

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি ও পরবর্তীতে রাজসাক্ষী হওয় সাবেক আইজিপি চৌধুরী “ আব্দুল্লাহ আল-মামুন”- কে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি “গোলাম মর্তুজা মজুমদারের” নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় দেন। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ৬ টি অংশ রয়েছে। শুরুতে রায়ের অংশ পড়েন ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। ট্রাইব্যুনালের বাকি ২ সদস্য বিচারপতি “মো. শফিউল আলম মাহমুদ” ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীও রায়ের বিভিন্ন অংশ পড়ে শোনান। রায়ে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট এবং ১০ টাকা মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয় দিবসটি উপলক্ষে।
বুধবার (৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিস কক্ষে উপদেষ্টা স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন।
দিবসটি উপলক্ষে এক বিবৃতিতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের দুর্লভ ডাকটিকিটের ছবি সংবলিত বিশেষ অ্যালবাম ‘ন্যাচারাল বিউটি অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ অব বাংলাদেশ পোস্টেজ স্টাম্পাস’র মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম শাহাব উদ্দীনসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


সদ্য
সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিজয়ী জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, ‘আমাদের পুরো হাতিয়া যে ঐক্য দেখিয়েছে
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- এটাই আমাদের জয়। আমি বলছি, সন্ত্রাস যা করার করে নিন, বেশি
দিন করতে পারবেন না। তারা মনে করেছে দল ক্ষমতায় এসেছে, তাই যা ইচ্ছা তা করতে পারবে।
তারা আমাদের চানন্দী ইউনিয়নের বাশার মাঝির কথা ভুলে গেছে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল,
বাশার মাঝি আওয়ামী লীগ করেও রক্ষা পায়নি। আজিম তাকে ছাড় দেননি। তাদের বলে দিতে চাই-
বাংলাদেশের সরকার তারেক রহমান হোক, হাতিয়ার সরকার আমরা।’
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে আয়োজিত এক বিজয়ী পথসভায় তিনি
এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
পথসভায়
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হাতিয়াবাসী সন্ত্রাসীদের
জবাব দিয়েছে। হাতিয়ার মানুষ এমন তাণ্ডবের বিপরীতে দাঁড়িয়ে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে
এই প্রথম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। মা–বোনেরা রাস্তা দিয়ে যেতে পারেনি, কিন্তু
জমি দিয়ে হেঁটে গিয়ে ভোট দিয়েছে। অনেক জায়গায় লাঠি দিয়ে তিনবার বাড়ি দিয়েছে, চতুর্থবার
আবার গিয়ে ভোট দিয়েছে। অনেক রিকশাওয়ালাকে পিটিয়েছে, সে আবার সেই রিকশা নিয়ে গিয়ে ভোট
দিয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, ‘আমাদের পুরো হাতিয়া যে ঐক্য দেখিয়েছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- এটাই আমাদের
জয়। আমি বলছি, সন্ত্রাস যা করার করে নিন, বেশি দিন করতে পারবেন না। তারা মনে করেছে
দল ক্ষমতায় এসেছে, তাই যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। তারা আমাদের চানন্দী ইউনিয়নের বাশার
মাঝির কথা ভুলে গেছে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, বাশার মাঝি আওয়ামী লীগ করেও রক্ষা
পায়নি। আজিম তাকে ছাড় দেননি। তাদের বলে দিতে চাই- বাংলাদেশের সরকার তারেক রহমান হোক,
হাতিয়ার সরকার আমরা।’
আমরা
কোনও সংঘাত চাই না উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমরা হানাহানি চাই না। আমরা শান্তি
চাই। চাঁদাবাজি–ধান্দাবাজি যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে
আমি আগে দাঁড়াবো- সে যে দলেরই হোক। চাঁদাবাজ–ধান্দাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ
ঘোষণা করা হলো। আমাদের শান্তি দরকার।’
তিনি
আরও বলেন, ‘এই হাতিয়ার মানুষ অনেক বেশি লাঞ্ছিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে- আর হাতিয়ার মানুষকে
নিপীড়িত, নির্যাতিত, লাঞ্ছিত হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা হাতিয়ার মানুষকে বাঁচাবোই, বাঁচাবোই,
বাঁচাবোই- ইনশাআল্লাহ।’
তিনি
বলেন, ‘আমরা ঘাট সিন্ডিকেট বন্ধ করেছি, ভবিষ্যতেও এই ঘাট সিন্ডিকেট বন্ধ থাকবে—
ইনশাআল্লাহ। আমি চেষ্টা করবো আগামী সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে সাড়ে ১১ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন
করতে। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন আমার দেয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে পারি।’
প্রসঙ্গত,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করেন। এনসিপি মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ ৯১ হাজার ৮৯৯
ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান
শামীম পান ৬৪ হাজার ২১ ভোট। বাকি ৮ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার (২৮ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্ভাব্য সকল পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
দ্রুততার সাথে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও ত্রাণ বিতরণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ ১৬ টি হেলিকপ্টার সর্টির মাধ্যমে ফেনী সদর, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, মধুগ্রাম ও সেনবাগ এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উল্লেখ্য, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছয় জন মুমূর্ষ রোগীকে উদ্ধারপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তর ও ১৬ জন ব্যক্তিকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ৯২২৮ কেজি ত্রান, ৬৫০ লিটার বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বন্যা কবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ০৩ টি ফিল্ড হাসপাতাল ও ১৮ টি মেডিকেল টিম বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তের কথা মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।শোক পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম—ক্লাস ও পরীক্ষা—স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এই সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানানো হয়।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও জাতীয় পর্যায়ে তার অবদান স্মরণ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ একাডেমিক সেমিনার এবং স্মরণসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ বিভিন্ন হল, হোস্টেল ও আবাসিক এলাকার মসজিদে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানি, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস জানাজাস্থলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে সবাইকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর
হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলের নেতারা
বলেছেন, এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টা রুখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ
অবস্থানে রয়েছে।
আজ
শনিবার ( ১৩ ডিসেম্বর )রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ
ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী
দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর
বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য
সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত
ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে।
তিনি
বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক।
তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে
ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে
মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে
মাঠে নেমেছে।’
বিএনপি
নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পরস্পরের
দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে
আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করব না।’তিনি
আরও বলেন, আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, জাতির স্বার্থে
এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে। এ সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
জামায়াত
নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নানা বক্তব্য একে অন্যকে দোষারোপ
করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যার ফলে আমাদের বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। আমাদের পূর্বের ন্যায়
ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে
আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি। জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা আমরা কেন বলব?
সব দলকে তাদের কমিটমেন্ট ঠিক করতে হবে।’
এনসিপি
প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু লোক এই অভ্যুত্থানকে খাটো
করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে
ক্যাম্পেইন চলছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের নানা স্তরে এই কাজ হচ্ছে। নির্বাচনের পর যারা
ক্ষমতায় আসবে, তারাও এর ভুক্তভোগী হবে। কেউই একা সরকার চালাতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে যাতে মনে হয় যারা অভ্যুত্থান করেছে তারা
অপরাধ করেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নরমালাইজ করতে নানা চেষ্টা চলছে। টিভি টকশোতে
তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে
মিলিত হচ্ছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দিচ্ছে। আমাদের বিশেষ কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন
নেই। আমরা এটা নেব না। জুলাইকে সবাই মিলে ওউন করতে হবে। জুলাইকে কে কী বলবে—এই
টানাপোড়েনে আমরা জুলাইকে শেষ করে দিচ্ছি। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে আমাদের পরাজয়
হিসেবে দেখছে। তারা ভারতে বসে যা ইচ্ছা তা-ই করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না,’ বলেন
তিনি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী বেশে, সাংস্কৃতিক কর্মী বেশে আওয়ামী লীগের
উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারীদের থামাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
হাসনাত
আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই আমাদের কাজে
আসবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে দলগুলো আওয়ামী লীগকে নানা রকম সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে—ভবিষ্যতের জন্য আমরা কী করতে পারি।
তিনি
বলেন, শুধু সরকার নয়, সবাইকে শক্ত থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে না
পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবা বা
আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে মাথায়
রাখতে হবে—এটি যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে,’
বলেন তিনি।
আসিফ
নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী
হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের শুধু দলীয়
স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।’
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাবা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে আসেন তারেক রহমান।
প্রথমেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে আল্লাহ-তায়ালার দরবারে মোনাজাত করেন তারেক রহমান। কবরের সামনে কিছু সময় তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিবসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বাবার করবের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারেক রহমান। লাল-সবুজ রঙে সাজানো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক বিশেষ নিরাপত্তা-বেষ্টিত বাসে চড়ে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে আসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এই বাসেই তিনি বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলে যান। গতকালের মতো আজকেও তারেক রহমান বাসের সামনে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।
তারেক রহমানের আসা উপলক্ষে সকাল থেকেই ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী লক্ষ করা গেছে। কারো হাতে ছিল দলীয় পতাকা, কেউ ব্যানার ও পোস্টার হাতে মিছিল নিয়ে এসে একসঙ্গে জড়ো হন। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরেন— ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে; আজকের এই দিনে, জিয়া তোমায় মনে পড়ে; তারেক রহমান বীরের বেশে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে।’
তারেক রহমানের বাবার কবর জিয়ারতকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আবেগও দেখা গেছে। তারা বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে জিয়াউর রহমান, যা বাস্তবায়ন করেছে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের হাত ধরে তা এখন প্রস্ফুটিত হবে। নির্বাচন-কেন্দ্রিক জটিলতাসহ দেশের সকল ধোঁয়াশা তারেক রহমানের আগমনে তা কেটে গেছে।
নেতা-কর্মীরা জানান, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীকী মুহূর্ত।
শুক্রবার দুপুর ২টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এগিয়ে যাবে। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তন সেই বার্তাই বহন করে।’ তার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনেরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল।
এ উপলক্ষে শেরেবাংলা নগর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জিয়ার সমাধি ও আশপাশের সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপালন করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের আগেই জিয়া উদ্যান সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে জনসমাগম বাড়তে থাকে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নেতা-কর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রিত।
গতকাল বৃহস্পতিবার তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। তিনি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে গতকাল বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে যেতে যানজট না থাকলে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। গতকাল তারেক রহমানের সেই পথে যেতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। কারণ, রাস্তার দুই ধারে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সারি, মানুষের ঢল।
কেবল নেতা-কর্মী নন, অনেকেই এসেছেন ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমানকে একপলক দেখার কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাবর্তনের একটি স্মরণীয় দিনের সাক্ষী হতে। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ যেন লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
মাজার জিয়ারতের পর ৫টা ৫ মিনিটে তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
মন্তব্য করুন


পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখার জন্য সরকার
সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, শুরুতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরিস্থিতি
এখন নিয়ন্ত্রণে। পুলিশ বাহিনীও নিজেদের গুছিয়ে নিতে পেরেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
আজ
শনিবার ( ০৬ ডিসেম্বর ) রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের
সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই
নির্বাচন হবে ‘আদর্শ নির্বাচন’। নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-এই দুই খাতেই
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ডাক্তার-নার্স সংকট নিরসনে স্বল্প সময়ে সাড়ে তিন
হাজার নার্স ও তিন হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আলু
রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বে নিয়মিত আলু আমদানি করে এমন দেশ খুবই কম। বিশেষ
পরিস্থিতি না হলে রপ্তানির সুযোগও সীমিত। বিদেশে মানবসম্পদ রপ্তানি বিষয়ে উপদেষ্টা
বলেন, দক্ষতা না থাকায় দেশের কর্মীরা বিদেশে কম বেতন পান। নার্সিং পেশায় বিদেশে বিপুল
চাহিদা রয়েছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে দেশ উপকৃত হবে।
এছাড়া
রংপুরে পালন করা ছোট জাতের দেশি গরুর মাংসের প্রশংসা করে এর বাণিজ্যিক উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ
অধিদপ্তরকে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জেলা
প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মারুফাত হুসাইনসহ
বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
চার
দিনের সফরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রংপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করছেন। আজ বিকেলে
তিনি রংপুর ক্যাডেট কলেজ ঘুরে দেখার কথা রয়েছে। আগামীকাল রোববার কিশোরগঞ্জের মাগুরা
উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি সৈয়দপুর থেকে ঢাকায়
ফিরবেন।
মন্তব্য করুন


আগামী এক মাসের মধ্যে গুম প্রতিরোধ বিষয়ক আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গুম বিষয়ক একটি শক্তিশালী স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ
সোমবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে জাতিসংঘের গুম সম্পর্কিত কার্যনির্বাহী দলের (ওয়ার্কিং গ্রুপ) সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান
তিনি।
আইন উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের আমলে জাতিসংঘের গুম সম্পর্কিত ওয়ার্কিং গ্রুপ বারবার বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপকে বাংলাদেশে আসতে দেয়নি, তাদের চিঠির উত্তর পর্যন্ত দেয়নি। আমাদের সরকারের একটা কমিটমেন্ট ছিল গুমের তদন্ত ও বিচার করা। জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশে এসেছে, আমরা তাদের সঙ্গে আজ মিটিং করেছি। মিটিংয়ে বসার পর তারা আমাদের কিছু কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন। তারা গুম কমিশনের, তদন্ত কমিশনের প্রশংসা করেছেন, আমরা আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছি, সেটার প্রশংসা করেছেন। তারা গুম বিষয়ক কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলেছেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে একটি বড় সংখ্যক পর্যবেক্ষক
দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে
অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের
সদস্য ইভারস আইজাবস এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পরে
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে
সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রেস
সচিব বলেন, বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতি, সমতা ভিত্তিক মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড), গণভোটে
‘হ্যাঁ’ ভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
শফিকুল
আলম বলেন, ইভারস আইজাবস বৈঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। এ কারণেই তারা বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর
সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক দেশেই নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়
না; কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব রয়েছে এবং বাংলাদেশকে তারা
ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে।
প্রেস
সচিব জানান, শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একবারও বাংলাদেশে
নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। ইভারস আইজাবস মনে করেন, আগের তিনটি সংসদ নির্বাচন
বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। তবে এবার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র ইতিবাচক মনোভাব ও উৎসাহ দেখা
যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ব্রিফিংয়ে
জানানো হয়, বৈঠকে আওয়ামী লীগ বা দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে
গণভোট বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘হ্যাঁ’
ভোট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের
সুযোগ তৈরি হবে।
প্রেস
সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তারা
বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গেও কথা বলবে এবং পুরো নির্বাচন
প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।
প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করেছেন যে আসন্ন নির্বাচন
ও গণভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। তিনি বলেন, নির্বাচন
কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং সব রাজনৈতিক
দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সর্বত্র এখন নির্বাচনের
জোয়ার চলছে।
নির্বাচনের
নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরা একটি কেন্দ্রীয়
অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও ঢাকা থেকে সরাসরি মনিটর করা যাবে। সব কেন্দ্রেই
থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী থাকবে র্যাপিড রেসপন্স
স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আইনগত মতামত নিয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন—এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই। তাই সরকার এ বিষয়ে প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালাবে।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। ইউরোপীয়
ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক পাঠানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি।
তবে
বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করেন
অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকেরা নির্বাচন বিঘ্নিত করার চেষ্টা
করতে পারে। এসব মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, নারী ও তরুণদের মধ্যে ভোট নিয়ে উচ্চমাত্রার উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভালো ভোটার উপস্থিতির আশা করছে সরকার।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন