

কুমিল্লা
বিসিক শিল্প নগরীতে ‘মর্ডান ড্রাগ’ নামক একটি কারখানায় মাঝরাতে ঝটিকা
অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে সরকারি লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ
ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ২১ পদের ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কোনো
বৈধ টেকনিশিয়ান ছাড়া নিজেই এসব ক্ষতিকর ওষুধ তৈরির অপরাধে কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলামকে
হাতেনাতে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার
(২০ জুন) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের একটি চৌকস দল বিসিক এলাকার
ওই কারখানায় এই বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান।
জেলা
প্রশাসন ও ঔষধ প্রশাসন সূত্র জানায়, মর্ডান ড্রাগ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির সরকারিভাবে
মাত্র দুটি সাধারণ ওষুধ তৈরির বৈধ অনুমোদন ছিল। কিন্তু কারখানার ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে
দেখা যায়, সেখানে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে শিশুখাদ্য ও শিশুদের সিরাপসহ ২১ ধরনের জটিল রোগের
ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বোতলজাত করা হচ্ছিল। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কারখানায় ওষুধ তৈরির
জন্য স্বীকৃত কোনো ফার্মাসিস্ট বা ল্যাব টেকনিশিয়ান ছিল না। মালিক জুবায়ের ইসলাম নিজেই
ইচ্ছেমতো উপাদান মিশিয়ে এসব ক্ষতিকর ওষুধ তৈরি করতেন। অভিযানে সেখানে কেবল একজন নামমাত্র
শিক্ষানবিশ কেমিস্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তৈরি করা এসব ভেজাল ওষুধ ডিলারের মাধ্যমে
দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফার্মেসিতে সরবরাহ করা হতো।
অভিযানে
অংশ নেওয়া কুমিল্লা ঔষধ প্রশাসনের অফিস সহকারী শাহ আলম সরকার বলেন, "জব্দ করা
ওষুধের তালিকায় বেশ কয়েকটি নামী বিদেশি ব্র্যান্ডের নকল ওষুধও রয়েছে। ল্যাবে পরীক্ষা
ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এই ওষুধগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মানবদেহের জন্য
রীতিমতো বিষসদৃশ। এ ঘটনায় ওষুধ আইন অনুযায়ী কঠোর নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।"
আটকের
পর অপরাধের কথা স্বীকার করে কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলাম বলেন, "২১টির মধ্যে
১৫টিরও বেশি ওষুধ তৈরির কোনো বৈধ কাগজপত্র বা অনুমতি আমাদের ছিল না। আমরা মূলত বিভিন্ন
সাধারণ হারবাল কাঁচামাল এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করে নিজেদের মতো করে এসব ওষুধ তৈরি করে
আসছিলাম।"
ভেজাল
ও নকল ওষুধের এই বড় আস্তানায় অভিযান পরিচালনার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক
কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা হাসান মাহমুদ এবং কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারসহ পুলিশের একটি দল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়
বিসিকসহ কুমিল্লার সর্বত্র এই ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে
জেলা প্রশাসন।
মন্তব্য করুন


আজ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার পাস করেছে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী। গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি সব বোর্ডের ফলাফলের যে সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে তাতে দেখা যায়, গত বছর ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সেই হিসেবে পাসের হারও কিছুটা কমেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। গত বছর অর্থাৎ, ২০২৩ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯২ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসেবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় দেশের ১১ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ একসাথে অনলাইন, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ফলাফলের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে।
এবার ৯ হাজার ১৯৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
মন্তব্য করুন


যৌথবাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত সাত দিনে ৪২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ (শনিবার) পর্যন্ত অভিযানে এসব লোককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হতে ৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন, ১০ পদাতিক ডিভিশন, ১১ পদাতিক ডিভিশন, ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড, ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড, ৮৬ স্বতন্ত্র সিগন্যাল ব্রিগেড ও ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীর মিরপুর-১, ভাষানটেক, ইসিবি চত্বর, কাঁঠালবাগান, হাজারীবাগ এবং দেশের অন্যান্য এলাকা টঙ্গী, নরসিংদী, রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব যৌথ অভিযানে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ, ডাকাত দলের সদস্য ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য এবং মাদক ব্যবসায়ীসহ ৪২৭ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের নিকট হতে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র, পাসপোর্ট, এনআইডি, মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
পাশাপাশি অভিযানে বিভিন্ন স্থানে নকল ভোজ্য তেল ও নকল ফলের জুস এর কারখানা সহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সিলগালা সহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আটককৃতদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ জনগণকে যেকোন সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য প্রদান করার জন্য যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তাপপ্রবাহে বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে
যথারীতি মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলবে
বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার থেকে যথারীতি মাধ্যমিক
পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলবে।
তাপপ্রবাহের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
বৃহস্পতিবার (২ মে) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণার জন্য আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছিল আদালত। সে
অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখা হয় মাধ্যমিক স্তুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের
(সিআরপি) কর্তৃপক্ষ।
রোববার
দুপুরে ( ২৪ মে ) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর
ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি
জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে
আলোচনা হয়। সিআরপি কর্মকর্তারা তাদের চলমান কার্যক্রম, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার
বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. ভ্যালেরি এ. টেইলর, ট্রাস্টি বোর্ডের
নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, ট্রাস্টি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইদুর
রহমান, ট্রাস্টি মুশতাক আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন




বেসামরিক
বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত-এর
সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতআবদুল্লাহ আলি আল হামুদি সাক্ষাৎ
করেছেন।
বৃহস্পতিবার(২১
মে) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় ৷
সাক্ষাৎকালে
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ
করা হয়।
পাশাপাশি
দেশের বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত,
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে
আরব আমিরাতের বিমান ও ভ্রমণ সেবাসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান, ডিনেটার আগ্রহের কথা উল্লেখ
করেন।
প্রতিমন্ত্রী
তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জানান, টার্মিনালটির
অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওআরএটি) কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে শুরু
হওয়ার পর এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত
করবে।
এ
সময় মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরে সেবার মান বৃদ্ধিতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম
গ্রহণে সদা প্রস্তুত।
এসময়
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


নৈতিক
স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার
(২২ জুলাই) বিকালে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়
প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়েছে, ‘আজ ২২ জুলাই (বুধবার) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়
নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মিন্ট রোডস্থ বিরোধীদলীয়
নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান
(এমপি)। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’
এতে
আরও বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন
মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের
৬২নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’
একই
সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত
করার সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে, ততবারই কুমিল্লার উন্নয়নে কাজ করেছে। বর্তমানেও কুমিল্লাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী সদর দক্ষিণকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছেন। আমার পক্ষ থেকেও কুমিল্লার উন্নয়নে যা যা করা সম্ভব, আমি করে যাব। কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর আইন আমার হাত দিয়েই সংসদে পাস হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় টাউনহল মাঠে নাগরিক সমাবেশের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, কুমিল্লাকে একটি পরিকল্পিত নগরীতে রূপ দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের অংশ হিসেবে কুমিল্লা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর বিষয়ে রেল উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই সরকারের আমলেই কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি কৃষি কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও কৃষি গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০ শয্যা রয়েছে। এ হাসপাতালকে আরও সম্প্রসারণ করে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে এক হাজার শয্যার সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলের অংশগ্রহণেই দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমীরুজ্জামান আমীরে সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-০৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রেলের অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি বুধবার ৪ এপ্রিল শুরু হবে।
টিকিট বিক্রি চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত।
৪ এপ্রিল,বুধবার সকাল ৮টা থেকে রেলওয়ের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ রেলওয়ের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নেওয়া কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
আগের ঈদগুলোতে ৫ দিনের টিকিট বিক্রি করলেও এবারই প্রথম ৭ দিনের টিকিট বিক্রি করবে রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের এই ট্রেন যাত্রার টিকিট ভোগান্তিবিহীন কিনতে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
আন্তঃনগর ট্রেনের ১৩ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৩ এপ্রিল; ১৪ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৪ এপ্রিল; ১৫ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৫ এপ্রিল; ১৬ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৬ এপ্রিল; ১৭ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৭ এপ্রিল; ১৮ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৮ এপ্রিল এবং ১৯ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৯ এপ্রিল। এছাড়া যাত্রী সাধারণের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন


জন্মনিবন্ধনে মা হিসেবে যার নাম, সমাজে পরিচয়ও যার মেয়ে হিসেবে। কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন, নাম লিখিয়েছেন নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, দিয়েছেন নিজের পরিবারের পরিচয়। কিন্তু ১৫ বছর পর সেই নারীই জানালেন—‘সে আমার মেয়ে নয়’। এরপর শুরু হয় এক কিশোরীর পরিচয় বদলের প্রক্রিয়া। বদলে যায় জন্মনিবন্ধন, সংশোধন হয় শিক্ষাগত নথি, প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।
অনুসন্ধানে
জানা গেছে, রাজশাহীর আলোচিত এ ঘটনার পেছনে রয়েছে দত্তক গ্রহণ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব,
উত্তরাধিকার সম্পত্তি এবং আইনি জটিলতার এক বিস্ময়কর গল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে
ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল (১৮) নামের এক তরুণীর পরিচয়ের লড়াই।
২০০৮
সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল কার্যালয়ে একটি শিশুর জন্মনিবন্ধন
করা হয়। সেই নিবন্ধনে শিশুটির নাম লেখা হয় ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল। মা হিসেবে উল্লেখ
করা হয় রাজশাহীর প্রখ্যাত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিপ্রা চৌধুরীর নাম এবং বাবা হিসেবে লেখা
হয় তার স্বামী ডা. ওবায়দুর রহমানের নাম।
এরপর
থেকে পায়েলের পরিচয় ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তিনি ডা. শিপ্রা চৌধুরীর মেয়ে হিসেবেই পরিচিত
ছিলেন পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের কাছে। রাজশাহীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা,
অভিজাত পরিবেশে বেড়ে ওঠা, চিকিৎসক মায়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ—
সব মিলিয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মতোই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর।
কিন্তু
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এসে সেই পরিচয়ের ভিত্তিটাই যেন ভেঙে পড়ে। পারিবারিক বিভিন্ন
টানাপোড়েনের এক পর্যায়ে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেন পায়েল।
একসময় তাকে জানানো হয়, তিনি আসলে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর গর্ভজাত সন্তান নন। বরং তিনি একজন
পালিত সন্তান। শুধু তাই নয়, তাকে আরও বলা হয়, তার প্রকৃত বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ
উপজেলায় এবং তার আসল বাবা একজন রাজমিস্ত্রি।
হঠাৎ
করেই এমন কথা শুনে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েন পায়েল। তিনি জাগো নিউজকে
বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে উনাদের কাছেই বড় হয়েছি। পরিবারের সদস্য বলতে তারাই ছিল আমার
সবকিছু। বাবা আলাদা থাকতেন, ভাইও দেশের বাইরে ছিলেন। ফলে আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু
ছিলেন মা। কিন্তু একসময় তার আচরণ বদলে যেতে থাকে। পরে তিনি আমাকে বলেন, আমি তার নিজের
মেয়ে নই, আমি পালিত সন্তান। কথাগুলো শুনে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ এতদিন যে
পরিচয়ে বড় হয়েছি, সেটাই যদি সত্য না হয় তাহলে আমি আসলে কে?’
পায়েলের
দাবি, ‘মৌখিকভাবে সম্পর্ক অস্বীকার করার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকেনি। এরপর তার জন্মনিবন্ধনসহ
বিভিন্ন নথিপত্রে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে তার জন্মনিবন্ধনের তথ্য
সংশোধন করা হয়। পাশাপাশি একাডেমিক কাগজপত্রেও পরিবর্তন আনা হয়। এমনকি ২০১০ সালে নিজের
মেয়ে পরিচয়ে পায়েলের নামে যে জমি দান করা হয়েছিল, সেটি ফেরত চেয়েও মামলা করা হয়।
পায়েল
বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক লাগে, যেসব নথি তারাই তৈরি করেছিলেন, সেগুলো কীভাবে পরিবর্তন করা
হলো আমি জানি না। আমার এনআইডি কার্ডে এক তথ্য, জন্মনিবন্ধনে আরেক তথ্য, শিক্ষাগত কাগজপত্রে
আবার ভিন্ন তথ্য। এসব কারণে বিভিন্ন জায়গায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কলেজে ভর্তি হওয়ার
সময়ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আমার পড়াশোনার এক বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো নানা জায়গায় পরিচয়
প্রমাণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ি।’
রাজশাহী
সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারির
দিকে ডা. শিপ্রা চৌধুরী তাদের অফিসে এসে দাবি করেন, ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল তার নিজের
সন্তান নন। তখন তারা জানতে চান, যদি সন্তান না হন তাহলে জন্মনিবন্ধনের সময় কেন মা হিসেবে
স্বাক্ষর করেছিলেন?
তিনি
বলেন, ‘আমরা তাকে বলেছিলাম, আপনি যদি এখন বলেন মেয়েটি আপনার সন্তান নয়, তাহলে আগে যে
তথ্য দিয়েছেন সেটি তো বিভ্রান্তিকর। বিষয়টি আমাদের কাছেও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শিপ্রা চৌধুরী সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি।
তবে
তার পুত্রবধূ শাম্মী এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আবেগের বশে এবং কাউকে না জানিয়ে
শাশুড়ি পায়েলকে নিজের মেয়ে পরিচয়ে জন্মনিবন্ধন করিয়েছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে
এটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হয়নি। দত্তক গ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রও ছিল না।
জন্মনিবন্ধনে আমার শ্বশুরের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল অথচ তিনি বিষয়টি জানতেন না। পরে
ভুল বুঝতে পেরে শাশুড়ি নথিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেন।’
এদিকে
গোপন সূত্রে জানা যায়, ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল একটি ছেলেকে ভালোবাসেন। তবে সেই ছেলেকে
পছন্দ নয় ডা. শিপ্রা চৌধুরীর। এজন্যই তিনি পায়েলের আসল পরিচয় বলে দেন।
ঘটনার
আরেকটি নাটকীয় দিক সামনে আসে নতুন জন্মনিবন্ধনে যুক্ত হওয়া মা-বাবার বক্তব্যে। সংশোধিত
নিবন্ধনে পায়েলের বাবা-মা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুল মিয়া ও টগরী
বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে
টগরী বেগম দাবি করেন, পায়েল তাদের জৈবিক সন্তান নন।
তিনি
বলেন, ‘এটি সত্য নয়। এলাকার মানুষকে জিজ্ঞেস করলেই বিষয়টি জানতে পারবেন। আমাদের নাম
কীভাবে ব্যবহার করা হলো সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’
অন্যদিকে
বাবুল মিয়ার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় ডা. শিপ্রা চৌধুরী আমার
মেয়েকে নিয়ে যান। তখন বলা হয়েছিল ভবিষ্যতে যেন আমার কোনো দাবি না থাকে। একটি কাগজে
স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল মেয়েটি তাদের পরিচয়েই বড় হবে। এখন এত বছর পর কেন
তাকে অস্বীকার করা হচ্ছে, সেটি আমি বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয়
বাসিন্দা আব্দুর রহমানও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ছোটবেলায় ডা.
ম্যাডাম এসে বাচ্চাটি নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন বাবুলের পরিবারকে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে বাচ্চার
ওপর কোনো দাবি করা যাবে না। এমনকি দেখতে যেতেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। এখন হঠাৎ করে
পরিচয় অস্বীকার করার কারণ আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়।’
মোবারকপুর
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক হায়দারী বলেন, আমাদের কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র
নেওয়া হয়েছিল। সেটি পরে কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে আমরা নিশ্চিত নই। তবে শুনেছি ওই
নথির ভিত্তিতেই জন্মনিবন্ধনের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। আমার জানামতে শিশুটিকে অনেকটা
স্থায়ীভাবেই অন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
আইনি
দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রাজশাহীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জমসেদ আলী
বলেন, ‘যদি প্রমাণিত হয় পায়েল ডা. শিপ্রা চৌধুরীর ঔরসজাত সন্তান নন, তাহলে তিনি উত্তরাধিকার
আইনে ওয়ারিশ হবেন না। তবে দীর্ঘদিন একটি পরিচয়ে বড় করার পর সেই পরিচয় অস্বীকার করে
তার ক্ষতি করা হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মেয়েটি
আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।’
অনুসন্ধানে
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই পরিচয় পরিবর্তনের পেছনে উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক
বিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কেউই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা
বলতে নারাজ।
মন্তব্য করুন