

বিএনপি
ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা
করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার
(১৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন
তিনি। খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন দেশ ও দেশের বাইরের
প্রথিতযশা আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা।
সালাহউদ্দিন
আহমদ বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে আল্লাহ এক এবং হযরত
মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম জাতির মধ্যে বিভাজনের কারণে ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারে মুসলমানরা
নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং সকলে
সহযোগিতা করেন, তাহলে খতমে নবুওয়ত কমিটির দাবির বিষয়ে বিএনপি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)কে স্বীকার করে
না, তাদেরকে বিএনপি মুসলিম হিসেবে মনে করে না।
সম্মেলনের
মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী বলেন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং খতমে নবুওয়তের পবিত্র আকিদা রক্ষার দাবি নিয়ে আয়োজিত এ মহাসম্মেলনে বিভিন্ন
দেশ থেকে আগত শীর্ষ আলেমরা অংশগ্রহণ করেছেন।
মহাসম্মেলনে
সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত
সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।
সম্মিলিত
খতমে নবুওয়ত পরিষদের উদ্যোগে এই মহাসম্মেলন হচ্ছে।
খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ এই মহাসম্মেলনের তত্ত্বাবধান
করছে।
মন্তব্য করুন


শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহীদি মার্চ করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম।
সমন্বয়ক সারজিস আলম জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে এই ‘শহীদী মার্চ’ করা হবে। মার্চ-টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিকাল ৩টায় শুরু হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে গেল জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর সাবেক
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দাফন করা হবে চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
দুপুরে
উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে উপদেষ্টা
পরিষদকে অবহিত করেছেন।
মঙ্গলবার
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শুরু হয় এক মিনিটি নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। আসিফ নজরুল
বলেন, গোটা জাতির মতো সরকারে যারা আছেন তারাও শোকাহত। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় খালেদা
জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আগামীকাল
সাধারণ ছুটি।
সরকার
জানাজা ও দাফন ঘিরে সব ধরনের সহযোহিতা দেবে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ
করেন। সবশেষ সেনাসদরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলাপ হয়েছিল। তিনি সভায়
সেদিনের স্মৃতিচারণ করেন।
আইন
উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে বেগম জিয়ার অবদান অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। এমন একজন নেত্রীর
চলে যাওয়াটা একটি বিশেষ মুহূর্ত। সবাই শোকাহত। সবার উচিত জানাজা ও দাফনে যথাযথ সম্মান
প্রদর্শন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
উপদেষ্টা
পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস ও হাইকমিশন আছে সেগুলোতে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।
এদিকে
দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গোটা জাতি আজ গভীর
শোক ও বেদনায় আচ্ছন্ন। তাঁর ইন্তেকালে আমরা এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছি। দেশের গণতান্ত্রিক
রাজনীতিতে তাঁর অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও জাতি গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনারা যে ত্যাগ ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন, তা দৃষ্টান্তমূলক।’
আগামী নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে আমাদের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সত্যিই একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে হবে। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে না, বরং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করবে। ভোটাররা যখন ভোট দিতে বের হবেন, তা উৎসবমুখর হবে এবং জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে যে তারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে অংশ নিয়েছেন।’একইসঙ্গে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, অগ্রগতি, জাতি গঠন এবং সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেন।
আজ রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি)-২০২৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মহামারীর মতো সংকটে সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত প্রচেষ্টা দেশের জনগণের কল্যাণে তাদের প্রস্তুতি ও অটল নিষ্ঠার প্রমাণ বহন করে।’ বাহিনীর সদস্যদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তিতে অবদান রাখার জন্যও ধন্যবাদ জানান, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতি
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় তিনি দেশবাসীকে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের এই আনন্দময় মুহূর্তে আসুন আমরা সকল বাংলাদেশীর সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।’
স্নাতক সম্পন্ন করা অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকের গ্র্যাজুয়েশন আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করা সত্যিই একটি বড় অর্জন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি আপনার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত। এই অর্জন বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের প্রতিফলন। এখন আপনি উচ্চতর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, যা আপনাকে জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ, কৌশল প্রণয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের জটিলতাগুলো বোঝার ক্ষমতা প্রদান করবে।’
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কলেজটি এমন নেতৃবন্দ গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যারা জটিল ও ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেকে নিবেদিত করতে সক্ষম হবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা এমন এক এক সময়ে আছি যখন অর্থনৈতিক কেন্দ্রীকরণের গুরুত্ব এশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে, বাংলাদেশ এমন একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে যা অসাধারণ সুযোগ প্রদান করে। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য এই অনন্য ভূ-রাজনৈতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স একটি কৌশলগত স্তরের কোর্স, যা অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা বোঝার, বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স কৌশলগত ও অপারেশনাল স্তরের ওপর কাজ করে এবং কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল স্তরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়ক। এই কোর্স চলাকালীন, আপনি বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যেমন সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাইবার হুমকি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণে যুক্ত হয়ে পড়েছেন।’
বিদেশি গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আশা করি, এখানে আপনার সময়কালে আপনি এমন বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন যা দিগন্ত বিস্তারী যা আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীরতর বোঝাপড়া তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতি আমাদের প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আমি বিশ্বাস করি, আপনারা আপনার নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করবেন। বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও মজবুত করবেন। আমি আপনাদের আগামীর জন্য সফলতা কামনা করছি।’
এনডিসির অবদানের প্রশংসা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করেছে। ‘এটি স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে এনডিসি কেবল সামরিক ক্ষেত্রে নয়, ভবিষ্যত নেতৃত্ব গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতি বছর বেসরকারি প্রশাসন,পররাষ্ট্র ক্যাডার, পুলিশ, আর্মি ও বিডিপির উঁচু পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এনডিসি কোর্সে অংশগ্রহণ করা আমাকে অত্যন্ত আনন্দ দেয়।’
তিনি আরও বলেন, বিদেশি কর্মকর্তাসহ কোর্সটি চিন্তাধারা বিনিময়, বন্ধুত্ব সৃষ্টি এবং বোঝাপড়া সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য অসাধারণ সুযোগ প্রদান করে। ‘আমি কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও স্টাফদের আন্তরিক প্রশংসা জানাই, যারা ২০২৫ সালের এনডিসি কোর্স এবং সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধ কোর্সটি উৎকর্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস কোর্সে অবদান রাখার জন্য রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স পার্সন এবং বিশেষ বক্তাদের প্রশংসা জানিয়ে বলেন, ‘আমি সেই দেশের সমর্থনকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করি, যারা স্টাডি ট্যুরের আয়োজন করেছে, যা এই কোর্সের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
তিনি আরো বলেন,‘ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী যে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ তার মূলমন্ত্র ‘সুরক্ষা থেকে জ্ঞান’ বজায় রাখবে। এই প্রচেষ্টা আপনাদের নতুন ভূমিকা গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নির্ধারণে পথ দেখাবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জটিলতা মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের নীরব সঙ্গী গৃহকর্মী
ছিলেন ফাতেমা বেগম। এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছায়ার মতো খালেদা জিয়ার
পাশে ছিলেন তিনি। সেই ছায়াসঙ্গী ফাতেমাকে চিরবিদায় জানালেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
রাজনীতির
ইতিহাসে যেখানে নেতা, আন্দোলন, ক্ষমতা ও কারাগারের গল্প বারবার উঠে আসে। সেখানে অনেক
সময় আড়ালে থেকে যায় কিছু নীরব মুখ। আলোয় না থেকেও যারা ইতিহাসের সাক্ষী হন। বেগম খালেদা
জিয়ার জীবনে সেই নীরব সাক্ষীর নাম ফাতেমা বেগম।
দেড়
দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহকর্মীর পরিচয় ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়ার একান্ত
সঙ্গী। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, গৃহবন্দিত্বের দীর্ঘ সময়, হাসপাতালের নিঃসঙ্গ রাত
কিংবা বিদেশ সফরের নীরব করিডর সবখানেই নিঃশব্দে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
ফাতেমা
বেগমের জন্ম ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামে। রফিকুল ইসলাম ও মালেকা
বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব
কাঁধে নিতে হয় তাকে। একই ইউনিয়নের কৃষক মো. হারুন লাহাড়ির সঙ্গে বিয়ের পর মেঘনা নদীর
চরে কৃষিকাজ করেই চলছিল সংসার।
তাদের
সংসারে জন্ম নেয় মেয়ে জাকিয়া ইসলাম রিয়া ও ছেলে মো. রিফাত। তবে ২০০৮ সালে ছেলের বয়স
মাত্র দুই বছর থাকতেই অসুস্থ হয়ে মারা যান তার স্বামী। এক মুহূর্তে বদলে যায় জীবনের
পথচলা। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি ফিরে যান বাবার বাড়িতে। কিন্তু মুদি দোকানি বাবার সামান্য
আয় সংসারের ব্যয় মেটাতে না পারায় কঠিন সিদ্ধান্ত নেন ফাতেমা। সন্তানদের গ্রামে রেখে
কাজের খোঁজে ঢাকায় পাড়ি জমান।
২০০৯
সালে পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি কাজ পান বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে। সেখান
থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ সহযাত্রা। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক নেত্রীর দৈনন্দিন
জীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে ওঠেন তিনি। বাথরুমে নেওয়া–আসা, ওষুধ খাওয়ানো, শারীরিক দুর্বলতায়
হাত ধরে রাখা এসব কাজ তার কাছে শুধু দায়িত্ব ছিল না, ছিল সম্পর্কের দায়।
২০১৪
সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির সময় গুলশানের বাসভবনের সামনে
বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করা হয়। গাড়িতে উঠেও বেরোতে না পেরে ফিরোজার দোরগোড়ায়
দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন খালেদা জিয়া। পুলিশের চাপের মধ্যে শরীরের ভার সামলাতে
না পারার মুহূর্তে নীরবে তার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন ফাতেমা। ক্যামেরার ফ্রেমে
ধরা পড়ে যায় সেই মানবিক দৃশ্য।
২০১৮
সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে আইনজীবীরা আবেদন করেন,
তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম যেন সঙ্গে থাকতে পারেন। আদালতের অনুমতিতে ছয় দিন পর তিনি
নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই
স্বেচ্ছায় হয়ে ওঠেন কারাবন্দি।
২০২১
সালের এপ্রিল মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া।
যখন মহামারির ভয়ে প্রিয়জনের কাছেও যেতে মানুষ দ্বিধায় ছিল, তখন ফাতেমা ছিলেন অবিচল
সেবিকা হয়ে, সাহস হয়ে, ছায়া হয়ে।
সবশেষ
লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার সময়ও খালেদা জিয়ার সঙ্গেই ছিলেন তিনি। আগের বিদেশ সফরগুলোতেও
নীরবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফাতেমা
বেগম কোনো রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, কোনো পদও ছিল না। তবু ইতিহাসের কঠিন মুহূর্তগুলোতে
তার উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছেদ্য। তিনি প্রমাণ করে গেছেন সব সম্পর্ক ক্ষমতার নয়, কিছু সম্পর্ক
শুধু দায়িত্ব আর মানবিকতার। রাজনীতির কোলাহলের ভিড়ে তিনি ছিলেন এক নীরব নাম। কিন্তু
সেই নীরবতাই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নির্ধারিত তিনটি সংসদীয় আসনে আগে থেকেই মনোনীত বিকল্প প্রার্থীরাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব আসনে আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়েছে। ফলে তারাই বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আসন্ন নির্বাচনে খালেদা জিয়ার ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। তবে তার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগেই এসব আসনে বিকল্প প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে রফিকুল আলম মজনু, বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন স্থগিতের কোনো সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ থাকায় নির্বাচন স্থগিত বা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই।
এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানসিক অবস্থার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা। শোকের মধ্যেও তাকে দৃঢ় মনোবল নিয়ে দেশের ও দলের স্বার্থে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ
আলম বলেছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলচ্চিত্র সংরক্ষণে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভকে উদ্যোগ
নিতে হবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ
ফিল্ম আর্কাইভ পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সম্ভাবনার
কথা উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক দলিলাদি এবং দেশি বিদেশি
চলচ্চিত্র সংরক্ষণে ফিল্ম আর্কাইভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রামাণ্যচিত্র সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিল্ম আর্কাইভকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি কেন্দ্রিক প্রামাণ্যচিত্র
সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। আর্কাইভে মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠদের সাক্ষাৎকার
ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র সংরক্ষণেরও তাগিদ দেন তিনি।
ফিল্ম ম্যাগাজিন সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ
করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন
গ্রন্থাগার থেকে গত ৫০ বছরের ফিল্ম ম্যাগাজিন
সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা
অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন থেকেও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট প্রমাণক
সংগ্রহ করতে হবে।
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, বর্ষীয়ান
ও গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের লেখা ও সাক্ষাৎকার সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। আর্কাইভে
সংরক্ষিত সকল ফিল্মের ডিজিটাল ক্যাটালগ প্রস্তুত করতে হবে। এর ফলে চলচ্চিত্র গবেষক
ও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। উপদেষ্টা ফিল্ম আর্কাইভের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ
থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল। বক্তব্যে তিনি ফিল্ম আর্কাইভের
কার্যক্রম, সীমাবদ্ধতা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
উক্ত সভায় ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক
ফারহানা রহমানসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভার পূর্বে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ফিল্ম আর্কাইভের প্রজেকশন হল, ফিল্ম মিউজিয়াম, ফিল্ম হাসপাতাল, ফিল্ম ভল্ট ও লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদের দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আব্দুল হাফিজ প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক দায়িত্ব পালনে প্রধান উপদেষ্টাকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদান করবেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে থাকা অবস্থায় তিনি উপদেষ্টা পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য যে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে জাতিসংঘ পাশে থাকবে বলে
মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) এক এক্স বার্তায় এমন মন্তব্য করে তিনি
বলেন, আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের
জনগণকে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংস্কার
ও রূপান্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার
লক্ষ্যে জাতিসংঘ সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবে।
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব
ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠক করেন। শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টায়
রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টালে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতিসংঘ মহাসচিব একই উড়োজাহাজে কক্সবাজার ভ্রমণ করেন
।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজার পৌঁছেছেন
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।
কক্সবাজারে নির্মাণাধীন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর
ও খুরুশকূল জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন ড. ইউনূস। পরিদর্শন শেষে
উখিয়ায় ড. ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার
সঙ্গে ইফতারে যোগ দেবেন। জাতিসংঘ মহাসচিব সেখানে রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার,
রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
পরিদর্শন ও ইফতার শেষে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব একসাথে সন্ধ্যায় ঢাকায়
ফিরবেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক “ড. মুহাম্মদ ইউনূস” দেশের নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারকে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সারা দেশে ক্যান্সার বিষয়ে, বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারজনিত ও স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক “তোহ হান চং-এর সঙ্গে” এক বৈঠকে এই আহ্বান জানান।
গত শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সিঙ্গাপুরের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোহ হান চং-এর সঙ্গে বৈঠককালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এখন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগগুলো মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তিনি এই রোগগুলো প্রতিরোধে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস আরও বলেন, "আমাদের দেশে এসব রোগ নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ক্যান্সার বা হৃদরোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে হবে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের জন্য। বৈঠকে অধ্যাপক তোহ হান চং জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় শত শত মিলিয়ন মানুষ ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত, যা লিভার ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি এই রোগ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে স্বল্প ব্যয়ে ও ব্যাপকভাবে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর, বিশেষ করে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক তোহ জানান, চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রতি বছর অব্যাহত থাকবে। এই বৈঠকে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক তোহ হান চং-এর সঙ্গে ছিলেন সিংহেলথ ডিউক-এনইউএস গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক বিজয়া রাও এবং সিংহেলথ ও এডিনবারা ন্যাপিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ কালউইন্ডার কৌর।
মন্তব্য করুন


ভূমিকম্প প্রস্তুতি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে তেজগাঁওয়ে সরকারপ্রধানের দপ্তরে এ বৈঠক শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার (২১-২২ নভেম্বর) দুদিনে ৪ দফা ভূমিকম্পে দেশে আতঙ্কিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা এ বৈঠকে বসেছেন।গত শনিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার আগে শুক্রবার সকালে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানে বাংলাদেশে। এই ভূমিকম্পে ৩ জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং ৬ শতাধিক মানুষ আহত হন। ঢাকার বহু ভবনে ফাটল দেখা দেয়, কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
মন্তব্য করুন