

মানিকগঞ্জে টনসিলের
অপারেশন করতে এসে চিকিৎসকের অবহেলায় জেসমিন আক্তার (৩৭) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
পাওয়া উঠেছে। মানিকগঞ্জের বেসরকারি ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
এই অভিযোগ উঠেছে।
জেসমিন আক্তার জেলার
দৌলতপুর উপজেলার উলাইল এলাকার মো. রেজাউল করিমের স্ত্রী। তাঁর ৭ মাস বয়সী একটি কন্যা
সন্তান ও ১০ বছর বয়সী একটি পুত্র্ সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার
ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে
টনসিল অপারেশনের জন্য জেসমিন আক্তারকে নেওয়া হয়। এরপর বিকেলে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক
জিয়াউল হক এবং ডা. এনামুল হকের তত্ত্বাবধায়নে অপারেশন রুমে নেওয়া হয়। এরপর টনসিল অপারেশনের
জন্য অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। একপর্যায়ে রোগীকে
আইসিইউ সেবা দেওয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেয় হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ।
সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স
করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক
জেসমিন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সেখান থেকে পুনরায় মরদেহ নিয়ে ইউনাইটেড জেনারেল
হাসপাতালে নেয় ভুক্তভোগী পরিবার। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের
ঘণ্টাব্যাপী বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে
পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগী জেসমিন
আক্তারের বড় ভাই আতাউর রহমান বলেন, অপারেশন রুমে আমার বোনের জ্ঞান ফিরছে না, এই খবর
কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়ার পর আমরা তাদের পরামর্শে বোনকে অচেতন অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যাই।
সেখানকার ডাক্তার আমার বোনকে মৃত ঘোষণা করেন। অ্যানেস্তেশিয়া ডাক্তারের অবহেলায় আমার
বোনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার
করে হাসপাতালের ম্যানেজার আবু রায়হান আল বেরুনী ওরফে রাজা বলেন, যে কোনো রোগীর টনসিল
অপারেশন করতে গেলে তাকে পুরোপুরি অজ্ঞান করে নিতে হয়। অপারেশন করার আগে রোগী যেসব পরীক্ষানিরীক্ষা
করা দরকার সবগুলো করা হয়েছে এবং সেগুলোর রিপোর্ট ভালো ছিল। তবে জেসমিন আক্তারের ক্ষেত্রে
হিডেন কোনো সমস্যা থাকতে পারে। এছাড়া যে অ্যানেস্তেশিয়া এবং অপারেশন করেছেন তারা খুবই
অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ওনাদের দিক থেকে কোনো অবহেলা নাই। রোগীকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা
হয়। কিন্তু জ্ঞান না ফেরার কারণে রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর কথা বলা হয়। কিন্তু
ওনারা ঢাকা মেডিকেলে না গিয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। এখানে আমাদের হাসপাতালের দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসকের
অবহেলা নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদর হাসপাতালের অ্যানেস্তেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।
আরেক চিকিৎসক ডা. এনামুল হক বলেন, ‘আমার অপারেশনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা অবহেলা নেই। অপারেশনের পর কেন রোগীর জ্ঞান ফিরলো না, সে বিষয়ে যিনি অ্যানেস্তেশিয়া করেছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


উপদেষ্টা
পরিষদে গণভোট অধ্যাদেশ আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর ) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই আদেশ অনুমোদিত
হয়।
এর
আগে, গত ২০ নভেম্বর
বৈঠকে গণভোট আইন অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এই
গণভোট আয়োজনে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
ওই
সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় কয়েক কার্যদিবসের
মধ্যেই গণভোট অধ্যাদেশ আকারে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এ নিয়েই আজ
অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক ।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের
শ্রীপুরে মাকে মারধর করায় মাদকাসক্ত ছেলেকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে শাস্তি দিয়েছেন
এলাকাবাসী। অভিযুক্ত যুবক খলিল (৩০) শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামের নুর উদ্দিনের
ছেলে।
আজ
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন টেপিরবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খলিল এক এলাকায় মুদির
ব্যবসা পরিচালনা করতো। হঠাৎ ব্যবসা বন্ধ করে দেয় খলিল। অভাবের সংসারে স্ত্রীও খলিলকে
ছেড়ে চলে যায়, এতে সে হতাশাগ্রস্ত হয়ে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। নেশার টাকার জন্য
প্রায়ই বাড়িতে উৎপাত করতো খলিল। শনিবার সকালে মায়ের কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন।
এ সময় মা খোদেজা বেগম তা দিতে অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে উদ্দেশ্যে করে ইট ছুঁড়ে
মারেন। ছোঁড়া ইটে আহত হলে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে বাড়ির পাশে খুঁটির সঙ্গে
বেঁধে রাখেন। মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হলে খলিল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যান। পরে স্থানীয়রা
খলিলকে ছাতিরবাজার-টেপিরবাড়ি সড়কের পাশে মাটি খুঁড়ে কোমর পর্যন্ত পুঁতে রাখেন। এঘটনায়
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীয় খলিলের বিচার দাবি করেছেন।
শ্রীপুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। মাদকাসক্ত
ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের পরিচয় দিয়ে গ্রেফতার করতে হবে, পরিচয় না দিয়ে কোনো অবস্থাতেই
কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।
রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত
করা হয়।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর)
থেকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।
এর আগে পুলিশ সদর দফতর থেকে কোনো ব্যক্তির
কাছে এ ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষিত থাকলে মঙ্গলবারের মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা
দিতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আগেই
ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের
খবরে দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। থানায় সংরক্ষিত বিপুল
পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর
অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ। তবে সে সংখ্যাটা
খুবই নগণ্য। বহু অস্ত্র বাইরে রয়ে গেছে। সেসব অস্ত্র এবং আগে থেকে অনেকের কাছে থাকা
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে
লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার কার্যক্রমসহ নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখা
হবে বলে এরই মধ্যে একাধিকবার জানিয়ে আসছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজুর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নওগাঁ-৬ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং নওগাঁর সিভিল জজ আদালতের (ধামইরহাট) বিচারক সাথি ইসলাম এ নোটিশ জারি করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির কাছে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও সিএনজি অটোরিকশার পেছনে স্টিকার ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ অবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না অথবা কেন অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নওগাঁর সিভিল জজ আদালতের বিচারক সাথি ইসলামের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, ‘নোটিশের বিষয়টি শুনেছি। আমরা নির্বাচনের কোনো পোস্টার লাগাইনি। সিএনজির পেছনে যেগুলো রয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের অনেক আগের। সেগুলোতেও নির্দিষ্ট করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কোনো আহ্বান নেই। আগামী ১৫ জানুয়ারি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে আমার ব্যাখ্যা প্রদান করবো।’
মন্তব্য করুন


গণভোটে 'হ্যাঁ'র প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা কোনো দলকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দেয়ার এজেন্ডা নয়; এটি রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা, যা বাংলাদেশের সকল মানুষের। এই গণভোট হলো জনগণের সম্মতি নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া: যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসন।
ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম ওঢাকা রেন্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় ‘একবাক্যে’ মত পেয়েছি-গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল–জুলুম–নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন-তারাই আমাদের দুইটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর এই দেশ কেমনভাবে চলবে, আজ আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা এবং দুর্বার গতিতে সাফল্য ও সমৃদ্ধির এগিয়ে যাবার আয়োজন করা।
আলী রীয়াজ বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন; তারা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার কর্তব্য এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। সেই দায়িত্বের আলোকে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিও নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী করার জন্য জাতীয় সংসদের একটা কমিটি করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ থেকে ২৬টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনী ছেলে খেলায় পরিণত যাতে আর না থাকে সেটা বন্ধ করা দরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই। সেটি হলো—আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?
তিনি বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরী করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে অ্যাবিউজ করেছে নিজেদের হীন স্বার্থে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
সভায় ঢাকা বিভাগের জেলা সমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা–৪
আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)
দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছেন। ১৭ জানুয়ারি আপিলে তাঁর
মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি।
হাইকোর্টের
সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার ( ১৯ জানুয়ারি ) রিটটি
দায়ের করা হয়। আগামীকাল এর ওপর শুনানি হতে পারে।
মঞ্জুরুল
আহসান মুন্সীর অন্যতম আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ প্রথম আলোকে বলেন, ইসির ১৭ জানুয়ারির
সিদ্ধান্ত স্থগিত চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।
এর
আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ
ঘোষণা করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন
এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ
করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
আগারগাঁওয়ে
নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানি শেষে ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে
ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়।
রিট
আবেদনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার
দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল চাওয়া হয়েছে বলে আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট অপর এক আইনজীবী জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই
সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার
(১৪ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব
পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি একথা বলেন।
এসময়
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবরের বন্যা ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি
ছড়ানো হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিতে
অটল।
অন্তর্বর্তী
সরকার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর
করবে।
‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত
১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়,’ বলেন
প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।
নির্বাচনের
সময় অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ
নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে প্রধান উপদেষ্টা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের
সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ
মর্স ট্যান নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সফর করছেন।
প্রায়
এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও সফররত কূটনীতিকরা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান
ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে
লক্ষ্য করে ছড়ানো ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনে’র সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
জনগণের
সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের
কোনো সুযোগ রাখবে না।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির
উদ্দেশ্যে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন সচেতন। ক্রমেই তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।
সাবেক
আন্ডার সেক্রেটারি গোম্বিস একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ‘প্রধান
শত্রুদের একটি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো
প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে।
দুই
কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য
প্রশংসা করেন।
তারা
জানতে চান, বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন
উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার একজন বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ
অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছিলেন। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী
তাদের অপরাধ অস্বীকার করে যাওয়ায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সে ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণের
সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
তিনি
বলেন, ‘সময় এখনো উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই
সম্ভব, যখন কেউ স্বীকার করে যে সে ভুল করেছে, নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়, অনুশোচনা
প্রকাশ করে।’
‘কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো অনুশোচনা
নেই, কোনো অনুতাপ নেই। বরং তারা দাবি করছে যে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা সন্ত্রাসীদের
হাতে নিহত হয়েছে। তাদের অপরাধের বিপুল পরিমাণে প্রমাণ রয়েছে। তারা যা করেছে তা সম্পূর্ণ
বর্বরোচিত অপরাধ, তবু তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানেই রয়েছে।’
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও আতশবাজিসহ একটি মিনি পিকআপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার যশপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিয়মিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাত ও রোববার সকালে দুটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এক পর্যায়ে যশপুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের প্রায় ২৫০ গজ ভেতরে মুড়াপাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মিনি পিকআপ জব্দ করে। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া একই সীমান্ত এলাকার পাহাড়পুর নামক স্থানে সীমান্তের প্রায় ১০০ গজ ভেতরে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে বড় ধরনের ভারতীয় আতশবাজির চালান জব্দ করা হয়।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত মিনি পিকআপসহ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও আতশবাজির আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানায়, জব্দকৃত মালামাল প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবির অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ৬ হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদনের শুনানির জন্য ২ মার্চ দিন ধার্য করেন আদালত।
সোমবার (৩ মার্চ) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুপারিশপ্রাপ্ত এ শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে মেধার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
গত
বছরের ৩১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও
চট্টগ্রাম বিভাগের (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ
হন ৬ হাজার ৫৩১ জন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লালদীঘি এলাকার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকা থেকে এক পলাতক আসামিকে আটক করে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।র্যাব সূত্র জানায়, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার আসামি গণেশ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।মামলার নথি ও র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।ঘটনার পর নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রাথমিক এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।তদন্তের একপর্যায়ে এজাহারভুক্ত গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।চট্টগ্রাম র্যাবের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন