

মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লায় ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ডঃ আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতে জুলাই সনদ যথাসময়ে স্বাক্ষরিত হবে, এ নিয়ে কোন আশঙ্কা নেই।
আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নব শালবন বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত ২৪ তম দানো ত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠানে শালবন বৌদ্ধ বিহারে ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন সেন্টার ও ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।তিনি আরও বলেন সুশাসনের জন্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি,এ লক্ষ্যে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।এছাড়াও তিনি আরো বলেন, এই মাতৃভূমি আবহাওয়ামান কাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সোহার্দ্য লালন করে আসছে এটাই তার বাস্তব প্রমাণ।
ড.আ.ফ.ম.খালিদ হোসেন বলেন- সরকার ঘোষিত তারিখে ফেয়ার ফ্রী ইনভারসিয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করার কাজও সরকার করে যাচ্ছে। এ নির্বাচন এর মাধ্যমে ম্যান্ডেট প্রাপ্ত দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পুরোনো ঠিকানায় ফিরে যাবো। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বহাল থাকবে।নির্বাচন না হলে নানা ধরনের অস্তিরতা দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডঃ মোঃ হায়দার আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মোঃ সাইফুল মালিক,সাবেক বার্ড পরিচালক বাবু বিজয় কুমার বড়ুয়া,সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বাবু সুরসেন সিংহ,সাংবাদিক অশোক বড়ুয়া,উদযাপন পরিষদ সভাপতি স্বপন সিংহসহ অনেকে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, তিনি নিজেকে রংপুরের সন্তান বলে মনে করেন, কারণ তিনি জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে
শহিদ আবু সাঈদের সাহস ও আত্মত্যাগে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) প্রধান
উপদেষ্টা ঢাকায় তার কার্যালয়ে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাকে
রংপুরের একজন উপদেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করুন।
প্রধান উপদেষ্টা এসময় শহিদ আবু সাঈদ
ফাউন্ডেশনের সনদপত্র আবু সাঈদের পরিবারের হাতে তুলে দেন। আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন সনদপত্র গ্রহণ করেন।
আবু সাঈদের ভাতিজা মো. লিটন মিয়া এ
উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা শহিদ আবু সাঈদের পিতামাতার
স্বাস্থ্যর খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। টানা ৫ দিন তিনি সিসিইউতেই আছেন। তবে আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত রোববার রাত থেকে ৮-১০লিটার অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে আইসিইউর কিছু সাপোর্ট সিসিইউতেই সরবরাহ করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ১ জন সদস্য সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ম্যাডামের অবস্থার হালকা অবনতি হয়েছে। আইসিইউতে নেওয়া হয়নি। তবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই আইসিইউ সাধারণ আইসিইউর মতো নয়। এখানে সব ধরনের সাপোর্ট রয়েছে। তবে মেডিকেল বোর্ড এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ম্যাডামকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সবাই দোয়া করবেন।
গত (২৭ নভেম্বর ) বৃহস্পতিবার দুপুরে ইনফেকশনের (সংক্রমণ) শঙ্কায় খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেওয়া হয়৷ উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুর নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কন্ডিশন ট্রাভেল করার মতো হলে সিদ্ধান্ত হবে। সোমবারও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ফলোআপ করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডে নতুন করে লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও যুক্ত হয়েছেন। যেখানে তিনি গত জানুয়ারিতে চিকিৎসা নিয়েছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন আলোচনা করে নতুন করণীয় ঠিক করছে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনস হপকিনস হসপিটালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডের বৈঠকে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


সরকারি চাকুরী শেষে
ফেয়ারওয়েল আছে, আছে এককালীন আর্থিক সুবিধা ও পেনশন সহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
কিন্তু যারা আল্লাহর ঘর মসজিদে খেদমতের কাজ করেন, দীর্ঘ দিন কাজ করার পরও তাদের
ভাগ্য জুটে না কোনো বিদায় সংবর্ধনা। তবে এবার স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের
ব্যতিক্রমী উদ্যোগ একই মসজিদে ৩৬ বছর খেদমত শেষে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একজন
মুয়াজ্জিন পেলেন রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুর
গ্রামের গুড়াগাজী বেপারী বাড়ি মসজিদে তাকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।
জানা যায়, গুড়াগাজী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হুজুর। তিনি একই
মসজিদে একটানা ৩৬ বছর, ৩ যুগেরও অধিক সময় মুয়াজ্জিন হিসেবে খেদমত করে গেছেন। বয়স
এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় দীঘ কর্মজীবন শেষে তিনি অবসর নেন। তার এই দীর্ঘ খেদমত
জীবনকে স্মরণীয় করতে রাখতে মসজিদ কমিটির পরিচালনা পরিষদ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী
সংগঠন মানবতা এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এ উপলক্ষে এলাকার হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে তাদের পক্ষ থেকে নগদ এক লাখ
পঞ্চাশ হাজার টাকা সহ পরিবারের সদস্যদের জন্য উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে মুয়াজ্জিনকে।
এই সময় হাজারো মুসল্লি কয়েকটি পিকআপভ্যান এবং ফুলসজ্জিত একটি মাইক্রোবাসে করে
মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ হেলাল হুজুরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে নিজ বাড়ীতে
পৌঁছে দেন। এইদিকে একজন দীর্ঘদিন মসজিদে খেদমত জীবন শেষে এমন শুভেচ্ছার উদ্যোগকে
স্বাগত জানান এলাকার অনেক উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
একজন সাধারণ মুয়াজ্জিন হিসেবে এমন বিরল সম্মান পেয়ে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে
আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ হেলাল হুজুর।
অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন, মসজিদের উপদেষ্টা ও দৈনিক নয়াদিগন্তের নোয়াখালী
অফিস প্রধান মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, সাংবাদিক তাজুল ইসলাম মানিক, স্থানীয় ইউপি
সদস্য জিল্লুর রহমান, সমাজ সেবক শরীফ উল্লাহ, সাংবাদিক মোঃ সুমন ভূঁইয়া,
মানবতা এক্সপেসের মনির হোসেন, মনসাদ আলম প্রমূখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী জীবন শেষে
এককালীন আর্থিক সুবিধা ও পেনশন সহ নানা সুযোগ-সুবিধা আছে। কিন্তু আল্লাহর ঘর
মসজিদের খতিব, মুয়াজ্জিনদের জন্য এ সুবিধা না থাকলেও গুড়াগাজী জামে মসজিদের
মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ হেলাল হুজুরের সম্মানজনক রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার এই উদ্যোগ
আগামীতে অন্যান্য মসজিদের খতিব, মুয়াজ্জিনদের সম্মানে নতুন দিগন্ত উন্মেচিত হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে
তার স্বামী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার
(৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে তাকে জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।
এর
আগে বিকেল ৩টার পর পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত
হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক তার জানাজা নামাজ পড়ান।
বেগম
জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী,
তিন বাহিনীর প্রধান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতরা,
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের
প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সে
সময় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, বিজয় সরণি, খামার বাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট,
শাহবাগ, মোহাম্মদপুর পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। যে যেখানে পারেন সেখানেই দাঁড়িয়ে
জানাজায় যোগ দেন। জানাজার আগে বেগম জিয়ার দীর্ঘ জীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
পরে
পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আপনারা
আমার মরহুমা মায়ের জন্য দোয়া করবেন। কারও কাছে আম্মার কোনো ঋণ থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ
করবেন। আমি পরিশোধ করবো। কেউ আমার মায়ের আচরণে বা কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকে
আমি ক্ষমাপ্রার্থী। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
এদিন
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের
দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়। তাকে বহন করা হয় লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি
ফ্রিজার ভ্যানে। সেনাবাহিনী হিউম্যান চেইন তৈরি করে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে তার মরদেহ
সেখানে নেন।
মন্তব্য করুন


এসএসসি
ও সমমানের পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে। আর এইচএসসি ও সমমানের
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে জুনের শেষ সপ্তাহে। এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী
১ মার্চ থেকে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া
হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
স্বাভাবিক
শিক্ষাসূচি অনুযায়ী প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
হলেও করোনা মহামারির প্রভাব ও পরবর্তী বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক বছর ধরে এ
সূচি বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
চলতি
বছর জাতীয় নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের
শেষ সপ্তাহে পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী (টেস্ট)
পরীক্ষা ও ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।
আন্তঃশিক্ষা
বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল
কবির সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। টেস্ট পরীক্ষা ও
ফরম পূরণসহ প্রাথমিক কাজগুলো শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায় থেকে বিশেষ কোনো অনুরোধ
এলে ফরম পূরণের সময় দু-এক দিন বাড়ানো হতে পারে।
এইচএসসি
পরীক্ষার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আগামী ১ মার্চ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ
শুরু হবে।
আশা
করছি, এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানে
১৭ বছর ধরে চলে আসা উদ্গ্রীব অপেক্ষার এক আবেগঘন সমাপ্তি
হলো। ২৭ বছর বয়সী
কিরণ ১০ বছর বয়সে
ইসলামাবাদের বাড়ি থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে করাচিতে তাঁর মা–বাবার সঙ্গে
মিলিত হলেন।
পাঞ্জাব
সেফ সিটি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কিরণের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তাঁকে ইধি ফাউন্ডেশন পরিচালিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান ইধি সেন্টার থেকে খুঁজে বের করা হয়।
ইধি
ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, সেফ সিটি সিস্টেমে থাকা তথ্যের সঙ্গে কিরণের দেওয়া বিবরণ মিলে যাওয়ার পর তাঁকে মা–বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কিরণ
কর্মকর্তাদের জানান, ইসলামাবাদের বাসা থেকে আইসক্রিম কিনতে বেরিয়ে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
পরে এক অপরিচিত ব্যক্তি
তাঁকে ইসলামাবাদে ইধি ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি ইধি সেন্টারে নিয়ে যান।
পরবর্তী
সময় প্রয়াত বিলকিস ইধি শিশু কিরণকে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে আসেন। তখন থেকে কিরণ ইধি ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এ সময়ে তিনি
ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা
লাভ করেন।
ইধি
সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাবানা ফয়সাল বলেন, কিরণের পরিবারকে খুঁজে বের করার জন্য তাঁকে কয়েকবার ইসলামাবাদে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু এত দিন কোনো
কাজ হয়নি।
শাবানা
আরও বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে
দেশজুড়ে ১২ জন হারানো
শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে করাচির পাঁচ মেয়েও ছিল।
পরিবারের
সঙ্গে কিরণের পুনর্মিলনের খবর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে সবাই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান এবং ইধি ফাউন্ডেশনের অক্লান্ত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
পরিচয়
নিশ্চিত হওয়ার পর কিরণের বাবা
করাচিতে পৌঁছালে কিরণের সঙ্গে তাঁদের হৃদয়স্পর্শী পুনর্মিলন ঘটে। তিনি তাঁর মেয়েকে প্রায় দুই দশক ধরে আশ্রয়, শিক্ষা ও যত্ন দেওয়ার
জন্য ইধি ফাউন্ডেশনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাকে স্যার ভাবার দরকার নেই। আমাকে স্যার বলারও দরকার নেই। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আমার ছবি যত কম প্রচার করা যায় তো ভালো।
রবিবার (১৮ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সচিবালয়ে প্রথম অফিসে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে
তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা নাহিদ
বলেন, নিরপেক্ষ সংবাদ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম নিয়ে আমাদের খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের অন্যতম একটি পিলার বলা যায়। কাজেই আমরা যদি গণতন্ত্র চাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমে কী ধরনের বাধা রয়েছে কিংবা এর সমাধান নিয়ে গণমাধ্যমের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেই মূলত আমরা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করব। যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে আমরা সেন্সর বোর্ডকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করব।
এ সময় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে তদন্তে সহায়তা করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রহসন করা হয়েছে। এটা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মটকা মসজিদ এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে ছকিনা বেগম (৫০) নামে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোররাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে নাকি পূর্ব পরিকল্পিত কোনো বিরোধের জেরে এই ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির ছাদ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ছকিনা বেগমের কক্ষে ঢোকে। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আহত অবস্থায় ছকিনা বেগমকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছিল। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।নিহত ছকিনা বেগমের স্বামী সাফি উল্যাহ প্রায় তিন বছর আগে মারা যান। তার দুই সন্তান বিদেশে অবস্থান করছেন। বাড়ি থেকে কোনো অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী খোয়া না গেলেও স্থানীয়দের ধারণা, ডাকাতিতে বাধা দেওয়ার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতা কিংবা পরিকল্পিত হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডাকাতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তিনি জানান, ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


খুলনায়
নিজ ঘরে শিউলী বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূ খুন হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে নগরীর ট্যাংক
রোডের রবিউল ইসলামের বাড়ি থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি এ বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
খুলনা
থানা পুলিশের ওসি-তদন্ত শাহজাহান আহম্মেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই নারীর মাথায় ভারী
বস্তু দিয়ে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
ওই
গৃহবধূর প্রথম স্বামী নাম মোঃ সালাউদ্দিন খান। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর মাত্র
এক মাস ১০ দিন আগে তিনি সাগর নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন বলে জানিয়েছে নিহত শিউলী
বেগমের বড় মেয়ে কেয়া। তিনি বলেন, “আমার বাবার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর মা সাগর নামে
একজনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর এই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এখানে মা, ছোট ভাই আর ওই বাবা থাকতেন।
সকালে ১০টার দিকে ওই বাবা ফোন করে আমাকে জানায় তোমার আম্মুকে ফোনে পাচ্ছি না, তুমি
একটু যাও। এরপর আমি মায়ের বাড়িতে আসি। কিন্তু ঘরে তালা দেওয়া ছিল। ভাবছি আম্মু কোথাও
গিয়েছে, পরে চলে যাই। ভেবেছিলাম নানু বাড়ি ডুমুরিয়া যেতে পারে, আমি বিকালে সেখানে যাই।
ছোট মামার কাছে জিজ্ঞেস করলে জানায় আসেনি। পরে আবার ফিরে আসি। নানু বাড়ি থেকে ফিরে
আসার সময় আমার স্বামীকে বলছিলাম আম্মুর জুতা ঘরের সামনে দেখেছি। পরে সন্ধ্যায় আমরা
আম্মুর বাড়িতে আসি। এখানে এসে উঁকি দিয়ে দেখি আম্মুর ঘরের গেটে তালা মারা। পরে বাড়িওয়ালাদের
ডাক দিলে তারা আসে। রাতে তালা ভেঙে দেখি ঘরের খাটের ওপর আম্মুর মরদেহ পরে আছে।
তিনি
বলেন, “সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে আমার ছোট ভাই রিয়াদ সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ঘর থেকে বেরিয়ে
গেছে। ঘরে আম্মুর ৬ লাখের বেশি টাকা ছিল, ধারণা করছি সেটার জন্য ভাই মাকে মেরে ফেলেছে।”
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া
হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান।
আজ
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান
আহমেদ আযম খান।
আযম
খান, বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
দেশের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলা আছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার মতো অবস্থায় এলে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।
২৩
নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দেওয়ায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী বহুদিন ধরেই জটিল রোগে ভুগছেন। বর্তমানে
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ডের অধীনে সিসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে।
তার শারীরিক খবর জানতে প্রতিদিন হাসপাতলে যাচ্ছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আজ
সকালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান ডাকসুর সাবেক এজিএস ও বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম।
বাইরে এসে তিনি সকলের কাছে দোয়া চান। যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন জানান, অবস্থা
অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হলে মেডিকেল বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গভীর উদ্বেগ
প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূসও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নিয়মিতভাবে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন
এবং প্রয়োজনীয় সব সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থার
খোঁজ নেন।
শনিবার
(২৯ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লেখেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের
এক অনন্য অনুপ্রেরণা। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে
তিনি কয়েক দশক ধরে অবিচল ভূমিকা পালন করেছেন। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রচক্রের লাগাতার নির্যাতন,
মিথ্যা মামলার পরিক্রমা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়াবহতার মাঝেও তার অটল মনোবল ও
আপোষহীন অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি
লেখেন, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, স্বৈরতন্ত্র বিরোধী সংগ্রাম এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র
পুনরুদ্ধারের প্রত্যেকটি পর্বে বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব জাতীয়
জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বহু প্রজন্ম তাকে সাহস, সহনশীলতা
ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে দেখেছে। বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক
অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা
জানান।
নাহিদ
আরও লেখেন, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তার পূর্ণ আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করি। এই গণতান্ত্রিক
উত্তরণের সংকটময় সময়, যখন দেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে অগ্রসর
হচ্ছে, সে প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা জাতির
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তার দীর্ঘ অবদান স্মরণ
করে আমরা তার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করি।
মন্তব্য করুন