

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আসিফ মাহমুদ। বৃহস্পতিবার বিদায়ী ক্যাবিনেট বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন।পোস্টে তিনি লিখেছেন, গত ষোলো মাস তাকে নানাভাবে শেখার সুযোগ করে দিয়েছে। নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন তিনি। বাধা, হুমকি কিংবা চাপ—সবকিছু উপেক্ষা করে কাজে অবিচল থাকার কথাও উল্লেখ করেন।তিনি আরও জানান, আল্লাহর রহমত ও মানুষের সমর্থনে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনায় অটল থাকার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন উদ্যোগ, কাজ এবং সিদ্ধান্তে প্রশংসা যেমন এসেছে, সমালোচনাও ছিল। তবে মানুষের চোখে যে চূড়ান্ত ফলাফল দেখা যায়, তার পেছনের পরিশ্রম ছিল অনেক বেশি কঠিন—এ কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তার ভাষায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর নীতিতে স্থির থাকার কারণে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরূপতার মুখে পড়তে হয়েছে, ভবিষ্যতেও এর মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবুও মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা তাকে শক্তি জোগায়, আর সেই কারণেই এসব ভয় তাকে আর দমাতে পারে না।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের ১০৪টি দেশে ৭ লাখ ২৮ হাজার
২৩ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
প্রবাসী
ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’
(ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে এ তথ্য জানান।
তিনি
বলেন, নিবন্ধিত বাকি প্রবাসীদের কাছেও দ্রুততম সময়ে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হবে।
তবে ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট ভোটারের দায়িত্ব। কেউ যদি গোপনীয়তা ভঙ্গ
করেন, তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হতে পারে।
ইসি
কর্মকর্তারা জানান, সর্বোচ্চ ব্যালট পাঠানো হয়েছে সৌদি আরবে ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৩ জন
প্রবাসীর কাছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৩ হাজার ৮২৭ জন এবং কাতারে ৭৪ হাজার প্রবাসীর কাছে
ব্যালট পৌঁছেছে।
নির্বাচন
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে (ইন-কান্ট্রি)
৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন এবং প্রবাস থেকে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন নিবন্ধন করেছেন ।
ইসি
সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫০ হাজার ৭৯০ জন
প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবে ১৭ হাজার, মালয়েশিয়ায় ১১ হাজার
৭৫০, ওমানে ১০ হাজার ২০০ জন প্রবাসী ব্যালট পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন


মহান
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি
গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম।
আজ
শনিবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি ) অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে
পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি এই শ্রদ্ধা জানান।
এ
সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কেটে গেছে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ। সারা দেশে বাড়বে রাতের তাপমাত্রা।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া অফিস এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক থাকতে পারে সারা দেশের আবহাওয়া। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা এবং সিলেট বিভাগে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজনে রাজধানীর কাকরাইলে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশে বিলুপ্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে গত ৭ নভেম্বরই মুক্তির সূচনা হয়েছিল।
সালাহউদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রের পুনর্বাসন চায় না। তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কোনো কাজ করেনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি সবসময় মিথ্যার রাজনীতি। জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে আমরা এতদিন প্রশ্ন তুলিনি। ভারতে বসে আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের লকডাউন কর্মসূচি দেয়া পাগলের প্রলাপ, শক্তি থাকলে তাদের ভারতে পালাতে হতো না।
তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ করে আমেরিকায় গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন সহ-সভাপতি। গণভোটের মধ্যদিয়ে সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যাবে না, তবে মানুষের চাওয়া রক্ষায় সায় দিয়েছে বিএনপি। ঘি দিয়ে তৈলাক্ত বক্তব্য সমীচীন নয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা খেতে না পারলে, বারা ভাতে ছাই দেবেন তা মেনে নেবে না জনগণ। জামায়াতের আনুকূল্যে রায় দিয়েছে কমিশন, অথচ রেফারি হয়ে হাতে গোল দেয়ার চেষ্টা করছে তারা। সরকারের সীমারেখা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পর্যন্ত। তাদের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় প্রস্তুত বিএনপি, তবে কোনো রাজনৈতিক দলকে রেফারির দায়িত্ব দেয়া যাবে না।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন
খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও প্রেসিডেন্ট
গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ভিভিআইপি
প্রটোকলের অংশ হিসেবে , আজ (০২ নভেম্বর ) মঙ্গলবার দুপুর থেকে তারা দায়িত্ব পালন শুরু
করেছেন।
হাসপাতাল ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে এসএসএফের ৭ জন কর্মকর্তা নিরাপত্তার দায়িত্ব বুঝে নেন।
এ সময় তাদের সঙ্গে পিজিআরের ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল ইমতিয়াজ ও মেজর আহনাফ উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পিজিআরের সদস্যরা হাসপাতালের গাড়ি পার্কিং এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।
এ ছাড়া ইউনিটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হাসপাতালের ৪ র্থ তলায় খালেদা জিয়ার কেবিনের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।
হাসপাতালে মোট কতজন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বা কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেমন হবে,
সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয়
সনদের বিষয়ে গণভোটের বিষয়ে সারাদেশে প্রচারণার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে দশটি
ভোটের গাড়ি— সুপার ক্যারাভান।
আজ সোমবার
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ
প্লাজায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা
শুরু করেছে সুপার ক্যারাভান।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে
ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করেন তথ্য ও
সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ
এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়
অতিক্রম করছে। সামনে আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর
গণভোট।
তিনি বলেন, এই লক্ষ্যকে সামনে
রেখে যাত্রা শুরু করেছে ১০টি
ভোটের গাড়ি—সুপার ক্যারাভান।
এসব গাড়ি দেশের ৬৪টি
জেলা ও ৩০০টি উপজেলায়
ঘুরে বেড়াবে। তারা মানুষের দুয়ারে
দুয়ারে গিয়ে নির্বাচন ও
গণভোট সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেবে,
ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবে এবং
গণতন্ত্রের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভোটাধিকার কারো দয়া নয়—এটি আমাদের সাংবিধানিক
অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের
মাধ্যমেই আমরা ঠিক করি,
আমাদের ভবিষ্যৎ কোনপথে যাবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠ
ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের
দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের
প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”
তিন বলেন, “আমি বিশেষভাবে অনুরোধ
জানাচ্ছি তরুণ সমাজ, নারী
ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের
প্রতি—আপনারা এগিয়ে আসুন। প্রশ্ন করুন, জানুন, বুঝুন এবং ভোট দিন।
আপনার সিদ্ধান্তই গড়ে উঠবে আগামী
দিনের বাংলাদেশ—নতুন বাংলাদেশ।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আমরা এমন একটি
নির্বাচন চাই, যেখানে থাকবে
না ভয়, থাকবে না
বাধা—থাকবে কেবল জনগণের মুক্তও
নির্ভীক মতপ্রকাশ। সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিতকরতে
তিনি বলেন, “আপনি দেশের মালিক।
এদেশ আগামী পাঁচ বছর আপনার
পক্ষে কে চালাবে সেটা
আপনি ঠিক করে দিবেন।
আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। সৎ
ও সমর্থ প্রার্থী বেছে ভোট দিন।
চিন্তা ভাবনা করে ভোটদিন।”
তিনি বলেন, "এবারের নির্বাচনে আপনি আরো একটি
ভোট দিবেন। জুলাই সনদে ভোট দিবেন।
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে
সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দিনের
পর দিন বৈঠককরে এই
সনদ তৈরি হয়েছে। এই
সনদ দেশের মানুষ পছন্দ করলে দেশ আগামী
বহুবছরের জন্য নিরাপদে চলবে
বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
আপনি যদি এই সনদ
সমর্থন করেন তবে গণভোটে
অবশ্যই হ্যাঁ ভোট দিন।"
তিনি বলেন, “চলুন, আমরা সবাই মিলে
এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করি। চলুন,
ভোট দিই—নিজের জন্য,
দেশের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, নতুন পৃথিবীর জন্য।”
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা
বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে। সম্ভাব্য চুক্তিতে
মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা ও জ্বালানি
খাতে আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
আজ
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
তিনি
বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে
আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।
প্রসঙ্গত,
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’
ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে
তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য
দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে
হয়।
শুল্ক
কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন,
বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক
দেশে বেশি আছে। তবে, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে।
তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারব না; এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক
কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে
জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো
চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত
হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি
ভারত ইইউ-এর সঙ্গে একটি এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছে—
এটি নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখানে উদ্বেগের কিছু নেই।
আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম
রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ
রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত বেসিক
টেক্সটাইলে বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্ববাজারে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমরা কাঁচামালও
তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) অবস্থায়
আছে। তাদের উপকরণ উৎপাদন এবং নিজস্ব তুলাও আছে। ফলে ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং
পরিপূরক।
এলডিসি
থেকে উত্তরণের পর অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর পাশাপাশি নতুন শুল্ক যুক্ত হবে—সেক্ষেত্রে
এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন কিছু ভাবছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হ্যাঁ, আমরা
অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএ-র নেগোসিয়েশন শেষ করেছি।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি
বলেন, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা
করছি এই বছরের মধ্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে
আমরা এফটিএ-র প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব বাজারে আমরা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার
পাই, সবগুলোর কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। রমজানের
প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, রমজানের বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজানভিত্তিক
নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।
যুক্তরাষ্ট্র
থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিমান ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায়
আছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সাথে এই চুক্তির আগেও পরিকল্পনা ছিল। শুধু
বোয়িং নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা ছিল। সেটি এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে।
আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে যতদূর জানি, তাদের সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। বোয়িং
কতগুলো এবং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, দাম কী হবে এবং বিমানের ভেতরের কনফিগারেশন কেমন
হবে— এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।
এখানে
যুদ্ধবিমানও আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান
এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যু কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।
গত
ছয় মাসে রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে
পরিকল্পনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা পর্যালোচনা করেছি। বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ
ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই, সেই হিসেবে আমাদের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে,
আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ নয়, বরং ১.৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্লোবাল অ্যাভারেজের
চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।
যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তিতে থাকবে কি না—
জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন
বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে
শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা রপ্তানি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ
টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র
থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার এখনো
যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমাতে আগামী এক থেকে
দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, যাতে খরচ
হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে
গম আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি
তেল, ভোজ্যতেল ও তুলার আমদানি বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।
মন্তব্য করুন


মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সেনাবাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই ধারা অনুযায়ী সরকারকে মেট্রোপলিটনের বাইরে যে কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ক্ষেত্রে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা না গেলেও অন্যদের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে আইনে শর্ত আরোপ করা হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭(১) ধারা অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা (সেনা কর্মকর্তা) সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।
গ্রেফতার, তল্লাশি ও বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গের ক্ষমতা: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এসব ধারা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা কাউকে আটক বা গ্রেফতার বা গ্রেফতারের আদেশ, তল্লাশির আদেশ ও বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গের জন্য আদেশ দিতে পারবেন।
গ্রেফতার বা গ্রেফতারের আদেশ: ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪ ও ৬৫ ধারায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে ও এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে কোনো অপরাধ করলে তিনি নিজে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারবেন অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারবেন। এছাড়া ৮৩ ও ৮৪ ধারা অনুযায়ী অধিক্ষেত্রের বাহিরে কার্যকরের জন্য পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। আইনের ৮৬ ধারার বিধান মতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিতে পারবেন অথবা অপরাধ জামিনযোগ্য না হলে তাকে আদালতে পাঠাবেন।
তল্লশি সংক্রান্ত আদেশ: ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৯৫(২) ধারার বিধানমতে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে ডাক বা টেলিগ্রাম বিভাগের দ্বারা তল্লাশি পরিচালনা করবার ও উক্ত দলিল, পার্সেল বা ব্যক্তি আটক করার ব্যবস্থা করতে পারবেন। ১০০ ধারার বিধানমতে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করার বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পেলে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। ১০৫ ধারার বিধানমতে নিজ উপস্থিতিতেও ম্যাজিস্ট্রেট তল্লাশির আদেশ দিতে পারবেন।
শান্তিরক্ষায় মুচলেকা গ্রহণ: শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী শান্তি শান্তিরক্ষায় সদাচরণের মুচলেকা গ্রহণ করতে পারবেন। ১০৯ ধারার বিধানমতে অধিক্ষেত্রের মধ্যে ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নিতে পারবেন। ১১০ ও ১২৬ ধারা অনুযায়ী অভ্যাসগত অপরাধীর কাছ থেকে জামিনদারসহ বা জামিনদার ছাড়াও শান্তিরক্ষায় মুচলেকা নিতে এবং প্রয়োজনে মুচলেকা বাতিল করতে পারবেন।
বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গের আদেশ দান: ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ ধারা অনুযায়ী সর্বসাধারণের শান্তি বিনষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে এই ধরনের পাঁচ বা তারবেশি ব্যক্তির সমাবেশ ছত্রভঙ্গের আদেশ দিতে পারেন। আদেশ অমান্য করলে ১২৮ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ভঙ্গে বল প্রয়োগের আদেশ দিতে পারেন। ১৩০ ধারার বিধান অনুযায়ী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে প্রয়োজনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পারবেন।
এছাড়াও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট পথ, নদী, খাল বা প্রকাশ্য স্থানে বেআইনি বাঁধা অপসারণ, ব্যবসা বা সংরক্ষিত এলাকায় মানুষের আরাম আয়েশের বিঘ্ন ঘটানো, গৃহ বা তাবু হতে ক্ষতিকর বস্তু বা বৃক্ষ অপসারণ, জলাশয় ঘেরাও, বিপজ্জনক প্রাণী ধ্বংস বা আটক ইত্যাদি আদেশ দিতে পারেন। কোনো ব্যক্তি ১৪২ ধারার বিধান মতে ক্ষতি এড়াতে কোনো ব্যক্তির উপর নির্দিষ্ট স্থানে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আপনারা সবাই আমার মা’র
জন্য দোয়া করবেন।
তারেক
রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ এক পোস্টে বলেন, ‘আমার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম
খালেদা জিয়া, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্না
লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।’
তিনি
বলেন, ‘অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী; অনেকের কাছে গণতন্ত্রের মা,
বাংলাদেশের মা। আজ দেশ গভীরভাবে শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক
পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন।’
‘আমার কাছে খালেদা জিয়া একজন মমতাময়ী
মা, যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। আজীবন লড়েছেন স্বৈরাচার,
ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে; নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র
প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে।’
তারেক
রহমান বলেন, ‘ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও, তিনি ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের অভিভাবক;
এমন একজন আলোকবর্তিকা যাঁর অপরিসীম ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্রেরণা
জুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সর্বোচ্চ নিপীড়নের
শিকার হয়েছেন। তবুও যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তিনি অদম্য সাহস,
সহানুভূতি ও দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিলেন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে।’
তিনি
বলেন, ‘দেশের জন্য তিনি হারিয়েছেন স্বামী, হারিয়েছেন সন্তান। তাই এই দেশ, এই দেশের
মানুষই ছিল তাঁর পরিবার, তাঁর সত্তা, তাঁর অস্তিত্ব। তিনি রেখে গেছেন জনসেবা, ত্যাগ
ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয়
হয়ে থাকবে।’
তারেক
রহমান বলেন, ‘আপনারা সবাই আমার মা’র জন্য দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি দেশবাসীর
আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।’
মন্তব্য করুন


পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু
পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সরকারি সেবা স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে রাজধানী
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)’র কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
আজ সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকায়
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) কাউন্সিল ভবন অডিটোরিয়ামে ইউআরপি স্টুডেন্টস
অ্যাসোসিয়েশন অফ বুয়েট( ইউএসএবি)’র উদ্যোগে
‘প্লানিং উইক, ২০২৪’
উপলক্ষে আয়োজিত ‘ জাস্ট আরবান ট্রানজিশন এন্ড আরবান এন্ড রিজিওনাল প্লানিং’
শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ আহবান জানান।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হানান বলেন,
সাধারণ নাগরিকেরা যারা সেবা গ্রহণের জন্য রাজউকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যান, তাদের
জন্য আপনাদের সেবাটা দয়া করে স্বচ্ছ এবং জনমুখী করুন।
নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ
জনগণের যেন ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয় সেই পদক্ষেপ নেয়ার জন্য উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সকলের
প্রতি আহ্বান জানান।
যত্রতত্র জলাশয় ভরাট বন্ধ করার নির্দেশ
দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে জলাশয় আইন যথাযথভাবে
মেনে চলার আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এবার আমরা পুরোনো
ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাস রিপ্লেসমেন্ট বা পরিবর্তন করতে বাস মালিকদের ৬ মাসের সময় দিয়েছি
এবং তাদের বলে দিয়েছি দরকার হলে সহজ শর্তে আপনাদেরকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। বিগত
৫৩ বছরে শহরগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমরা ঠিক করতে পারিনি। যদি ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে
হর্ন ছাড়া গাড়ি চালাতে পারি, ক্যান্টনমেন্টের ভেতর যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে থাকতে
পারি তাহলে বাকী শহর কেন আমরা সাজাতে পারলাম না।
দেশের শহরগুলোকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজাতে
সংশ্লিষ্ট সকলকে তৎপর হওয়ার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।
বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম
বদরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর
ড. আবদুল হাসিব, রাজউকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. সিদ্দিকুর রহমান,বুয়েটের ইউআরপি ডিপার্টমেন্টের
প্রধান এবং ইউএসএবি সভাপতি অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-
জামান খানসহ বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা
এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বুয়েটের তিনজন শিক্ষার্থী বিষয় ভিত্তিক সেমিনার
পেপার উপস্থাপন করেন।
মন্তব্য করুন