

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে আজ মঙ্গলবার মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে মিলিত হবেন। যদিও হোয়াইট হাউজের বাইরে কয়েকজন মুসলিম নেতা ইতিমধ্যে ইফতার অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইফতারের আগে জো বাইডেন মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জিন-পিয়েরে। তিনি এটিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জিন পিয়েরে বলেন, আমরা মুসলিম সম্প্রদায়ের সবাইকে ইফতার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুরোধ করবো। এখানে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর অনুরোধ করছি.প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে অনুষ্ঠানটিতে আরো যোগ দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, বাইডেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মুসলিম কর্মকর্তারা এবং জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যরা।
যদিও বাইডেনের এ ইফতার আয়োজনের প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ হোয়াইট হাউজের বাইরে একই ধরনের একটি ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা এ অনুষ্ঠানের নাম দিয়েছে ‘পিপল সিজফায়ার নাউ ইফতার।’
প্রতিবাদ অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন, ‘অর্গানাইজেশন ইউথ অ্যামেরিকান মুসলিম ফর পিস’, দ্য কাউন্সিল অন অ্যামেরিকান-ইসলামিক রিলেশন, ইসলামিক সার্কেল অফ নর্থ অ্যামেরিকা, মুসলিম অ্যামেরিকান সোসাইটি, প্যালেস্টাইন ইউথ মুভমেন্ট, কোড পিঙ্ক। তারা অবিলম্বে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকরে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হোয়াইট হাউস গোপনে ইসরায়েলকে ২ হাজার পাউন্ড বোমা ও বিমানসহ একটি নতুন সামরিক সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অবরুদ্ধ গাজায় স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির আহ্বানকে বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। বাইডেনের এমন পদক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা আরো বিক্ষুব্ধ হচ্ছিলো এবং তারা বারবার যুদ্ধ বিরতির দাবি জানিয়ে আসছিলো।
উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা করা হয়। এবং প্রায় ২০০ ইসরায়েলিকে অপহরণ করে গাজায় নিয়ে যায়। ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার।
ইসরায়েল গাজায় একটি সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করেছে। ফলে উত্তর গাজার বাসিন্দারা অনাহারে আছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রবেশের ক্ষেত্রেও ইসরায়েল কড়াকড়ি আরোপ করেছে।ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে, যা গত সপ্তাহে তেল আবিবকে গাজায় দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ ৯২ জন নোবেল বিজয়ী। এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ১০৬ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের নেতারা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার ফেসবুকে চিঠিটি শেয়ার করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীরা বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশের জনগণের মতো ড. ইউনূসও স্বৈরাচারিতার শিকার। আজ গণতান্ত্রিক এবং ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ফলশ্রুতিতে স্বৈরাচার উৎখাত হয়েছে। ড. ইউনূস যেমনটা বলেছেন, বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় স্বাধীনতা উপভোগ করছে এবং জাতি হিসেবে তার পূর্ণ সম্ভাবনা পূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যাপক ইউনূসকে সমর্থন করতে পেরে গর্বিত। এটা বাংলাদেশের নতুন সূচনা এবং এই নতুন সময়ে আমরা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বাংলাদেশের জনগণের শান্তি ও সাফল্য কামনা করি। একটি নতুন এবং উন্নত সমাজ তৈরিতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি এবং যেকোনো প্রয়োজনে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।
ড. ইউনূসকে দেওয়া শুভেচ্ছা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ শান্তি, চিকিৎসা, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, অর্থনীতি ও সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ৯২ জন। এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ১০৬ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
মন্তব্য করুন


তাইওয়ানে ২০০টিরও বেশি
ভূমিকম্প (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৩ মাত্রার
শক্তিশালী ভূমিকম্পও ছিল।
আজ (মঙ্গলবার) ভোরে
হুয়ালিয়েনের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ৩ এপ্রিল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একটি
হোটেল আবারও কিছুটা ঝুঁকেছে। তবে তাতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুটি টেকটোনিক প্লেটের
সংযোগস্থলের কাছেই তাইওয়ানের অবস্থান। এ কারণেই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ।
ভূমিকম্পগুলো হুয়ালিয়েনের
বৃহত্তর গ্রামীণ পূর্ব কাউন্টিতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এর আগে, গত ৩ এপ্রিল সেখানে
৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকে তাইওয়ানে
শত শত আফটারশক হয়েছে।
২০১৬ সালে তাইওয়ানের
দক্ষিণাঞ্চলে শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। ১৯৯৯ সালে সেখানে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার
ভূমিকম্পে দুই হাজারেরও বেশি লোক নিহত হন।
মন্তব্য করুন


থাইল্যান্ড,কুয়েত, সুইজারল্যান্ড, ও পোল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
মঙ্গলবার রাতে এসব নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
আদেশে বলা হয়েছে, মেজর জেনারেল মো. আশিকুজ্জামানের অবসর উত্তর ছুটি এবং এ সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিত করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ১৭ নভেম্বর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য তাকে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাইকে তার অবসর উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা স্থগিত এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ২৯ ডিসেম্বর অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় মাস মেয়াদে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুফিউর রহমানকে ১ ডিসেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে স্থায়ী প্রতিনিধি ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভা দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা সুলতানা লায়লা হোসেনের অবসর উত্তর ছুটি এবং এ সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিতের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ২৫ ডিসেম্বর বা যোগদানের তারিখ থেকে ছয় মাসের জন্য পোল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ঢাকায়
এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিষয়ক একটি
প্রতিনিধি দল।
আজ শুক্রবার (২২ নভেম্বর) প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছেছে।
মার্কিন
প্রতিনিধিদল আগামী
২২-২৫
নভেম্বর ঢাকা
সফর করবে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক শ্রম
বিষয়ক বিশেষ
প্রতিনিধি কেলি
এম ফে
রদ্রিগেজ। এছাড়া
রয়েছেন শ্রম
বিভাগের ডেপুটি
আন্ডার সেক্রেটারি থিয়া লি।
ঢাকা
সফরের প্রথম
দিনে বাংলাদেশের শ্রমিক সংগঠন সলিডারিটি সেন্টারের নেতাদের সঙ্গে
বৈঠক করেছেন
তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের পোশাক শ্রমিক এবং
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে দেখা
করবেন।
প্রতিনিধি দলটি তৈরি পোশাক
খাতে বিনিয়োগ করা আমেরিকান কোম্পানির প্রতিনিধি এবং বৈশ্বিক
শ্রম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র এবং শ্রমিকদের কীভাবে সর্বোত্তমভাবে সহায়তা
করা যায়
সে বিষয়ে
আলোচনা করবে।
এ সফর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত
শ্রমের মান,
সে সঙ্গে
টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং ব্যাপকভাবে ভাগাভাগি করা সমৃদ্ধির উন্নতি-অগ্রগতির জন্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর
দেয়।
মন্তব্য করুন


হজের জন্য সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৬ হাজার ৯৮৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) হজ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবে আসা সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৩ হাজার ৭৪৭ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৩৩ হাজার ২৪২ জন।
সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রদত্ত স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র নিয়েছেন ৫ হাজার ৪৬৪ জন। সৌদি আরবের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রদত্ত সার্ভিস সংখ্যা ৫ হাজার ৭০৮টি।
সর্বমোট ইস্যুকৃত ভিসা ৮৪ হাজার ৩১৮টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ভিসা ৯৭ শতাংশ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ভিসা ৯৯ শতাংশ। সৌদি আরবে মারা গেছেন ৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী।
মন্তব্য করুন


ঢাকায়
নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এসওয়াই রমাদান বাংলাদেশের জনগণকে তাঁর দেশের
মানুষের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
গাজায়
মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘খাবার নেই, ওষুধ নেই। শিশুরাই সবচেয়ে
বড় ভুক্তভোগী।’
আজ
রোববার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত
বলেন, বাংলাদেশ সরকার ফিলিস্তিনের জন্য বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। বহু বাংলাদেশি
সেখানে খাদ্য ও ওষুধের জন্য অর্থ পাঠাচ্ছেন। আমাদের জনগণ জানে, এই সাহায্য বাংলাদেশ
থেকে আসছে। আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।
রাষ্ট্রদূত
রমাদান ফিলিস্তিনকে সমর্থন জানানোয় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে ইসরায়েলের
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’
মানচিত্র নিন্দা করতে অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন।
তিনি
বাংলাদেশকে ফিলিস্তিনি পণ্য আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত
রমাদান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং এর সাফল্য কামনা করেন।
প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত
করেন। তিনি বলেন, আমাদের জনগণ আপনাদের পাশে আছে। সরকারও তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
তিনি
আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে আরও অনেক দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে এবং শেষ পর্যন্ত
একটি কার্যকর দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান প্রতিষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি
সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও বিভিন্ন বিষয়ে ঢাকার
সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে।
ঢাকায় মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স
হেলেন লাফেভ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে
সাক্ষাৎকালে এসব প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায়
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মার্কিন কূটনীতিক
এ মন্তব্য করেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়।
মার্কিন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স বলেছেন-
তার দেশের সরকারপ্রধান উপদেষ্টাকে অভিনন্দন জানাতে পেরে খুশি এবং একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে
কাজ করার জন্য উন্মুখ। ভিসা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রয়াসে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস
এই সপ্তাহে তাদের কনস্যুলার পরিষেবা পুনরায় চালু করবে। হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে। যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্য, শিক্ষা,
শ্রম, শাসন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ওয়াশিংটন রোহিঙ্গাদের মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসন শুরু করেছে এবং তিনি আশা করেছিলেন যে প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত
হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের মানবিক
প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় অবদানকারী এবং মার্কিন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স বলেছেন, মার্কিন
অর্থায়নের পরে এই বছর রোহিঙ্গাদের মাসিক খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তিনি
রোহিঙ্গাদের জন্য জীবিকার সুযোগেরও আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস কক্সবাজারের
ক্যাম্পে বসবাসকারী ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য অব্যাহত অর্থায়নসহ বাংলাদেশকে সমর্থন
করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান উপদেষ্টা তাকে জানান, অন্তর্বর্তী
সরকারকে গভীর সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একটি যুক্তিসঙ্গত সময়ের পরে সাধারণ
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে বন্যা
মোকাবিলায় দাতাদের মধ্যে একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মের আহ্বান
জানিয়েছেন। মানির্ক চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শ্রমিক ও সংখ্যালঘু বিষয় নিয়ে কিছু উদ্বেগ
উত্থাপন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিটি
নাগরিক সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত এবং অন্তর্বর্তী সরকার সব নাগরিকের মানবাধিকার সমুন্নত
রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবাধিকার ইস্যু, সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং র্যাপিড অ্যাকশন
ব্যাটালিয়নও আলোচনার সময় উঠে এসেছে।
মার্কিন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স বলেছেন,
তার সরকার দেশে ন্যায্যবিচার নিশ্চিত করার প্রয়াসে বাংলাদেশকে একটি প্রসিকিউটরিয়াল
সার্ভিস গঠনে সহায়তা করার চেষ্টা করছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার বাংলাদেশের কর্মকর্তা, এনজিও এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে
বাকুতে কপ২৯ সম্মেলনে দেশের জলবায়ু সংকটের উদ্বেগ তুলে ধরতে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালাতে
বলেছেন।
জাতিসংঘের
বার্ষিক জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে আজারবাইজানের রাজধানীতে
পৌঁছার পরপরই বাকুতে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি
বাকুর একটি হোটেলে সমন্বয় সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে বলেন, আমাদের প্রধান প্রচেষ্টা
হবে আমাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলি কপ২৯-এর চূড়ান্ত ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত করা’।
বৈঠকে
পরিবেশ সচিব ফারহিনা আহমেদ সম্মেলনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান
সম্পর্কে কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
তিনি
বলেন, বাংলাদেশ শীর্ষ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষতি ও প্রশমন এবং শুধু রূপান্তর ও
অভিযোজন প্রক্রিয়াসহ সকল প্রধান ক্ষেত্রে আলোচনার জন্য নয়টি দল গঠন করেছে। বাংলাদেশের
অন্তত ২৯টি এনজিও এবং সুশীল সমাজ গোষ্ঠী কপ২৯-এ যোগ দিচ্ছে। গ্লোবাল নর্থের ধনী দেশগুলোর
আশ্বাস সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান এবং ২৫০ মিলিয়ন
মার্কিন ডলার ঋণ জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে পেয়েছে।
এর
আগে বিকেল ৫.১৫ মিনিটে স্থানীয় সময় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
বাকু পৌঁছান।
তিনি
আগামীকাল (মঙ্গলবার) কপ২৯-এর মূল শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন,পহেলা বৈশাখের মাঝে বাঙালি
খুঁজে পায় নিজস্ব ঐতিহ্য,সংস্কৃতি ও চেতনার স্বরূপ।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আজ দেয়া এক বাণীতে বলেন, শুভ
নববর্ষ-১৪৩১’ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির জীবনে পরম আনন্দের একটি দিন। আনন্দঘন
এই দিনে আমি দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বাংলা নববর্ষের
শুভেচ্ছা। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন ও আদর্শের
অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও জাতীয় চেতনার উন্মেষ। সেই চেতনায়
উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কারারুদ্ধ জীবনে সহবন্দিদের নিয়ে নববর্ষ উদযাপন
করেছিলেন। জাতীয় সংস্কৃতির এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতি হিসেবে বাঙালির জন্য
পরম গৌরব ও মর্যাদার।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন,পহেলা বৈশাখের মাঝে বাঙালি খুঁজে পায় নিজস্ব
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চেতনার স্বরূপ। দুঃখ, জরা, ব্যর্থতা ও মলিনতাকে ভুলে সবাই জেগে
ওঠে নব আনন্দে, নব উদ্যমে। বৈশাখের আগমনে বেজে উঠে নতুনের জয়গান। ফসলি সন
হিসেবে মোঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল,সময়ের সাথে আজ সমগ্র বাঙালির
অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের
আত্মবিকাশ ও বেড়ে ওঠার প্রেরণা। বৈশাখ শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।বাঙালি
সংস্কৃতির বিকাশ,আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিসাধনায় পহেলা বৈশাখ এক অবিনাশী শক্তি।
বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও গণতান্ত্রিক বিকাশে সংস্কৃতির এই শক্তি রাজনৈতিকতন্ত্রের
চেতনাকে দৃঢ় ও বেগবান করে।
"পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে উদার হতে শিক্ষা দেয় এবং একটি আদর্শ জাতিকে মানব সমাজের অনুপ্রাণিত হয়ে
বিশ্বমানবের সঙ্গে মিশে যাওয়ার শক্তি জোগায়। এই উদারনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে
বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আদর্শ এবং রাষ্ট্রভাষা চেতনার
বহ্নিশিখা অন্তরে ধারণ করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ
বিনির্মাণ হোক আজকের দিনে সকলের অঙ্গীকার।"
ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলে মিলে নাচ-গান, শোভাযাত্রা,
আনন্দ-উৎসব, হরেক রকম খাবার ও বাহারি সাজে বৈশাখকে বরণ করে নেয় উৎসবপ্রেমী বাঙালি
জাতি। নতুন বছরে যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত, গ্রামীণ খেলাধুলা, মেলাসহ
নানাবিধ বর্ণিল আয়োজন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ ও সম্প্রীতির নতুন
বার্তা।
রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা - সকল অশুভ ও অসুন্দরের ওপর সত্য ও
সুন্দরের জয় হোক। ফেলে আসা বছরের সব শোক-দুঃখ-জরা দূর হোক, নতুন বছর জাতীয় ও ব্যক্তিজীবনে
নিয়ে আসুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি।
মন্তব্য করুন


বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অর্থ আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরানোর কাজ শুরু করেছে সরকার।
এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বিএফআইইউ, পুলিশের সিআইডি ও দুদকের সহায়তায় আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ এবং বিদেশে পাচার করা অর্থ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে।
সরকার খুব শিগগির একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠন করবে, যারা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যাংকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করবে এবং ব্যাংকগুলোর
পুনর্গঠনের জন্য ছয় মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং বিদেশে পাচার করেছেন। এর সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলমান আছে। এই আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ লক্ষাধিক কোটি টাকার ওপরে বলে ধারণা করা যায়।
অর্থ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার সহায়তা চেয়ে ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে।
এ ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতিমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে
সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নতুন ব্যবস্থাপনা
কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা এসব অর্থের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয়ে অডিট কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের লক্ষ্য হলো সব আন্তর্জাতিক
মানদণ্ড পরিপালনে সক্ষম একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলা। তবে এই উদ্দেশ্য অর্জনের কার্যক্রম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা ও অর্থের প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার অর্থ আত্মসাৎকারীদের দেশি-বিদেশি সম্পদ অধিগ্রহণ ও বিদেশ থেকে ফেরত এনে ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে। ব্যাংকগুলোর এই পুনর্গঠন ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে সরকার বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক
মানের করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মন্তব্য করুন