

কুমিল্লায় গোমতী নদীতে পড়ে নিখোঁজের সাতদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আজাদ হোসেন (২৭) কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার এলাকার অরন্যপুর
গ্রামের আনার হোসেনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেবিদ্বারের জাফরগঞ্জের নদীর খেয়াঘাট এলাকা
থেকে লাশটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো
হয়েছে বলে জানান দেবিদ্বার থানার ওসি নয়ন মিয়া।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে আজাদ টিক্কারচরে গোমতী নদীর
সেতুতে টিকটকের জন্য ভিডিও করতে গিয়ে নদীতে পড়ে যান।
এ খবর শোনার সাথে সাথেই তার স্বজনরা ও ডুবুরি দল অনেক খোঁজাখুঁজি করে কিন্তু
তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
সাতদিন পর বৃহস্পতিবার দেবিদ্বারের জাফরগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় স্থানীয়রা ওই যুবকের
ভাসমান লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়।
পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এরং তাকে সনাক্ত করা হয় ।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ঈদ-উল আযহা উপলক্ষ্যে পশুর হাটের ইজারাদারদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক ও ট্রাফিক
ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (১০ জুন) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কনফারেন্স রুমে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার)।
উক্ত
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানার পশুর হাটের ইজারাদারগণ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত আলোচনা সভায় পশু হাটের ইজারাদারগণ তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা ও পর্যবেক্ষণ
তুলে ধরে মতামত ব্যক্ত করেন।
পরবর্তীতে
পুলিশ সুপার পশুর হাট সংক্রান্তে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও হয়রানি রোধ, জালটাকা সনাক্তের
জন্য মেশিন স্থাপন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়সহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্তে
গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানা এলাকায় এই বছর স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে সর্বমোট ৪০৯টি পশুর হাট বসবে।
উক্ত
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) খন্দকার
আশফাকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ট্রাফিক
(অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিবি) মোঃ নাজমুল হাসান, অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী মোঃ মতিউল ইসলাম, অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ কামরান হোসেন, অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) মোঃ রবিউল ইসলামসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন
কর্মকর্তাগণ।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ কুমিল্লার সাব্বির হোসেন ৪০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মারা গেছেন।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে দেবিদ্বার ভিংলাবাড়ি এলাকায় তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সাব্বির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল এলাকার হলেও তিনি ছোটবেলা থেকেই নানাবাড়ি দেবিদ্বারের ভিংলাবাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
সাব্বিরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো: শাহিনুল ইসলাম।
পুলিশ পরিদর্শক শাহিনুল ইসলাম বলেন, সাব্বিরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমরা তার বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে তার মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু স্থানীয় লোকজন আমাদের বাধা সৃষ্টি করে বলেন- তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করবেন। পরে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সাব্বিরের মরদেহ দাফনের অনুমতি দিয়ে থানায় ফিরে আসি।
নিহত সাব্বির হোসেন(১৯) তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। বছর তিনেক আগে তার বাবার মৃত্যুর পর সাব্বির সংসারের হাল ধরতে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সির বরাত দিয়ে উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান তামিম বলেন, নিহত সাব্বির আমাদের দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও তিনি আমাদের দলীয় প্রতিটি প্রোগ্রামে অংশ নিতেন। আমাদের কাছে তার ছবি আছে। সে ছাত্র আন্দোলনের সময় সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিল। আমরা তার হত্যার বিচার চাই। দলীয়ভাবে আমরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।
মন্তব্য করুন


আজ
কুমিল্লায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইন তদারক
ও পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বিকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ক্যাবের প্রতিনিধি এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে উপজেলার সীমান্তবর্তী শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আবু হানিফ (৫০) নামে এক মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে যৌথবাহিনী তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে মাদক কারবারী আবু হানিফ মাদকসহ তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। এসময় যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
মাদক কারবারী আবু হানিফ শশীদল ইউনিয়নের আশা বাড়ি গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে।
এ সময় যৌথবাহিনী তার কাছ থেকে ৭ হাজার ৬ শত পিস ইয়াবা টেবলেট ও নগদ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ৩ টি পাসপোর্ট উদ্ধার করে। অভিযান পরিচালনা করেন, যৌথবাহিনী এবং ব্রাহ্মণপাড়া থানার এস আই অমর্ত্য মজুমদারসহ পুলিশের একটি দল।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আতিক উল্লাহ সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা তাকে গ্রেফতার করি। তার বিরুদ্ধে থানার একটি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার কাবিলা বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি আট লাখ আট হাজার টাকার ভারতীয় অবৈধ আতশবাজি আটক করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।
আজ
শুক্রবার (১৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ রাত থেকে ১৪ মার্চ ভোর ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাবিলা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত-এর উপস্থিতিতে বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৪০০টি ভারতীয় অবৈধ আতশবাজি এবং একটি ট্রাক জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি আট লাখ আট হাজার টাকা।
বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে এসব অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্য বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
কুমিল্লা
আদর্শ সদর উপজেলায় বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই-এর
অভিযানকালে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ
বুধবার দুপুর থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা জেলা
প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আক্তার শিফা, সালমান ফার্সি
এবং মো. আনিসুল হক।
এ
সময় বিএসটিআই কুমিল্লার মাঠ কর্মকর্তা ইকবাল আহাম্মদ, পরিদর্শক (মেট) আরিফ উদ্দিন প্রিয়,
পরীক্ষক (রসায়ন) মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লায়
বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক কে এম হানিফ জানান, মানসনদ গ্রহণ ব্যতীত পণ্যের মোড়কে স্ট্যান্ডার্ড
মার্ক (মান চিহ্ন) ব্যবহার, বিস্কুট, পাউরুটি ও কেক পণ্য উৎপাদন এবং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর
তথ্য প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে নগরীর দেশয়ালিপট্টির মেসার্স বিক্রমপুর শশী ভান্ডারকে
২৫ হাজার টাকা, বিক্রমপুর ঘি স্টোরকে দুই হাজার টাকা এবং রাজগঞ্জ বাজার এলাকার মেসার্স
নিউ প্রিমিয়াম সুইটসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল:
কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি (যুদ্ধসমাধি)
থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
তাদের দেহাবশেষ জাপানে নেওয়া হবে। এরই মধ্যে জাপানের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যদের একটি ফরেনসিক
বিশেষজ্ঞ দল ওই ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন। যেটি
শেষ হবে আগামী ২৪ নভেম্বর।
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম
পাশে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান
হিসেবে পরিচিত। সেখানে রোববার বিকেল পর্যন্ত খনন করা হয়েছে ১০টি সমাধি। জাপানের বিশেষজ্ঞ
ফরেনসিক টিমকে সহায়তা করছেন বাংলাদেশ সরকার। পুলিশি নিরাপত্তায় খনন কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে
নিহত বিশ্বের ১৩টি দেশের ৭৩৭জন বীর সৈনিককে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ১৯৬২ সালে একজন সৈনিকের দেহাবশেষসহ সমাধির মাটি তার স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে
নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ২৪ জন জাপানি সৈনিকের মরদেহ রয়েছে। গত বুধবার থেকে খনন কাজ
শুরু হয়।
সমাধিস্থলের মাটি খুঁড়তেই মিলছে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈনিকদের মাথার খুলিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়। সেগুলো অত্যন্ত
যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন এই যুদ্ধ সমাধি ক্ষেত্র
তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে।
সমাধিস্থলের খননকাজে জাপানের প্রতিনিধিদের
সহায়তা করছেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.)
কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবর (সমাধি) শনাক্তকরণ, দেহাবশেষ
সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ সরিয়ে আনার কাজটিও করেছেন
তিনি। জাপানের প্রতিনিধিদলের পক্ষে পুরো কর্মযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, ‘জাপান
সরকার ২০১৩ সালে আমাকে তাদের দূতাবাসে ডেকেছিল এই ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে
নেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ওই সময়ে সেটি সম্ভব হয়নি। গত বছর থেকে তারা বিষয়টি
নিয়ে আবারও যোগাযোগ করে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাপান সরকার আমাদের সরকারের কাছে চিঠি
লেখে এবং কমনওয়েলথের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এই কাজ শুরু করেছে। এখানে জাপানের পক্ষ থেকে
সাতজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, যারা এ কাজে অত্যন্ত দক্ষ। তাদের ছয়জন জাপানি ও
একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এই সমাধিগুলো ৮১ বছরের পুরোনো। এরই মধ্যে খনন করে আমরা
১০ জনের দেহাবশেষ সমাধি থেকে উত্তোলন করতে পেরেছি।’
দেহাবশেষে কী কী পাওয়া যাচ্ছে, জানতে
চাইলে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘৮১ বছর পর খুব বেশি কিছু পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা
প্রতিটি সমাধির দুই ফুটের মতো খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে খুঁড়ছি। বাকিটা ম্যানুয়ালি
অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খনন করা হচ্ছে। কোনোটিতে তিন ফুট, আবার কোনোটিতে ছয় ফুট খননের
পর দেহাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত যেগুলো খনন করা হয়েছে, সেসব সমাধিতে মাথার খুলি,
শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় পাওয়া যাচ্ছে। তবে যা-ই পাচ্ছি, সবকিছুই জাপানের বিশেষজ্ঞ
দল যত্নসহকারে সংরক্ষণ করছে।’
তিনি বলেন, আমরা এক তরুণ সৈনিকের দেহাবশেষ
তুলতে গিয়ে মাথার খুলির মধ্যে বুলেটের চিহ্ন পেয়েছি। রেকর্ড অনুযায়ী ওই সৈনিকের বয়স
২৮ বছর ছিল। আমার তখন বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করেছে। এত তরুণ বয়সে পৃথিবী থেকে চলে গেছে
সে। এখানে জাপানের সৈনিকদের ২৪ সমাধির মধ্যে ২০টির নাম-পরিচয় আছে। বাকি চারটির পরিচয়
শনাক্ত করা এখনো সম্ভব হয়নি। নিশ্চয়ই তারা (জাপানের প্রতিনিধিদল) দেহাবশেষ নিয়ে গেলে
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।’
কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশনের পক্ষে
দায়িত্ব পালন করা কান্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আবদুর রহিম সবুজ বলেন, গত বুধবার সকাল
থেকে জাপানের প্রতিনিধি দল কার্যক্রম শুরু করে। এখানে সমাহিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময় নিহত বিশ্বের ১৩টি দেশের।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১২ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক
ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
আজ (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী
মডেল থানাধীন তেলিকোনা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী শাহীন নামক একজন
মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ১২ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহন
কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী শাহীন (৬০) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার গাজীপুর গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়া এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত
সিএনজি ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে
কুমিল্লাসহ অন্যান্য জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে
বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান
পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত
থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক প্রবাসীর পরিবারে হামলা চালিয়ে প্রবাসীর মা ফিরোজা
বেগমসহ কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার ধুড়িয়ারা গ্রামে
এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার
(২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন অভিযোগ
করেন মির্জা জয়নাল আবদীন হিরণ ও ঘটনার খবর পেয়ে দেশে আসা তার দুই ভাই আবদুল্লাহ মাহবুব
ও রফিকুল ইসলাম।
ভুক্তভোগীরা
অভিযোগ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী বাড়ির আজিজুর রহমান লিটনসহ পরিবারের লোকজনের সাথে প্রবাসীর
পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে তারা গত ২৮ জানুয়ারি প্রবাসীর পরিবারের
উপর হামলা চালায় এবং প্রবাসীর মাকে কোদাল দিয়ে চোখের উপরিভাগে গুরুতর আঘাত করে রক্তাক্ত
জখম করে। এদিন প্রবাসীর আহত মা ফিরোজা বেগমকে প্রথমে নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রতিপক্ষের
হামলা ও হুমকিতে প্রবাসীর পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে তারা জানান। প্রবাসী
আবদুল্লাহ মাহবুব জানান, হামলাকারীরা তার মাকে হত্যার চেষ্টা করলেও তারা এখন ঘটনাটি
ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানী
করছে।
নাঙ্গলকোট
থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী জানান, দুইপক্ষের মারামারির
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিজস্ব পদ্ধতিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান)
শ্রেণির ‘সি’ ও ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
আজ
শনিবার (১৯ এপ্রিল) ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে ১১টায় এবং
‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বিকাল ৩টা থেকে শুরু হয়ে ৪টায় শেষ হয় । কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ
মোট ৯টি কেন্দ্রে ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা এবং ২৬টি কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, আজকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে
সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি হল ঘুরে দেখেছি।
কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রগুলোতেও পরীক্ষার পরিবেশ ভাল ছিল। সুষ্ঠু পরীক্ষা
গ্রহণ ও জালিয়াতি প্রতিরোধে আমরা সতর্ক ছিলাম। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি করা
ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটস সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের প্রত্যেকেই নিজ
নিজ দায়িত্বের প্রতি আন্তরিক ছিল বলেই ‘সি’ ও ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুন্দরভাবে
সম্পন্ন হয়েছে। সামনের ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষাতে আমরা আরও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা
করবো। পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রক্টরিয়াল বডি, কর্মকর্তা-কর্মচারী,
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি ধন্যবাদ
জানান।
উপ-উপাচার্য
অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, আজকের পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী,
প্রক্টরিয়াল বডি, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট,
সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ভাল
ছিল। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আগামী ২৫ তারিখ ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
হবে। আজকের মতো ঐদিনও সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।
ট্রেজারার
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের দাবীর প্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
এ বছর স্বতন্ত্রভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং নিরাপত্তা
নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, সাংবাদিক
সবাই সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ ভর্তি কার্যক্রম
সহজ করতে এগিয়ে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্ন না ঘটে, পরিবহন সমস্যা যাতে না হয়, সেজন্য
তারা নিজ উদ্যোগে কাজ করেছে। তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আগামীতেও তারা এভাবে সহযোগিতা
অব্যাহত রাখবেন বলে আমি আশাবাদী।
প্রক্টর
অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সকলের
সহযোগিতায় আমরা সুন্দরভাবে পরীক্ষা নিতে পেরেছি। আমরা সফল। আগামীতে আমরা আরো ভালো করতে
চেষ্টা করবো।
২৪০
আসনের বিপরীতে ‘সি’ ইউনিটে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯ হাজার ৯৫২ জন। তারমধ্যে উপস্থিত ছিল
৭ হাজার ৬৪৬ জন। উপস্থিতির হার ৭৬.৮৩ শতাংশ। অপরদিকে ৩৫০ আসনের বিপরীতে ‘এ’ ইউনিটে
মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩২ হাজার ৬৫৭ জন।
মন্তব্য করুন