

ইরানে আবারও হামলা চালালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সম্পূর্ণ একা লড়াই করতে হতে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৮ জুন) নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প বলেন, 'আমি বলেছি, বিবি, সাবধান হওয়া ভালো, অন্যথায় খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে পড়বে।
এছাড়া নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি উভয় পক্ষকে অবিলম্বে 'গোলাগুলি' বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী বিমান হামলার জেরে রোববার এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এর জেরে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। রোববার সন্ধ্যায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ফোন করে পাল্টা জবাব না দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তা উপেক্ষা করে সোমবার ভোরের দিকে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আঘাত হানার পর ইরানও ইসরায়েলের হাইফায় অনুরূপ কারখানা ও দুটি বিমান ঘাঁটি নিশানা করে। অবশ্য ইসরায়েলের দাবি, ইরানের ছোড়া বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্ৰই পশ্চিম তীরের আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত। তবে এই পাল্টাপাল্টি হামলার পর উভয় দেশ তা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানান, তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন যে আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তেহরানের ওপর আঘাত হানার পর তারা হামলা বন্ধ করায় রণাঙ্গনের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ইরান ফের হামলার ভুল করলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এদিকে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার খবরকে ছোট করে দেখে বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে প্রিয়জনদের মধ্যেও একটু-আধটু ঝগড়া হয়।' তাঁর দাবি, ট্রাম্পের অনুরোধে নেতানিয়াহু পরিস্থিতি শান্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভালো করেই বোঝেন যে ইসরায়েল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত বিনা জবাবে সহ্য করবে না।
অন্যদিকে, এই উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম পক্ষ হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আটক, দক্ষিণ লেবাননে হামলা বা অন্য যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে এর দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তাবে। পাশাপাশি, ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ দাবি করেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো 'নাসর' বা 'বিজয়' নামের এই অভিযান ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতার নতুন স্তর প্রমাণ করেছে এবং ইসরায়েলকে ফের যুদ্ধবিরতির জন্য ভিক্ষা করতে বাধ্য করেছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত থামাতে ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই এই নতুন সংঘাত ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলল।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ
দুই শতকের অপেক্ষা। এর মধ্যে পেরিয়ে
গেছে টানা পাঁচ প্রজন্ম। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের মহারাষ্ট্রের এক পরিবারে জন্ম
নিয়েছে কন্যাসন্তান। বহু প্রতীক্ষিত এই নবজাতককে ঘিরে
পরিবারজুড়ে এখন আনন্দ-উৎসবের আমেজ। হাসপাতাল থেকে মা ও মেয়েকে
ফুলে সাজানো রথে করে, ব্যান্ডপার্টি, ঢাকঢোল ও নানা আয়োজনের
মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের
বিড জেলার পারলি এলাকার দহিফলে পরিবারে ঘটেছে এই আনন্দের ঘটনা।
পরিবারের সদস্য কল্পনা হৃষিকেশ দহিফলের কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে কন্যাশিশু। নাম রাখা হয়েছে ‘গার্গী’। হাসপাতাল থেকে
ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে বরণ
করে নিতে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এক
শোভাযাত্রার।
ঢাকঢোল,
কাঁসর ও ব্যান্ডপার্টির সুরের
সঙ্গে ফুল দিয়ে সাজানো রথে করে গার্গী ও তার মাকে
বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের নতুন সদস্যকে রাজকুমারীর মতো করে বরণ করার এ দৃশ্য দেখতে
আশপাশের অনেক মানুষও সেখানে ভিড় করেন। পুরো আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
নাতনির
জন্মে আবেগাপ্লুত গার্গীর দাদু লিম্বাজী দহিফলে। তিনি বলেন, পরিবারের ঘরে কন্যাসন্তানের আগমন তাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে কোনো মেয়েশিশু না থাকায় যে
আক্ষেপ ছিল, গার্গীর জন্মের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষারও অবসান হয়েছে।
গার্গীর
ঠাকুমা সুরেশা দহিফলেও নাতনির জন্মে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের ঘরে আজ সাক্ষাৎ লক্ষ্মী
এসেছে।’ নাতনির আগমনে পরিবারের সবাই ভীষণ আনন্দিত বলেও জানান তিনি।
গার্গীর
বাবা বলেন, অনেক পরিবার এখনো ছেলেসন্তানের প্রত্যাশা করে। কিন্তু একটি মেয়েশিশুর জন্ম যে আনন্দ ও
আবেগ নিয়ে আসে, তা আলাদা। মেয়েরা
বাবার সঙ্গে বিশেষভাবে ঘনিষ্ঠ হয়। তাই গার্গীকে ফুলের মতো যত্নে বড় করার প্রত্যয়
ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পরিবারটির
সদস্যরা জানান, কন্যাসন্তানের জন্ম কোনোভাবেই কম আনন্দের বিষয়
নয়—বরং এটি গর্ব ও উদযাপনের উপলক্ষ।
সমাজে মেয়েশিশুর জন্মকে ইতিবাচকভাবে দেখার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই তারা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন। একই সঙ্গে কন্যাসন্তানের জন্মকে আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও ৩০ বছর বয়সী তরুণ অধিকারকর্মী অভিজিৎ দিপকে এখন বিয়ের প্রস্তাবের বন্যায় ভাসছেন। দেশজুড়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠার পর থেকেই তার জন্য বিয়ের প্রস্তাবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
সম্প্রতি
সর্বভারতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু
হওয়া আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি পান অভিজিৎ। আন্দোলনের জনপ্রিয়তা
তার ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন তার মা।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিতের মা অনিতা দিপকে বলেন,
আন্দোলন শুরুর আগেও ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসত। তবে সিজেপির নেতৃত্বে জাতীয় পরিচিতি
পাওয়ার পর সেই সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি
বলেন, ‘আন্দোলনের আগে থেকেই প্রস্তাব আসছিল। এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ যোগাযোগ
করছেন।
অনিতা
দিপকে জানান, অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে উচ্চশিক্ষার সময়ও পরিবার থেকে তার বিয়ে
নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সে সময় তিনি এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মত দেননি। বিয়ের প্রসঙ্গ
উঠলেই তিনি শুধু হেসে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন।
তিনি
আরও জানান, বাবা-মা হিসেবে তারা চান অভিজিৎ এবার সংসার জীবন শুরু করুক। কয়েক দিনের
মধ্যে তিনি বাড়ি ফিরলে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত
নেওয়ার স্বাধীনতা অভিজিতের হাতেই থাকবে।
৩০
বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে উচ্চশিক্ষা
শেষে দেশে ফিরে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন
অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে সারা ভারতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আলু বোঝাইকৃত ট্রাকের চাপায় বাকিয়ার মল্লিক (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জালাল মিয়া (৬৭) নামের অপর বৃদ্ধ আহত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়েছে।
নিহত ব্যক্তি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখরদী গ্রামের মৃত হানিফ মল্লিকের ছেলে।
থানা ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখরদী গ্রামের বৃদ্ধ বাকিয়ার মল্লিক (৬৫) ও জালাল মিয়া নামে দুইজন কানখরদী বাসস্ট্যান্ড মসজিদ থেকে নামাজ শেষে শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় বোয়ালমারীগামী আলু বোঝাইকৃত (ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-০২৪৯) ট্রাক মাঝকান্দী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে কানখরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাকিয়ার মল্লিক ও জালাল মিয়াকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই বাকিয়ার মল্লিক মারা যায়। দুর্ঘটনায় আহত জালাল মিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
তবে ঘাতক ট্রাকটি বোয়ালমারী বাজারে কাঁচাবাজারের আড়তে ট্রাকটি রেখে চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ আড়ত থেকে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়েছে।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক
আব্দুর রশিদ বলেন, মাঝকান্দী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কানখরদীতে আলু বোঝাইকৃত
ট্রাকের চাপায় একজন নিহত এবং অপরজন আহত হয়েছেন। ট্রাকটিকে বোয়ালমারী বাজারের আলুর
আড়ত থেকে জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা
প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী
আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানিয়েছেন- ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালালেই ব্যবস্থা
নেওয়া হবে। এবারের ঈদযাত্রায় কোনোভাবেই মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করবে না। চলবে
না নছিমন করিমন ভটভটিও। যারা চালানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে গাবতলীর
কোরবানির পশুর হাট ও বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়
এসব কথা বলেন তিনি।
আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন
বলেন, বরাবরের মতো এবারও আমরা ঈদ উপলক্ষ্যে পশুর হাট, রেল, সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রার নিরাপত্তা
নিশ্চিতে সবকিছু মিলিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। রোজার ঈদে একমুখী চাপ থাকে। কিন্তু কোরবানির
ঈদে সাধারণত যেটা ঘটে সেটা হচ্ছে, ঘরমুখো মানুষের চাপ সড়কে যেমন থাকে তেমনি, পশুবাহী
ট্রাক-পিকআপও চলাচল করে। অর্থাৎ মানুষ বাড়ি যায়, গরু আসে। সড়কে দ্বিমুখী চাপ মোকাবিলা
করতে হয়। পুরো বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
স্বাভাবিক ও সঠিক রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


পার্বত্য অঞ্চলে হামলায় কারা জড়িত তাদের
বের করতে শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী
উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ।
ভূমি উপদেষ্টা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে
সম্প্রীতি নষ্ট করতে বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা এসব হামলা চালিয়েছে তারা
কোত্থেকে এসেছে কেউ জানে না।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ের
স্থানীয় সরকার বিভাগ কার্যালয়ে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স হেলেন লাফেইভের
নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপদেষ্টা হাসান আরিফ বলেন, আমরা
ছাত্র-জনতা-শ্রমিকের ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করছি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা
করতে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু
নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রণালয়গুলো ব্যক্তি নির্ভর হওয়া উচিত না, সিস্টেম নির্ভর হওয়া উচিত। এমন একটা সিস্টেম
প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যাতে মন্ত্রী হিসেবে যে ব্যক্তিই আসনে অধিষ্ঠিত হোক না কেন, সিস্টেমের
কোনো ব্যত্যয় না ঘটে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেবে । এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার গণভবনে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উল্লেখ্য যে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পাচ্ছে ৪৮টি। এসব আসনে দলটির মনোনয়ন পেতে ফরম কিনেছেন এক হাজার ৫৪৯ জন। যার ফলে প্রতিটি আসনের বিপরীতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩২ জন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, নারীদের সম্ভাবনা ও কর্মদক্ষতাকে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করে উন্নত
বাংলাদেশ গড়ার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ
করে যাচ্ছে।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন
করতে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের নারীরা- এ কথা উল্লেখ করে
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এটাই
হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে
আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক
নারী দিবস। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান
করে। নারী অধিকার রক্ষায় এই দিনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর
উদযাপিত হয়। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়:‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন-নারী ও কন্যার
উন্নয়ন’। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-শ্রমিক-জনতা যে গণ-অভ্যুত্থান
সংগঠিত করেছিল গত জুলাই-আগস্টে তার সম্মুখ সারিতে ছিল নারী। লক্ষ লক্ষ ছাত্রী বিভিন্ন
ক্যাম্পাসে দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। একাধিক নারী এই গণ-অভ্যুত্থানে
শাহাদত বরণ করেছেন। আমি এই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি
এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তারা
এগিয়ে যাচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক
উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে মহিলা
ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নির্যাতিত, দুস্থ ও অসহায়
নারীদের জন্য শেল্টার হোম, আইনি সহায়তা দিতে
‘মহিলা সহায়তা কেন্দ্র’, কর্মজীবী মহিলাদের আবাসন ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থান
সৃষ্টির লক্ষ্যে সহায়তা ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে
ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অদম্য মেয়েরা
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছে। নারীর অর্জনকে স্বীকৃতি
দিতে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ ও ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ভারতের
উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগরে যৌতুকের এক লাখ টাকা দিতে না পারায় মুফিদুন্নিশা নামে
এক তরুণীকে বিয়ের ৪৫ দিনের মধ্যে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ
জানায়, গত মে মাসে মুফিদুন্নিশার বিয়ে হয়েছিল সিদ্ধার্থনগরের শামসের আহমেদের সঙ্গে।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে নানাভাবে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন
করতেন স্বামী। বিষয়টি বাবার বাড়িতে জানিয়েছিলেন তরুণী। তাদের বাড়ি থেকে বিষয়টি মিটমাটের
চেষ্টাও করা হয়।
নিহত
মুফিদুন্নিশার মা জানান, গত ১৪ জুলাই তাকে মেয়ের জামাই ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনার
মেয়েকে মেরে ঘরে পুঁতে দিয়েছি। এসে নিয়ে যান।’ এই ফোন পাওয়ার পরই আতঙ্কিত হয় পড়েন
তিনি। পরে বিষয়টি আত্মীয়দের জানান। এরপর বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়।
অভিযোগ
পেয়ে মুফিদুন্নিশার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। আটক করা হয় মুফিদুন্নিশার
স্বামী, শ্বশুর এবং শাশুড়িকে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসের দাবি করেন, ঘরের মধ্যেই স্ত্রীকে
পুঁতে রেখেছেন।
শামসেরের
দাবি অনুযায়ী, ঘরের মেঝে খোঁড়া হয়। সেখানেই মেলে মুফিদুন্নিশার দেহ। তারপরই গ্রেপ্তার
করা হয় মুফিদুন্নিশার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের।
মন্তব্য করুন


দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থে
সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ কয়েকজন উপদেষ্টা বৈঠকে ছিলেন। তাদের
সঙ্গে বিদ্যমান পরিস্থিতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশ কীভাবে শান্তিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে
আগামীতে একটা কার্যকর নির্বাচনের দিকে এগোতে পারে, সে বিষয়ে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতি-ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে
এ দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেমিশে জাতীয় ঐক্য আরও কীভাবে সংহত করা যায়, প্রশাসনকে আরও কীভাবে গুছিয়ে আনা যায়, এসব বিষয়ে
আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, যেটাতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সেটাকে
লাঘব করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে রমজান মাস আসছে, এটাকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা
যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেসব নিয়েও কথা হয়েছে। আমরা পরামর্শ করেছি।
পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু
বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। এসব আলোচনায় আমরা একমত হয়েছি যে—দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে সামনে
এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারাই জড়িত থাকবে,
তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এর মাধ্যমে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দিতে হবে। এরজন্য
প্রয়োজন সর্বোত জাতীয় ঐক্য। দল-মত-ধর্মের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে আমরা
যেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সে আহ্বান জানাই। আমরা বৈঠকেও এ কথা
বলেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ন্যূনতম যে
সংস্কার দরকার, সেটা দ্রুত করে তারপর নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে এসেছি আমরা।
বৈঠকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত
ছিলেন, দলটির দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম এবং
নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, তিনি নিজেকে রংপুরের সন্তান বলে মনে করেন, কারণ তিনি জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে
শহিদ আবু সাঈদের সাহস ও আত্মত্যাগে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) প্রধান
উপদেষ্টা ঢাকায় তার কার্যালয়ে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাকে
রংপুরের একজন উপদেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করুন।
প্রধান উপদেষ্টা এসময় শহিদ আবু সাঈদ
ফাউন্ডেশনের সনদপত্র আবু সাঈদের পরিবারের হাতে তুলে দেন। আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন সনদপত্র গ্রহণ করেন।
আবু সাঈদের ভাতিজা মো. লিটন মিয়া এ
উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা শহিদ আবু সাঈদের পিতামাতার
স্বাস্থ্যর খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন