

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কোরবানির পর পশুর মাংস হাড় কাটতে গিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এছাড়া দুপুরে একটা পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা বেশিরভাগই যুবক। শখের বশে কোরবানির পশুর মাংস কাটতে গিয়ে তারা আহত হয়েছেন। তবে আহতদের মধ্যে কয়েকজন পেশাদার কসাইরাও আছেন।
আহতরা বলছেন, মাংস কাটাকাটিতে অনভিজ্ঞ হওয়ায় হাত পা কেটেছে তাদের। যারা গুরুতর আহত হয়েছেন তাদেরকে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
কুমিল্লা সদর উপজেলার ধনপুর ইমরান আহমেদ আহমেদ বলেন, ঈদের খুশিতে বাড়ির সবাই মিলে কোরবানি দেই। তারপর মাংস কাটার সময় পিছলে আমার আঙুলে লাগে। প্রথমে টের পাইনি, পরে দেখি রক্ত ঝরছে। হাসপাতালে আসার পর তিনটি সেলাই দিয়েছে।
সদর উপজেলার ভুবনঘর এলাকার চল্লিশোর্ধ্ব কাশেম তালুকদার গরুর হাড় কাটতে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন হাতের কব্জিতে। তিনি বলেন, আল্লাহ বাঁচিয়েছে- আরেকটু জোরে লাগলে আমার হাতের কব্জি হয়তো আলাদা হয়ে যেত। জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে বলে এখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
টিক্কার চর এলাকা থেকে আসা মো. রাসেল বলেন, অভিজ্ঞতা ছাড়া মাংস কাটতে গেলে এরকম দুর্ঘটনা ঘটবেই। কারণ মাংস কাটাকাটির সময় ছুরি বা চাপাতি পিছলে যায়। তাই অভিজ্ঞতা ছাড়া এ কাজে না আসাই ভালো।
ঝাউতলা থেকে আসা পেশাদার কসাই জাহঙ্গীর আলম বলেন, হাড্ডি কোপাতে গিয়ে আমার পায়ে চাপাতি লেগেছে। সদর হাসপাতালে রাখেনি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে।
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার মো. জোবায়ের জানান, আহত যারা এসেছেন তারা বেশিরভাগই একদিনের জন্য মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। সবারই প্রায় হাতের আঙুলে ও পায়ে আঘাত। শনিবার ঈদের দিন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আমরা অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি। গুরুতর আহত যারা তাদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন,কুমিল্লা :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সেনা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বিষবাগ গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটককৃতরা হলো— কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানাধীন বিষবাগ গ্রামের মোঃ সাখাওয়াত হোসেন রিয়াজ (২৫),মোঃ আরিফ (২৯)।
অভিযান চলাকালে অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— চাইনিজ কুড়াল ২টি, রামদা ৩টি, দা ৫টি, নুনচাক ১টি, ছুরি ১টি, নক ১টি, ওয়্যার কাটার ১টি, কার্তুজ ১ রাউন্ড, দূরবীন ১টি, পাসপোর্ট ১টি এবং ১০টি মোবাইল ফোন (৮টি অ্যান্ড্রয়েড, ২টি বাটন)।
আটককৃত সন্ত্রাসী ও জব্দকৃত মালামাল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপরাধ প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় আজ মোবাইল
কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার
(ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা। তাকে সহায়তা করেন চৌদ্দগ্রাম
থানা পুলিশের একটি টিম।
মোবাইল কোর্টের আওতায় মিয়া বাজার এলাকার
চারটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গ্রামীণ রেস্তোরাঁ এন্ড সুইটস,
ঈশিতা সুইটস এন্ড কনফেকশনারি, আফতাব সুইটস এন্ড কনফেকশনারি এবং হীরা সুইটস এন্ড কনফেকশনারি।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিএসটিআই লাইসেন্স,
সঠিক ওজন-পরিমাপ, মূল্য তালিকা এবং খাদ্যসামগ্রীর গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ
উল্লেখ রয়েছে কিনা তা যাচাই করা হয়।
এ সময় দেখা যায়, তিনটি প্রতিষ্ঠানে (গ্রামীণ, ঈশিতা ও হীরা সুইটস) বিএসটিআই লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও মিষ্টি ও দই জাতীয় খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছে।
আফতাব সুইটসে টোস্ট ও ব্রেডের জন্য
বিএসটিআই অনুমোদন থাকলেও মিষ্টিজাত পণ্যের জন্য কোনো লাইসেন্স নেই।
কোনো প্রতিষ্ঠানেই ওজন-পরিমাপ যন্ত্রের
ক্যালিব্রেশন সার্টিফিকেট নেই। মিষ্টিজাত দ্রব্যসামগ্রীর মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের
তারিখ অনুপস্থিত।
উল্লেখিত অপরাধসমূহের প্রেক্ষিতে মোবাইল
কোর্ট আইন, ২০০৯ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অভিযুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠানকে
মোট ২৮,০০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বার্থে
এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, বহু বছরের জুলুম-নির্যাতনের পরও দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের নেত্রী ও আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়া কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি বলেন, “আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—আমাদের এই সম্পদ, আমাদের দলের শক্তিকে যেন আল্লাহ সুস্থ করে দেন। যার আহ্বানে দেশের কোটি মানুষ সত্যের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত হয়ে যায়। আমাদের মাতা দেশের গণতন্ত্রের আইকন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জীবন্ত প্রতীক। তাঁর সুস্থতা ও আরোগ্য লাভ দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকালে কুমিল্লা নগরীর ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দিনব্যাপী পবিত্র কোরআন খতম শেষে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কান্নাজড়িত কন্ঠে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করে হাজী ইয়াছিন বলেন, “২০০৮ সালে টাউন হলের এক বিশাল জনসভায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমার হাতে ধানের ছড়া দিয়ে বলেছিলেন—‘ইয়াছিন আমার সন্তান সমতুল্য, তার হাতে আমি ধানের ছড়া তুলে দিলাম।’ আজ সেই স্মৃতি আরও গভীর হয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সকলের কাছে অনুরোধ করবো—আপনারা সবাই আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুন ও দোয়া করুন। সৃষ্টিকর্তা যেন আমাদের নেত্রীকে সুস্থ করে তোলেন। ২০০৮ সালের মতোই যেন ২০২৫ সালেও আবার তিনি এই টাউন হলের মঞ্চে আসতে পারেন। এবং সেই একই স্নেহের ভাষায় যেন বলতে পারেন—‘আমার সন্তান হাজী ইয়াছিনের হাতে আবার ধান তুলে দিলাম।”
হাজী ইয়াছিন দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমার আর কোনো ব্যক্তিগত চাহিদা নেই। আমার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা—আমার নেত্রী যেন আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে ওঠেন। আমি পুনরায় তার হাত থেকে ধানের ছড়া নিতে চাই। তিনি ফিরে এলে জনগণের হৃদয়ে আবার গণতন্ত্রের শক্তি ফিরিয়ে আনবেন।”
দোয়া মাহফিলের পুরো সময় জুড়েই টাউন হল মাঠে ছিল একটি প্রার্থনামুখর পরিবেশ। কোরআন তেলাওয়াত, দরূদ শরীফ পাঠ এবং বিশেষ মুনাজাতে অংশ নেন দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাধারণ নাগরিক এবং নানা পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এ দোয়া অনুষ্ঠানে।
দোয়া মাহফিলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আলী আক্কাস, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বর্ষীয়ান নেতা এস এ বারী সেলিম, মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ রতন, মাহাবুবর রহমান দুলাল, আতাউর রহমান ছুটি, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান কামাল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন—কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান, যুবদলের ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ মাহমুদ জহির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিরুল পাসা সিদ্দিকী রাকিব, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু এবং যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব।
অন্যদের মধ্যে ছিলেন—জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এ কে এম শাহেদ পান্না, দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মহরম, মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক কাজী শাহিনুর, কৃষকদলের সদস্য সচিব ইকরাম হোসেন তাজ, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী নোমান, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জোবায়ের আলম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ধীমান।
এছাড়া মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, যুবদল নেতা মনছুর নিজামী, মশিউর রহমান সজিবসহ অগণিত নেতাকর্মী ও অংশগ্রহণকারী দোয়া মাহফিলের পরিবেশকে আরও আন্তরিক করে তুলেন।
অনুষ্ঠান শেষে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, “আমরা আজ আমাদের নেত্রী বেগম জিয়ার জন্য দোয়া করেছি। আমরা বিশ্বাস করি—আল্লাহর রহমতে ইনশাআল্লাহ তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং আগামীতেও দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠন ও রক্ষায় তাঁর ভূমিকা থাকবে।”
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ওরফে জাহেরকে (৬০) কুমিল্লা নগরীর সিটিকর্পোরেশন এলাকা থেকে কোতায়ালি মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
জানা যায়, জাকির হোসেন জাহের এর বিরুদ্ধে নথি জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে ৪৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, কুমিল্লা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নাশকতার মামলাসহ কোতয়ালী মডেল থানায় ২ টি এবং বুড়িচং থানায় ৮ টি মামলা রয়েছে। জাকির হোসেন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পীরযাত্রাপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। তার আগে ২০১৬ সালে তিনি একই এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
সেনানিবাসের ৩৩ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত জেলা ফেনী, নোয়াখালী এবং কুমিল্লার
বুড়িচং ও চৌদ্দগ্রামে পানিতে আটকে থাকা প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছে ।
সেই সাথে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সেনাবাহিনী ।
সেনাবাহিনীর
এই অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার
থেকে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তিন জেলায় এ উদ্ধার অভিযানের এ তথ্য নিশ্চিত
করে সেনাবাহিনী সূত্র আরো জানিয়েছে, কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের
জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম বন্যাদুর্গত এলাকায়
উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সেনাবাহিনী
সূত্র এটাও জানিয়েছে যে, এছাড়া প্রায় ২০ জন রোগিকে হেলিকপ্টারে করে ফেনী থেকে
কুমিল্লা সিএমএইচ হাসপাতালে এনে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন প্রসূতিও
রয়েছে। তিনি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। মা ও ছেলে দুইজনেই সুস্থ্য রয়েছেন বলে
সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


রবিবার কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে ।
এই বিশেষ অভিযানে ১জন আসামীকে গ্রেফতার করাসহ ৫০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫২গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করা হয় ।
আজ সকাল আনুমানিক ৭টার সময় জেলা গোয়েন্দা শাখা,কুমিল্লায় কর্মরত এসআই(নিঃ) মোঃ
আরেফুল ইসলাম, এএসআই(নিঃ) মোঃ মাসুদ রানা,
এএসআই মোঃ ইকবাল হোসেন ফোর্সসহ কুমিল্লা জেলার সকল থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও
বিশেষ অভিযান ডিউটি করাকালীন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানার পশ্চিম চান্দিশকড়া
সাকিনের মোঃ সোহাগ (৩৪) কে তার নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও সাদা রঙের আইসসহ গ্রেফতার করে ।
আসামীর নিজ বসত ঘরে ২টি সাদা এয়ার টাইট পলিপ্যাক পাওয়া যায় যার ১টি পলিপ্যাক
এর ভেতর রাখা প্রতি প্যাকেটে ২৬(ছাব্বিশ) গ্রাম করে মোট ৫২(বায়ান্ন) গ্রাম সাদা রংয়ের
মাদকদ্রব্য আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো ২৫(পঁচিশ)টি কালো রংয়ের
এয়ার টাইট পলিপ্যাকেট এর প্রতিটি পেকেটের ভেতরে লুকানো ২০০(দুইশত) পিস করে ৫০০০ (পাঁচ
হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় ।
উক্ত ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় এজাহার দায়ের করলে চৌদ্দগ্রাম থানার মামলা নং- তারিখ- ২৮/০৪/২০২৪ খ্রিঃ; ধারা- ২০১৮ সালের
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর টেবিল ১০(ক)/১০(গ) রুজু করা হয়।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা:
কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলাধীন ডুমুরিয়া গ্রামের সন্তান অমিত কুমার সরকার। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় অমিত। ছোটভাই আশিক সরকার গেলো তিন বছর আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বাবা দিলীপ সরকার একজন প্রবাসী এবং মা রাধা রাণী সরকার গৃহিণী। তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন অমিত। তাকে আঁকড়ে ধরে ছোট ছেলের শোক প্রতিনিয়ত ভুলার চেষ্টা বাবা-মার।
এদিকে, একমাত্র ছেলে অমিতকে ধুমধাম করে বিয়ে করানোর স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রবাসী জীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরেন বাবা দিলীপ। অবশেষে বিয়ে ঠিক হয় নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের ভিংরাব গ্রামে।
পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী ১৫ শ্রাবণ (৩১ জুলাই ২০২৫) বৃহস্পতিবার অমিতের বিয়ের দিন পাকা হয় গত তিন মাস আগে। সেই অনুযায়ী বুধবার গ্রামের বাড়িতে চলে অমিতের গাঁয়ে হলুদ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ে বাড়িতে বাদ্যযন্ত্রের সাথে সানাইয়ের সুর। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ অতিথিদের উপস্থিতিতে যেন ভরপুর ছোট্ট বাড়ি।
বিকেলে মঙ্গল ঘট স্থাপন করে সন্ধ্যায় ধুতি ও পাঞ্জাবির সাথে মাথায় মুকুট পড়ে চন্দনের ফোঁটায় বর সেঁজে মায়ের কোল ছেড়ে রওয়ানা হন অমিত। বরযাত্রী নিয়ে রূপগঞ্জের উদ্দেশে ছুটে অমিতের গাড়িবহর। নতুন বউ নিয়ে ছেলে বাড়ি ফিরবে এ স্বপ্ন নিয়ে বসে প্রহর গুণছেন মা রাধা রাণী।
রাত তখন ১০টা। বরযাত্রীর গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার গৌরীপুর পৌঁছার পর বুকের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয় অমিতের। দ্রুত গৌরীপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাত ২টার দিকে কনে বাড়ি পৌঁছার আগেই পরপারে পাড়ি জমান অমিত।
অপরদিকে, কনে বাড়িতে চলছিল বিয়ের ব্যাপক আয়োজন। বরযাত্রী আসছে সেই অপেক্ষার প্রহর গুণছে কনেসহ সবাই। রাত গভীর হওয়ার সাথে বিয়ের লগ্ন পেরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু হয় সবার। মোবাইলফোনে কল আসতে থাকে কনের অভিভাবকদের কাছে।
ওপাশ থেকে কান্নার ভারী কণ্ঠ। নেই অমিত। নিস্তব্ধ গুটা পরিবার। গুটগুটে অন্ধকারে যেন মিশে গেছে শোকের কালো ছায়া। নিমিষেই গড়িয়ে পড়ে কনের দু’চোখ বেয়ে শত ফোটা আর্তনাদ।
সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (১ আগস্ট) ভোরে সুসজ্জিত প্রাইভেটকারযোগে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফিরতো অমিত। মা-বাবার দেখা হতো আদুরি বউয়ের মুখ। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় শুক্রবার ভোরে সুসজ্জিত প্রাইভেটকারের জায়গায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিথর দেহে একাই বাড়ি ফেরেন অমিত! তখনও মুছেনি কপালে থাকা চন্দনের ফোঁটা। বরবেশে ছেলের সাদা কাপড়ে মোড়ানো দেহ দেখে বাকরূদ্ধ বাবা-মা। শোকে বিহ্বল গোটা পরিবার।
দুপুরে অমিতকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে করানো হয় গোসল। আবারো সাজানো হয় নতুন সাজে। ধর্মীয় রীতি অনুস্মরণ করে পারিবারিক সমাধিস্থলে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে।
তিন বছরের মধ্যে দুই ছেলেকেই হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা রাধা রাণী। আর্তনাদের চিৎকারে বলছেন, ‘বাবা তোরা আমাকে কোথায় রেখে গেলি। আমরা এখন কারে নিয়ে বাঁচবো। কী অপরাধ ছিল আমাদের, কেন বুকের ধনকে কেড়ে নিল!
এদিকে, অমিতের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আবেগতায়িত হয়ে পড়েন স্বজনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একই বাড়ির গুরুপদ সরকার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বরযাত্রীর গাড়ি বহরে আমিও ছিলাম। বরের গাড়ি অতিক্রম করে আমরা সামনে চলে যাই। কিছুক্ষণ পর বরের প্রাইভেটকারচালক আমাদের গাড়ি চালককে কল করে বলেন গাড়ি ঘুরিয়ে গৌরীপুর আসতে। বর অসুস্থ। রাজধানীর ল্যাবএইডে নেয়ার পর আর বিয়ে বাড়িতে যাওয়া হয়নি...!
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ২,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ
দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
২৬ সেপ্টেম্বর রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক
দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন পাঁচথুবী ইউ.পির শাহপুর
এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ সোহেল (২৪) এবং ২। মোঃ মিজানুর
রহমান আলীম (৪০) নামক দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদ্বয়ের কাছ থেকে
২,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সোহেল (২৪) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী
মডেল থানার জালুয়াপাড়া গ্রামের মোঃ মফিজ এর ছেলে এবং আসামী মোঃ মিজানুর রহমান আলীম
(৪০) একই গ্রামের নুরুল হক এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার মামলা রুজু করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলিতে নিহত কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ১১জন শহীদের বাড়ি বাড়ি যান কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় তিনি প্রথমে উপজেলার ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামের নিহত কাদির হোসেন সোহাগের বাড়িতে যান। ওখানে সোহাগের মা ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। পরে গত ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জের চিটাগং রোডে পুলিশের গুলিতে নিহত ১০ বছরের শিশু মোঃ হোসাইন গ্রামের বাড়ি উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামে গিয়ে তার কবর জিয়ারত করেন। সেখান থেকে এক এক করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনে দেবিদ্বার উপজেলার ১১ নিহতদের বাড়িতে যান হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তাদের পরিবারের সাথে কথা বলেন।
সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহদুপুরে যান দেবিদ্বার সদরে গুলিতে নিহত সেচ্ছাসেবকদল নেতা রুবেল মিয়ার বাড়িতে। সেখানে নিহত রুবেলের নবজাতক সন্তানকে কোলে তুলে নেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দেবিদ্বারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী নাজমুল হাসান নাহিদ, মুক্তাদির জারিফ সিক্ত, শরীফ আল বান্না, সাজেদুল রাসেদ রাফসান, সিয়াম ইসলাম ও ডাঃ আল আমিন সহ আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাস, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে অগ্নিদগ্ধ হয়ে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার।
তিনি জানান, বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংক থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাসটিতে আগুন ধরে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থল থেকে একজন নারী, একজন পুরুষ ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন