হয়েছে জানিয়ে আব্দুল আহাদ বলেন, খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা
হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে রক্তনালিগুলো রয়েছে, সেগুলোর পাশ দিয়েই গুলি
ভেদ করে গেছে। গুলির অনেকটাই সরিয়ে ফেলা গেছে। তবে অপারেশনের পরেও স্প্লিন্টারের কিছু
অংশ মস্তিষ্কে থেকে গেছে। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের স্বল্পতা ছিল এবং সেখানে রক্ত জমাট
বেঁধে আছে। লাইফ সাপোর্টে ফুসফুস অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, হাদি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। এ অবস্থায় পরিবার তাকে বিভিন্ন
জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। মেডিকেল বোর্ড যদি কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে বিদেশে
নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পরিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ইতোমধ্যে বিদেশে তার
চিকিৎসা সংক্রান্ত কেস সামারি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে
বিভিন্ন গ্রুপে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। তাদের
মুঠোফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ কারণে তাদের মধ্যে এই অনিরাপত্তা কাজ করছে।
গত
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে
শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ঘটনার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়। পরে রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল
বোর্ড বর্তমানে তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রেখেছে।
মন্তব্য করুন