

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন,
১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একই সামাজিক-রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপট থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট ২০২৪
সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে,
এই দুটি গণআন্দোলনের পেছনের পরিস্থিতির মধ্যে খুব সামান্যই পার্থক্য রয়েছে।
আজ শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে
‘নভেম্বর থেকে জুলাই : বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন
তিনি।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন,
স্বাধীনতার পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা-এই দুই ঘটনার
পটভূমি তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা দুর্নীতি
ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলেই ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়
এবং প্রায় একই পরিস্থিতি ২০২৪ সালেও পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ
একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে- যখন দেশ প্রতিষ্ঠানিক গঠন, সামরিক বাহিনীকে
শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার মতো কার্যক্রম শুরু করে, এসব বিষয়গুলো
আজও প্রাসঙ্গিক।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
অবদানের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমান কল্যাণমুখী রাজনীতির
সূচনা করেন এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে কাজ করেন। আজও দেশ তাঁর স্থাপিত
ভিত্তির ওপর পরিচালিত হচ্ছে, যা আমাদের রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনায় প্রতিফলিত হয়।
এ সময় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক
প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
সভাপতি রিফাত রশিদ। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান
মজিবুর রহমান মঞ্জু, কবি ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার, ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লায় এবার কাঁচাবাজার পরিদর্শন করলেন কৃষি, মৎস্য এবং খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নগরীর রাজগঞ্জ কাঁচাবাজার পরিদর্শন করে বাজারের দর-দামের খোঁজ নেন তিনি। এ সময় তিনি নিজেও কাঁচা শাক-সবজি ক্রয় করেন।
জানা গেছে, মন্ত্রী ইয়াছিন ছুটির দিনে কুমিল্লা নগরীর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দর-দামের খোঁজ নিতে নিজেই বাজারে চলে আসেন।
এর আগে এদিন সকালে তিনি রাজগঞ্জ মাছ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের খোঁজ নেন এবং নিজের বাসার জন্য দেশীয় মাছ কেনেন।
দুপুরে পরিদর্শনকালে তিনি তরকারির বাজার দরের খোঁজ নেন। এ সময় অতিরিক্ত মূল্য না নেওয়া ও সাধারণ ভোক্তারা যেন কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য বিক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান মন্ত্রী। এ সময় তিনি ক্রেতা-বিক্রেতাদেরকে দেশীয় এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি ক্রয়-বিক্রয়ের পরামর্শ দেন।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে ত্রয়োবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এ কথা জানান।
বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি এই চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে চলচ্চিত্রের ভূমিকা উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; চলচ্চিত্র সামাজিক পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এই অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান রইলো।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।
মন্তব্য করুন


আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন এ এফ হাসান আরিফ।
মন্তব্য করুন


আজ ৭ জানুয়ারি (বুধবার) বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি) এবং এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
নির্বাচন কমিশনের সাথে সাক্ষাৎ পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের দলের কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, এক দেশে দুই রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিছু কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই আইনে দুই রকম সিদ্ধান্ত, আমরা এটার প্রতিবাদ জানিয়েছি। তিনি উল্লেখ করেন, একই ঘটনায় দুইজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে, একই ধরনের ঘটনা একই কোর্ট একই মামলা, কিন্তু আমাদের সিনিয়র নেতা- হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটা যে কারণে হয়েছে তা হলো- বিভিন্ন জায়গায় দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে এবং তারা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেছেন, আইনকে দেখেননি। আমরা বলেছি- এ ধরনের ডিসি, এসপি যারা আছে তাদের অপসারণ করতে হবে। নিরপেক্ষ ডিসি, এসপি সেখানে নিয়োগ করতে হবে, তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে একটি দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হলেও কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এটি আমরা কমিশনকে জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি যে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। অন্য একটা দলকে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ দিচ্ছে। বিটিভি নিরপেক্ষ হয়নি- আমার এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান। অনতিবিলম্বে সকল দলের প্রচারণায় সমান সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছি আমরা।
রাজনৈতিক দল ও দলীয় প্রধানের প্রটেকশনে প্রটোকলের বিষয়ে বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, কোন কোন ব্যক্তিকে অনেক প্রটেকশন দেয়া হচ্ছে। আবার একই পর্যায়ের অন্য নেতাদেরকে সেরকম প্রটেকশন দেয়া হচ্ছে না। এখানে প্রটেকশন কাউকে বেশি দিবেন, কম দিবেন এটা আমাদের ইস্যু নয়। আমাদের ইস্যু হচ্ছে নির্বাচনের সময় একটা পাবলিক ইম্প্রেশনের প্রশ্ন আছে। এখন নির্বাচনের সময় এটা একটা ইস্যু, কারণ মানুষ দেখবে যে একজনকে অনেক প্রটোকল দেয়া হচ্ছে। তার প্রতি মানুষের ইম্প্রেশন হতে পারে। কারণ মানুষ বুঝবে সে ভবিষ্যৎ নেতা। যেটা লেভেল প্লেয়িংকে সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একটা রঙ ম্যাসেজ জনগণকে দেয়ার চেষ্টা করছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘণের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি দলের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এটা সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ফেয়ার ইলেকশনের জন্য ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি থাকা দরকার। তারা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন এবং আমাদের বলেছেন, এটা তারা ৯০ ভাগ কেন্দ্রে করবেন। আমরা চাচ্ছি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। যদি আগামী নির্বাচনটি পাতানো নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। দেশ আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে। একটি দল এটা করতে গিয়ে নির্বাসনে আছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচির উদ্বোধন করে বলেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ ছাত্র, জনতা, রিকশাচালক, শ্রমিকরা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন-সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে আমরা গত বছরের প্রতিটি দিনকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করব। এই অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে আবার নতুন করে শপথ নেব এবং এটা আমরা প্রতি বছর করব, যাতে স্বৈরাচার আর যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে।
আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ ইতিহাসের এক গৌরবময় ক্ষণ। এক বছর আগে, এই জুলাই মাসে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল তা এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান রচনা করে আমাদের মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল। জুলাই ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক অমোঘ ডাক, জনতার এক জাগরণ। সেই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল- “ফ্যাসিবাদের বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থাণের স্বপ্ন ছিল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এই মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করার যে অনুষ্ঠানমালা নিয়েছি, এটা শুধু ভাবাবেগের বিষয় নয়, ক্ষোভ প্রকাশের বিষয় নয়। আমরা ১৬ বছর পরে বিরাট বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং যে কারণে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাৎক্ষণিক তাঁর যে লক্ষ্য ছিল সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। কিন্তু তাঁর পেছনে ছিল একটা বিরাট স্বপ্ন- নতুনভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণ, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ।
স্বৈরাচার যেন আর কখনও ফিরে আসতে না পারে সে বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা প্রতি বছর এই সময়টা উদযাপন করব যাতে পরবর্তীতে আবার এই অভ্যুত্থান করার জন্য ১৬ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়। আমরা প্রতি বছর এটা করব, যাতে স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন দেখা গেলেই তাৎক্ষণিক ভাবে আমরা তার বিনাশ করতে পারি।
সেটার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচি পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের প্রথম পাতা মেলার আগেই যেন আমরা তাকে ধরে ফেলতে পারি। ১৬ বছর যেন আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জুলাই গণঅভ্যুত্থাণে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে গভীর গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, সেই সব তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, রিকশাচালকদের—যারা রাস্তায় নেমে গণতন্ত্রের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিলেন; সাহস, ত্যাগ আর দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন’।
জুলাইকে ঐক্যের মাসে পরিনত করার আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, আমরা আজ মাসব্যাপী যে কর্মসূচির সূচনা করছি, তা শুধুই স্মরণ নয় বরং একটি নতুন শপথ। গত বছরের জুলাইয়ে এ দেশের সকল শ্রেণি-পেশা-বয়সের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, আমরা চাই, এই জুলাইয়ে সেই ঐক্য আবার সুসংহত হোক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য— জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দাবি জানানো এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া সংস্কারের এই সুযোগকে হারিয়ে না ফেলা। আমাদের সামনের পথ অনেক কঠিন, কিন্তু মস্ত বড় সম্ভাবনাও আছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো শক্তিই তাদের রুখে দিতে পারে না। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমি আপনাদের আহ্বান জানাই—আসুন, এই জুলাই মাসকে পরিণত করি গণজাগরণের মাসে; ঐক্যের মাসে’।
জুলাই-আগস্টের পুনরুত্থান কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের স্বপ্ন আবার নতুন করে জেগে উঠুক। আমাদের ঐক্য সর্বমুখী হোক, অটুট হোক আমাদের এই অনুষ্ঠানমালার লক্ষ্য।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


মসজিদের
ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাসিক সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের
উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের অন্যতম
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পাইলট প্রকল্পের আওতায়
প্রাথমিকভাবে দেশের হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
এর
মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক স্বীকৃতি
নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্য
ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতকে মাসিক সম্মানি
প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার
যাজকসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রকল্পের
আর্থিক রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানি নির্ধারণ
করা হয়েছে।
এর
মধ্যে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম
২ হাজার টাকা করে পাবেন।
অন্যদিকে,
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোর জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা
করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মন্দিরের পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার
টাকা পাবেন। একইভাবে বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা এবং খ্রিস্টান
চার্চের পালক বা যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ধর্মের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত
ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়বে শেষ রাত থেকে। এছাড়া প্রশমিত হবে শৈত্য প্রবাহ।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া অফিস এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক থাকতে পারে সারাদেশের আবহাওয়া। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন।
আজ সোমবার (১১ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা
৭টা ৫০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটি কুয়ালালামপুরে অবতরণ
করে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ
তথ্য জানানো হয়। এর আগে দুপুর ২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি
ঢাকা ছাড়েন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
মালয়েশিয়া সফরে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই ও তিনটি নোট বিনিময় হবে। তবে প্রধান উপদেষ্টার
মালয়েশিয়া সফরে কর্মী নিয়োগ ও বিনিয়োগ প্রাধান্য পাবে।
রোববার (১০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার
প্রেস উইং থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ১১ থেকে ১৩ আগস্ট প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়া সফর করবেন। প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফরে
কর্মী নিয়োগ ও বিনিয়োগ প্রাধান্য পাবে। মালয়েশিয়ায় কীভাবে আরও জনশক্তি বাড়ানো যায়,
সে বিষয়ে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় যেসব কোম্পানি আছে,
কীভাবে তাদের বিনিয়োগ আনা যায় সেই চেষ্টা থাকবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের
আমন্ত্রণে উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেদেশে সফরে গেছেন। আগামী ১২ আগস্ট পুত্রজায়ায়
দুদেশের সরকারপ্রধান বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই
ও তিনটি নোট বিনিময় হবে।
যে সব বিষয় সমঝোতা স্মারক সই হবে-
সেগুলো হলো- ১. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ২. জ্বালানি সহযোগিতা। ৩. বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) ও মেমোসের (মালয়েশিয়ান কোম্পানি) মধ্যে সমঝোতা সই। ৪. বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (আইএসআইএস) মধ্যে সমঝোতা সই। ৫. ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ও মালয়েশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমআইসিসিআই) মধ্যে সমঝোতা সই। যে তিনটি বিষয়ে নোট বিনিময় হবে, সেগুলো হলো- ১. হালাল খাদ্য ব্যবস্থাপনা। ২. ফরেন সার্ভিস একাডেমি ও ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড ফরেন রিলেশানসের (আইডিএফআর) মধ্যে সহযোগিতা। ৩. দুদেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন
মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো: মাহবুবুল আলম।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের
চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন
২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী মাহবুবুল আলমকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক
পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর মেয়াদে বাংলাদেশ টেলিভিশনের
(বিটিভি) মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।
এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত অনুমোদিত
চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে
প্রজ্ঞাপনে।
অন্যদিকে, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী
পরিচালক পদে মো. লতিফুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট আইন
অনুযায়ী তাকে পরবর্তী ২ বছর মেয়াদে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ
করা হলো।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন