

গণপ্রজাতন্ত্রী
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের
(তৃতীয় দিন) মুলতবি অধিবেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে নিজের নির্ধারিত আসনে এসে বসেন।
রোববার
(২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হয় অধিবেশন।
শুরুতে
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার
কায়সার কামাল অধিবেশনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশনে
দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্তব্য করুন


বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের বিষয় তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে।
আজ
রোববার (৩০ নভেম্বর) কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। এ সময় উপস্থিত
ছিলেন কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ যুগ্মসচিব (অব.),
ড. এম আকবর আলী ডিআইজি (অব.), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী
অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের
সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
এ
সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে
ছিল। আপনারা সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন জাতি তা স্মরণে রাখবে। জাতির পক্ষ থেকে
আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘটনা নিয়ে জাতির
অনেক প্রশ্ন ছিল, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে। এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয়
বহু বিষয় এসেছে। জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে এটি।
কমিশন
প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ
পেশাদারত্ব বজায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন ১৬ বছর আগের এই
ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই
ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন।
আমরা
দুটো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি। সাক্ষীদের ডাকলাম, কারো কারও ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য
শুনেছি আমরা। যতক্ষণ তিনি বলতে চেয়েছেন। যারা তদন্তে জড়িত ছিল তাদের সঙ্গে কথা করেছি।
তাদের তদন্তের রিপোর্ট কালেক্ট করেছি, অন্যান্য এলিমেন্ট কালেক্ট করেছি।
তিনি
বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর
খোঁজা হয়েছে, উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে কার কী ভূমিকা ছিল। কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে
থাকল অ্যাকশন নিল না। তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে। এসময় কমিশনের
ফাইন্ডিংস সম্পর্কে জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, এই ঘটনা কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ
বের করেছে কমিশন।
তিনি
বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিল
তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয়
আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছে
এবং বের হবার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিল।
তিনি
বলেন, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন
সিগন্যাল’ ছিল।
তিনি
এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে বলেন, দায় তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও।
এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব এবং গোয়েন্দা
সংস্থাগুলোরও রয়েছে চরম ব্যর্থতা। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়
(তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেছে,
তাদের সঠিক নাম পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।
কমিশন
তাদের প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করে, যাতে করে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এই ধরনের ঘটনা
এড়ানো যায় এবং এই ঘটনার ভিকটিমরা ন্যায় বিচার পায়।
বৈঠকে
অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার
প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল
আব্দুল হাফিজ ও স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশিসহ
বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
আগামীকাল
(১১ এপ্রিল) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন,মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের
বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মাঝে
ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ঈদের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে, গ্রামগঞ্জে,
সারা বাংলায়, সারা বিশ্বে। এদিন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের
আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন। ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর ঐক্যের
বন্ধন। ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানির স্থান নেই। মানবিক
মূল্যবোধ, সাম্য ও পারস্পরিক সহাবস্থান এবং পরমতসহিষ্ণুতাসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ইসলাম
ধারণ করে। ইসলামের এই সুমহান বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। বিশ্বব্যাপী
নানাবিধ সংকটের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ মন্দার
প্রভাব দৃশ্যমান। ফলে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাভাবিক জীবনধারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি
হচ্ছে। এমতাবস্থায়, আমি সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর
আহ্বান জানাচ্ছি, যেন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই ঈদের আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে।
মন্তব্য করুন


একটি
স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান
তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দেশের মালিকানা ফিরে
পাবে বলে বিশ্বাস তার।
আজ
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এসব
কথা বলেন তিনি।
বিএনপি
ক্ষমতায় এলে দেশে-বিদেশে অন্তত এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
তারেক রহমান। আর পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি
বলেছেন, নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে যথাসময়ে পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে।
মন্তব্য করুন


চলতি
বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি
বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে আগামী বছরের জুনের মধ্যে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত
হবে, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম সামনে এগিয়ে নিতে সহায়ক
হবে।
আজ
বুধবার (২৮ মে) জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ
লিগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসো টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে
গেলে তিনি এ কথা বলেন।
চার
দিনের সরকারি সফরে প্রধান উপদেষ্টা আজ দুপুরে টোকিও পৌঁছান। সফরকালে তিনি নিক্কেই ফোরামে
অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাপানি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
সাবেক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের বন্ধু তারো আসো, যিনি জেবিপিএফএলের সভাপতির
দায়িত্ব পালন করছেন, অধ্যাপক ইউনূসকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর
করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং একটি মসৃণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য সাধারণ নির্বাচন
অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি প্রধান বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে—সংস্কার, খুনিদের বিচার ও
সাধারণ নির্বাচন আয়োজন।
তিনি
আরও বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং
ঋণ পরিশোধে সরকার উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
'পূর্ববর্তী
সরকার আমাদের দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, যার ফলে তরুণ সমাজের মধ্যে বিদ্রোহ
সৃষ্টি হয়েছে। সেই তরুণরাই আমাকে এই বিশৃঙ্খলা দূর করার আমন্ত্রণ জানিয়েছে,' বলেন তিনি।
তিনি
বলেন, 'গত ১০ মাসে জাপান আমাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে। আমি জাপানকে আন্তরিক
ধন্যবাদ জানাই। এক অর্থে, এটি একটি কৃতজ্ঞতা সফর।'
প্রধান
উপদেষ্টা ড. ইউনূস তারো আসোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে তিনি নিজের চোখে
পরিবর্তনগুলো দেখতে পারেন।
সাক্ষাতের
সময় তারো আসোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন জাপানি সংসদ সদস্য বলেন, ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট
(ইপিএ) স্বাক্ষর বাংলাদেশে বৃহত্তর পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ
পদক্ষেপ হতে পারে।
বাংলাদেশ
আগামী আগস্টের মধ্যে আলোচনার কাজ শেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে ইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রত্যাশা
করছে।
এই
চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে জাপান হবে বাংলাদেশে ইপিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।
প্রধান
উপদেষ্টা রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি সম্পর্কে জাপানি সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের সহায়তা কামনা করেন।
তিনি
বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট অন্যান্য শরণার্থী সংকটের থেকে ভিন্ন, কারণ তারা অন্য
কোনো দেশে যাওয়ার জন্য অনুনয় করছেন না, বরং নিজ দেশে ফেরার দাবি করছেন।
বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে
সিদ্দিকী এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার “অজিত শিং সৌজন্য” সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রাজধানীর বসুন্ধরার আমিরে জামায়াতের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও এক ব্রেকফাস্ট বৈঠক হয়। এ সময় হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর মার্কাস ডেভিস, সিনিয়র ট্রেড কমিশনার মিস. ডেবরা বয়েস ও পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার নিসার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কানাডার সার্বিক সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা কামনা করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বাধীনতা ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় হবে।জামায়াতের আমিরে সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ
১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে ধন্যবাদ
জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর
পর সেখান থেকেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি।
এসময়
তারেক রহমান তাঁর নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা
জানান।
বিএনপি
মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, ফোনালাপে তিনি
প্রধান উপদেষ্টার খোঁজখবর নেন এবং বলেন, আমি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার পরিবারের পক্ষ
থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে আমার নিরাপত্তার জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,
তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
ভিডিওতে
দেখা যায়, ফোনালাপের শেষে তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে দোয়া চান এবং সালাম দিয়ে কথা
শেষ করেন।
সব
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ মাতৃভূমিতে ফিরেছেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার
সকালে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ প্রথমে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
পৌঁছায়।
মন্তব্য করুন


তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৫ বছর যেমন আমাদের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার
কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন আবার একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আপনাদের চোখ-কান খোলা
রাখতে হবে। আপনাদের ভোটের অধিকার কেউ যেন কেড়ে নিতে পারে না পারে।
ভোটের
দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে কাজ ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজের জামাত আদায় করবেন।
এদেশের জনগণের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আগামী দিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আমরা
যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
রোববার
(২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান
অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি
আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করলে জনগণের লাভ হবে না, সুতরাং
যেভাবে জনগণের লাভ হয় আমরা সেই কাজগুলো করব। ধানের শীষকে নির্বাচিত করে দুর্নীতির
লাগাম টেনে ধরতে হবে। ধানের শীষ সরকার গঠন করতে পারলেই আমরা খালেদা জিয়া, শহীদ জিয়ার
কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে পারবো। যাতে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
তারেক
রহমান বলেন, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর এলাকার মানুষের ওপর বিএনপির একটা হক আছে
মানুষেরও একটু হক আছে। খালেদা জিয়া এলাকার সন্তান এলাকার মেয়ে স্বাভাবিকভাবে ধানের
নির্বাচনে খালেদা জিয়ার সম্মান বৃদ্ধি পাবে। সবাই মিলে খালেদা জিয়ার সম্মান আসমানে
তুলে ধরবেন ইনশাল্লাহ। আসুন আমরা ১২ তারিখে গণতন্ত্রকে পুরো প্রতিষ্ঠিত করি। নির্বাচিত
জনপ্রতিনিধি থাকে এলাকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।
গত
১৫ বছর পর সারা দেশে কোনো সত্যিকার অর্থে জানা প্রতিনিধি ছিল না, জনগণের প্রতিনিধি
ছিল না। এজন্য দেশের এই অবস্থা কিছু সংখ্যক মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে ৯৮ শতাংশ
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা হয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত
হলেও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আপনাদের সহযোগিতা
প্রয়োজন। করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আমরা
এলাকার মানুষের জন্য কাজগুলো শুরু করতে পারব। এদেশে আমাদের প্রথম ঠিকানা আমাদের শেষ
ঠিকানা থাকতে হবে।
মন্তব্য করুন


আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি।
আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ১১ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) অ্যাড. বিলকিস জাহান শিরীনের দলীয় সকল পদ স্থগিত করা হয়েছিল। আজ শনিবার তার সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি এখন থেকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) হিসেবে বহাল থাকবেন। এ ছাড়া সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য গত ৮ এপ্রিল বরিশাল উত্তর জেলাধীন হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দেওয়ান মো. মনির হোসেন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজ আলম মিঠু, সহসভাপতি নুর হোসেন সুজন, সদস্য ইমরান খন্দকার, বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রাড়ি, বরিশাল স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান, বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন ও বরিশাল মহানগরের অন্তর্গত ৩০নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব মো. জাহিদকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ তাদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


গণ-অভ্যুত্থান
পরবর্তী আগামী নির্বাচনকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের
মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে।
আজ
বুধবার ( ১০ ডিসেম্বর ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী
অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা
প্রদানকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সকল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের কর্মকর্তাগণ এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় ইউএনওদের উদ্দেশ্যে
আরও বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে
না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি না পারি তাহলে
জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, যে
কোনো সুস্থ মানুষ বলবে—এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।’তিনি
বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মতো নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা
যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও
ঐতিহাসিক হবে।’
উপজেলা
নির্বাহী অফিসারদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন
করেন তাহলেই সরকার তার দায়িত্বটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। আগামী নির্বাচন ও
গণভোট দুটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন আগামী
পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য। গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা
বাংলাদেশটাকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে চাই, তার
ভিতটা এর মাধ্যমে গড়তে পারি।’সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের উদ্দেশ্যে
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন
আয়োজন করা। তিনি ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট
সব পক্ষ, এলাকাবাসী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের
প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।
গণভোট
বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘ভোটারদের বোঝাতে হবে যে
আপনারা মন ঠিক করে আসুন—‘হ্যাঁ’-তে
দেবেন নাকি ‘না’-তে ভোট দেবেন—মন
ঠিক করে আসুন।’
প্রধান
উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও
ভালো হয়। তিনি কর্মকর্তাদের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য
ও গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
নির্বাচনে
অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা
যেন ঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। শীঘ্রই নির্বাচনের তফসিল
ঘোষণা করা হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন,
কীভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই
নিন।’
অনুষ্ঠানে
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর
রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন