

রাজধানীর
পূর্বাচলের সংবর্ধনাস্থলে নির্ধারিত ভাষণ শেষে এবার মা-কে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালের
উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার
(২৫ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ৪টার দিকে মঞ্চ থেকে নেমে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এর
আগে, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১.৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি
ঢাকার মাটিতে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার পূর্বে তারেক রহমান জুতা
খুলে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন। এরও আগে গতকাল তারেক রহমান
তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর
থেকে রওনা হন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন লন্ডন বিএনপির কয়েকজন নেতাও।
মন্তব্য করুন


নবনির্বাচিত
সরকার শপথ নেওয়ার পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পুলিশ পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত
সহায়তামূলক ভূমিকায় সেনাবাহিনীর একটি অংশ মাঠে মোতায়েন থাকবে।
গতকাল
সোমবার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি ) বেলা ১১টায় আয়োজিত ‘সিএএস দরবার’-এ
সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৫
মিনিটের ও অনুষ্ঠানে দেশে কর্মরত সদস্যদের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত
সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
নির্বাচনি
দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন
সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে সেনাবাহিনী যে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব
পালন করেছে, তা দেশের মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়
সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল
রাখতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশ ও জনগণ সেনাবাহিনীর এ সেবাকে স্মরণ
রাখবে।
সেনাপ্রধান
জানান, সংবিধান ও বেসামরিক প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সেনাবাহিনী দায়িত্ব
পালন করে আসছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন,
নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন। তিনি সেনাসদস্যদের ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারত্ব
বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
বিভিন্ন সড়ক থেকে বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো বিজ্ঞাপন এবং ব্যানার
দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি
বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে হাতির ঝিলে পুলিশ প্লাজার
সামনে তাঁর ছবি সম্বলিত ব্যানার এখনই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সেটা তৎক্ষণাৎ সরানো
হয়।' এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির
যেসব বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে সেগুলোও দ্রুত অপসারণ করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। কয়েকদিন আগেও বিজয় সরণীর সড়ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময়ে একটি এলইডিতে
অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল সেটা দেখে তিনি তখনই তা অপসারণের নির্দেশনা
দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার
প্রধানমন্ত্রী অফিস করেছেন সচিবালয়ে। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অফিসে আসেন।
দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল
জিয়াউল হক।
অতিরিক্ত
প্রেস সচিব বলেন, ‘উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, ডাকাতি, অবৈধ পাচার ও মৎস্য
সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা
দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।'
ট্রাফিক
সিগন্যাল মেনে চলায় রাজধানীর সড়কে যান চলাচলের গতি বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব
আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি
বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কে যানবাহন চলাচলের
গতি প্রকৃতি কেমন এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আজ উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিভিআইপি প্রটোকল
ছাড়া চলাচলের কারণেই যানবাহনের গতি ১ কি.মি.বেড়েছে। '
তিনি
আরো বলেন,‘রাজধানীতে আগে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ছিলো ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার যা কিনা
পায়ে হাঁটা গতির সমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনাব তারেক রহমান দায়িত্বভার গ্রহণের পরে
তিনি ভিভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন।’
প্রতিবেদনে
গত ১৪ দিনের একটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে যে ভিভিআইপি প্রটোকলে যানচলাচল বাধাগ্রস্ত
না হওয়ায় যানবাহনের গতি ৫ দশমিক ৩ কিলো মিটারে উন্নীত হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর পর
রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ট্রাফিক সিগন্যাল অনুসরণ করছেন।'
প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন। এদিকে মোটা চালের মূল্য
বাড়ার খবর শুনেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ
দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অতিরিক্ত
প্রেস সচিব বলেন, ‘গতকাল খুচরা বাজারে মোটা চালের মূল্য বাড়ার সংবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে
নির্দেশ দেন। এরফলে তাৎক্ষণিক এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা গেছে।'
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়ার মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় শুরু হয় রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং কুমিল্লা নিয়ে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের স্বপ্ন–ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম।
আজ শনিবার (৬ নভেম্বর) বিকালে নগরীর নূরপুর জামে মসজিদে আছরের নামাজ শেষে দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। পরে নূরপুর, হাউজিং ও কাটাবিল এলাকা ঘিরে এই কর্মসূচি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
দোয়া শেষে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং কুমিল্লা-৬ আসনের জননেতা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন লিফলেট বিতরণ শুরু করেন। তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই গণমুখী কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায় এবং সড়কে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ লিফলেট গ্রহণ করতে এগিয়ে আসেন।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং কুমিল্লা-৬ আসনের জননেতা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন,“মনোনয়ন নিয়ে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমি বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কারণ আমি আমার জীবনের বাকি সময়টা এই অঞ্চলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেই থাকতে চাই।
অতীতের কঠিন সময়ে তারা যেমন আমার পাশে ছিলেন, আমিও তেমনি তাদের পাশে ছিলাম—এ সম্পর্ক আস্থার, ত্যাগের এবং আন্দোলনের। মামলা-হামলা, জুলুম-নির্যাতন—সব প্রতিকূল সময় আমরা একসঙ্গেই অতিক্রম করেছি।
তিনি আরও বলেন,“দলীয় মনোনয়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নেত্বত্বে থাকা দায়িত্বশীলরা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখছেন বলেও আমাকে জানিয়েছেন। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল—এখানে জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। জনগণ যা চাইবে, বিএনপিও সেই পথেই চলবে।”
দিনব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এস এ বারী সেলিম,কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ রতন, আতাউর রহমান ছুটি, মাহাবুবুর রহমান দুলাল, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান কামাল, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ, কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিরুল পাসা সিদ্দিকী রাকিব, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, আসিফ মাহমুদ জহির, সালমান সাঈদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এ কে এম শাহেদ পান্না, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মহরম, কুমিল্লা মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক কাজী শাহিনুর, সদস্য সচিব ইকরাম হোসেন তাজ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা,
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জোবায়ের আলম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ধীমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন রবিন, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম চেয়ারম্যান, মহানগর যুবদল নেতা মনছুর নিজামী, মশিউর রহমান সজিবসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং কৃষকদলের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গণবিতরণ কার্যক্রমে যুক্ত হন।
নূরপুর, হাউজিং এবং কাটাবিল এলাকায় লিফলেট বিতরণের স্থানীয় দোকানদার, পথচারী, রিকশাচালক, শিক্ষার্থীসহ সবাই লিফলেট হাতে নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


বেলস
পার্ক মাঠে আজ বুধবার ( ০৪ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরের রোদে মানুষের ভিড় জমেছিল অনেক আগেই।
বেলা ঠিক সাড়ে ১২টার কিছু পরে মঞ্চে উঠতেই করতালি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনসভা।
প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান
তারেক রহমান। হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দিলেন, তারপর শুরু করলেন দীর্ঘ বক্তব্য। মূল
সুর একটাই, নারীর সম্মান, স্বাধীনতা আর রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা।
কারো
নাম সরাসরি না করেই তারেক রহমান অভিযোগ তুললেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী
অর্থাৎ নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। তার ভাষায়, ‘সেই দলের এক নেতা প্রকাশ্যেই
বলেছেন, তারা কোনোভাবেই নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না।’
জনসভায় এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়।
ইঙ্গিত
স্পষ্ট, যদিও তিনি দলটির নাম উচ্চারণ করেননি।
বক্তব্যে
আরো কড়া হন বিএনপির চেয়ারম্যান। বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মসংস্থানে
যাওয়া নারী ও মা-বোনদের নিয়ে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা লজ্জাজনক।’
তার মতে, এই মন্তব্য শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।
তারেক
রহমানের অভিযোগ, যে দলটি সকাল-বিকাল জনগণের সামনে মিথ্যা কথা বলছে, নারীদের হেয় করছে,
তারাই এখন নানাভাবে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। কারণ মানুষ তাদের কথাবার্তা আর কাজকর্মের ফাঁকফোকর
ধরে ফেলেছে। সে কারণেই দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক
রহমান।
বক্তৃতার
একপর্যায়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘দেশের লাখ লাখ নারী পোশাকশিল্পে
কাজ করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন।
নিম্ন
ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী আজ দ্রব্যমূল্যের চাপে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি
কাজ করছেন। অথচ সেই নারীরাই আজ অসম্মানিত হচ্ছেন।’ এই দ্বিচারিতাই তার মতে সবচেয়ে বিপজ্জনক।
ধর্মীয়
উদাহরণ টেনে তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী হজরত
বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। এরপর প্রশ্ন তোলেন, ‘যে দলটি নির্বাচনের
আগেই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের ভেতর বন্দি রাখতে চায়, অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার
করে, তারা ক্ষমতায় এলে নির্বাচন-পরবর্তী আচরণ কেমন হতে পারে।’
সাম্প্রতিক
বিতর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের মন্তব্য নিয়ে যখন সমাজজুড়ে তীব্র সমালোচনা
শুরু হলো, তখন সংশ্লিষ্টরা দাবি করলেন, তাদের আইডি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা
স্পষ্ট বলেছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কথা নয়।’ তার কটাক্ষ, ‘এদের একটাই পরিচয়, এরা
মিথ্যাবাদী। নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলতে তারা দ্বিধা করে না, আর দেশদরদি হওয়ার প্রশ্নই
ওঠে না।’
জামায়াতে
ইসলামীর উদ্দেশে আরো সরাসরি আক্রমণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তার অভিযোগ, ‘দলটি ধর্মকে
ব্যবহার করে কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ধর্মের ব্যাখ্যাও
নিজেদের মতো করে নেয় তারা।’
বক্তব্যের
শেষদিকে ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা প্রায়
২০ কোটি, যার অন্তত অর্ধেক নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে কোনো বড় পরিকল্পনাই
সফল হতে পারে না।’
বিএনপি
সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান। সেই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী
করে তোলাই লক্ষ্য, যাতে নারী সমাজ কারো মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর যোগ্যতার বিষয়টিকে নিজ দপ্তরে তুলে
ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ঢাকার প্রার্থিতাকে
যুক্তরাজ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করবে বলেও আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সারাহ কুক
এ প্রতিশ্রুতি দেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ
অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্দো-প্যাসিফিক
সীমা মালহোত্রাকে পাঠানোর জন্য যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানান।
এ
সময় উভয় পক্ষ দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, দৃঢ় জনসম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত
বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়কে নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে
গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
দুই
নেতা শিক্ষা, অভিবাসন, নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয়
সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধান নিয়ে আলোচনা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্যান্য
আন্তর্জাতিক ফোরামে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি
২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের
প্রার্থিতার প্রতি লন্ডনের সমর্থনও কামনা করেন।
ব্রিটিশ
হাইকমিশনার আশ্বাস দেন যে, তিনি বাংলাদেশের প্রার্থীর যোগ্যতার বিষয়টিকে যুক্তরাজ্যের
সদর দপ্তরে তুলে ধরবেন এবং প্রার্থিতাকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
বৈঠক
শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সারাহ কুক বলেন, ‘আমি মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে
অত্যন্ত ভালো একটি বৈঠক করেছি। তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য
অভিনন্দন জানিয়েছি।
তিনি
আরো বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের
গভীরতা ও দৃঢ়তা পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
তিনি
জানান, বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সারাহ
কুক বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারের সমর্থনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, নিরাপত্তা,
জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা
করেছি।’
দীর্ঘস্থায়ী
সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সারাহ কুক আরো বলেন, ‘আপনারা জানেন, বাংলাদেশের সঙ্গে
যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং দেশটির এই নতুন অধ্যায়ে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে
একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’
এর
আগে দিনের শুরুতে হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ
করেন এবং দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা
বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।
উভয়
পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং
দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত
রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের
জুনের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি
ইলেকশনস (এএনএফআরইএল)-কে আশ্বস্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার
ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এএনএফআরইএল এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা
এবং দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক মাইলফলক।
এএনএফআরইএল
প্রতিনিধিদলে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোসালেস, বাংলাদেশ নির্বাচন ও গণতন্ত্র
কর্মসূচির পরামর্শক মে বুটয়, প্রচারাভিযান ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম
কর্মকর্তা থারিন্ডু অ্যাবেইরাথনা, প্রোগ্রাম অফিসার আয়ান রহমান খান এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট
আফসানা আমেই।
প্রধান
উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ কথা জানান।
এএনএফআরইএল
হলো নাগরিক সমাজের একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক যা এশিয়ায় গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার
উন্নয়নে নিবেদিত, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার
এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে,
এএনএফআরইএল প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ বিশেষ করে নাগরিক সমাজের-নেতৃত্বাধীন
স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কাঠামো পুনর্গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদলটি
অংশীজন ম্যাপিং এবং চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের সম্পৃক্ততা জোরদার এবং নির্বাচনী
স্বচ্ছতা বৃদ্ধির সুযোগ চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা করে।
এএনএফআরইএল
প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ এবং বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে
চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কমনওয়েলথের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়ের সঙ্গে তার বৈঠকে এ অনুরোধ জানান তিনি।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত করা এবং নির্বাচন কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যাবশ্যক—বিশেষ করে কমনওয়েলথের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধের জবাবে মহাসচিব বচওয়ে আশ্বস্ত করে জানান, নির্বাচন এবং এর পরবর্তী উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে কমনওয়েলথ সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, ৫৬ সদস্যের এই সংগঠন—যার মধ্যে জি–৭ ও জি–২০–এর দেশও রয়েছে—একসঙ্গে কাজ করার বিস্তর সুযোগ তৈরি করে।
এছাড়া তিনি জানান, বাংলাদেশ সফরে তিনি প্রধান বিচারপতি, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার কথায়, বাংলাদেশের আগামীর যাত্রা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু করেছে কমনওয়েলথ।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষা
করেছে ২০২৪ সালের ছাত্রদের আন্দোলন। এর মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে। যেমন,
শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন, চিকিৎসা সুবিধা যেন সবাই পায়, রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে
পারে, যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
রোববার
(২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় চট্টগ্রামে নগরীর পলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক
রহমান বলেন, সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হবে না। মানুষ পরিবর্তন
ও রাজনৈতিক অধিকার চায়। আমাদের দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমালোচনার
মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হবে না।
চট্টগ্রামে
জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে খালেদা
জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এ চট্টগ্রামের সঙ্গে আমি এবং আমার পরিবারের আবেগের
সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধা
পায়।
বিএনপি
চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একমাত্র দল, যারা যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের মানুষের
ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই বিএনপির রাজনীতির
মূল লক্ষ্য। সরকার গঠনে সমর্থ হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা স্বাস্থ্যসেবা
মানুষের ঘরে পৌঁছে দেব। সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে।
কৃষক
ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে
হলে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ জন্য কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য আমরা কৃষক ও
কৃষাণীদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ওই কার্ড ব্যবহার করে তার স্বল্পমূল্যে
ঋণ নিতে পারবে।
নারীকে
কর্মহীন রেখে দেশকে প্রত্যাশিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,
খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিল তখন মেয়েদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা বেতনে করা
হয়েছিল। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। গ্রামগঞ্জসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের
কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যে পরিকল্পনা গ্রহণ
করেছে, সরকারে গেলে ধীরে ধীরে সেগুলো বাস্তবায়ন করব। পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন করতে
হয় তাহলে বিএনপিকে সরকার গঠন করতে হবে। আপনারা বিএনপির পাশে থাকেন।
বিএনপি
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও
খাল খনন করবে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির
টুঁটি চেপে ধরবে বিএনপি সরকার। অপরাধী যেই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি সরকার গঠন
করলে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।এর আগে দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে চট্টগ্রামে
পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশস্থলে তারেক রহমানের গাড়ি প্রবেশ করে। কঠোর নিরাপত্তার
মধ্যে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে মুহুর্মুহু করতালিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। হাস্যোজ্জ্বল
বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে নেতাকর্মী-সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এটি তারেক রহমানের
নির্বাচনী প্রচার দ্বিতীয় পর্ব; গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু
করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
মন্তব্য করুন


ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে কয়েকজন বহিরাগতকে কান ধরে উঠবস
করানোর ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র
চাকমা। একই সঙ্গে ডাকসু থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কয়েকজন
বহিরাগতকে কান ধরে উঠবস করাচ্ছেন ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমা—সোমবার
এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও
সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এরপরই
দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে পৃথক দুটি স্ট্যাটাস পোস্ট দিয়ে এ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ
করেন তিনি এবং ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান সর্বমিত্র।
একটি
পোস্ট তিনি লিখেছেন, আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ,
অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব
গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ
এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড,
সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই _ নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা
থেকে শুরু করে মোবাইল-মানি ব্যাগ চুরি - সাইকেল চুরি সহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। এদিকে
ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার
শিকার হয়।
তিনি
আরও লিখেন, ডিএমসি সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে
ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে বহিরাগতরা। কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গত মাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের
ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়, আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার
মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা
দেওয়া সম্ভব নয়। আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন
জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু,
যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি
মোকাবেলায়-নিরাপত্তা বিধানে। যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে।
আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।
শেষে
তিনি লিখেন, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে
এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিক্টোরিয়া কলেজের একজন শিক্ষার্থীর মার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্টার্নি ডাক্তার,
ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত প্রায় এগারটায় সংবাদ পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ওই সময় উত্তেজিত সংঘর্ষকারীরা সেনাবাহিনীর দিকে ধেয়ে আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য
সেনাবাহিনী ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে উত্তেজিত লোকদের ছাত্র ভঙ্গ করে।
এতে করে দুই পক্ষের লোকজন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পন্ন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্তব্য করুন