

যে
সমস্ত জেলা থেকে বেহেশতিরা টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিত হয়েছেন, সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলোতেই
কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার
(২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া বাবনপুর
গ্রামে চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি
সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী
বলেন, সার নিয়ে সংকট আছে বলে আমি মনে করি না। যে সমস্ত জেলা থেকে বেহেশতিরা টিকিট বিক্রি
করে নির্বাচিত হয়েছেন, সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলোতেই কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে। চট্টগ্রাম
বিভাগের কোনো জেলায় সারের সংকট হয়নি।
এলজিআরডি
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট,
সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, নড়াইল জেলায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এসব জেলা থেকে
কোন দলের নেতারা নির্বাচিত হয়েছে তা সবাই জানে। সারের সংকট বগুড়াতে নেই, রাজশাহীতে
নেই, পাবনা-নাটোরে নেই। সিলেট বিভাগেও নেই।
মীর
শাহে আলম বলেন, মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিএনপি সরকার জনগণের জন্য যে সুন্দর কর্মসূচিগুলো
নিয়ে আসছে, সেই কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবার জন্য এবং দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ
তৈরি করবার জন্য, বাইরের কোনো দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য, অযৌক্তিকভাবে কোনো উদ্দেশ্য
ছাড়া তারা এই কর্মসূচিগুলো নিচ্ছে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তেল-গ্যাসের
সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা
হয়েছে। কারণ তেল ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছিলো। মূল্য বৃদ্ধির পরও ভারতের সঙ্গে দামে সমান
হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, বিশ্বে তেলের মূল্য কমে গেলে দেশেও দাম
কমানো হবে।
লং
মার্চ করে যদি তেল, গ্যাসের সমস্যা সমাধান হতো, তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সবচেয়ে বড় লং মার্চ করতেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সমস্যা
সমাধানের জন্য সুচিন্তিত মতামত থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করুন। তাদের সংসদের কথা
বলার সঙ্গে রাজপথে কথার কোনো মিল নেই। তারা সংসদে বলে, বিএনপি তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের
সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এরপর পল্টন ময়দানে এসে বলে- তেল দে, গ্যাস দে, নইলে
গদি ছেড়ে দে।
এ
সময় সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর জেলা প্রশাসক
ইসরাত জাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ, শহীদ
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন