

বিশ্বকাপের
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজের ১৯তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন স্পেনের
তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তবে তার কাছে জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার হবে ফ্রান্সকে
হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা।
সোমবার
সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামাল বলেন, ‘এখনো খুব বেশি উপহার পাইনি। সবচেয়ে বড় উপহার হবে মঙ্গলবার
জয় পাওয়া এবং নিউইয়র্কে ফাইনাল খেলতে যাওয়া।’
বেলজিয়ামের
বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ের পর ইয়ামাল বলেছিলেন, স্পেন নয়, বরং ফ্রান্সেরই
ভয় পাওয়া উচিত। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি জানান, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা
হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই কি না। আমি বলেছি,
না। আমরা ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন। এটি শুধু ফুটবল।’
জন্মদিন
উপলক্ষে নিজের জন্য মূল্যবান রত্নখচিত একটি মোটা গলার হার কিনেছেন বলেও জানান বার্সেলোনার
এই ফরোয়ার্ড।
চলতি
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একবার গোল করেছেন ইয়ামাল। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষেও গোল করার
চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি গোল নিয়েই ভাবি না। তবে এমন ম্যাচে
গোল করা সবসময়ই বিশেষ কিছু। আমি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি। এ কারণেই এখানে এসেছি।’
সেমিফাইনালকে
দর্শকদের জন্য ‘দারুণ একটি ম্যাচ’ আখ্যা দিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘এই ম্যাচের
জন্যই সবাই অপেক্ষা করছিল।’বড় ম্যাচের চাপ নিয়েও নির্ভার স্পেনের
এই তরুণ তারকা।
তার
ভাষায়, ‘জীবনে ফুটবল ম্যাচের চেয়েও কঠিন অনেক পরিস্থিতি আছে। তাই আমি শান্ত আছি।
অতিরিক্ত কোনো চাপ অনুভব করছি না। সব সময়ের মতোই মাঠে নেমে দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা
দেওয়ার চেষ্টা করব।’এদিকে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে
জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলার ধরনই
ধরে রাখতে চান তারা।
তিনি
বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই একে অপরকে চিনি। তাদের দলে যেমন অসাধারণ খেলোয়াড় আছে,
আমাদের দলেও আছে। নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের শক্তির মোকাবিলা করতে হবে।’
তিনি
আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে চাই।’
তবে ফ্রান্সকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী দল বলেও মনে করেন স্পেনের কোচ। দে লা ফুয়েন্তে
বলেন, ‘তারা এখন অনেক ভালো দল। গত দুই বছরে তাদের খেলোয়াড়রা আরও পরিণত হয়েছে এবং
আগের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলছে।’
মঙ্গলবার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনে অনুষ্ঠিত হবে স্পেন ও ফ্রান্সের বহুল
প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা বন্দুকের গুলিতে
কলেজছা্ত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ
দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপরতা শুরু করেছে।
নিহতরা
হলেন কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মো.
মোরছালিন (২০)। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মারা যাওয়া অপরজন
একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।
শুক্রবার
(০৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার
রাত সোয়া ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারত অংশে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কসবার প্রায় ১৫
বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত
পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে।
পরে
ভারত থেকে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের
টহল দল তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি
ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে
বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের
মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু
হয়। আহত অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা
যায়।
বিজিবি
জানায়, আহত দুজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে
বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক
বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে
কাজ করছেন। একইসঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া
চলমান রয়েছে।
বিজিবির
৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের
গুলিতে দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত
শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ
অব্যাহত রয়েছে।
কসবা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, নিহত মুরসালিন
কলেজছাত্র। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বিজিবি।
মন্তব্য করুন


সাতক্ষীরায়
পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চাচাতো দুই ভাই নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার
(২৬ মে) সকাল ৬টার দিকে খুলনা-পাইকগাছা সড়কের তেতুলিয়া জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা
ঘটে।
নিহতরা
হলেন- তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের নাসিম আলী ফকির (৩২) ও মেহেদী
হাসান ফকির (২৫)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
স্থানীয়রা
জানান, নিজেদের খামারের জন্য মাছ আনতে ভোরে মোটরসাইকেলে চুকনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন
নাসিম ও মেহেদী। পথে তেতুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের
সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোটরসাইকেলটি পিকআপের নিচে আটকে
গেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন চালক নাসিম আলী ফকির। গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদী হাসানকে উদ্ধার
করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
তালা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফেনীর বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করতে কাজ করছে । স্মরণকালের এই ভয়াবহ বন্যায় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হচ্ছে।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে আজ
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুটি নৌ কন্টিনজেন্ট যোগ দিয়েছে এবং আরো দুটি কন্টিনজেন্ট
ফেনীর উদ্দেশে গমন করবে।
উদ্ধারের পাশাপাশি অসহায়, গরিব ও
দুস্থ মানুষের মাঝে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, খাবার স্যালাইনসহ মানবিক সহায়তা প্রদান করা
হচ্ছে। সেই সঙ্গে পানিবন্দি মানুষের জন্য শুকনা খাবার ও রান্না করা খাবার সরবরাহ
করা হচ্ছে।
আইএসপিআর জানায়, নৌবাহিনীর ১৩ জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সামগ্রী,
বোট, লাইফ জ্যাকেট, ডুবুরিসহ প্রায় দুই শতাধিক নৌ সদস্য উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
করছেন।
এ ছাড়া প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী বোঝাই ট্রাক
ফেনীর উদ্দেশে রওনা করেছে।
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নৌবাহিনীর এই উদ্ধার
কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা ও ত্রাণ সহায়তা চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে
আগামী কয়েক দিন বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে একই সময়ে দেশের অন্তত ১৩ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত
থাকতে পারে।
বুধবার
(১৭ জুন) আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আগামী
২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং
রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও
বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি
থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা
প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এ
সময় মানিকগঞ্জ, নীলফামারী, রাজশাহীসহ খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে
যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
পরবর্তী
কয়েক দিনের পূর্বাভাস, দেশের বেশিরভাগ বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের
সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে
পারে, তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত।
একই
ধরনের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে, কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। দেশের অনেক স্থানে
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকবে।
আবহাওয়া
অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


শহুরে
ব্যস্ত জীবনে এখন সম্পর্কের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে কর্মক্ষেত্র। সকালের তাড়াহুড়া, একসঙ্গে
ডেডলাইন সামলানো, সাফল্যের মুহূর্ত ভাগ করে নেয়া, খারাপ দিনে পাশে থাকা, দুপুরের ছোট্ট
কফি বিরতি কিংবা দিনের শেষে ক্লান্ত মুখে ‘আজ অনেক চাপ গেল’,
এভাবেই অজান্তে কাছাকাছি চলে আসেন অনেক সহকর্মী।
একই
অফিসে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে কাটাতে কখন যে পেশাদার কথাবার্তার ভেতর একটু
আলাদা যত্ন, অপেক্ষা কিংবা ভালো লাগা জন্ম নেয়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না শুরুতে। এসব
থেকেই অনেক সময় তৈরি হয় নির্ভরতা এবং প্রেম। এখন কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক বা ‘ওয়ার্কপ্লেস
রোমান্স’ আগের চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ হয়ে উঠছে।
তবে
অফিসের সম্পর্ক শুধু সিনেমার মতো রোমান্টিক গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পেশাদারিত্ব,
ব্যক্তিগত সীমারেখা, সহকর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্মপরিবেশের ভারসাম্যও।
সাম্প্রতিক
‘ওয়ার্কপ্লেস রোমান্স স্ট্যাটিস্টিকস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন বলছে, ৬০ শতাংশেরও
বেশি কর্মজীবী মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
এর মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ সম্পর্ক পরিণয়ে গড়িয়েছে। অর্থাৎ, অফিসে শুরু হওয়া সম্পর্কের
অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ
করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, এর বড় কারণ হলো সময়ের পরিবর্তন। এখন মানুষের জীবনের বড় একটা অংশ কাটে কর্মস্থলে।
সকালে বের হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসেই সময় যায়। ফলে বাইরের সামাজিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে।
নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও আগের মতো নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই সহকর্মীদের
মধ্যেই তৈরি হচ্ছে কাছাকাছি আসার সুযোগ।
ফোর্বসের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক তৈরির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ’।
প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সহকর্মীর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে একটা বিশ্বাস
ও মানসিক নিরাপত্তা তৈরি হয়। এছাড়া ৬১ শতাংশ জানিয়েছেন, কাজের বাইরে নতুন মানুষের সঙ্গে
পরিচিত হওয়ার সময় না থাকাও একটি বড় কারণ। তবে অফিসের সম্পর্ক সবসময় সহজ বা সুন্দর অভিজ্ঞতা
হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা ধরনের জটিলতাও।
সমীক্ষায়
দেখা গেছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী মনে করেন, অফিসের সম্পর্ক তাদের কাজের পারফরম্যান্সে
প্রভাব ফেলেছে। কেউ কেউ কাজের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়েছেন, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত
টানাপোড়েন কাজের পরিবেশকেও অস্বস্তিকর করে তুলেছে।
এছাড়া
৫২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সম্পর্কের কারণে সহকর্মীদের আচরণ বদলে গেছে। অফিসে গুজব,
ঈর্ষা বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও বেড়েছে অনেক ক্ষেত্রে। প্রায় অর্ধেক কর্মী বলেছেন,
সহকর্মীদের মধ্যে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বা কানাঘুষা চলেছে।
আরও
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, প্রায় ৩৫ শতাংশ কর্মী তাদের সম্পর্কের বিষয়টি অফিস কর্তৃপক্ষকে
জানান না। কারণ হিসেবে তারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অস্বস্তি কিংবা চাকরিগত ঝুঁকির কথা
উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানুষ যেখানে বেশি সময় কাটায়,
সেখানেই আবেগ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সম্পর্কের কারণে যেন কর্মপরিবেশ, পেশাদারিত্ব
বা অন্য সহকর্মীদের স্বস্তি নষ্ট না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ
অফিসের সম্পর্ক শুধু দুজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় হয় না, অনেক সময় সেটি পুরো কর্মপরিবেশের
ওপরও প্রভাব ফেলে।
এ
ব্যাপারে সাদমিনা নামের এক তরুণী বলেন, ‘অফিসে একজনকে ভালো লাগে। একসঙ্গে কাজ করতে
করতে কখন যে তার প্রেমে পড়ে গেলাম টেরই পেলাম না। আমরা একসঙ্গে লাঞ্চে যাই, চা খেতে
যাই, কাজের বাইরেও অনেক গল্প হয়। তবে ভালোলাগার কথাগুলো এখনও আদান-প্রদান হয়নি।’
এদিকে
সহকর্মীকে বিয়ে করা শাহরিয়ার নীরব নামের এক যুবক বলেন, ‘আমরা একই অফিসে চাকরি করি।
৫ বছর আগে যখন আমাদের প্রেম হয় তখন আশেপাশের সহকর্মীরা আমাদের দেখে হাসতো, মজা নিতো।
ব্যাপারটা আমরাও বেশ উপভোগ করতাম।’
নীরব
হেসে হেসে আরও বলেন, ‘আমরা যখন প্রেম করতাম তখন অফিসের কাজের চাপ থাকলেও চাপ মনে হতো
না। প্রেয়সীর চোখের দিকে তাকালেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যেত, অফিস ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও
টের পেতাম না।’
সহকর্মীর
সঙ্গে সংসার কেমন কাটছে এমন প্রশ্নের জবাবে নীরব বলেন, ‘আমরা ভালো আছি। সংসার জীবনের
এত বছরেও প্রেমের প্রথম দিনের মতোই মনে হয় এখনও। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা এখনও
সহকর্মী।’
মন্তব্য করুন


এখন থেকে পাসপোর্ট পেতে আর পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হবে না। জাতীয় পরিচয় পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো এ সংক্রান্ত নির্দেশনার সারসংক্ষেপ এ বলা হয়, পুলিশ ভেরিফিকেশন যথাসময়ে না পাবার কারণে বা পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় অনাবশ্যক কাগজপত্র যাচাইয়ের কারণে আবেদনকারীরা প্রায়শই ভোগান্তিতে পরার অভিযোগ পাওয়া যায়।
মূলত পাসপোর্টের আবেদনকারীর ভোগান্তি হ্রাস এবং যথাসময়ে পাসপোর্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেয়ার জন্য অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এ অনুশাসন দিয়েছেন।
এতে আরও বলা হয়, নতুন পাসপোর্ট এর আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইনে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য যাচাই করে আবেদনকারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে।
এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য পাসপোর্টের নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্যে যাচাই করে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে।
মন্তব্য করুন


ফুটবল
বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াইয়ে এই
দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মাঝে টানটান উত্তেজনা।
চলমান
টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার এই দুই জায়ান্ট। আর
তাতেই ফুটবলবিশ্বে নতুন করে রোমাঞ্চের হাওয়া বইতে শুরু করেছে—
আবারও কি দেখা হচ্ছে এই দুই চিরশত্রুর?
চলমান
আসরে আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপ এবং ব্রাজিল ‘সি’
গ্রুপ থেকে রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট কেটেছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নকআউটের এই
ধাপ পার হতে পারলে দলগুলোকে খেলতে হবে শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের বৈতরণী।
তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর খবর হলো, ফাইনালের আগেই মাঠে গড়াতে পারে ‘সুপার
ক্লাসিকো’।
অবশ্য
হাইভোল্টেজ এই মহারথ দেখতে হলে দুই দলকেই পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা
যদি নিজ নিজ গ্রুপ থেকে রাউন্ড অব ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা সফলভাবে
টপকাতে পারে, তবে সেমিফাইনালেই একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান
চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই নকআউট নিশ্চিত করেছে।
তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ মেলাতে আলবিসেলেস্তেদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে জর্ডানের
বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত।
মেসিরা
যদি গ্রুপসেরা হতে পারে, তবে রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এইচ’
গ্রুপের রানার্সআপ দল।
অন্যদিকে,
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপপর্বের শুরুটা করেছিল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের
ড্র দিয়ে। তবে পরের দুই ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফেরে সেলেসাওরা। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে
উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউটে পা রেখেছে তারা। রাউন্ড অব ৩২-এ ব্রাজিলের
প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ (নেদারল্যান্ডস,
সুইডেন কিংবা জাপানের মধ্যে যেকোনো একটি দল)।
পরিসংখ্যানের
পাতায় দুই দলের লড়াই সবসময়ই সেয়ানে সেয়ানে। এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল ১০৬টি ম্যাচে মুখোমুখি
হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার জয় ৪১টি ম্যাচে, আর ব্রাজিল জিতেছে
৩৯টিতে। বাকি ২৬টি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে। এবার সেমিফাইনালে দুই পরাশক্তির দেখা
হলে সেই লড়াই যে আরও জমজমাট হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মন্তব্য করুন


গত
২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে
হাম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৬৫ জন।
বুধবার
(৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর সূত্রে , হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৬০১ শিশুর মৃত্যু
হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে
মারা গেছে ৫১১ জন।
একই
সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৯ হাজার ১৯১ জন। আর হামের
উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে
সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৬৪ জন ও আক্রান্ত ৪১ হাজার
৪৪৯ জন।
এই
হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ৩ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে গুরুতর আহতদের
খোঁজ নিতে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আগারগাঁওয়ের
হাসপাতালটিতে পরিদর্শনে যান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
জুলাই-আগস্টে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গুরুতর
আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৮ শিক্ষার্থীসহ
গুরুতর আহত কমপক্ষে ১১ জন হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ সময় হাসপাতালের পরিচালক কাজী দীন
মোহাম্মদ বলেন, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ৪ শিক্ষার্থীর
অবস্থা প্রধান উপদেষ্টা দেখেছেন। চারজনেরই মাথায় গুলি লেগেছে। তাদের অবস্থার উন্নতি
হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বরিশালে
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ( ২৬মে ) গৌরনদী উপজেলার
বাটাজোর নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন—উজিরপুর উপজেলার
ফিরোজ মাহমুদ (৩৬), তার স্ত্রী মনিরা বেগম (২৬) ও তাদের কন্যাসন্তান জান্নাত
(৪)।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন। তারা বরিশাল থেকে মোটরসাইকেলযোগে
গৌরনদী যাচ্ছিলেন। বাটাজোর এলাকায় পৌঁছালে বরিশালগামী তাজ আনন্দ পরিবহনের ধাক্কায়
তারা ঘটনাস্থলে নিহত হন।
ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী থানার ওসি মো. তারিখ হাসান রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা
তাজ আনন্দ পরিবহনটি আটক করেছি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’
মন্তব্য করুন