

ভারতের মহারাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায়
এক নারী নিহত হয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায় ওই নারী গাড়ি পেছনে নিতে গিয়ে তা ৩০০ ফুট গভীর
খাদে পড়ে যায়, ফলে গাড়িটি বিধ্বস্ত হয় এবং মারা যান।
এনডিটিভির খবরে জানা যায়, ওই নারী,
শোয়েতা দীপক সুরবাসি (২৩), গাড়ি চালানো শিখছিলেন। তার বন্ধু সুরজ সানজাও মুলি (২৫)
ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন। দুই বন্ধু আরঙ্গাবাদ থেকে সুলিভানজান পাহাড় ভ্রমণে গিয়েছিলেন।
বেলা ২টার দিকে সুরবাসি গাড়ির চালকের আসনে বসেন এবং গাড়িটি পেছনে নিতে থাকেন। গাড়িটি
পর্বতের কিনার থেকে ৫০ মিটার দূরে ছিল। পেছনে নিতে নিতে দূরত্ব কমতে থাকে। ভিডিও ধারণকারী
বন্ধু তাকে গাড়ির গতি কমাতে সতর্ক করেন এবং ক্লাচ ধরার জন্য চিৎকার করেন। একপর্যায়ে
গাড়ি থামানোর চেষ্টা করতে তিনি দৌড়ে যান, কিন্তু ব্যর্থ হন। আর এই দুর্ঘটনায় শোয়েতা
নিহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িটি ৩০০
ফুট নিচে পড়ে যায়। ছবিতে গাড়িটির ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
সূত্র : এনডিটিভি
মন্তব্য করুন


পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য ‘শূন্য বর্জ্য ও শূন্য কার্বন’-এর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন জীবনধারা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
বুধবার (১৩
নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ২৯-এর ওয়ার্ল্ড লিডারস ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি আহ্বান করেন।
একটি নতুন পৃথিবী গড়ার লক্ষে তিনটি শূন্যভিত্তিক তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের কথাও উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের আরেকটি সংস্কৃতি গঠন করতে হবে। একটি ভিন্ন জীবনধারার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি পাল্টা সংস্কৃতি গড়তে হবে। এটি হবে শূন্য বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে। এ সংস্কৃতি নিত্য পণ্যের ব্যবহারকে সীমিত করবে, কোন বর্জ্য অবশিষ্ট রাখবে না। এ জীবনযাত্রাও হবে শূন্য কার্বনের ওপর ভিত্তি করে যেখানে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি থাকবে না, শুধুমাত্র পুনঃনবায়নযোগ্য শক্তি থাকবে। এতে এমন একটি অর্থনীতি হবে যা প্রাথমিকভাবে সামাজিক ব্যবসার মতো ব্যক্তিগত পর্যায়ে শূন্য মুনাফার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। সামাজিক ব্যবসার একটি বিশাল অংশ পরিবেশ ও মানবজাতির সুরক্ষায় মনোযোগ দেবে। সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জীবন কেবল সুরক্ষিতই হবে না, গুণগতভাবে উন্নত হবে। এটি যুবকদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজতর করবে। উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন শিক্ষার মাধ্যমে তরুণরা প্রস্তুত হবে। চাকরিপ্রার্থী তৈরির শিক্ষা উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক শিক্ষা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
পরিবেশের সুরক্ষার জন্য একটি নতুন জীবনধারার প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, নতুন জীবনধারা চাপিয়ে দেয়া হবে না, এটি হবে পছন্দ বেছে নেওয়া। তরুণরা সে জীবনধারাকে পছন্দ হিসেবে বেছে নেবে। প্রতিটি যুবক তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে। এগুলো হচ্ছে- শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শুধুমাত্র সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলার মাধ্যমে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ও নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত করার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব। প্রত্যেক মানুষ তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং সারাজীবন তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে থাকবে। এটি নতুন সভ্যতা গড়ে তুলবে। এটা করা যেতে পারে আমাদের যা করতে হবে তা হল এ গ্রহের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন জীবনধারা গ্রহণ করা যেখানে সবাই বসবাস করে। আজকের তরুণ প্রজন্ম বাকিটা করবে। তারা তাদের আমাদের গ্রহকে ভালোবাসে। আমি আশা করি আপনারা এ স্বপ্ন দেখায় আমার সাথে যোগ দেবেন। আমরা যদি একসাথে স্বপ্ন দেখি তবে তা সম্ভব হবে। জলবায়ু সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং সে কারণে মানব সভ্যতা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানুষ আত্ম-বিধ্বংসী মূল্যবোধের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আত্ম-রক্ষাত্মক ও আত্ম-শক্তিবর্ধক একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের জন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক ও যুব শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা, এই গ্রহের মানব বাসিন্দারা এই গ্রহের ধ্বংসের কারণ। মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করছে এবং তারা এমন একটি জীবনধারা বেছে নিয়েছে যা পরিবেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। তারা এটিকে একটি অর্থনৈতিক কাঠামো দিয়ে ন্যায্যতা দেয়, যা এ গ্রহ ব্যবস্থার মতো প্রাকৃতিক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অর্থনৈতিক কাঠামো সীমাহীন খরচের ওপর ভিত্তি করে চলছে। আপনি যত বেশি ব্যবহার করবেন তত বেশি প্রবৃদ্ধি পাবেন। যত বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবেন, তত বেশি অর্থ উপার্জন করবেন। সর্বাধিক মুনাফা অর্জনকে সিস্টেমের সবকিছুকে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভূমিকা পালনের শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন


এশিয়া কাপের চলমান আসরে ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্য নিয়ে সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছে এই দু’দল। তাই এ ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকবে। আর হেরে যাওয়া দলের ফাইনালে খেলার আশা কঠিন হয়ে যাবে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় মাঠে নামবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সুপার ফোরে উঠেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হারে তারা। ভারতের কাছে দুঃস্মৃতি ভুলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বলে জানান পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা।
তিনি বলেন, ‘ভারত ম্যাচ অতীত। এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ শ্রীলঙ্কা। এ ম্যাচে জিততেই হবে। ফাইনালে দৌড়ে ভালোভাবে টিকে থাকতে জয় ছাড়া অন্যকোনো পথ খোলা নেই। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’
২০২২ সালের এশিয়া কাপের পর আবারও টি-টোয়েন্টিতে দেখা হচ্ছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। মাঝে টেস্ট ও ওয়ানডেতে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ২৩ ম্যাচ খেলে পাকিস্তান ১৩টিতে এবং শ্রীলঙ্কা ১০টিতে জিতেছে।
সুপার ফোরের ম্যাচে রাতে মাঠে নামছে পাকিস্তান, মোবাইলে দেখবেন যেভাবে
আজ হারলে বাংলাদেশের ওপর ‘নির্ভর’ করবে শ্রীলঙ্কার ফাইনাল খেলা!
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে দু’বার দেখা হয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। দু’বারই জয় পেয়েছে লঙ্কানরা। সুপার ফোরে ৫ উইকেটে এবং ফাইনালে ২৩ রানে জিতেছিল তারা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের কাছে হারের স্মৃতি ভুলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া শ্রীলঙ্কা। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছে না তারা। লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কা বলেন, ‘বাংলাদেশের কাছে হার ভুলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আমরা এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগী। এ ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে জয়ের বিকল্প নেই।’
সুপার ফোরের পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করবে টফি। দর্শকরা টফি অ্যাপ (অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস) ব্যবহার করে মোবাইলে ম্যাচটি উপভোগ করতে হবে। এ ছাড়া টফি লাইভ ডট কম এবং স্মার্ট টিভি (অ্যান্ড্রয়েড টিভি, স্যামসাং টাইজন ও এলজি ওয়েবওএস)-এর মাধ্যমেও ম্যাচটি দেখা যাবে।
মন্তব্য করুন


ডিসেম্বরে কায়রোতে
অনুষ্ঠিতব্য ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজক দেশ মিশর।
আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর)
ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি অধ্যাপক ইউনূসের কাছে
সেদেশের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।
রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি
জানান, অন্তত পাঁচটি দেশে—তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়ার
সরকার প্রধানগণ আগামী ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর কায়রোতে অনুষ্ঠেয় ডি-৮ সম্মেলনে অংশগ্রহণ
নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সম্মেলনের
একটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন বৈঠকে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনকে সমর্থনের
উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
রাষ্ট্রদূত আরো জানান,
জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তর
প্রচেষ্টায় মিশর সরকার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস এই
সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন মিশর ও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে,
যেমন ওআইসি এবং ডি-৮-এ হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান,
তিনি মিশরে ডি-৮ সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন।
রাষ্ট্রদূত ফাহমি
আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও ডি-৮ সম্মেলনের সময় মিশর সফর করবেন।
তিনি বলেন, মিশর বাংলাদেশের
তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উপকৃত হতে চায় এবং পাট চাষ সম্পর্কে
শিক্ষা নিতে আগ্রহী।
তিনি আরো উল্লেখ করেন,
উভয় দেশের মধ্যে কৃষি, টেক্সটাইল এবং ওষুধ শিল্পের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ)
কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা উচিত।
রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত
করেন যে, ২০৩১-৩২ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য আসনে বাংলাদেশের
প্রার্থিতার প্রতি মিশর সমর্থন জানাবে।
মিশরের রাষ্ট্রদূত
ইউনেস্কোর মহাপরিচালক পদে কায়রোর প্রার্থিতার পক্ষে ঢাকার সমর্থন চান।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) পুনরায় শুরু
করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মন্তব্য করুন


আনুষ্ঠানিকভাবে বিলিয়নেয়ার ক্লাবে প্রবেশ করলেন শাহরুখ খান। আজ বুধবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৫-এ প্রথমবারের মতো শীর্ষ স্থানে উঠে আসেন বলিউড বাদশাহ।
দীর্ঘ ৩৩ বছর কর্মজীবনের পর অবশেষে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী তারকা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। অভিনয় ক্যারিয়ারে যশ-খ্যাতি যেমন পেয়েছেন, তেমনি আয় করেছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। এবার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় উঠে এসেছে এই তারকার নাম। ওয়ার্ল্ড অব স্ট্যাটিস্টিক্স প্রকাশ করেছে এই তালিকা।
হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৫ অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২,৪৯০ কোটি রুপিতে। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি ভারতের সবচেয়ে ধনী তারকা হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্টারদের থেকেও এগিয়ে গেছেন।
৫৯ বছর বয়সী শাহরুখ খান এখন প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক। এর ফলে তিনি টেলর সুইফট (১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার (১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), জেরি সাইনফিল্ড (১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং সেলিনা গোমেজ (৭২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সহ বিশ্বের অন্যান্য বড় তারকাদের পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
শাহরুখ খান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা হলেও নতুন তালিকায় তার ব্যবধান দিন দিন আরও বাড়ছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তার ব্যবসায়িক অংশীদার জুহি চাওলা ও তার পরিবার, যাদের সম্পদ ৭,৭৯০ কোটি রুপি। তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন হৃত্বিক রোশন, যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২,১৬০ কোটি রুপি।
শাহরুখের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে তার রেড চিলিজ প্রোডাকশন হাউস, ভিএফএক্স স্টুডিও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টিমে অংশীদারিত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সম্পত্তি বিনিয়োগ। তবে প্রধান আয়ের উৎস এখনও চলচ্চিত্রেই অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়াও শাহরুখ খান নামি ১৪টি পণ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছে, আইসিআইসি, লাক্স, হুন্দাই প্রভৃতি।
এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শাহরুখ খানের গড়ে বার্ষিক আয় প্রায় ৩১৩ কোটি রুপি। ফোর্বসের জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় তিনবার জায়গা পেয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন


স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে নিজের ছেলেকে
কুমির ভর্তি নদীতে ফেলে দিয়েছেন এক মা। এই ঘটনার পরদিন কুমির ভর্তি ওই নদী থেকে ছেলেটির
ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৬ বছর বয়সী ওই ছেলে ছিল প্রতিবন্ধী। চাঞ্চল্যকর
এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই স্বামী-স্ত্রীকে
আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য
জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বামীর সঙ্গে
ঝগড়ার পর কর্ণাটকে এক নারী তার ৬ বছরের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলেকে কুমির-ভর্তি খালে
ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনার একদিন পরে শিশুটির অর্ধ-খাওয়া মরদেহ পাওয়া যায় বলে সোমবার
পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযুক্ত ওই নারীর নাম সাবিত্রী। আর
তার স্বামী রবি কুমার (৩৬)। ৩২ বছর বয়সী সাবিত্রী অন্যের বাড়িতে সাহায্যকারী হিসাবে
কাজ করেন। প্রাণ হারানো ওই শিশুর নাম বিনোদ।
এনডিটিভি বলছে, ৩২ বছর বয়সী সাবিত্রী
প্রায়শই তার স্বামী রবি কুমারের সাথে তাদের ছেলে বিনোদকে নিয়ে মারামারি করতেন। ৬
বছর বয়সী বিনোদ ছিল জন্মগতভাবে বধির এবং মূক। এছাড়া সাবিত্রী-রবি কুমার দম্পতির দুই
বছর বয়সী আরও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
সাবিত্রী পুলিশকে বলেছেন, তার স্বামী
রবি কুমার রাজমিস্ত্রির কাজ করে। ছেলেকে নিয়ে রবি প্রায়ই তাকে কটূক্তি করত এবং তাদের
ছেলেকে খালে ছুড়ে ফেলে মেরে ফেলতে বলত।
তিনি বলেন, ‘(এই ঘটনার জন্য) আমার স্বামী
দায়ী। তিনি প্রায়ই বলতেন- ছেলেকে মরতে দাও এবং সে কেবল খেতেই পারে। আমার স্বামী যদি
এভাবে বলতেই থাকে, আমার ছেলে আর কতটা অত্যাচার সহ্য করবে? আমার দুঃখের কথা জানাতে আমি
কোথায় যাব?’
সংবাদমাধ্যম বলছে, ছেলেকে নিয়ে শনিবার
বিকেলে আবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। শনিবারের সেই লড়াইয়ের পর সাবিত্রী তার ছেলেকে উত্তর
কন্নড় জেলার খালে নিয়ে গিয়ে কুমির-ভর্তি পানিতে ফেলে দেন।
পরে স্থানীয় লোকেরা পুলিশকে খবর দেয়
এবং এর পরপরই দমকল কর্মীদের নিয়ে সেখানে তল্লাশি শুরু করা হয়। তবে রাতভর তল্লাশি চললেও
কিছু পাওয়া যায়নি এবং পরদিন সকালে শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। তবে মরদেহ ছিল অর্ধ-খাওয়া
ও ক্ষত-বিক্ষত।
মন্তব্য করুন


ফাতেমাতুজ জোহরা তন্বী, প্রতিবেদক :
মানবতা মানে শুধুই মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ নয়, বরং মানুষের জন্য ভালোবাসা, সহানুভূতি, ও সহমর্মিতার প্রকাশ। এই অনুভবকে বিশ্বব্যাপী উদ্যাপন ও স্মরণ করতে প্রতি বছর ১৯ আগস্ট পালিত হয় "বিশ্ব মানবতা দিবস" (World Humanitarian Day)। এটি একদিকে যেমন মানবিক সাহায্যকর্মীদের সম্মান জানানোর দিন, তেমনি বিশ্বব্যাপী মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় সচেতনতা গড়ার উপলক্ষ্য।
ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট:
২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকের বাগদাদে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক বোমা হামলায় ২২ জন মানবাধিকার কর্মী নিহত হন, যার মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক সার্জিও ভিয়েরা দে মেলো। এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে ২০০8 সালে জাতিসংঘ ১৯ আগস্টকে বিশ্ব মানবতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিনটি মূলত মানবিক সংকটে নিয়োজিত যেসব ব্যক্তি বিপদ উপেক্ষা করে মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাঁদের সম্মান জানাতেই পালন করা হয়।
উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য:
মানবতা দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো:
মানবিক বিপর্যয়ের শিকার মানুষের প্রতি সহানুভূতি জাগানো। দুর্যোগ, যুদ্ধ, অনাহার ও বাস্তুচ্যুতি ইত্যাদিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। যারা মানবিক সহায়তা দিতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। মানবিক কাজের গুরুত্ব ও অবদানের ব্যাপারে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা।
বর্তমান বিশ্বে মানবিক সংকট:
আজকের বিশ্বে একদিকে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক সহিংসতা, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্ভিক্ষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদির ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘের মতে, প্রতি বছরই প্রায় কয়েক কোটি মানুষ এই ধরনের সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন। ২০২৫ সালেও বিশ্বের নানা প্রান্তে যেমন গাজা, সুদান, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, সিরিয়া, হাইতি প্রভৃতি অঞ্চলে মানবিক সংকট বিদ্যমান।
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় আমরা মানবতা ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত দেখেছি। হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক, ডাক্তার, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, মানবতার চেতনা এখনও আমাদের সমাজে জীবন্ত।
মানবতা দিবস পালনের ধরণ:
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও, এবং জাতিসংঘের সংস্থা দিবসটি নানা ভাবে পালন করে থাকে। যেমন:
সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন
মানবিক কর্মীদের সম্মাননা প্রদান
সেমিনার ও আলোচনা সভা
অনুদান সংগ্রহ অভিযান
সমাজসেবা কার্যক্রম পরিচালনা
"মানবতা" কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বা গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধের প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব মানবতা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা সবাই একই পৃথিবীর বাসিন্দা, এবং একজনের কষ্টে অপরজনের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। সবার প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমরা গড়ে তুলতে পারি একটি মানবিক ও শান্তিময় বিশ্ব।
"মানবতার সেবা, শান্তি ও সম্প্রীতির পথ খোলে।"
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশি তরুণী সুবর্ণা আক্তারের প্রেমের টানে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য গছানী গ্রামে ছুটে এসেছেন দিলশান মাদুরাঙ্গা নামের এক শ্রীলংকার যুবক।
গত বুধবার (৬ নভেম্বর) তিনি পটুয়াখালী আসেন এবং বৃহস্পতিবার ইসলামী শরিয়াহ মেনে পরিবারিক সম্মতিতে তাদের বিবাহ হয়।
বিষয়টি শুক্রবার (৮ নভেম্বর) জানাজানি হলে উপজেলার মানুষ এই নব দম্পতিকে এক নজর দেখার জন্য সুবর্ণার বাড়িতে ভিড় করতে থাকে।
জানা গেছে, গছানী গ্রামের নিজাম উদ্দিন সিকদারের মেয়ে সুবর্ণা পাঁচ বছর আগে জর্ডানে যান কাজের সন্ধানে। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ পান তিনি। একই পোশাক কারখানায় সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন দিলশান মাদুরাঙ্গা। কাজের সুবাদে পরিচয় হয় তাদের। পরে তাদের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্ক চলে।
দিলশান মাদুরাঙ্গা শ্রীলঙ্কার কুরুনাগাল জেলার দুমমলচুরিয়া থানার ন্যাবটাকা উডুবাগদা গ্রামের লাকমালের ছেলে।
১ মাস আগে গ্রামে ফিরে সুবর্ণা বিষয়টি তার পরিবারকে জানান এবং তার পরিবার রাজি হলে তিনি দিলশান মাদুরাঙ্গাকে বাংলাদেশে আসতে বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিলশান মাদুরাঙ্গা পটুয়াখালী পৌঁছান এবং তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার বর্তমান দিলশান ইসলাম।
শ্রীলঙ্কান পাত্র দিলশান মাদুরাঙ্গা ওরফে দিলশান ইসলাম বলেন, আমরা দুইজন একই গার্মেন্টসে কাজ করতাম। সেখানেই আমাদের পরিচয় হয়। গত পাঁচ বছরের সম্পর্ক, আমাদের পরিবার আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানেন এবং তাদের সম্মতিতে বিবাহ করেছি।
সুবর্ণার বাবা নিজাম উদ্দিন সিকদার বলেন, আমার মেয়ের সুখেই আমার সুখ। এখানে আমার কিছুই বলার নাই। তবে দোয়া করি ওরা যাতে ভালো থাকে।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, আমরা শুনেছি শ্রীলঙ্কার এক নাগরিক প্রেমঘটিত কারণে দশমিনায় এসেছেন।
মন্তব্য করুন


বিভিন্ন
ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর একুশে পদকের জন্য নয়জন বিশিষ্ট
ব্যক্তি এবং একটি সংগীত দলের নাম ঘোষণা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ তালিকায়
প্রথমবারের মতো কোনো রক ব্যান্ড স্থান পেল।
এ
বছর একুশে পদক পাচ্ছেন—ফরিদা আক্তার ববিতা (চলচ্চিত্র), অধ্যাপক
মো. আব্দুস সাত্তার (চারুকলা), মেরিনা তাবাসসুম (স্থাপত্য), আইয়ুব বাচ্চু (সংগীত),
অর্থি আহমেদ (নৃত্য), ইসলাম উদ্দিন পালাকার (নাট্যকলা), শফিক রেহমান (সাংবাদিকতা),
অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার (শিক্ষা) এবং তেজস হালদার যস (ভাস্কর্য)। এছাড়া এ
বছর একুশে পদক পাচ্ছে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ওয়ারফেইজ।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৫ ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
একুশে
পদক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান। ভাষা আন্দোলনের স্মরণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে
বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর এই পদক প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন।
রোববার (২৫ আগস্ট) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বন্যাদুর্গতদের সহায়তার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে ২০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদানের চেক তুলেন দেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
পাশাপাশি চীনা রেড ক্রসও বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য এক লাখ মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা প্রদান করবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করায় চীনা নেতা এবং জনগণের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে চীনের কিছু সোলার প্যানেল কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বেইজিং ঢাকার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত এবং আমি আশাবাদী যে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ সফল হবে।
তিনি প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল এবং সমৃদ্ধ হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও বাংলাদেশের কৌশলগত এবং সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের সম্পর্ক উচ্চ শিখরে রয়েছে এবং উভয় দেশ আগামী বছর তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বছর উদযাপন করবে।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বেইজিং ও ঢাকার মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, চীন সোলার প্যানেলের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তবে রপ্তানি বাজারে ক্রমবর্ধমান বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তিনি উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে চীনে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। তিনি উভয় দেশের মধ্যে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও কৃষিখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান।
ইয়াও ওয়েন বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা কবলিত অঞ্চলে অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে চীনা সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
বৈঠকে ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশে বসবাসরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে চীন।
প্রধান উপদেষ্টা চীনে তার স্মৃতি স্মরণ বলেন, চীনের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনূস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং অনেক তরুণ ত্রি-জিরো ক্লাব গঠন করেছে। এসব ক্লাবের সদস্যরা দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি দুই দেশের তরুণ সম্প্রদায় এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত ড. ইউনূসকে তার সুবিধাজনক সময়মতো চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটা সন্ধিক্ষণ পার করছে, তবে বাংলাদেশের জনগণ এই চ্যলেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি নারী শান্তিরক্ষী
নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টায়
বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আজ
রোববার (২০ এপ্রিল) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তি কার্যক্রমবিষয়ক
আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে
গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ
সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি যা উৎসাহিত করি তা হলো শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বাংলাদেশি
নারীর অংশগ্রহণ।
শান্তিরক্ষী
প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন দেশের একটি। বর্তমানে বাংলাদেশের ৫,৬৭৭
জন শান্তিরক্ষী ১১টি সক্রিয় মিশনের মধ্যে ১০টিতে কাজ করছে।
জাতিসংঘ
আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জানান, নারীদের শান্তিরক্ষায় সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে জাতিসংঘের
একটি নীতিমালা রয়েছে।
তিনি
বলেন, আমরা নারীদের নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।’ তিনি উল্লেখ করেন
যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার সব ক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগে সমর্থন দেবে।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, প্রয়োজনে বাংলাদেশ অতিরিক্ত সৈন্য ও পুলিশ পাঠাতে
প্রস্তুত। তিনি জাতিসংঘের পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেম (পিপিআরএস)-এর র্যাপিড
ডিপ্লয়মেন্ট পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত পাঁচটি ইউনিটের কথা উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় সদর দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ে বাংলাদেশি নেতৃত্ব
বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। জাতিসংঘ প্রতিনিধি বলেন, এ ব্যাপারেও তারা বাংলাদেশকে সমর্থন
দেবে।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, শান্তিরক্ষী নিয়োগে জাতিসংঘের যাচাই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ
কঠোরভাবে মেনে চলে এবং প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতায় জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আরও
সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়, যাতে মানবাধিকার প্রতিপালন আরও জোরদার হয়।
প্রধান
উপদেষ্টাকে জানানো হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল
আগামী ১৩ থেকে ১৪ মে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের
সম্মেলনে অংশ নেবে।
মিয়ানমারে
চলমান সংঘর্ষ, সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা, বেসামরিক নাগরিক হতাহত এবং নাফ নদী সংলগ্ন
এলাকায় জীবিকা বিঘ্নিত হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
তিনি
সতর্ক করেন, এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তা আরও অবনতি হয়ে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি
করতে পারে। তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।
প্রধান
উপদেষ্টা সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা স্মরণ করে বলেন, তার এই সফর রোহিঙ্গাদের নিরাপদ
ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে নতুন করে আশা জুগিয়েছে।
মন্তব্য করুন