

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সব প্রকার দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
রোববার (১৭ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় (এডিবি) তিনি এসব কথা বলেন।
১৯টি দপ্তর সংস্থার মোট ২৩০টি প্রকল্প এর মধ্যে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প ৬২টি, জিওবি অর্থায়নে ১৬৮টি প্রকল্প।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্পবাস্তায়নে দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতার ফলে উন্নয়ন সহযোগীরা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, তারা আমাদের সঙ্গে কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। কোনো কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বেশি লাগলে সেক্ষেত্রে উন্নয়ন সহোযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা উচিত।
রাস্তা বা কালভার্টের কাজ করতে চাহিদা কীভাবে নিরুপণ করতে হয় জানতে চেয়ে উপদেষ্টা বলেন, কনসালটেন্ট নিয়োগে সময়ক্ষেপণ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব পড়ে। কনসালটেন্ট নিয়োগে সংক্ষিপ্ত সময়ে কীভাবে করা যায় সে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আরও বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। নতুন দেশের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আমাদের সবার চেষ্টা থাকবে মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটাতে। এ মন্ত্রণালয়ের জনসম্পৃক্ততা বেশি দায়িত্বও বেশি তিনি সবাইকে দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্বে) মো. নজরুল ইসলাম। এছারা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রকল্প পরিচালক, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও নির্বাহী প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার
খাল খননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। শিগগিরই এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
এরই অংশ হিসেবে বরিশালে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হলো।
আজ
রবিবার ( ২২ ফেব্রুয়ারি ) বেলা ১১টায় কপালতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব
কথা বলেন। খালটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কাঁদাপাশা এলাকায় অবস্থিত।
মন্ত্রী
বলেন, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ পুনঃখনন
কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং কৃষি উৎপাদন
বাড়বে।
তথ্যমন্ত্রী
আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে একসময় খাদ্য
উৎপাদনের সুফল পেয়েছে দেশের মানুষ। পরবর্তীতে খালগুলো মরে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত
হয়েছে।
তিনি
বলেন, শহীদ জিয়ার খাল খননের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
নেতৃত্বে নতুন করে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার পানি সরাসরি
কৃষকের জমিতে পৌঁছে যাবে।
তথ্য
ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সরকারের বনায়ন কর্মসূচির অংশ
হিসেবে বৃক্ষরোপণ অভিযানও শুরু হয়েছে। আগামীতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
গণতান্ত্রিক
শাসনব্যবস্থার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে স্বপন বলেন, আমরা দলীয় সরকার বা দলীয়
রাষ্ট্র গড়তে চাই না, জনগণের সরকার গড়তে চাই।
তিনি
বলেন, পরবর্তীতে নির্বাচিত হলে আমরা দায়িত্বে থাকব, না হলে সরে দাঁড়াব। তবে নির্বাচনী
ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে।
জহির
উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণের সেবায় কার্যকরভাবে কাজ করতে বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর
জন্য উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ফুটবল ইতিহাসের
প্রথম বিশ্বকাপের ট্রফিটি নিয়ে বছরের পর বছর কম আলোচনা হয়নি। বারবার এটি চুরির চেষ্টা
হয়েছে। একবার জানা গিয়েছিল, ট্রফিটি গলিয়ে সেটি থেকে প্রাপ্ত সোনা নাকি বিক্রি করা
হয়েছে। ৬০ বছর পর ফিফা মিউজিয়ামে এর অংশবিশেষ পাওয়া গেছে।
ফরাসি শিল্পী
আবেল লাফ্লুরে তৈরি করেছিলেন জুলে রিমে ট্রফি। এটাকে গ্রিক দেবী নায়ক ‘নিকি’কে আকারে
ফুটিয়ে তোলা ছিল। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে
এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্বাগতিকরা। ট্রফিটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার, ওজন প্রায়
চার কেজি এবং এটি সোনা দিয়ে মোড়ানো ছিল। বিশ্বকাপের পর থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এই ট্রফি
নিয়ে নাটকীয়তা কম হয়নি।
বিশ্বযুদ্ধের
সময় নাৎসীদের হাত থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি রক্ষা করতে ফিফার কর্মকর্তা এটিকে একটি পরিত্যক্ত
জুতার বাক্সে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রদর্শনীর সময় এটি চুরি হয়েছিল।
পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি এবং তার কুকুর পিকলস ট্রফি উদ্ধার করে। ১৯৮৩ সালে ব্রাজিলের
রিও দে জেনেরিওতে এটি চুরি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় যে ট্রফিটি গলিয়ে স্বর্ণ বিক্রি
করা হয়েছে। যদিও ওই বিবৃতিতে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
যাই হোক, ফিফা
মিউজিয়ামের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। ট্রফির মূল চার-পাশের
লাপিস লাজুলি বেসটি ফিফার আর্কাইভে বহু বছর ধরে সংরক্ষিত ছিল! এটিকে কেউ চুরি করতে
পারেনি। আসলে ১৯৫৮ সালে ট্রফির বেস বদলানো হয়েছিল, এবং নতুন বেসে আটটি সাইড রাখা হয়েছিল
যাতে ভবিষ্যতের বিজয়ীদের নাম লেখা যায়। মূল বেসটি তখনই আর্কাইভে রাখা হয়েছিল, কিন্তু
সেটা দীর্ঘ সময় কারও নজরেই আসেনি।
এই মুহূর্তে
জুলে রিমে ট্রফির এই চার-পাশের বেসটি ফিফা মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা ফুটবল ইতিহাসের
এক অমূল্য স্মারক। এটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় বিশ্বকাপের প্রাথমিক দিনগুলির উত্তেজনা,
চমক এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনার স্মৃতি। সময়ের সাথে বিশ্বকাপ ট্রফি আরও আধুনিক হয়েছে, আরও
মূল্যবান হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের এই নিদর্শন মনে করিয়ে দেবে কিভাবে একটি বিশ্বকাপ
ট্রফি কীভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন


মজুত করা পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগে বরিশাল নগরের ৬ আড়তকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
এ অভিযান শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চালানো হয় বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমী রানী মিত্র।
এ জরিমানা করেন বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী।
বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমী রানী মিত্র জানায়, হঠাৎ পেয়াঁজের দাম বেড়ে যাওয়ার খবরে বরিশাল নগরীর পেঁয়াজপট্টির পাইকারি বিক্রির আড়তে অভিযান চালানো হয়। সেখানে দেখা যায়, বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে মজুত করা পেঁয়াজ।
বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমী রানী মিত্র আরও জানায়, ৯৪ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কেনা পেঁয়াজ বতর্মানে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এ প্রমাণ পেয়ে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ৬ আড়তকে।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
২১ নভেম্বর মঙ্গলবার আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়া, অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, নিরাপত্তা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল উনাইসি ভুনিওয়াকা, জাতিসংঘের মিলিটারি এডভাইজর জেনারেল বিরামে ডিওপসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ (স্থায়ী প্রতিনিধি) ও সামরিক উপদেষ্টাগণ (মিলিটারি এডভাইজর) অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
অনুষ্ঠানে দেশে ও বিদেশে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে একটি তথ্যবহুল ব্রিফিং প্রদান করেন মিশনের ডিফেন্স এ্যাডভাইজার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাদেকুজ্জামান। বক্তব্য পর্ব শেষে স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আগত অতিথিদের নিয়ে কেক কাটা হয়।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ঈদুল আজহার আগামী ১২ জুনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
রোববার (২ জুন) সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে অনলাইনে চাপ এড়াতে পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি হচ্ছে দুপুর ২টা থেকে।
প্রথম তিন ঘণ্টায় পশ্চিমাঞ্চলের ১৪,১৫৭ টিকেটের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের অন্য দুই বিভাগ রাজশাহী ও খুলনাতে এখনও কিছু ট্রেনের টিকিট অবিক্রীত রয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট বিক্রির শুরুতেই উত্তরবঙ্গের টিকিটের অনেক চাহিদা ছিল। এ এলাকার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। প্রথম তিন ঘণ্টায় অনলাইনে টিকিট কাটতে প্রায় ৭০ লাখ হিট পড়েছে।
রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগে আন্তঃনগর ট্রেনের ১২ জুনের আসন বিক্রি হবে ২ জুন; ১৩ জুনের আসন ৩ জুন; ১৪ জুনের আসন ৪ জুন; ১৫ জুনের আসন ৫ জুন; ১৬ জুনের আসন ৬ জুন বিক্রি হবে। এছাড়া যাত্রী সাধারণের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ আসন যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন


সাংবাদিকদের
অধিকার প্রশ্নে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে গণমাধ্যমের মালিকরা দায়িত্ব
এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন,
দায়িত্ব পালনে সরকারের ব্যর্থতা আছে, পাশাপাশি অন্য যাদের দায়িত্ব আছে কি দায়িত্ব পালন
করছে, এটাও বড় ব্যর্থতা। তাদের ব্যর্থতাও তুলে ধরা হবে। জুলাই-আগস্টে ছয়জন সাংবাদিক
নিহত হয়েছেন, তারা যেমন গুলিতে নিহত হয়েছেন।
আবার
বিরূপ পরিস্থিতিতে কাজ করার সময় এসব সাংবাদিকের কোনো প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট দেওয়া
হয়নি।
আজ
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জার্নালিস্ট সাপোর্ট
ডেস্ক হ্যান্ডওভার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল
আলম বলেন, যেসব সাংবাদিকরা সামনে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করলেন, গুলির মধ্যে কাজ করলেন তাদের
একটি হেলমেট নেই, তাদের একটি প্রটেক্টিভ ভেস্ট ছিল না, টিয়ার গ্যাস থেকে রক্ষা পেতে
কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আশ্চর্যের বিষয় হলো সংবাদপত্রের মালিকদের যে সংগঠন নোয়াব একজন
সাংবাদিকের নিরাপত্তা সামগ্রী দেন না।
কয়েকদিন
আগে অনেক বড় অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে তারা অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কোনো সাংবাদিকের
নিরাপত্তা সামগ্রী নিয়ে কথা বলেননি। ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তারা এটা কোনো বিবৃতি
দেননি। তারা তাদের কর্মী নিয়ে কোনো দায়িত্ব পালন করেননি।
ঐক্য
প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েকদিন পর আমি সাংবাদিকতায় ফিরতে চাই। আমিও মনে করি সব সাংবাদিকরা
ঐক্যবদ্ধ থাকুক। কিন্তু সেটা হতে হবে সবার জন্য। কয়েকজন লোকের জন্য সিলেক্টিভ ঐক্য
নয়।
সবার
জন্য ঐক্য থাকতে হবে। সাংবাদিক যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যায় সবার কাছে থেকে সাপোর্ট চায়,
তার জন্য বিশেষ কোনো পরিস্থিতি থাকে না। তারা তাদের পাঠকের জন্য খবর সংগ্রহ করবে, খবর
সার্ভ করবে। সব এক রকম হতে পারে না। একজন সম্পাদককে অফিস থেকে টেনে হিছড়ে বের করে আনা
হবে তথ্য ঐক্যের কথা বলা হবে না, একটা বিবৃতি দেবো না, এটা হতে পারে না। ঐক্য তখনও
থাকতে হবে।
ফেডারেল
সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় অন্য
কেউ যখন মাঠে দাঁড়াতে পারছিল না তখন সাংবাদিকরা মাঠে থেকেছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের
পর সেই সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি, জায়গামতো পদায়ন করা হয়নি। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের
সঠিক ব্যবহার করা হয়নি।
সরকারি একটি গণমাধ্যমে ফ্যাসিস্ট বসানো হয়েছে, এখনো বহাল। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ডিআরইউ নেতাদের সাক্ষাতের খবর রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমটিতে প্রকাশের অনুরোধ করা হলে ডিআরইউ নেতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এখনো এমন সাহস কোথায় থেকে পায়, তার জবাব চান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এ শীর্ষনেতা।
সিনিয়র
সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এখন সাংবাদিক আক্রান্ত। সাংবাদিক আক্রান্ত হলে আর সাংবাদিকতা
থাকে না। এখন তাই হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা
মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেককে জেলে পাঠানো হয়েছে। কোনো সাংবাদিককে হত্যা মামলার আসামী
করে জেলে থাকবে এটা কোনোভাবে ভালো দেখায় না। কেউ সাংবাদিকতার নামে দালালি করলে তার
বিরুদ্ধে দালাল হিসেবে বিচার করা হোক, হত্যা মামলা নয়।
তিনি
সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, জুলাই পরবর্তী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে
সাংবাদিকদের ইউনিটি ধরে রাখতে পারলেও প্রেসক্লাব ধরে রাখলে পারলো না। কাউকে বাদ দিল,
কারো সদস্য পদ স্থগিত করলো। প্রেসক্লাবের নির্বাচনটাও শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, সরকার সফলতার সঙ্গে এবং দ্রুত অনেক তদন্ত সম্পন্ন করেছে, কিন্তু সাগর-রুনির তদন্ত
করতে পারলো না। শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করতে পারেনি। আগের
সরকারের সময়ে বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। কী এমন হলো কেউ
প্রতিবেদন দিতে পারছে না। তদন্ত প্রতিবেদন না দিতে না পারলে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে
সরে যাওয়া হোক।
জুলাই
আন্দোলন পরবর্তী কোন কোন গণমাধ্যমের অফিস দখল করা হয়েছে, মহল বিশেষের চাপে সাংবাদিকদের
চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কেন চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সে কথাটিও বলা হয়নি। এগুলো সাংবাদিকের
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে বলে মন্তব্য করেন সোহরাব হাসান।
ডিআরইউ
সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকরা ঘরে, বাইরে এবং অফিসে নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার
হচ্ছে। বেতনের নিরাপত্তা না থাকার কারণে পকেটে টাকা থাকে না। এজন্য পরিবারে নির্যাতনের
শিকার হন। খবর সংগ্রহ করতে বাইরে গিয়ে গন্তব্যে পৌছতে না পেরে নিগ্রহের শিকার হন। আর
পকেটে টাকা না থাকার কারণে ভালো রিপোর্টটি না দিতে পেরে নিগ্রহের শিকার হন। শুধু আইনি
নিরাপত্তা নয়, সাংবাদিকের বেতন-ভাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ব্যক্তি, পরিবার,
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
রাজনৈতিক
পালা বদলে সাংবাদিক হত্যা মামলায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নিয়ে
দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে ডিআরইউ সভাপতি বলেন, এখন উষ্ণ পরিবেশে উষ্ণ দাবি তোলা
হচ্ছে। অতীতে ভিন্ন মত হওয়ার কারণে যখন ৭ নম্বর ক্রমিকের নয়া দিগন্ত পত্রিকা ৫৭ নম্বরে
নামিয়ে দেওয়া হয় তখন কোনো কথা উঠে না, এখন কথা উঠছে। আগেও এ ধরনের কথা উঠা দরকার ছিল।
ঢাকা
সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইইজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, অতীতে যাদের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের
নিয়ে কাজ করা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া দিয়ে কর্মসূচি শুরু
হয়েছে তখন মনে করেছে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তায় দাবি জানাতে থাকলে সরকার বিরক্ত
হবে। তাই কারা আন্দোলন-কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসে। এজন্য সাগর-রুনির হত্যার বিচার করা
যায়নি। সাংবাদিকের অধিকার ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক
মাইনুল হাসান সোহেল।
অনুষ্ঠানে
আরও বক্তব্য রাখেন ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ, ডিআরইউ এর সাবেক নারী বিষয়ক
সম্পাদক নাদিয়া শারমিনসহ ইউনিসেফের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে
ইউনিসেফের পক্ষ থেকে ডিআরইউকে জার্নালিস্ট হেল্প ডেস্ক হস্তান্তর করা হয়। পেশাগত দায়িত্ব
সম্পর্কিত যে কোনো আইনি সহায়তা দেবে এ হেল্প ডেস্ক। আইনি কোনো সহায়তা চেয়ে ডেস্কে ফোন
করার সঙ্গে এ হেল্প ডেস্ক যেখানে যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন সহায়তা দেবে।
মন্তব্য করুন


২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমনে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে
শাহাদাতবরণকারী শহিদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৫ গতকাল শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে শহিদ ৫৮ টি পরিবার এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমনে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে শহিদ ১৯টি পরিবারের সদস্যদের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ লক্ষ টাকা করে, মোট ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, "শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর এবং মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আজকের এই স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।"
শহীদ পরিবারদেরকে স্বীকৃতি দিতে পেরে সরকার গর্বিত উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ইতিহাস থেকে যেন কেউ ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরের শহীদদের নাম মুছতে না পারে, এজন্য শাপলা চত্বরেই খোদাই করে লেখা হবে শহীদদের নাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, "শাপলা চত্বর এবং মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহিদদের আর্থিক সহায়তা প্রদান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।"
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ এবং ২০২১ সালের মোদি বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে
শাহাদতবরণকারী শহিদ পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, "স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার এই মহতী উদ্যোগে সারা বাংলার আলেম সমাজ সম্মানিত হয়েছে। "
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শাহজাহান মিয়া।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ
ইসলাম বলেছেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি
পরিবহন খাতে রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
আজ শনিবার (২১ ডিসেম্বর) প্রেস ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে
প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার বিষয়ক জাতীয় সংলাপে তিনি একথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ
ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের কথিত উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
ওই আন্দোলনের মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাথায় নিরাপদ সড়কের বিষয়টি গেঁথে
গিয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
পাশাপাশি পরিবহন খাতে রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যেসব কাঠামোগত উন্নয়ন মানুষের
জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সেসব উন্নয়ন অর্থহীন। তাই, আমাদের মৌলিক উন্নয়ন
পরিকল্পনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনাকে কাঠামোগত হত্যাকান্ড
হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক
ও কাঠামোগত দুর্বলতা অনেকাংশে দায়ী।
পরিবহন খাতে বহুমুখী সমস্যার বর্ণনা
দিয়ে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।
এ সময়ে তথ্য উপদেষ্টা সড়ক নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যের বরাত
দিয়ে সংলাপে জানানো হয়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে সড়ক
দুর্ঘটনায় ৩৭ হাজার মানুষ নিহত ও ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সংলাপে আরও জানানো হয়, গণপরিবহন ৫৩
শতাংশ যাত্রী বহন করে, আর ব্যক্তিগত যানবাহন ১১ শতাংশ যাত্রী বহন করে। অথচ ব্যক্তিগত
যানবাহন ৭০ শতাংশ সড়ক দখল করে চলে। ৩০ শতাংশের কম জায়গায় চলে গণপরিবহন। এটি সাধারণ
মানুষের প্রতি চরম বৈষম্য।
সংলাপের শুরুতে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা
প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি
আব্দুলাহ এম ফেরদৌস খান।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক
ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক
ফারুক ওয়াসিফ, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের
নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় দেশবাসীকে
পরিবেশের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিবেশের প্রতি সদয় না হলে বাংলাদেশের
সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। প্রকৃতির প্রতি নির্দয় আচরণ অব্যাহত
থাকলে একদিন মাছও আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে
চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
একথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
এবারের মৎস্য সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে - " অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি"। মৎস্য সপ্তাহ চলবে এক সপ্তাহব্যাপী। প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি, মাছের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবর্গ,
সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ, মৎস্যচাষী, উদ্যোক্তা ও গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “মাছ আমাদের জন্য প্রকৃতির
উপহার। এটি কোনো কারখানায় উৎপাদিত নয়, বরং আল্লাহর দান। অথচ আমরা এত নির্দয় হয়ে পড়েছি
যে, একদিন মাছও হয়তো আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যাবে। প্রকৃতিকে আঘাত করলে আগামী প্রজন্মও
খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার দিক থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা নদী শাসনের কথা বলি, কিন্তু নদী
পালনের কথা বলি না। আমরা তাকে শাসন করতে চাই এবং শাসনের নামে তার প্রতি যত নির্দয় হওয়া
যায়, তা করছি। বর্জ্য তো নদীতে দিচ্ছি। নদী-নালা ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলছি, বিষাক্ত রাসায়নিক
ঢুকিয়ে দিচ্ছি। পানিই যদি না থাকে, মাছ কোথা থেকে আসবে?
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জলসম্পদ
মৎস্য উৎপাদনের বিপুল সুযোগ তৈরি করেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানে
দেশে প্রায় ১২ লাখ নারীসহ লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।
কিন্তু প্রকৃত মৎস্যজীবীরা অনেক সময় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু
মাছের দাম বা মাছটা টাটকা কি-না সেটা দেখি, কিন্তু যারা প্রতিদিন শ্রম দিয়ে মাছ আমাদের
কাছে পৌঁছে দেন, তাদের কথা ভুলে যাই। আজকের দিনটা অন্তত তাদের কথা মনে করার দিন। বঙ্গোপসাগর
আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে তার উপহার নিয়ে। এটি শুধু বেশি মাছ ধরার বিষয় নয়, বরং একটি
নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ। এজন্য আমাদের গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয়
পর্যায়ে পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অবৈধ জাল ব্যবহার ও নির্বিচার মৎস্য
আহরণকে তিনি “প্রকৃতির প্রতি নির্মমতা”
আখ্যা দেন। অধ্যাপক ড. ইউনূস এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
এটি ঠেকানো শুধু সরকারের কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্বও বটে। আগামী প্রজন্ম যেন এই সম্পদ
থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে, তিনি যোগ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রতিদিন
সকালে প্রতিজ্ঞা করতে হবে—আমি
আজ প্রকৃতির প্রতি সদয় হব। প্রকৃতির প্রতি সদয় না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ টেকসই হবে না।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের
জন্য নয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা
আখতার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত সচিব মো. তোফাজ্জেল
হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে জাতিসংঘ পাশে থাকবে বলে
মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) এক এক্স বার্তায় এমন মন্তব্য করে তিনি
বলেন, আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের
জনগণকে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংস্কার
ও রূপান্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার
লক্ষ্যে জাতিসংঘ সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবে।
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব
ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠক করেন। শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টায়
রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টালে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতিসংঘ মহাসচিব একই উড়োজাহাজে কক্সবাজার ভ্রমণ করেন
।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজার পৌঁছেছেন
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।
কক্সবাজারে নির্মাণাধীন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর
ও খুরুশকূল জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন ড. ইউনূস। পরিদর্শন শেষে
উখিয়ায় ড. ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার
সঙ্গে ইফতারে যোগ দেবেন। জাতিসংঘ মহাসচিব সেখানে রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার,
রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
পরিদর্শন ও ইফতার শেষে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব একসাথে সন্ধ্যায় ঢাকায়
ফিরবেন।
মন্তব্য করুন