

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের কাজে অবৈধভাবে কেউ বাধা দিতে পারবে না। পুলিশের আইনানুগ কাজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না। একইসঙ্গে পুলিশের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে যাতে তাদের দ্বারা মানুষ হয়রানির শিকার না হয়৷
মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চেইন অভ কমান্ড বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেশে লটারি করে এসপি এবং ওসিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে৷ এতে করে যার যেখানে যাওয়ার কথা না সেখানে দেওয়া হয়েছে৷ এসব পদায়ন সার্ভিস রেকর্ড দেখে করা উচিত ছিল৷ তাছাড়া লটারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। আমরা দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনায় নিয়ে এগুলো নিয়ে কাজ করবো। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক কারণে বিধির বাহিরে পুলিশ সুপাররা যেন কাউকে প্রটোকল না দেয় সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে- জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করা৷ মন্ত্রী এ সময় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশের ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবলের শুন্য পদে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
মন্ত্রী আরো বলেন, ২০২৪ সালের ০৫ আগস্টের পর বেশকিছু মামলায় অনেক সুবিধাবাদী গ্রুপ ভোগান্তিতে ফেলতে নিরীহ ও সাধারণ অনেক মানুষকে মামলায় জড়িয়েছে৷ পুলিশ বিভাগকে এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দিয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় কমিশন গঠন করে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে সেই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এর বিচার করা হবে। তিনি আরো বলেন, এটা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও আছে। আমরা যেকোনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যে সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমরা আবার ভেরিফাই করবো৷ সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কিনা আমরা সেটা খতিয়ে দেখবো৷ তিনি বলেন, লাইসেন্স যারা পেয়েছে তারা এটা পাওয়ার উপযুক্ত কিনা সেটা যাচাই করা হবে৷ যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে৷ এসব লাইসেন্স এর অধীনে অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাতিল হবে৷
মন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট সেবা নিয়ে জনগণের অনেক অভিযোগ আছে। আমাদের অনেকেই অনলাইনে ইলেকট্রনিকভাবে পাসপোর্ট আবেদনে অভ্যস্ত নয়।সেজন্য পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে কিছু লোকজনের সহযোগিতা নেয় যারা অনলাইনে কাজ করার মাধ্যমে আয় রোজগার করে। তাদের মাধ্যমে এবং পাসপোর্ট অফিসের কিছু লোকজনের যোগসাজশে জনগণ অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়ে। সেটা নিরসনে রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের ন্যায় তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হলে সেবা সহজীকরণ হবে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে। তাদের কাজের জন্য তারা যাতে সার্ভিস চার্জ পায়- সেটাও নির্ধারণ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, জনগণের হয়রানি ও ভোগান্তি নিরসনে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে এটি পরীক্ষামূলকভাবে আমরা চালুর চিন্তাভাবনা করছি। যদি ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতিতে এটা টিকে যায়, পরবর্তীতে এটি সারাদেশে চালু করা হবে। এ বিষয়ে শীঘ্রই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে।
২০০৬ সালে নিয়োগ বঞ্চিত এসআই'দের নতুন করে নিয়োগ প্রদান করা হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিয়োগ বঞ্চিত এসআই'দের ফাইলটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সারসংক্ষেপ আকারে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে গিয়েছিলো। তখন কি কারণে ফাইলটি অনুমোদন হয়নি- জানিনা। তিনি বলেন, তদন্ত করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ প্রদান করা হবে।
মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ দেলোয়ার হোসেন সহ আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৩৩ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে একটি
প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর যেসব এসপি ও ইউনিট প্রধানরা বিপিএম-পিপিএম পদক পেয়েছিল তাও বাতিল করা হয়েছে।
এই
একই
কারণে এর আগে ওএসডি করা হয় ১২ ডিসিকে।
ওএসডি করা কর্মকর্তাদের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে যত টিম আছে, তার মধ্যে পুলিশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিম বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ সোমবার (১৭ মার্চ) মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমরা ইতোমধ্যে সাত মাস পার করে এসেছি। আমরা বলছি, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। কাজেই কী কী সংস্কার করতে চাই করে ফেলতে হবে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারাও সংস্কারের কথা বলেছেন। কারও জন্য অপেক্ষা করে কোনো ফায়দা হবে না। কাজটা করতে হবে এবং সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, দেশ বদলাতে হলে একক নির্দেশে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে এক একটি টিম হয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে যত টিম আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিম হলো পুলিশ। সরকার যা কিছুই করতে চায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত দিয়েই করতে হয়। তারা সব করে দেয় না, তারা পরিবশেটা সৃষ্টি করে। যে পরিবেশটা না থাকলে কোনো কাজই আর হয় না। পুলিশের কথা প্রসঙ্গে বারবার আমরা দুটো শব্দ বলছি- আইনশৃঙ্খলা। পুলিশের হাতেই এটাকে এক্সিকিউট করতে হবে। এই পরিবেশ সৃষ্টি করা না গেলে সরকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের অধিকার, নাগরিকের অধিকার- কিছুই থাকে না। আমরা পুলিশকে অবহেলা করে দেশ গড়তে পারব না। তারাই সম্মুখসারির মানুষ। তারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করলেই বাকি জিনিসগুলো হয়। আইনশৃঙ্খলা না থাকলে যত বড় বড় চিন্তাই হোক, যত টাকাই থাকুক, কোনো কাজে আসবে না।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, পুলিশ হবে বন্ধু। কারণ, আমি আইনের পক্ষের মানুষ। আমি আইন প্রতিষ্ঠা করার মানুষ। আইন হলো আমাদের সবার আশ্রয়। পুলিশ হলো আশ্রয়দাতা। আমরা এই ইমেজটা যদি প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, মানুষ অতীতের সব কথা ভুলে যাবে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ ও রাজশাহী পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম। এ সময় আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘‘পুরোনো ব্যবস্থার রাজনীতি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুন ব্যবস্থার রাজনীতিতে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে”। যেই রাজনীতি হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে, খুনের বিরুদ্ধে, ধর্ষণের বিরুদ্ধে, মামলাবাজদের বিরুদ্ধে, দুর্নীতি-অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত যুব ম্যারাথন কর্মসূচির উদ্বোধনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, তারুণ্যের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মান না হওয়া পর্যন্ত ম্যারাথন চলবেই। যত বাঁধা, ভয়ভীতি আসুক আমরা থেমে যাবো না। আমরা জাতির স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আগামীর নির্বাচনে কোনো ধরনের কারিগরি ষড়যন্ত্র জনগণ হতে দেবে না। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো আনুকূল্য চাই না কিন্তু কমিশন যদি কারো প্রতি আনুকূল্য দেখায় তবে সেটি বরদাস্ত করা হবে না। কালো টাকায় কেউ মানুষকে কেনার চেষ্টা করলে মানুষ মুখে ছাঁই মেরে দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত জাতিকে কেউ কালো টাকায় কিনতে পারবে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর অবিচার করার কারণে, বৈষম্যের সৃষ্টি করায় মানুষ ফুঁসে উঠেছিল। যারা ৭০ এর নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিল তারা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বৈষম্যহীন শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর তারা ক্ষমতায় বসে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল। তারা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। রক্ষী বাহিনী গঠন করে যখন যাকে ইচ্ছে তাকে খুন করা হয়েছিল, মা-বোনদের ইজ্জত লুন্ঠন করা হয়েছিল। বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে পরিবারতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ছেলেরা ব্যাংক ডাকাতি করেছিল। বিদেশী দাতা সংস্থাদের দান করা খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ লুট করা হয়েছিল। তাদের সাড়ে চার বছরের দুঃশাসন মানুষকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল। কে তাদেরকে হত্যা করেছিল?- একাত্তরের রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় বীরদের হাতেই তারা হত্যার শিকার হয়েছিল। কেন হত্যার শিকার হয়েছে সেই উত্তর আওয়ামী লীগকেই খুঁজতে হবে। ৭২ এর ১০ জানুয়ারী, ৯৬ এর ১০ জানুয়ারী, ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারী তারা তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। ৯৬ সালে তারা ক্ষমতায় আসার আগে অতীতে তাদের দল যেই খুন করেছে, জুলুম করেছে তা স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। জনগণ সরল বিশ্বাসে তাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর পর তারা আবার নিজের রূপে ফিরে আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চট্রগ্রামে গিয়ে ঘোষণা দিয়েছিল তার দলের একজন মারা গেলে ১০ জনকে হত্যা করা হবে। একজন প্রধানমন্ত্রী কতটা দায়িত্ব জ্ঞানহীন হলে এমনটা বলতে পারে। সেই সময় তারা মানুষকে হত্যা করে খালে-বিলে লাশ ফেলেছে।
পরবর্তীতে তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে মানুষকে সাপের মতো পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শুধু তাই নয় হত্যার পর তারা লাশের উপর নৃত্য করেছিল। যেই দৃশ্য দেখে পুরো বিশ্ব ব্যথিত হয়েছে। ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে তারা প্রথমেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। একে একে তারা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করেছিল। শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এদেশের আলেম-ওলামাদের হত্যা করেছিল। তাদের শাসনামলের ১৫ বছরে এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে আওয়ামী লীগের জুলুম থেকে মানুষ রক্ষা পেয়েছে। যার কারণে জুলাই আন্দোলনে তাদের বিরুদ্ধে পুরো দেশবাসী ফুঁসে উঠেছিল। তারা জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এখন তারা পলাতক থেকেই চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। তাদের টার্গেট এখন এদেশের তরুণ ও বিপ্লবীরা। সেই টার্গেটের অংশ হিসেবে তারা জুলাইয়ের অন্যতম শীর্ষ নেতা ওসমান হাদীকে হত্যা চেষ্টা করেছে। ওসমান হাদীর কিছু হলে বিপ্লবীরা বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগ ভেবেছে ওসমান হাদীকে শেষ করতে পারলে কিংবা কয়েকজন বিপ্লবীকে শেষ করতে পারলে তারা সফল হবে কিন্তু না! বিপ্লবীর সংখ্যা তারা কমাতে পারবে না। বরং ক্রমেই বিপ্লবী তরুণদের সংখ্যা বাড়বে। তরুণরা আওয়ামী লীগের সকল অপশক্তি রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আমীরে জামায়াত, উপস্থিত যুব সমাজকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ম্যারাথন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘‘রাজপথে বিজয়ে, চলো এক সাথে বাংলাদেশ গড়ি’’- স্লোগানে জামায়াতে ইসলামী সকলকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে প্রস্তুত। আজকের এই যুব ম্যারাথন অতীতের বস্তা পঁচা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারার রাজনীতির বার্তা দেয়। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা যেই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম সেই বাংলাদেশে মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। ৭১ এর চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই চব্বিশে নতুন চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জুলাই বিপ্লব অর্জিত হয়েছে। জুলাই চেতনার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবেই, হবে। বুলেট-বোমাকে ভয় না করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ যুব সমাজকে দৃঢ় শপথ নিতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনায় যুব ম্যারাথন কর্মসূচির উদ্বোধনী সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক প্রমুখ। এসময় কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী সভা শেষে, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে যুব ম্যারাথন উদ্বোধন করেন। যুব ম্যারাথনে অর্ধ লাখ তরুণ যুবক অংশগ্রহন করেন। ম্যারাথনটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু করে শাহবাগ-সাইন্সল্যাব হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত চার বিচারপতি আজ শপথগ্রহণ করেছেন।
শপথগ্রহণ করা আপিল বিভাগের চার বিচারপতি হলেন, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ আপিল বিভাগের চার নবনিযুক্ত বিচারককে শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা।
শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
চার বিচারপতি নিয়োগ কার্যকরের মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চার বিচারপতিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চারজন বিচারককে তাদের শপথগ্রহণের তারিখ থেকে আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শপথগ্রহণের দিন থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত শনিবার (১০আগস্ট) দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৭। শনিবার রাতে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। পরদিন রোববার (১২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট এই তিন বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
মন্তব্য করুন


চাঁদাবাজিতে জড়িতদের সেই পথ ছেড়ে সৎ জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজি ভিক্ষার থেকেও ঘৃণ্য কাজ এবং কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই জনসভা থেকে তিনি বিশেষভাবে তাদের প্রতি অনুরোধ জানাতে চান, যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত—তারা যেন অবিলম্বে এ পথ ত্যাগ করে সঠিক পথে ফিরে আসে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, হালাল উপার্জনের সুযোগ তৈরি করতে জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য—দেশে এখন এমন একটি কাজ রয়েছে, যেটাকে কেউ কেউ পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে, আর সেই পেশার নাম হচ্ছে চাঁদাবাজি।
জনসভায় উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কেউ কি চাঁদাবাজের ভাই, বাবা, সন্তান, স্বামী-স্ত্রী, মা বা বোন হিসেবে পরিচিত হতে চায়? উপস্থিত জনতার কাছ থেকে তিনি এর কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি বলেও উল্লেখ করেন।
জামায়াত আমির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা এই কাজ থেকে সরে আসবে না, তাদের ব্যাপারে দলের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার—কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজির সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। তিনি বলেন, এই অপকর্মকে তারা ঘৃণার চোখে দেখেন এবং এটি ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট।
শেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইনশাআল্লাহ, কোনো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজিতে জড়াতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দলের অবস্থান চূড়ান্ত এবং এতে কোনো আবেগ বা নাটক নেই—সবকিছুই স্পষ্ট।
মন্তব্য করুন


ডিসেম্বরে কায়রোতে
অনুষ্ঠিতব্য ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজক দেশ মিশর।
আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর)
ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি অধ্যাপক ইউনূসের কাছে
সেদেশের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।
রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি
জানান, অন্তত পাঁচটি দেশে—তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়ার
সরকার প্রধানগণ আগামী ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর কায়রোতে অনুষ্ঠেয় ডি-৮ সম্মেলনে অংশগ্রহণ
নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সম্মেলনের
একটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন বৈঠকে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনকে সমর্থনের
উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
রাষ্ট্রদূত আরো জানান,
জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তর
প্রচেষ্টায় মিশর সরকার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস এই
সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন মিশর ও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে,
যেমন ওআইসি এবং ডি-৮-এ হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান,
তিনি মিশরে ডি-৮ সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন।
রাষ্ট্রদূত ফাহমি
আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও ডি-৮ সম্মেলনের সময় মিশর সফর করবেন।
তিনি বলেন, মিশর বাংলাদেশের
তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উপকৃত হতে চায় এবং পাট চাষ সম্পর্কে
শিক্ষা নিতে আগ্রহী।
তিনি আরো উল্লেখ করেন,
উভয় দেশের মধ্যে কৃষি, টেক্সটাইল এবং ওষুধ শিল্পের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ)
কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা উচিত।
রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত
করেন যে, ২০৩১-৩২ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য আসনে বাংলাদেশের
প্রার্থিতার প্রতি মিশর সমর্থন জানাবে।
মিশরের রাষ্ট্রদূত
ইউনেস্কোর মহাপরিচালক পদে কায়রোর প্রার্থিতার পক্ষে ঢাকার সমর্থন চান।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) পুনরায় শুরু
করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
নির্বাচন সামনে রেখে গণঅভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্রসহ সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে
তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাকি অস্ত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে
উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট
জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ
শনিবার (২৬ জুলাই) নারায়ণগঞ্জে র্যাব-১১ সদর দপ্তর এবং পরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন
পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক
সময়ে পুশইনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত থেকে গত এক
মাসে ১৫০০ বাংলাদেশিকে পুশইন করা হয়েছে-এ তথ্য সঠিক।
ভারতের
পুশইনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের নাগরিকদের অবশ্যই নিতে হবে, তা ১০
কিংবা ২০ বছর পর হলেও। তবে রোহিঙ্গাদের যেভাবে পুশইন করা হচ্ছে, তা আমরা গ্রহণ করছি
না, তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি
অভিযোগ করে বলেন, ভারত সরকার নিয়ম মেনে নাগরিক পাঠানোর পরিবর্তে অনেক সময় নদীর পাড়ে
ও জঙ্গলে ফেলে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং
তাতে কিছুটা ফলও মিলছে বলে জানান তিনি।
এ
সময় মোহাম্মদপুরে আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, তিনজনকে গ্রেপ্তার ও ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত টিম কাজ করছে। দোষীদের
ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ অবহেলা করলে তাকেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জে
আদমজীগর এলাকায় র্যাব-১১ সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স পরিদর্শনকালে
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এখনো সব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, তবে নির্বাচন আগে এগুলো উদ্ধার
করা হবে। এ কাজে রাজনৈতিক দলগুলোকে মূল ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকরা যদি সত্য তুলে ধরেন, বিভ্রান্তি দূর হবে। আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে
সব তথ্য আসুক। রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য মাঠে থাকবে, আর আমাদের দায়িত্ব নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা।
জুলাই
গণঅভ্যুত্থানের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক মামলার তদন্ত এগিয়েছে। তবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে
অনেককে আসামি করায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে
সতর্ক থাকা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টার সঙ্গে এসময় উপস্থিত ছিলেন, র্যাপিড
অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশ ঢাকা
রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ মজুমদার।
মন্তব্য করুন


স্থানীয়
সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব
ভূঁইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোস্টে বলেন, বিগত সময়ে বাজেট বরাদ্দে অসম
বণ্টন হতো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মতো অঞ্চলগুলো বারবার
বঞ্চিত হতো। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সুষম বাজেট বণ্টনের মাধ্যমে সেই বৈষম্য দূর
করেছে। বঞ্চিত এলাকাগুলোর দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন
বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


চলমান বন্যায় দেশে ১১ জেলায়িই হয়েছে। এ ছাড়াও ৫৬ লাখ ৩৭৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে
চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এ তথ্য জানান।
ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, এখন
পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টিই আছে। ১১ জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা
৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৫ জন। পানিবন্দি পরিবার ১২ লাখ ৭ হাজার ৪২৯টি। এখন পর্যন্ত বন্যায়
মোট ২৭ জন মারা গেছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় ১০ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে
একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন এবং কক্সবাজারে তিনজন
মারা গেছেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন
ফারহানা হাঁস প্রতীক পেয়েছেন। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়
থেকে প্রতীক সংগ্রহ করেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের
৪৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতীক পাওয়ার
পর উচ্ছ্বসিত রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, আমি আমার ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের প্রাণের
চেয়েও বেশি ভালোবাসি। তারাই আমাকে আজকের এই জায়গায় এনেছেন। তারা যখন আমাকে দেখেন, ছোট
ছোট বাচ্চারা চিৎকার করে বলে-আমাদের হাঁস মার্কা, আমাদের হাঁস মার্কা। তাই এই মার্কাটা
আমার ভোটারদের মার্কা, শুধু আমার নয়।
নিজের পালিত
হাঁস চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি হাঁস পালতাম। আমার হাঁসগুলো যখন চুরি হয়েছিল,
আমি চোরকে ছাড়িনি। মামলা করেছি, জেলেও ভরেছি। আমার এই হাঁস প্রতীক যদি কেউ চুরি করার
চিন্তাও করে, আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
আসনের সাধারণ মানুষের প্রার্থী জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যদি আমাকে নির্বাচিত
করেন, তারা যেভাবে বলবেন, যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই এই এলাকার উন্নয়ন করব।"
রিটার্নিং কর্মকর্তার
কার্যালয় সূত্র জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী তাদের
প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এতে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে।
এর মধ্যে দলীয়
প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক
পেয়েছেন।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬
(বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী
জোনায়েদ সাকি তার দলীয় প্রতীক মাথাল বরাদ্দ পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন