

১০৯
কন্যার অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে বিয়ের সমস্ত খরচ বহন করলেন মানবিক রুহুল আমিন রুবেল।
অসহায় রাবেয়াকে নিজের মেয়ের মতো করে তার পরিবারের ইচ্ছামাফিক জাকজমকপুর্ণ অনুষ্ঠান
করে বিয়ে দিয়েছেন।
কনে
রাবেয়া নড়াইলের লোহাগড়ার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের জালাল মোল্যার মেয়ে। ৮
বছর আগে বাবা দুরারোগ্য ব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
বিয়ের
ব্যয়ভার বহনকারী মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিতি রুহুল আমিন রুবেল নাটোরের বড়াইগ্রামের
চণ্ডিপুর গ্রামের। তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে নিজ খরচে ১০৯টি অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের
কন্যা সন্তানের বিয়ের খবর বহন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জানা
গেছে, ৮ বছর আগে ঈশানগাতী গ্রামের জালাল মোল্যার মৃত্যু হয়। পেশায় দীনমজুর ছিলেন। দীনমজুর
বাবার মৃত্যুর পর রাবেয়ার অসহায় মা হেনা বেগমের কাঁধে সংসারের ভার পড়ে। খেয়ে না খেয়ে
অর্থ কষ্টেই বেড়ে ওঠে রাবেয়া। রাবেয়ার বয়স ১৮ বছর হওয়ায় তার বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে
থাকে তার পরিবার। কিছুদিন আগে রাজধানী ঢাকার মিরপুর পূর্ব কল্যাণপুর পাইকপাড়া এলাকায়
বসবাসরত আবুল খায়ের মিয়ার ছেলে মো. পারভেজ মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়। উভয়পক্ষের
সম্মতিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। বরযাত্রী ১৫ জন। এছাড়া
আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশি সব মিলে লোকসংখ্যার শতাধিক মানুষের আয়োজন বিধবা হেনা বেগমের
জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
হেনা
বেগম দীর্ঘদিন ধরে সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে সংসারের খরচ চালাতেন। ঋণ আদান-প্রদানের মধ্যদিয়ে
লক্ষ্মীপাশা পল্লী প্রগতি সহায়ক সমিতির ম্যানেজার নূর মোহাম্মদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে
ওঠে। মা হেনা বেগম তার মেয়ের বিয়ের খরচ যোগাড় নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কথা জানান ম্যানেজারকে।
বিষয়টি নূর মোহাম্মদ শোনার পর তার ঘনিষ্ট বন্ধু মানবিক রুহুল আমিন রুবেলকে জানান। রুহুল
আমিন বিষয়টি জানতে পেরে রাবেয়ার বাড়িতে ছুটে যান। তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং
রাবেরায় বিয়ের যাবতীয় ব্যয়বহনের আশ্বাস দেন।
বৃহস্পতিবার
ছিল রাবেয়ার বিয়ের দিন। বিয়েকে ঘিরে রাবেয়াদের বাড়িতে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে সবাই। শিশুদের
রঙ উৎসব, বিয়ের গোসল, নারীদের বরণ অনুষ্ঠান, হলুদ সন্ধ্যা, নাচ গানসহ নানা আয়োজন ছিল।
মানবিক
রুহুল আমিন রুবেল বলেন, রাবেয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তারা যেভাবে ইচ্ছাপোষণ
করেছে, ঠিক সেভাবেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়েতে মোট দেড়শত লোকের খাবারের আয়োজন করা
হয়। রাবেয়াকে নিজের মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেই তার বিয়ের যাবতীয় আয়োজন করেছি। রাবেয়া আমার
১০৯তম কন্যা। তার বিয়েতে শরীক হতে পেরে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।
তিনি
বলেন, সমাজে অনেক ধনী মানুষ আছে। তারাও ইচ্ছা করলে এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে
পারেন। তাহলে আমাদের সমাজে গরীব মানুষের দুঃখ কষ্ট অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। আমি ২০০২
সাল থেকে মানবিক কাজ শুরু করি ।
রাবেয়ার
মা হেনা বেগম বলেন, মেয়ের বিয়ের খরচ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। রুহুল আমিন ভাই মেয়ের
বিয়ের দায়িত্ব নেয়ায় চিন্তুমুক্ত হই। মেয়ের বিয়ে আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
রুবেল ভাই, পাশে না দাড়ালে বিয়ের খরচ কিভাবে যোগাড় করতাম তা আল্লাহপাকই জানেন।
নাটোরের
বড়াইগ্রাম উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের একজন সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল। নিজ
জেলাসহ দেশের যেখানেই অস্বচ্ছল ও এতিম মেয়ের সন্ধান পান সেখানেই পিতৃহীন কন্যার বাবার
ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয়দের নিয়ে নিজ খরচে আয়োজন করেন
বিয়ের। কন্যা ও তার পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী জাকজমকপুর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা
হয়। এভাবে গত ২৪ বছরে ১০৯ মেয়ের বাবা হয়েছেন রুহুল আমিন রুবেল।
মন্তব্য করুন


‘বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনে’ আহতদের দেখতে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে যান। বাচ্চাদের সুচিকিৎসা সরকারের প্রধান ম্যান্ডেট। এই বাচ্চাদের যদি
নিরাপদ জীবন দিতে না পারি তাহলে আমরা অকৃজ্ঞ জাতি হবো।
এ
সময় উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, এ আন্দোলনে আহত-নিহতদের হাসপাতালের রেজিস্ট্রার
থেকে তথ্য নিয়ে সবার ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। আহতের পুনর্বাসনের জন্য যা যা করার সমাজকল্যাণ
মন্ত্রণালয় তার নৈতিকতার জায়গা থেকে করবে। আহতদের পুনর্বাসিত করবে মন্ত্রণালয়।
সোমবার
(১৯ আগস্ট) ছাত্র আন্দোলনে আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে এসব কথা
বলেন তিনি।
তিনি
এ সময় আহতদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।
এ
সময় উপস্থিত চিকিৎসকদের বলেন, সুচিকিৎসার জন্য যা যা করতে হবে সব করার অঙ্গীকার ব্যক্ত
করেন। তিনি যত্ন, ভালোবাসা, সুচিকিৎসা ও সেবার মান এবং আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান
কর্তব্যরত চিকিৎসকদের।
তিনি
বলেন, আমরা নতুন করে ডাক্তারদের পেলাম নতুন করে চিকিৎসা সেবা দেখলাম। এই ডাক্তার ও
সেবাই চায় নতুন বাংলাদেশ।
উপদেষ্টা
উপস্থিত মিডিয়ার প্রতিনিধিদের কাছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের তথ্য দেয়ার
অনুরোধ জানান। এর জন্য মন্ত্রণালয় একটি সেল খোলা কথাও জানান উপদেষ্টা।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সফিকুর রহমান, ঢাকা মেডিক্যালের
উপ-পরিচালক ডা. মো. খালেকুজ্জামান, সহকারী পরিচালক ডা. আশ্রাফুল আলম, ডা. আব্দুর রহমান
ও ডা. আ. সামাদ সহ আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন


চীনের
‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।
দেশটির বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লির জন্য তৈরি সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকের গুরুত্বপূর্ণ
পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। এই চুম্বকই ভবিষ্যতের ফিউশন শক্তি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনা
বিজ্ঞান একাডেমির প্লাজমা পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটে ৫৮২ টন ওজনের এই সুপারকন্ডাক্টিং
চুম্বকের মূল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এটি এমন একটি চুম্বক, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও
বেশি উত্তপ্ত প্লাজমাকে চুল্লির দেয়ালে স্পর্শ না করিয়ে স্থির রাখতে সাহায্য করবে।
চীনের
‘কৃত্রিম সূর্য’ হলো এমন একটি পরীক্ষামূলক ফিউশন চুল্লি,
যার মাধ্যমে সূর্যের মতো নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়া পৃথিবীতে পুনরায় তৈরি করার চেষ্টা
করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে পরিষ্কার ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা।
নিউক্লিয়ার
শক্তির দুটি প্রধান প্রক্রিয়া হলো ফিশন ও ফিউশন। ফিশনে ইউরেনিয়ামের মতো ভারী পরমাণু
ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে ফিউশনে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো হালকা পরমাণু একত্রিত
হয়ে বিপুল শক্তি তৈরি করে।
বিজ্ঞানীরা
পরীক্ষাগারে ফিউশন বিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ
উৎপাদন করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
সূর্যের
কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় চাপ
পরমাণুগুলোকে কাছাকাছি এনে ফিউশন ঘটায়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন মহাকর্ষ নেই।
তাই
বিজ্ঞানীরা প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ান, যাতে
হাইড্রোজেনের পরমাণুগুলো দ্রুত সংঘর্ষে ফিউশন তৈরি করতে পারে। কিন্তু এত উত্তপ্ত প্লাজমাকে
কোনো সাধারণ বস্তু দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব নয়।
এই
কারণে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে প্লাজমাকে একটি অদৃশ্য খাঁচার মধ্যে আটকে
রাখা হয়।
চীনের
তৈরি টোকামাক আকৃতির ফিউশন চুল্লিতে ১৬টি বিশাল ডি-আকৃতির সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বক ব্যবহার
করা হবে। এগুলো ৬.৫ টেসলা শক্তির চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করবে, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের
চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী।
প্রতিটি
চুম্বকের আকার প্রায় ২১ মিটার বাই ১২ মিটার এবং ওজন ৫৮২ টন। এটি এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে
বড় সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন চুম্বকগুলোর একটি।
একদিকে
১০ কোটি ডিগ্রি, অন্যদিকে মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি
এই
প্রযুক্তির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো একই চুল্লিতে দুটি বিপরীত তাপমাত্রা বজায় রাখা।
ফিউশন
চুল্লির ভেতরে প্লাজমার তাপমাত্রা প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও সুপারকন্ডাক্টিং
চুম্বককে রাখতে হয় প্রায় মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এটি সম্ভব হয় বিশেষ
শূন্যস্থান নিরোধক ও অতিশীতলীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে।
চীনের
এই চুম্বকের বিশেষত্ব হলো—এর সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দেশটির নিজস্ব
প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ফিউশন গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের
ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে বেইজিং।
এর
আগে চীনের পরীক্ষামূলক উন্নত সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক (ইস্ট) যন্ত্র ১০ কোটি ডিগ্রি
সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমা ১ হাজার ৬৬ সেকেন্ড ধরে রাখার বিশ্ব রেকর্ড করেছিল।
চীনের
লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালে ফিউশন চুল্লির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা এবং ২০৩০ সালের
মধ্যে ফিউশন শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন
বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো মানবজাতির জন্য বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন


আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল)
থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণ
যা চলবে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
ফরম পূরণ এর ফি নিয়ে শিক্ষা
বোর্ডগুলো বলছে, এবার বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ফি ২ হাজার ৬৮০ টাকা
নির্ধারণ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ফি ২ হাজার ১২০ টাকা।
তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা
শাখার কোনো পরীক্ষার্থীর চতুর্থ বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে নির্ধারিত ফি এর সঙ্গে
অতিরিক্ত ১৪০ টাকা যুক্ত হবে। আর নৈর্বাচনিক বিষয়ে ব্যবহারিক থাকলে বিষয়প্রতি আরও ১৪০
টাকা যোগ করা হবে।
এ ছাড়া অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের
ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলো বলছে পরীক্ষার্থী প্রতি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা
। জিপিএ উন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা তালিকাভুক্তি ফি নির্ধারণ
করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা। আর বিলম্ব ফি নির্ধারণ
করা হয়েছে ১০০ টাকা।
তবে কোন শিক্ষার্থী ২৫ তারিখের
মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে না পারলে নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্ব ফি দিয়ে ২৯ এপ্রিল থেকে ২
মে পর্যন্ত ফরম পূরণ করতে পারবে ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি
ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২০ জুন হতে শুরু হবে।
মন্তব্য করুন


নিরাপত্তা
কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে
পিজিআরের শব কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ
রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর
আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকার প্রধানকে
জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যেন নিজেদেরকে
সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি
আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।'
তিনি
বলেন, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরা এই রেজিমেন্টে
দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট
সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারত্ব, আনুগত্য ও শৃংঙ্খলার
সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যরা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ
নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরের দক্ষতা ও একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার
প্রত্যাশা।'
পিজিআরের
কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার
দায়িত্ব পালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদের নানারকমের পরিস্থিতির
মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা
আপনাদের নিঃসন্দেহে একটি সুশৃংঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।'
সুশৃঙ্খলতার
স্বীকৃতিস্বরূপ পিজিআর চলতি বছর 'ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড' পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে
উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের
জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারও অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল
পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।'
সশস্ত্র
বাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে
বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।'
তিনি
বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা
অনুসরণ ও পেশাদারত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনোই হুমকির মুখে পড়বে
না।'
পিজিআরের
প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি আশা করব, পিজিআরের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর
সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি
প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং
সর্বোপরি "চেইন অব কমান্ড" অনুসরণ কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।'
একটি
বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে
থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের
বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের
ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার,
ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।'
তিনি
বলেন, 'এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই
আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।'
তারেক
রহমান বলেন, 'সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে
সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা
হচ্ছে।'
বক্তব্যের
শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাষ্ট্রপতি
এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে 'রাষ্ট্রপতির
দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ
করেছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর
জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর 'রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট'কে 'প্রেসিডেন্ট
গার্ড রেজিমেন্ট' হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরও দৃঢ়
ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।'
পিজিআরের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা
তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর
রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট
জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন।
আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে
তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।'
তিনি
বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার
প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত
হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে
যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর
দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এসময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়
করেন।
উল্লেখ্য,
প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫
সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত
এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের
মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।
পিজিআর
মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এটি বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির
দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।
মন্তব্য করুন


ফুটবল
বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে মাথা ন্যাড়া করেছেন
দুই আর্জেন্টিনা সমর্থক। আজ শনিবার ( ২০জুন ) পটুয়াখালী শহরের কাজীপাড়া ও জামালপুরের
বকশীগঞ্জে পৃথকভাবে এই ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালীতে
মাথা ন্যাড়া করা যুবক শহরের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাজী রাফি। ফুটবল বিশ্বকাপে তিনি
আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। তার মাথা ন্যাড়া করার ভিডিও ও ছবি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার
রাতে রাফি তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ঘোষণা করেন, শনিবারের ম্যাচে ব্রাজিল যদি
হাইতির সঙ্গে জিততে পারে, তাহলে নিজের মাথা ন্যাড়া করে ফেলবেন।
এদিকে
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মাথা ন্যাড়া করা আর্জেন্টিনার সমর্থকের নাম ফয়সাল আহমেদ জুমান
(২২)। গত ১৯ জুন রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে ফয়সাল আহমেদ জুমান লিখেছিলেন, হাইতির সঙ্গে
ব্রাজিল হারবে। যদি ব্রাজিল জেতে, তাহলে তিনি মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘুরবেন।
শনিবার
সকালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে
জয়লাভ করে ব্রাজিল। খেলা শেষে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ব্রাজিল সমর্থকেরা ওই যুবকের
বাসায় গিয়ে ভিড় জমান। পরে ফয়সাল ফেসবুকে দেওয়া কথা রাখতে বাধ্য হয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি
গায়ে জড়িয়ে বাসা থেকে বের হন। তিনি স্থানীয় বাজারে এসে স্বেচ্ছায় ব্রাজিল সমর্থকদের
সামনে মাথা ন্যাড়া করেন।
চ্যালেঞ্জ
পূরণের পর ফয়সাল আহমেদ জুমান বলেন, খেলাধুলা বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম। আমি আর্জেন্টিনার
সমর্থক। আমার অনেক বন্ধু ব্রাজিল সমর্থক। আমি মজা করেই তাদের সঙ্গে এই বাজি ধরেছিলাম।
ব্রাজিল জিতেছে, আমি আমার কথা রেখেছি।
মন্তব্য করুন


সিরাজগঞ্জের
কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মনকে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলা কৃষি
কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার কৃষকদের মাঝে ভেজাল সার বিতরণের
ঘটনায় আলোচনায় আসেন এই কর্মকর্তা।
সোমবার
(২৯ জুন) সকালে বিষয়টি তাকে বদলির নিশ্চিত করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের
উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা।
এর
আগে রোববার এক অফিস আদেশে রতন চন্দ্র বর্মনকে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
হিসেবে বদলির আদেশ জারি করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।
অফিস
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মনকে আগামী
১লা জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদান করতে
হবে অন্যথায় ২ জুলাই থেকে তিনি স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন।’
গত
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের
কামারখন্দে গাছের চারা ও সার বিতরণে জৈব সারের পরিবর্তে পলিথিন মেশানো মাটি, ময়লা-আবর্জনা
বিতরণের অভিযোগ তোলেন কৃষকরা। এই ঘটনায়, ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পলিথিন মেশানো
ভেজাল সার বিতরণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে ইত্তেফাক
অনলাইন।
পরদিন
বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জহুরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট
তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের
অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) আনোয়ার সাদাত, সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মেরাজ হোসেন
মিসবাহ। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেধে দেয়
জেলা প্রশাসন।
মন্তব্য করুন


গত ৯ই-১২ই ফেব্রুয়ারি ভারতের নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ এশিয়ান সাবাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫। প্রতিযোগিতায়ে এশিয়ার প্রায় ১৬ টি দেশ অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ থেকে ১২ জনের একটি টিম প্রতিযোগিতায়ে অংশগ্রহণ নেয়ে। উক্ত প্রতিযোগিতায় রৌপ্য পদক অর্জন করে বাংলাদেশের সুনাম বয়ানে কুমিল্লার কৃতি সন্তান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সত্যায়িত সংগঠন ওয়াইকসের যুব ও প্রিয়া সম্পাদক, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মার্শাল-আর্ট টিম কোচ, বর্তমানে কুমিল্লা সরকারি কলেজের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী মোফাজ্জাল মাহিন চৌধুরী। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে রৌপ্য পদক অর্জনকারী মাহিন কে সম্পূর্ণ রূপে সহযোগিতা করে দিঘির চাপ, আফসু ডেভলপারস লিমিটেড।
মন্তব্য করুন


কৃষি,
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল
তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে সরকার অনলাইনে কৃষক কার্ড নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী
এক বছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।
শুক্রবার
বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের মাঠপর্যায়ের
তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি
বলেন, পর্যায়ক্রমে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রায় আড়াই কোটি থেকে ২ কোটি ৭০ লাখ
কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রমে
শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৫ হাজার কৃষক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। মন্ত্রী
আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল ও হালনাগাদ ডাটাবেজ
তৈরি হবে। কৃষকদের দেওয়া সব তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কৃষি ভর্তুকি,
প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ ও সার, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা
প্রকৃত কৃষকদের কাছে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আমিন
উর রশিদ বলেন, অতীতে তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক কৃষক সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত
হয়েছেন। কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হবে। তবে নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক
কৃষককে সঠিক তথ্য দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সরকারি সেবা গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি
হতে পারে।
পরিদর্শনের
সময় মন্ত্রী নিবন্ধন বুথ ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই,
অনলাইন নিবন্ধন ও তথ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের
নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে যেন কোনো ধরনের হয়রানি, অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ
না থাকে। প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। পরে তিনি উপস্থিত
কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কৃষকেরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও বীজের সরবরাহ, সেচ
সুবিধা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং সরকারি সহায়তা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী তাদের বক্তব্য শোনেন এবং কৃষকদের কল্যাণে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে
জানান।
চট্টগ্রাম-১২
(পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকের
কাছে পৌঁছাবে এবং কৃষি খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রাম
অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক আপ্রু মারমা,
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ,
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.
মো. ইলিয়াস, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয়
জনপ্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কৃষি
বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জমির পরিমাণ,
চাষাবাদের ধরন, উৎপাদিত ফসল এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই
তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি আরও
কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন


সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির
(এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে তার ৮০০ টাকা পাওনা রয়েছে।
ভাইরাল
হওয়া ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমি এখনো হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে টাকা পাব,
৮০০ টাকা। ভার্সিটিতে গাড়ি নিয়ে বসতাম আমি। এসেই বলতো, ভাই চা খাওয়ান, মামা চা খাওয়ান,
খাওয়াইতাম।
ভিডিওর
আরেক অংশে তিনি হাসনাত আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনামূলক মন্তব্য
করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের ঘটনার সময় শেখ হাসিনার বাসভবন থেকে মালামাল
নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং বর্তমান রাজনীতিতেও এ ধরনের ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ
অবস্থানে রয়েছেন।
তার
ভাষ্যে, সেই চোরের ঘরে চোর ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার বাড়ি থেকে বস্তা নিয়ে যায়। ওই চোরের
ঘরে চোরে সংসদে বড় বড় কথা বলে। চোর তো সংসদেই বসে আছে। পবিত্র জায়গাকে অপবিত্র করে
ফেলছে।
তবে
ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া হাসনাত আবদুল্লাহ
বা তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এর বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই
করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন


এবারের পূজা খুব ভালোভাবে হবে। কোনো ধরনের কোনো অসুবিধা হবে না। এ জন্য আপনাদেরও সহযোগিতা চাই। প্রতিবার তো পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকে, এবারে বাড়তি র্যার, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিগগিরই বাজার একটি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে মনে করেন তিনি। যদি কোনো সিন্ডিকেট থাকে, সেটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভেঙে দেবে।
কৃষিক্ষেত্রে উন্নতিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রশংসা করেন তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আমাদের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু আবাদযোগ্য ভূমি কিন্তু বাড়েনি। মনে রাখতে হবে, দেশের উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা এই কৃষিক্ষেত্রের। কৃষির উন্নতির জন্য কাজ করছে এই ইনস্টিটিউট।’
এ সময় উপস্থিত
ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবদুল্লাহ ইউছুব আখন্দ, কৃষি সচিব মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়া, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীন, পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আযাদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন