

মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটি এলাকায় বোতাম তৈরি কারখানার আগুনে আরও ১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ জন।
নিহতরা হলো: লালমনিরহাট সদর থানার হারাটি এলাকার বাবলু মিয়ার ছেলে মজমুল মিয়া (৩২)। পরিচয় জানা যায়নি অপর ২ জনের।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ওই কারখানা থেকে আরও ১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটি এলাকায় এম এন্ড ইউ ট্রিমস্ বোতাম তৈরি কারখানার কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানার গুদামে কেমিক্যালের ড্রাম বিস্ফোরণের কয়েকটি শব্দ হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মন্তব্য করুন


বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অর্থ আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরানোর কাজ শুরু করেছে সরকার।
এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বিএফআইইউ, পুলিশের সিআইডি ও দুদকের সহায়তায় আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ এবং বিদেশে পাচার করা অর্থ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে।
সরকার খুব শিগগির একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠন করবে, যারা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যাংকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করবে এবং ব্যাংকগুলোর
পুনর্গঠনের জন্য ছয় মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং বিদেশে পাচার করেছেন। এর সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলমান আছে। এই আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ লক্ষাধিক কোটি টাকার ওপরে বলে ধারণা করা যায়।
অর্থ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার সহায়তা চেয়ে ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে।
এ ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতিমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে
সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নতুন ব্যবস্থাপনা
কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা এসব অর্থের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয়ে অডিট কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের লক্ষ্য হলো সব আন্তর্জাতিক
মানদণ্ড পরিপালনে সক্ষম একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলা। তবে এই উদ্দেশ্য অর্জনের কার্যক্রম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা ও অর্থের প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার অর্থ আত্মসাৎকারীদের দেশি-বিদেশি সম্পদ অধিগ্রহণ ও বিদেশ থেকে ফেরত এনে ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে। ব্যাংকগুলোর এই পুনর্গঠন ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে সরকার বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক
মানের করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মন্তব্য করুন


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের লড়াই এখনো চলমান রয়েছে। আমরা
অবশ্যই আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করব এবং মাতৃভূমিকে নতুন করে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু
করে দাঁড় করাব।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব
পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় যুব দিবস- ২০২৪ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তরুণ, যুবক ও ছাত্ররা
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে একটি নতুন পথ দেখিয়েছেন। পুরো পৃথিবী এখন দেখতে
চায়, এই তারুণ্য, এই যুবশক্তি বাংলাদেশকে এরপর কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদী। আমরা
বলি, তারুণ্য হবে দেশের চালিকাশক্তি। আমরা বলেছিলাম বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন
আমরা দেখছি। সেই স্বপ্ন আজ বাংলাদেশের সবাই দেখছে। এবং তরুণদের এ স্বপ্ন বাংলাদেশে
পূরণ হবে, সেটিই সবার প্রত্যাশা। যুব অধিদপ্তর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনেক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আমরা আশা করব, নতুন বাংলাদেশে সেই ভূমিকা তারা পালন করবে।তরুণরা
বাংলাদেশকে নতুন করে পথ দেখিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে তরুণরা নেতৃত্বে আসবেন,
সেটিই সবার প্রত্যাশা। রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি সব কিছুতেই তরুণরা নেতৃত্বে আসার জন্য
প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যে প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, স্বপ্ন দেখিয়েছে, সেই প্রজন্ম স্বপ্নও
পূরণ করতে পারে, তা প্রমাণ করতে হবে। আমাদের এ সামষ্টিক অগ্রযাত্রায় সবার সহযোগিতা
পাব, সবাই তরুণদের জায়গাটি করে দেবেন, আমাদের এমন প্রত্যাশা থাকবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সভাপতিত্বে
ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য
দেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম
ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সফল যুব উদ্যোক্তাদের
হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের
মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে
বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে
উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া
ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো
সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিরলসভাবে গত প্রায় নয় মাস ধরে
কাজ করেছে। এ সময় কমিশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের
সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ধৈর্য্যসহকারে রাজনৈতিক
দলগুলো কমিশন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে।
মতের পার্থক্য থাকলেও তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। অনেক বিষয়েই ঐকমত্যে আসতে পেরেছে।
দেশবাসী সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রম দেখতে পেরেছেন। এটি বাংলাদেশের
রাজনীতির ক্ষেত্রে তো বটেই, পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এটি ভবিষ্যৎ
রাজনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক। তিনি ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে
গণতান্ত্রিক চর্চার এই আসাধারণ আয়োজনকে সফল করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই
সনদে সংবিধান বিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য
তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিছু প্রস্তাবে সামান্য ভিন্নমত আছে। বাকি অল্প
কিছু প্রস্তাবে আপাতদৃষ্টে মনে হয় অনেক দূরত্ব আছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক
কিছু নয়। তবে খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এসব প্রস্তাবগুলোর ক্ষেত্রেও আসলে মতভিন্নতা খুব
গভীর নয়। কেউ সংস্কারটা সংবিধানে করতে চেয়েছেন, কেউ আইনের মাধ্যমে করতে চেয়েছেন। কিন্তু
সংস্কারের প্রয়োজনীতা, নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে কারো মধ্যে মতভেদ নেই। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রকাশ্য বক্তব্য যতখানি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে আছে বলে মনে হয়, জুলাই সনদ সঠিকভাবে
বিশ্লেষণ করলে ততখানি মত পার্থক্য দেখা যায় না। এটি আমাদের অনন্য অর্জন। এতে জাতি এগিয়ে
যেতে সাহসী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এসব বিবেচনায় রেখে এবং
রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে মূল দলিল হিসেবে ধরে নিয়ে অন্তর্বর্তী
সরকার আজকের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ,
২০২৫ অনুমোদন করেছে। এটি বিরাট খবর। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর শেষে এটি ইতোমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন
করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আদেশে আমরা গুরুত্বপূর্ণ
কিছু বিধান গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবনার ওপর
গণভোট অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত। আমরা সকল
বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন
করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত
হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী
হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।’
জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও
নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন।
প্রশ্নটি হবে এরকম:
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন
আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর
প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন
কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন
করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত
হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে
ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির
ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ
বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো
বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক
দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণভোটের দিন
এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত
জানাবেন।
তিনি বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক
হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত
হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ
তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের
মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে
নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটিও আজকে অনুমোদিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাস্তার দু'পাশে
লাখো নেতাকর্মী। হাত নেড়ে সবার অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন তারেক রহমান। তাকে বহনকারী লাল
রঙের গাড়ি এগিয়ে চলছে খুব ধীরগতিতে।
সবশেষ খবর রাজধানীর
৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনাস্থলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি
পৌঁছে বক্তৃতা করবেন। এরপরই যাবে এভারকেয়ার হাসপাতালে মা খালেদা জিয়াকে দেখতে।
এরআগে বৃহস্পতিবার
বেলা ১১.৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি ঢাকার মাটিতে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার পূর্বে তারেক রহমান জুতা খুলে বাংলাদেশের মাটিতে
পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সেনানিবাসে অবস্থিত ময়নামতি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবে ' প্রথম রানার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট - ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (
২ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত উক্ত টুর্নামেন্টে বিভিন্ন সেনানিবাস থেকে শতাধিক গলফার অংশগ্রহণ করেন। ময়নামতি গলফ কান্ট্রি ক্লাবের মাঠে রঙিন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন, ময়নামতি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবের সভাপতি এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন, জিওসি মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক।
মন্তব্য করুন


পবিত্র
ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে, সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
কার্যকর
ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট হবে না
বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আজ
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কথা
বলেন।
তিনি
বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের গৃহীত বহুমুখী পদক্ষেপ ইতোমধ্যে কার্যকর করা
হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা যানজট ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।
এ
সময় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে, মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার কথাও
উল্লেখ করেন তিনি।
সুলতান
সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে যাতে ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তির শিকার না হন এবং
রোজাদারদের সড়কে ইফতার করতে না হয়, সে জন্য সার্বক্ষণিকভাবে মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করা
হচ্ছে।
তিনি
বলেন, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের ছুটি শুরু হওয়ায়, আজ থেকে প্রায় ৪০ লাখ অতিরিক্ত
মানুষ এই মহাসড়ক ব্যবহার করবে বলেও তিনি জানান।
মৎস্য
ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদযাত্রায়
কোনো ধরনের ভোগান্তি যেন না হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এখন
পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও উল্লেখ
করেন তিনি।
যান
চলাচল সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ
পয়েন্টগুলোতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি তদারকি
করছেন। দলীয় নেতা-কর্মীরাও সড়কে থেকে পুলিশকে সহায়তা করছেন।
এক
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষ যানজটে পড়লেও, এবার আগাম
প্রস্তুতি ও সার্বক্ষণিক তদারকির ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পরিদর্শনকালে
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম
সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে সুফল পাওয়ায় ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০২৪’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আর বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, প্রথম যখন আইনটি প্রণয়ন করা হয়, তখন একটির মেয়াদ ছিল দুই বছর। পরবর্তীতে কয়েক ধাপে সেটার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ আইনটি মন্ত্রিসভায় তুলেছিল। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধাপে ধাপে মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে স্থায়ী আইন হিসেবে নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এটিকে আর নতুন করে মেয়াদ বাড়াতে হবে না।
আইনটিতে কোনো পরিবর্তন আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনটি পুরোনো। আগে যা ছিল, তা-ই থাকবে। কেবল মেয়াদ দুই বা তিন বছর না বাড়িয়ে স্থায়ী করা হয়েছে।
আগে ছিল দুই বছর পর পর মেয়াদ বাড়ানো হবে, তাহলে কেন স্থায়ী করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে মাহবুব হোসেন বলেন, জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এ আইনটির অনেক সুফল আছে, এ আইনটির কারণে এই ক্ষেত্রে তাদের তরফ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খুব কাজে লেগেছে, এজন্য তারা আইনটি কন্টিনিউ করতে চাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানী সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজে (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ শক্তি ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছে মন্তব্য করে জাতির কল্যাণে আগামী দিনেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দেশ–বিদেশের কয়েকশ’প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন সম্মেলনে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো অন্যায়, অবিচার মোকাবিলা করা যায়। শুধু তাই নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। যেটা আমরা একশ’দিন জুলাই-আগস্ট মাসে দেখিয়েছি। তাই আগামী দিনেও সবাইকে দেশ-জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, কোনো অন্যায়, দোষ না করেও এ দেশের মানুষ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। অনেক বড় শক্তির মুখোমুখি হওয়াতে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু আমরা এটাও জানি যে, যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, যখন আমরা এক হয়ে কাজ করি, তখন আমাদের ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতা আছে, যেমনটি আমরা ১০০ দিন আগে বাংলাদেশে করেছি।
তিনি বলেন, মাত্র ১০০ দিন আগে একটি অনন্য রাজনৈতিক উত্থানের সম্মুখীন হয়েছিল বাংলাদেশ। গত ১৬ বছর ধরে চলা একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়েছে ছাত্ররা। আমি এ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অতিথিদের কাছে একটি সদ্য উদীয়মান দেশে স্বাগত জানাই। নতুন বাংলাদেশ বলে অভিহিত করছি।
জুলাই বিপ্লবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০ হাজার আহত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা তাদের সবাইকে শ্রদ্ধা জানাই যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যারা সারা জীবনের জন্য তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, চোখ এবং অনেক শারীরিক সক্ষমতা হারিয়েছে, তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদেশিদের জুলাই-আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড নিজের চোখে দেখার জন্য রাজধানীতে ঘুরে ঘুরে দেখার অনুরোধ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি আরও বলেন, ঠিক ১০০ দিন আগে এ শহরে যা ঘটে গেছে তা আপনার নিজ চোখে দেখে যান। জুলাই বিপ্লবের সময় তরুণদের আবেগ এবং আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে রঙিন চিত্রে আঁকা রাস্তার দেয়ালগুলো দেখুন। দেখতে পারবেন কীভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্ম কী চায়, তাদের অভিব্যক্তি দেখে যে কেউ অবাক না হয়ে পারবেন না। এ ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া না করার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এ বিপ্লবের কোনো ডিজাইনার ছিল না, কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ছিল না এবং কোনো সংস্থা এটিকে অর্থায়ন করেনি। তরুণরা তাদের নিজের শক্তিতে করেছে।
মন্তব্য করুন