

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের
গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব
এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে তাঁর ভূমিকা বিশ্ব গণমাধ্যমে বিশেষভাবে তুলে ধরা
হয়।
বিশ্বের
প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো তাঁর রাজনৈতিক উত্থান, সংগ্রাম ও অবদানের ওপর
আলোকপাত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বার্তা
সংস্থা এএফপি বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, যাঁকে অনেকেই আগামী
নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারেন বলে মনে করছিলেন, মঙ্গলবার সকালে ৮০ বছর বয়সে
মৃত্যুবরণ করেছেন।
সরকার
তাঁর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বুধবার
তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বার্তা
সংস্থা এএফপি আরো বলেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থতা ও কারাবাস সত্ত্বেও খালেদা জিয়া গত নভেম্বর
মাসে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। গত
বছর গণ-অভ্যুত্থানে তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের
পর এটিই ছিল দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
বিবিসি
‘খালেদা জিয়া: নিহত নেতার বিধবা স্ত্রী থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী’
শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণকারী খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
একসময় তাঁকে তাঁর স্বামী, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা ও ১৯৭৭ সালে
রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমানের ‘লাজুক গৃহিণী’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো। তবে ১৯৮১ সালে
স্বামীর হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে উঠে আসেন
এবং নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেন।
অ্যাসোসিয়েটেড
প্রেস (এপি) জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন বলে মঙ্গলবার
এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিএনপি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি যেসব দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি
হয়েছিলেন, সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন খালেদা জিয়া। চলতি
বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে থাকা শেষ দুর্নীতি মামলাতেও তাঁকে খালাস
দেন, যার ফলে তিনি ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। এপি আরও জানায়,
২০২০ সালে অসুস্থতার কারণে কারামুক্তির পর তাঁর পরিবার অন্তত ১৮ বার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার সরকারের কাছে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানালেও তা প্রত্যাখ্যান
করা হয়।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অবশেষে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়। তিনি জানুয়ারিতে লন্ডন যান এবং মে মাসে দেশে ফেরেন।
রয়টার্স
শিরোনাম দেয়- ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেলেন’
রয়টার্স
জানায়, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া খালেদা জিয়া দীর্ঘদিনের
অসুস্থতার পর মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন।
চিকিৎসকদের
বরাতে বলা হয়, তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বুক ও হৃদ্রোগে ভুগছিলেন।
আল
জাজিরা জানায়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও দেশের অস্থির রাজনীতির এক প্রভাবশালী
ব্যক্তিত্ব খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।
কাতারভিত্তিক
এই গণমাধ্যমটি আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে- ‘খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের প্রথম নারী
প্রধানমন্ত্রী - ক্ষমতা ও প্রতিরোধের এক জীবন’ শিরোনামে।
ব্রিটিশ
দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তাদের অনলাইন সংস্করণে লিখেছে- ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেলেন’।
ভারতীয়
সংবাদ সংস্থা পিটিআই এক প্রতিবেদনে লিখেছে- ‘খালেদা জিয়া: কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের
রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব’।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী
হিসেবে খালেদা জিয়া কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেন।
দীর্ঘদিন
বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় দীর্ঘ অসুস্থতার
পর মৃত্যুবরণ করেন।
পিটিআই
জানায়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার জন্য সমর্থকদের কাছে তিনি ব্যাপকভাবে
সমাদৃত। নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন
এক প্রভাবশালী নাম।
ভারতের
বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ‘একদা রাজনীতিতে ঘোর অনিচ্ছুক ‘ফার্স্ট লেডি’
থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী!’ জলপাইগুড়ির ‘পুতুল’ হয়ে উঠেছিলেন ‘বেগম জিয়া’-শীর্ষক
প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য,
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের
মৃত্যুর পর। ১৯৮২ সালে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ৯০-এর দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের
বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী
অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, ১৯৯৬ সালের
১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালে তৃতীয়বার তিনি
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যমগুলোতে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অধ্যায়ের অবসান
হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তিনি শুধু একটি দলের প্রধানই ছিলেন না, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের
ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে উল্লেখ
করা হয়েছে।
দীর্ঘ
চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়ার
মৃত্যুতে দেশ-বিদেশে অসংখ্য মানুষ শোক প্রকাশ করছেন।
বেগম জিয়ার ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশানে তাঁর বাসভবন ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোকাহত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে অসংখ্য মানুষকে অশ্রুসিক্ত দেখা যায়। সারাদেশে সব জায়গায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে শোকের মাতম।
মন্তব্য করুন


নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ও রিপোর্ট কার্ড তৈরির অ্যাপ 'নৈপুণ্যর' আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
গতকাল বুধবার এ অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অ্যাপটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অ্যাপটির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ঢাকা ১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. কামাল হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ, সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার, বিশিষ্ট সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায়, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম, সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদসহ শিক্ষা প্রশাসনের কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, এ অ্যাপটি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংগ্রহ করতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ অ্যাপটিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। একইসঙ্গে এ অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষার্থীদের রিপোর্ট কার্ড প্রস্তুত করবে।
জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে চালুকৃত মূল্যায়ন পদ্ধতির তথ্য সংরক্ষণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোর্ট কার্ড প্রস্তুতের জন্য ‘নৈপুণ্য’ নামের অ্যাপটি উন্নয়ন করা হয়েছে। এটুআইয়ের কারিগরি সহায়তায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর দায়িত্বে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে এনসিটিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ অ্যাপে শিক্ষকদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নির্বাচন করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। প্রধান শিক্ষকদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে অ্যাপে লগইন করা ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাঠানো হয়েছে। তা ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকরা অ্যাপে লগইন করতে পারবেন। শিক্ষক ব্যবস্থাপনা অপশন থেকে শিক্ষকদের যুক্ত করা যাবে এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নির্বাচন করা যাবে। কোনো শিক্ষককে যুক্ত করা হলে তার মুঠোফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চলে যাবে। যা দিয়ে ওই শিক্ষক অ্যাপের ড্যাশবোর্ডে লগইন করতে পারবেন। এতে শিক্ষার্থীদের শিখনকালীন মূল্যায়ন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে৷ এটি ব্যবহার করেই সক্রিয়ভাবে রিপোর্ট কার্ড প্রস্তুত করতে হবে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরো বলছেন, এ অ্যাপে শিক্ষকদের শিক্ষার্থীর শিখণকালীন ও সামস্টিক মূল্যায়নের (পরীক্ষা) তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অ্যাপে সংরক্ষিত তথ্য শিক্ষার্থীর একটি আইডিতে সংরক্ষিত থাকবে। যা পরবর্তী শ্রেণিতেও শিক্ষকরা দেখতে পারবেন।
জানা গেছে, নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ও রিপোর্ট কার্ড তৈরির অ্যাপ ‘নৈপুণ্য’ গত শনিবার শিক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ অ্যাপে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুল ও মাদরাসার রেজিস্ট্রেশন করতে স্কুল ও মাদরাসাগুলোর প্রধানদের বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের পরিচয় দিয়ে গ্রেফতার করতে হবে, পরিচয় না দিয়ে কোনো অবস্থাতেই
কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।
রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত
করা হয়।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর)
থেকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।
এর আগে পুলিশ সদর দফতর থেকে কোনো ব্যক্তির
কাছে এ ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষিত থাকলে মঙ্গলবারের মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা
দিতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আগেই
ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের
খবরে দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। থানায় সংরক্ষিত বিপুল
পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর
অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ। তবে সে সংখ্যাটা
খুবই নগণ্য। বহু অস্ত্র বাইরে রয়ে গেছে। সেসব অস্ত্র এবং আগে থেকে অনেকের কাছে থাকা
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে
লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার কার্যক্রমসহ নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখা
হবে বলে এরই মধ্যে একাধিকবার জানিয়ে আসছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকার একদিনের মধ্যে
ট্রাভেল পাস ইস্যু করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
আজ
রবিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন
বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি : পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক
ভূমিকা নির্ধারণ’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি
বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে কোন স্ট্যাটাসে আছেন, সরকার সেটা জানে না। দেশে ফিরতে চাইলে
অন্য কোনো দেশ আটকাতে পারে, সেটি অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে যে পরিবর্তন হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের
তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগছে। আশা করছি, দুই দেশের মধ্যে ওয়ার্কিং রিলেশন দ্রুত
স্বাভাবিক হবে।
তিনি
আরও বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে আছেন—
সেটা জানলেও অফিসিয়াল কোনো তথ্য জানায়নি দিল্লি। তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক
কোনো আলোচনা হয়নি।
মন্তব্য করুন


পবিত্র
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব
পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
আজ
বুধবার (১৮ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বায়তুল মোকাররম
জাতীয় মসজিদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশন-এর সম্মেলন কক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় বৈঠকটি
অনুষ্ঠিত হবে।
এতে
আরও বলা হয়, এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
বাংলাদেশের
আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭-
এই ফোন নম্বরগুলোতে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে
(ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
মন্তব্য করুন


দ্বৈত
নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা
বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন ঢাকা-১১ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ। আজ সোমবার
(০৯ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টে এ রিট করা হয়। নাহিদ ইসলাম ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপ
দেশ ডোমেনিকার নাগরিক বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নাহিদ ছাড়াও প্রধান নির্বাচন
কমিশনার (সিইসি), ইসি সচিব, রিটার্নিং অফিসারকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে
বলা হয়, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালীন নাহিদ ইসলাম ডোমেনিকার নাগরিকত্ব
নেন। তিনি নির্বাচনি হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন।
বিচারপতি
ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
গুলশান
এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ এবং সবুজবাগ এলকার
২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-১১ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। পুরুষ
ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ৩
জন ভোটার রয়েছেন।
এ
আসনে প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির মো.
নাহিদ ইসলাম, স্বতন্ত্র কহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী
মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ
রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির মো. মিজানুর রহমান,
জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি, জনগণের রায়ে বিএনপির
সরকার গঠনের পর আমরা সেগুলো একের পর এক বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।
আজ
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন,
খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
কর্মসংস্থান
সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তারেক রহমান আরো বলেন,
'সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের জন্য
আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করে আমরা সবাই
মিলে ভালো থাকবো, জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।
এখন সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু
করেছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে এই কার্ড সারাদেশে সবাই পাবেন। আগামী ১৪ এপ্রিল তথা পয়লা বৈশাখ
থেকে চালু হচ্ছে 'ফার্মার্স কার্ড' বা 'কৃষক কার্ড'। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে
শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।'
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, 'আজ থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয়
গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে
এই সহায়তা দেয়া হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি
নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু
দিয়ে চেষ্টা করবে।'
নাগরিক
কিছু দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি
কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের
প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, আমি আশা করি, আগামী ১০ বছরে রাজনৈতিক এবং
অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পাবো।'
নাগরিকদের
দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের
প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের
দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ
কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। আমি বার বার একটি কথা
বলি, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।'
ধর্মীয়,
সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অর্থনৈতিকভাবে
সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে হয়তো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে কিন্তু ধৈর্য,
সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায়
কিংবা দয়া, এই সকল বৈশিষ্টগুলো অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে
উঠতে পারে না। এ ধরণের মানবিক বৈশিষ্টগুলো অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে
উজ্জীবিত হওয়া জরুরি।' তিনি বলেন, 'প্রতিহিংসা এবং সহিংসতা' মুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ
বিনির্মাণের ক্ষেত্রে ধর্মের উদারনৈতিক শিক্ষণীয় বক্তব্যগুলো অতুলনীয়। আমার বিশ্বাস,
একটি নৈতিকতা সমৃদ্ধ মানব সমাজের গঠনের জন্য
প্রতিটি
ধর্মেই ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। সুতরাং, একটি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ
মানসিকতা তৈরীর ক্ষেত্রে আপনাদের মতো ধর্মীয় জ্ঞান সম্পন্ন মানুষদের ভূমিকা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম,
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহি বাকি, শায়েখে চরমোনাই ও ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইরান।
মঙ্গলবার
(৩০ ডিসেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, বেগম খালেদা জিয়া
ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেত্রী। এ দেশের রাজনৈতিক
ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
ও বাংলাদেশের জনজীবনে রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদানও।
‘বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে
বাংলাদেশ ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে
বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় ছিল।’
শোকবার্তায়
আরও বলা হয়, খালেদা জিয়ার পরিবার-পরিজন, বিশেষ করে তার পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তারেক রহমান, পাশাপাশি তার সহকর্মী ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা। একইসঙ্গে তার
বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া
ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বেগম
জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা
গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।
উল্লেখ্য,
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া,
কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া।
এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য়
বন্দি রাখা হয়।
আওয়ামী
লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার
সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।
এরমধ্যে
২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত
সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে
ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো.
সাহাবুদ্দিন।
এরপর
উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে
অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে
নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।
বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।
সবশেষে
গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়
তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সন্ত্রাসীদের গুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহানেসবার্গে লিটনের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে।
গুলিতে নিহত নুরুল হুদা লিটন (৩২) দাগনভূঞা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড পূর্ব জগতপুর গ্রামের লাল মোহাম্মদের বাড়ির এবাদুল হকের ছেলে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবাদল হকের তিন ছেলে ৩ মেয়ের মধ্যে লিটন ছিলেন সবার বড়। মেজ ভাই সৌদি আরবে এবং ছোট ভাই মিঠু দক্ষিণ আফ্রিকা তার সঙ্গে ছিলেন।
গুলিতে নিহত নুরুল হুদা লিটন এর চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সবুজ জানায়, শুক্রবার রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ শেষে গাড়িতে উঠতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে লিটনের মৃত্যুর খবর পেয়ে। তার মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক
উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায়
পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি
মনে করেন, ওই পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’
সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে
‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে।
বিরোধীদলীয়
নেতা শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে এ বিষয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি লেখা একটি চিঠি পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক
সম্পর্ক উন্নয়নে তার দক্ষতা ও পেশাদার নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ,
আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাংলাদেশ তথা রাষ্ট্রের জন্য দ্বিপক্ষীয়
সম্পর্ক বিচক্ষণতার সঙ্গে জোরদার করতে সক্ষম হয়েছেন।
নিজের
পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের প্রস্তাবকে ‘নতুন’
ও ‘অভিনব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার মতে, অধ্যাপক
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের পদায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’
বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা
করা যাবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
কাছে শফিকুর রহমান লিখেন, ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি একসঙ্গে পরিচালনার
জন্য পদায়নটি সরকারের কাছে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করছি।
মন্তব্য করুন


ছাত্র আন্দোলনে আহতদের মধ্যে ১০০ জন
পুলিশের চাকরি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সিআইডির প্রধান
কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সিআইডিতে
আজকে আমার একটা নরমাল ভিজিট ছিল। আমার সঙ্গে আইজিপি ছিলেন। আমরা অনেক বিষয়ে কথা বলেছি।
আপনারা জানেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেকে নিহত এবং আহত হয়েছেন। যারা আহত
হয়েছেন তাদের কর্মসংস্থানের একটা ব্যবস্থা কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা এই বিষয়ে একটা প্রপোজাল পাঠিয়েছি। যারা আহত হয়েছে তাদেরকে পুলিশে
চাকরি দেওয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাইকেতো আর পুলিশে নেওয়া যাবে না, তবে একেকজন একেকভাবে
আহত হয়েছেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আহতদের মধ্যে ১শ’ জনকে আমরা পুলিশ বাহিনীতে নিব।
আমরা দ্রুত এই বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করব। আমরা আপাতত ১শ’ জন আহতকে দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি,
পরবর্তীতে আমরা এই সংখ্যাটা আরো বাড়াব। আমরা আপাতত পুলিশে শুরু করছি পরবর্তীতে আমরা
আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সকল ডিপার্টমেন্টে এটা করে দিব। ট্রাফিক ব্যবস্থার একটা সমস্যা রয়ে
গেছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আমরা এক হাজার ছাত্রকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রপোজাল পাঠিয়েছিলাম।
এখন পর্যন্ত ৪শ’ জন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আরো একটি প্রপোজাল পাঠিয়েছিলাম
যে, বিভিন্ন বাহিনীতে যারা অবসরে গিয়েছেন তাদের নিয়োগ দিয়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলায় নিয়োজিত
করা। তবে অবসরপ্রাপ্তরা এই বিষয়ে রেসপন্স খুব কম দিয়েছেন। আমি ভেবেছিলাম তারা অনেকে
আসতে চাইবে। তবে আমরা আপাতত ৫০-৬০ জনের মত পেয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম অন্তত ৫শ’ জন দিয়ে
শুরু করি।
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সঙ্গে ট্রাফিক
ব্যবস্থাপনার বিষয়টা কেমন হবে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা যেন পড়াশোনা
ঠিক রাখতে পারে সেজন্য তাদেরকে আমরা সময়টা কম দিয়েছি। তারা যেন পড়াশোনাও করতে পারে
এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। তাদের সম্মানী দেওয়া হচ্ছে।
তারা রাস্তায় ২-৩ ঘণ্টা কাজ করবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের
আমলে সব থেকে বড় সমস্যা ছিল মানি লন্ডারিং। মানি লন্ডারিং নিয়ে আমি সিআইডি প্রধানকে
সব থেকে বেশি ইন্সট্রাকশন দিয়েছি। আমি সিআইডি প্রধানকে বলেছি যে, তিনি যেন দ্রুত বাংলাদেশ
ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনার প্রতিবেদন দেন। বিগত সরকারের আমলে মানি লন্ডারিং সব
থেকে বেশি হয়েছে। আমি সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছি মানি লন্ডারিং এর মামলাগুলোর প্রতিবেদন
যেন দ্রুত দেয়া হয়। তদন্তের
নামে সময়ক্ষেপন করে লাভ নেই। আমি একটা রিপোর্ট চাই যে কারা কারা মানিলন্ডারিং এর সঙ্গে
জড়িত। সেটা আমি সিআইডিকে বলেছি। যদি তদন্তের নামে দুই তিন বছর চলে যায় তাহলে তো এটার
কোন কার্যকারিতা থাকে না।
মন্তব্য করুন