

উগান্ডায়
একটি প্রধান মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়াও আরো অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
ঘটনাটি
ঘটেছে স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতের কিছুখন পরেই। রাজধানী কাম্পালা থেকে গুলু যাওয়া
মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশের
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুটি বাস ওভারটেক করার সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রাথমিক
তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি বাস একটি লরি এবং একটি স্পোর্টস
ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) কে ওভারটেক করার চেষ্টা করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ
জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা যারা দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের
যাত্রী ছিলেন।
আহতদের
কিরিয়ানডঙ্গো হাসপাতাল এবং আশপাশের অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ
জানিয়েছে।
সূত্র
: এএফপি
মন্তব্য করুন


২৭
লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী মেহজাবীন
চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
আজ
সোমবার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. আদনান জুলফিকার শুনানি
শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ
বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বলেন, আমরা দুজনের পক্ষে আদালতে জবাব দাখিল
করেছি। আদালতকে বলেছি মামলার ৭৯ লাইনের বক্তব্য সাজানো ও মনগড়া।
বাদীর
সঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাইয়ের কোনো দেখা হয়নি। হুমকি-ধামকির কোন প্রশ্নই আসেনা।
শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি নথিজাত করেছেন।
এদিন
মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান আদালতে উপস্থিত হন।
এসময়
মেহজাবীনের মুখে কাল মাস্ক ছিল। পরে তাদের উপস্থিতি শুনানি হয়। শুনানি শেষে তারা আদালত
প্রাঙ্গণে ছেড়ে যান।
এর
আগে গত ১০ নভেম্বর পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ও হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জারি করা হয়।
এ
বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। পরে ১৬ নভেম্বর
মেহজাবীন ও তার ভাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন।
মামলার
সূত্রে জানা গেছে, আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে
মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং
বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক
কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিবো,
কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা
চাইতে যান তিনি।
তাকে
১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন
ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
তারা
বলেন "এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না।তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে
জানে মেরে ফেলব।' এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন
করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের
করার জন্য পরামর্শ দেয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পতিত শক্তি গন্ডগোল লাগিয়ে নির্বাচনের আয়োজনকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে। এই অপচেষ্টাকে প্রতিহত করতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আজ শনিবার
(২৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন
তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অভ্যুত্থানের সকল শক্তি মিলে একটি সুন্দর নির্বাচন করতে না পারলে এই মস্ত বড় সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। পরাজিত শক্তি যখনই সুযোগ পাচ্ছে তখনই নানা রকম গন্ডগোল সৃষ্টি করছে। এসব করে তারা দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। যখনই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি তখনই নানা ষড়যন্ত্র সামনে আসছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে কোন ষড়যন্ত্র করেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। কারণ ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে সবগুলো গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য স্পষ্ট।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও প্রধান উপদেষ্টাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণফ্রন্টের আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস, ১২ দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দার, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, ন্যশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাসদের ড. মুশতাক হোসেন, ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের ববি হাজ্জাজ, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, ভাসানী জনশক্তি পার্টির রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) -এর মাসুদ রানা এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া
হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান।
আজ
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান
আহমেদ আযম খান।
আযম
খান, বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
দেশের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলা আছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার মতো অবস্থায় এলে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।
২৩
নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দেওয়ায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী বহুদিন ধরেই জটিল রোগে ভুগছেন। বর্তমানে
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ডের অধীনে সিসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে।
তার শারীরিক খবর জানতে প্রতিদিন হাসপাতলে যাচ্ছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আজ
সকালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান ডাকসুর সাবেক এজিএস ও বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম।
বাইরে এসে তিনি সকলের কাছে দোয়া চান। যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন জানান, অবস্থা
অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হলে মেডিকেল বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গভীর উদ্বেগ
প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূসও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নিয়মিতভাবে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন
এবং প্রয়োজনীয় সব সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থার
খোঁজ নেন।
শনিবার
(২৯ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লেখেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের
এক অনন্য অনুপ্রেরণা। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে
তিনি কয়েক দশক ধরে অবিচল ভূমিকা পালন করেছেন। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রচক্রের লাগাতার নির্যাতন,
মিথ্যা মামলার পরিক্রমা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়াবহতার মাঝেও তার অটল মনোবল ও
আপোষহীন অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি
লেখেন, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, স্বৈরতন্ত্র বিরোধী সংগ্রাম এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র
পুনরুদ্ধারের প্রত্যেকটি পর্বে বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব জাতীয়
জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বহু প্রজন্ম তাকে সাহস, সহনশীলতা
ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে দেখেছে। বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক
অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা
জানান।
নাহিদ
আরও লেখেন, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তার পূর্ণ আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করি। এই গণতান্ত্রিক
উত্তরণের সংকটময় সময়, যখন দেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে অগ্রসর
হচ্ছে, সে প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা জাতির
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তার দীর্ঘ অবদান স্মরণ
করে আমরা তার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করি।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের
রূপগঞ্জের কাঞ্চনে দলীয় কর্মসূচিতে নাম আগে-পরে দেয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে
যুবদল কর্মীর ঘুষিতে আজাহার (৪৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার
(৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার ত্রিশকাহনীয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এ সময় আহত হয়েছেন আরো তিনজন।
নিহত
আজাহার কাঞ্চন পৌরসভার নরাবো এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি কাঞ্চন পৌর স্বেচ্ছাসেবক
দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবারের দলীয় কর্মসূচি উপলক্ষে
শুক্রবার সন্ধ্যায় কাঞ্চন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা
আলোচনায় বসেন। আলোচনার একপর্যায়ে তালিকায় নাম আগে-পরে দেয়া নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের
সভাপতি সবুজের সাথে যুবদল কর্মী রাজিবের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজিবের সহযোগী
হাসানসহ বেশ কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে সবুজ, আজাহার, রিপন ও এমরাতকে মারধর শুরু করেন। এ
সময় আজাহার ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে
নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আজাহারের
মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কাঞ্চন পৌর বিএনপির নেতারা তার বাড়িতে যান।
রূপগঞ্জ
থানার ওসি সবজেল হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


দেশের
হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
হাওর
বা জলাভূমি অবৈধ দখল, ভরাট কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে অনধিক ২
বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাওর
ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
আইন,
বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গতকাল বুধবার
এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ১৫ জানুয়ারি ) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার এ তথ্য
জানান।
অধ্যাদেশে
অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জারিকৃত
‘সুরক্ষা আদেশ’ লঙ্ঘন, হাওর-জলাভূমি ও কান্দার অবৈধ দখল, ভরাটকরণ, অননুমোদিত
খনন কিংবা পানির প্রবাহ ব্যাহত করে এমন অবকাঠামো নির্মাণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক
২ (দুই) বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা
হয়েছে। অধ্যাদেশে এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অ-জামিনযোগ্য’
হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ
অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, মাটি, বালু বা পাথর
আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পরিযায়ী পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী ধরা, জলাবন
বিনষ্ট করা এবং বিষটোপ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অধ্যাদেশের
মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গঠিত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি
উন্নয়ন অধিদপ্তর’কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প
গ্রহণের আগে এই অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অধিদপ্তর
নিশ্চিত করবে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনসাধারণের জীবিকার কোনো
ক্ষতি হবে কি না।
সরকার
চাইলে বিশেষ কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’
হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকার পানির প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর
কোনো স্থাপনা থাকলে অধিদপ্তর তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে পারবে।সংবিধানের
১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা
বিধানের অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর
হবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


উপদেষ্টা
পরিষদের বৈঠকে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর খসড়া ও নীতিগত
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর
খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রণীত
‘হার্ট ন্যাশনালি ডিটারমাইন কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি-৩)’ ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পেয়েছে।
বৈঠক
শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম
এসব তথ্য জানান।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৮ জানুয়ারি ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শফিকুল
আলম বলেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর
উদ্বেগ বিবেচনায় এনে ডাটা লোকালাইজেশন সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন কেবল
ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে দেশে ডাটা সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে।
ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের
পরিবর্তে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও ক্লাউডভিত্তিক সেবায়
ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিল্পকলা
একাডেমী সংশোধন অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, একাডেমির বিভাগ সংখ্যা বাড়িয়ে নয়টি করা
হয়েছে। এর মধ্যে থিয়েটার, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, নৃত্য ও পারফরম্যান্স আর্ট, সংগীত,
চারুকলা, গবেষণা ও প্রকাশনা, নিউ মিডিয়া এবং কালচারাল ব্র্যান্ডিং ও উৎসব প্রযোজনার
জন্য পৃথক বিভাগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমির বোর্ডে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব
নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে।
বাংলাদেশ
বনজ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬ সম্পর্কে প্রেস সচিব জানান, ১৯৫৯ সালের
ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন অর্ডিন্যান্সকে যুগোপযোগী করে নতুন কাঠামো
প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার, পণ্য
বৈচিত্র্য, শোরুম স্থাপন ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরে কর্পোরেশন
কর-পূর্ব মুনাফায় ৫৩ কোটি টাকা অর্জন করেছে এবং রাবার শিল্পে প্রথমবারের মতো ৬ কোটি
টাকা লাভ করেছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
এনডিসি-৩
প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ছিল ২০২.০৪
মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য, যা ২০৩৫ সালে ৪১৮.৪০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে।
এনডিসি-৩ অনুযায়ী ৮৪.৯৭ মিলিয়ন টন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে
নিজস্ব সক্ষমতায় ২৬.৭৪ মিলিয়ন টন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া গেলে আরও ৫৮.২৩ মিলিয়ন
টন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস
সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সুন্দরবনের গহীনে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’র আস্তানা থেকে জিম্মি থাকা আটজন জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানকালে ওই এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আজ দুপুরে সাংবাদিকদের এই সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেন।
জিম্মিদশা ও উদ্ধার অভিযান
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোপন সূত্রে খবর আসে সুন্দরবনের শিবসা নদীর ছোট ডাগরা খাল এলাকায় ডাকাত জাহাঙ্গীর বাহিনী বেশ কয়েকজন নিরীহ জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রার সদস্যরা দ্রুত একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে ডাকাতদের আস্তানা থেকে ৮ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং সাত রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পাওয়ায় ডাকাত সদস্যরা বনের গহীনে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে কাউকে আটক করা যায়নি।
নির্যাতিত জেলেদের বিবরণ
উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন কয়রার আতিয়ার (২৮), আবুল খায়ের গাজি (২৪), মকছেদ আলী (৫০), মিজানুর রহমান (৩৭), কৃষ্ণপদ রপ্তান (৪৫), সুগদেব মন্ডল (২৭), মোশারফ হোসেন ঢালী (৬০) এবং জলিল গাজি (৩৫)। তারা প্রায় সবাই ৪ নম্বর কয়রা ও মহারাজপুর গ্রামের বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তাদের গত সাত দিন ধরে জিম্মি করে রেখেছিল এবং মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার হওয়া জেলেদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও ডাকাতমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


ভারতের
পশ্চিমবঙ্গে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নতুন করে ‘বাবরি মসজিদ’
গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির।
আজ
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে
করা হয়েছে বিশাল এক আয়োজন। সৌদি আরব থেকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আলেমদের। সেইসঙ্গে
৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না করা হয়েছে বিরিয়ানি। খবর এনডিটিভির।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস ও বিজেপি ঘুরে তৃণমূলে আসেন মুর্শিদাবাদের
প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবির। গত বৃহস্পতিবার দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বহিস্কার
করা হয়। এর মধ্যেই তিনি এই মসজিদ নিয়ে উঠেপড়ে লেগে আছেন। বহিস্কার নিয়ে রাজনৈতিক
প্রতিক্রিয়া বা প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে কোনোভাবেই বিচলিত নন এই নেতা।
হুমায়ুন
কবির সাংবাদিকদের জানান, শনিবার মোরাদিঘির কাছে ২৫ বিঘা জুড়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ জড়ো
হবেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত হবে এখানে। তিনি আরও জানান, কলকাতা
বিমানবন্দর থেকে বিশেষ কনভয়ে করে সৌদি আরব থেকে দুজন আলেম আসবেন।
রাজ্যের
একমাত্র উত্তর-দক্ষিণ মহাসড়ক এনএইচ-১২ লাগোয়া বিশাল এক এলাকায় চলছে এই আয়োজন। মুর্শিদাবাদের
সাতটি কেটারিং প্রতিষ্ঠানকে শাহি বিরিয়ানি রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হুমায়ুন কবিরের
এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানান, অতিথিদের জন্য প্রায় ৪০ হাজার প্যাকেট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের
জন্য আরও ২০ হাজার প্যাকেট তৈরি করা হচ্ছে। শুধু খাবারের ব্যয়ই ৩০ লাখ রুপির বেশি হয়ে
যাচ্ছে।
সব
মিলিয়ে আয়োজনের বাজেট ৬০–৭০ লাখ রুপিতে পৌঁছাবে বলে জানান হুমায়ুন
কবির।
ভিত্তিপ্রস্তর
স্থাপন অনুষ্ঠানের জন্য ধানখেতের ওপর ১৫০ ফুট লম্বা ও ৮০ ফুট চওড়া এক বিশাল মঞ্চ তৈরি
করা হয়েছে। এ মঞ্চে প্রায় ৪০০ অতিথির বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শুধু এই মঞ্চের নির্মাণব্যয়
ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ রুপি।
আয়োজকরা
জানান, প্রায় ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ২ হাজার জন শুক্রবার
ভোর থেকেই কাজ শুরু করেছেন। তারা এই বড় জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথ সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা
ও এনএইচ-১২–তে যাতে জ্যাম না লেগে যায় সেই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।
শুক্রবার
হুমায়ুন কবির জানান, সকাল ১০টায় কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর
দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিকতা দুই ঘণ্টা আগে থেকেই
শুরু হবে। পুলিশি নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাল ৪টার মধ্যে মাঠ খালি করা হবে।
এদিকে
এত বিশাল আয়োজন প্রশাসনের উদ্বেগও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) কলকাতা হাইকোর্টের
নির্দেশনার পর জেলা পুলিশ হুমায়ুন কবিরের দলের সঙ্গে এক দফা আলোচনায় বসে। জনশৃঙ্খলা
বজায় এবং এনএইচ-১২–তে যান চলাচল ঠিক রাখতে বৈঠক করে তারা।
জেলা
পুলিশের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানান, বেলডাঙা ও রানীনগর থানার আওতাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার
পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে জাতীয় মহাসড়ক
সচল রাখা। সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এসে গেছে। একাধিক ডাইভারশন পরিকল্পনা প্রস্তুত
আছে।
ইতোমধ্যে
এই মসজিদ তৈরির উদ্যোগ তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি করছে। হুমায়ুন কবিরের
জন্য এই আয়োজন একদিকে যেমন জনসমাবেশ গঠনের পরীক্ষা, তেমনি একপ্রকার প্রতিরোধ প্রদর্শনও।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তাবলয়ের চিন্তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ আসবে,
কারণ এটি এই এলাকার জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
মন্তব্য করুন


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ (৬ অক্টোবর ২০২৪) সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে 'সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
করেন।
১ম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল ও
লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত
হবেন।
পদোন্নতি পর্ষদের মূল্যবান বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা
ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সিক্ত নতুন বাংলাদেশে সকলকে স্বাগত জানান। এসময় তিনি গভীর
শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সকলের
প্রতি।
তিনি আরও স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী
সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহিদসহ সকল বীর সেনানীদের যাঁদের আত্মত্যাগ জাতি
চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা,
নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি
নিযুক্তিগত উপযুক্ততার উপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা
প্রদান করেন। এছাড়াও সৎ, নীতিবান এবং নেতৃত্বের অন্যান্য গুণাবলী সম্পন্ন
অফিসারগণই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাছাড়া রাজনৈতিক
মতাদর্শের উর্দ্ধে থেকে যে সমস্ত অফিসার সামরিক জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য
নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন সেই সকল অফিসারদেরকে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার
নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের
মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে
ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলশ্রুতিতে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ
করেছে বলে তিনি তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি; প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারি, চীফ অব জেনারেল স্টাফ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় সেনাবাহিনী প্রধান প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাগণের সাথে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রস্তুতিকালে নারী ও শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক। তার আগে সোমবার গভীর রাতে বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া ঘাটের বিচ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপনে খবর পাওয়া যায়—একদল পাচারকারী মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন নারী, শিশু ও পুরুষকে নিয়ে কচ্ছপিয়া ঘাটের কাছে অবস্থান করছে। তথ্যের ভিত্তিতে বাহারছড়া আউটপোস্ট ও পুলিশের সমন্বয়ে রাতেই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।
উদ্ধার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে, অল্প খরচে বিদেশে নেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের তারা এই প্রচেষ্টায় জড়ো করেছিল।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ডের অভিযান চলমান থাকবে। উদ্ধার হওয়া ২৮ জনকে সুরক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পাচারকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন