

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ
করেছে বিএনপি।
আজ রবিবার (১১ মে) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক
বিবৃতিতে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি আমরা প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সাক্ষাৎকালে
তার হাতে দেওয়া পত্রে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল
হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, গত ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সর্বশেষ সাক্ষাৎকালেও
তার হাতে দেওয়া পত্রে আমরা পতিত ফ্যাসিবাদী দল ও সেই দলীয় সরকারের সঙ্গে যারাই যুক্ত
ছিল, তাদের বিচার দ্রুত করে দেশের রাজনীতির ময়দানকে জঞ্জালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছি।
আলোচনায় আমরা স্পষ্ট করে বলেছিলাম যে, আইনি প্রক্রিয়াতেই ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগকে
নিষিদ্ধ করা সম্ভব ও উচিত। বিভিন্ন সভা, সমাবেশে ও আলোচনায় আমরা আমাদের এসব দাবি বার
বার উত্থাপন করেছি।
উল্লেখযোগ্য যে, আমরা প্রশাসনিক আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের
বিরুদ্ধে বলেই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে
নিষিদ্ধ ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিএনপি।
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা আনন্দিত যে, বিলম্বে
হলেও গত রাতে (১০ মে) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত করার এবং বিচারকার্য নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী
দল আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে যুক্ত সব সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায়
গুম, খুন, নিপীড়ন ও জনগণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অপশাসন চালনাকারী ফ্যাসিবাদী দলের বিচার
করার সিদ্ধান্তকে আমরা সঠিক বলে মনে করি। তবে আমাদের দাবি মেনে আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া
হলে চাপের মুখে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত অবস্থায় সরকারকে পড়তে হতো
না। ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মনে
রাখবেন বলে আমরা আশা করি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণ তাদের ভোটাধিকার
তথা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য গুম, খুন, জেল, জুলুম
সহ্য করেও অব্যহত লড়াই করেছে। তাদের সেই দাবি এখনও অর্জিত হয়নি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার
সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণঅর দাবিও ক্রমাগত উপেক্ষিত হওয়ায় জনমনে যে ক্ষোভোর সৃষ্টি
হচ্ছে, সে ব্যাপারে সচেতন হওয়ার জন্য আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


আজ রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন প্রার্থীরা।
তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি বাছাই হবে। প্রত্যাহার করা যাবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর ভোটের তারিখ ১৪ মার্চ।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। তাই এরই মধ্যে দলগুলো তাদের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করেছে। এতে ভোট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম সম্প্রতি জানিয়েছেন, ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৪৮টি আসন পাবে। আর জাতীয় পার্টি পাবে দুটি আসন।
মন্তব্য করুন


ইরান–ইসরায়েল
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ থেকে ওই অঞ্চলের কিছু রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের
বিভিন্ন দেশে যেতে প্রস্তুত থাকা বিপুলসংখ্যক কর্মী চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিশেষ করে
যেসব কর্মীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের
সহায়তার জন্য হটলাইন চালু করেছে সরকার।
আজ
রোববার ( ০১ মার্চ ) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু অনেক কর্মীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এর ফলে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের
প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক হটলাইন চালু
করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের
পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব কর্মী ফ্লাইট বাতিল বা ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন,
তাঁরা যেকোনো সময় টোল ফ্রি হটলাইন নম্বর ১৬১৩৫–এ যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা
নিতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হটলাইনের মাধ্যমে কর্মীদের
প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের
জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের
পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মীদের আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব কর্মীর ভিসা বা ফ্লাইট সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে,
তাঁদের দ্রুত হটলাইনে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যেকোনো
মূল্যে দেশে নির্বাচন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)
মিলনায়তনে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি
যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক
রহমান বলেন, “ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেশের কল্যাণে আমরা যদি ঐকবদ্ধ না হই তাহলে দেশ ধ্বংস
হয়ে যাবে। ষড়যন্ত্র থামানো যাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে, তাই নির্বাচন যেকোনো মূল্য
নির্বাচন হতে হবে।”
ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে
তিনি বলেন, “গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর যে দুষ্কৃতকারীদের
হামলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন তিনি, এই হামলার পেছনে কারও
কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে কি না ভেবে দেখতে হবে।”এ সময় তিনি কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে
বিএনপির এক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন এবং বলেন, এসব ঘটনা ঘটিয়ে কেউ হয়তো ফায়দা
লোটার চেষ্টা করছে। অতীতের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “অতীতে আওয়ামী
স্বৈরাচার যেভাবে দেশ পরিচালিত করেছেন, আমরা সেভাবে দেশ পরিচালিত করবো না। আমরা তার
পরিবর্তন আনবো, কল্যাণ করবো। সেজন্য এই দেশ গড়ার পরিকল্পনা আমরা আপনাদের সামনে তুলে
ধরেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা নির্বাচিত হলে বাস্তবায়ন করবো।”
দলীয়
নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “মানুষের কাছে আমাদের যেতে হবে।
একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনারা মানুষের সঙ্গে মেশেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের
বসে থাকলে চলবে না।”বিএনপির দায়িত্ব ও করণীয় তুলে ধরে তারেক
রহমান বলেন, “আমাদের এখন বড় দায়িত্ব হলো বিএনপির প্রত্যেকটি পরিকল্পনা জনগণের কাছে
পৌঁছে দেওয়া। বিএনপির একজন নেতা হিসেবে, একজন কর্মী হিসেবে আমাদের পরিকল্পনাগুলো জনগণের
কাছে নিয়ে যেতে হবে। শুধু জনগণের দোরগোড়ায় নিলে হবে না, এই কাজের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে।”
মন্তব্য করুন


জাতি
গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশকে ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে প্রবাসীরাই মূল ভূমিকা পালন
করেছেন।
আজ
শুক্রবার টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক কমিউনিটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য
রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই সত্য যে কঠিন সময়ে দেশের যে টিকে থাকা—তা সম্ভব হয়েছে প্রবাসীদের
পাঠানো রেমিটেন্সের কারণে’।
অধ্যাপক
ড. ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত পতিত সরকার রাষ্ট্রীয় কোষাগার এবং ব্যাংক শূন্য করে গিয়েছিল
এবং যদি প্রবাসীরা সহায়তা না করতেন, তাহলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারত না।
তিনি
বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্যই তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে, তবে জাতি গঠনে প্রবাসী
বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত।
প্রধান
উপদেষ্টা প্রবাসীদের বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
‘একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদেরই
রাষ্ট্র মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে,’ তিনি বলেন।
অধ্যাপক
ড. ইউনূস বলেন, প্রবাসীদের বাংলাদেশে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব রয়েছেন, তাদের ব্যবসাও
আছে—এই কারণে তারা নিয়মিত বাংলাদেশে
যাতায়াত করেন।
‘তাই সামগ্রিকভাবে আমাদের
একসঙ্গে কাজ করতে হবে...আপনারা জাপান সরকারের ওপর প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করুন,’বলেন
তিনি।
প্রধান
উপদেষ্টার জাপান সফরের তৃতীয় দিনে আজ তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়— যথাক্রমে অর্থনৈতিক সংস্কার
ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীলতা জোরদার করতে ডেভেলপমেন্ট পলিসি লোন (৪১৮ মিলিয়ন মার্কিন
ডলার), জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়াল-গেজ ডাবল-লেন রেলওয়ে প্রকল্পের জন্য ঋণ (৬৪১ মিলিয়ন
ডলার) এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন স্কলারশিপ অনুদান (৪.২ মিলিয়ন ডলার)।
বাংলাদেশের
পক্ষে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এবং জাপানের পক্ষে দেশটির রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা সমঝোতা
স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস দলিল এমওইউ স্বাক্ষরের এই আনুষ্ঠানিকতা প্রত্যক্ষ করেন।
পরে,
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া নৈশভোজে তিনি অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


জাতীয় অর্থনৈতিক
পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ২৫টি
প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ
টাকা, প্রকল্প ঋণ ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকা ৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার
২৯১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
প্রধান উপদেষ্টা
এবং একনেক চেয়ারপার্সন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ রবিবার ( ২৫ জানুয়ারি ) পরিকল্পনা
কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে
নতুন প্রকল্প ১৪টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৬টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ৫টি।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ; অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ; পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো.
তৌহিদ হোসেন; খাদ্য এবং ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার; স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি উপদেষ্টা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ,
সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু
পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান; প্রাথমিক
ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার; বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
আজকের সভায়
অনুমোদিত ২৫টি প্রকল্প হলো— সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ২টি
প্রকল্প, (১) ‘রাঙ্গামাটি (মানিকছড়ি)-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৬২) প্রশস্তকরণ
ও যথাযথমানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প, (২) ‘মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন
৩টি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ১টি জেলা মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’
প্রকল্প। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার
হতে শাহ-আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) চট্টগ্রাম শাহ আমানত
আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ (১ম সংশোধিত)
প্রকল্প, (২) ‘চট্টগ্রামস্থ পারকিতে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন (২য় সংশোধন) প্রকল্প।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) স্যানিটেশনে নারী
উদ্যোক্তা প্রকল্প, (২) কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প— (১) দেশের বিভিন্ন স্থানে ফাঁড়ি/তদন্ত
কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ থানা ও আউটপোস্ট, ট্যুরিস্ট পুলিশ
সেন্টার এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য থানা/আউটপোস্ট নির্মাণ প্রকল্প, (২) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ
অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প। বাংলাদেশ রেলওয়ে
মন্ত্রণালয়ের
১টি প্রকল্প, দোহাজারী হয়ে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকটে গুনদুম
পর্যন্ত সিঙেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের
১টি প্রকল্প, দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের
মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্প (১ম সংশোধন) প্রকল্প। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের
২টি প্রকল্প, (১) সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প,
(২) সিলেট টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষার সুযোগ প্রকল্প।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) এস্টাবলিশমেন্ট অব
অ্যা ১,০০০-বেড বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশীপ জেনারেল হসপিটাল টু প্রোভাইড অ্যাডভান্সড
মেডিকেল সার্ভিসেস টু দ্য পিপল অব নর্দার্ন রিজিয়ন অ্যান্ড নেইবরিং কান্ট্রিজ প্রকল্প,
(২) হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইম্প্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেনদেনিং
প্রজেক্ট প্রকল্প। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজ প্রকল্প
(২) স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) (৩য় সংশোধন) প্রকল্প।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৬টি প্রকল্প, (১) পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীসমূহের টেকসই
ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম অংশ) প্রকল্প, (২) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় মহানন্দা
নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম প্রকল্প, (৩) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পদ্মা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ
(১ম অংশ) প্রকল্প, (৪) তেতুঁলিয়া নদীর ভাঙন হতে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার
বিভিন্ন এলাকা রক্ষাকরণ প্রকল্প, (৫) শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীর ডান
তীরের ভাঙন হতে মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধন) প্রকল্প, (৬) আড়িয়াল
বিল এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পানি ও ভূমি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা
প্রকল্প। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প—
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত) অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা
উপদেষ্টা কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প সর্ম্পকে
একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো— (১) নির্বাচিত ৯টি সরকারি কলেজের উন্নয়ন
(১ম সংশোধিত) প্রকল্প, (২) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এর উন্নয়ন-১ম
পর্যায় (২য় সংশোধিত), (৩) সদর দপ্তর ও জেলা কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল
অধিদপ্তর শক্তিশালীকরণ (২য় সংশোধন) প্রকল্প, (৪) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মহাকাশ
ও অবলোকন কেন্দ্র (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে সমাপ্তকরণ প্রকল্প,
(৫) নভোথিয়েটার খুলনা স্থাপন (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে সমাপ্তকরণ
প্রকল্প (৬) সাপোর্টং পিইডিপি৫ প্রিপারেশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন রেডিনেস থ্রো লার্নিং
এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন (এলইএপি বাংলাদেশ), (৭)
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর-এর অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ (ফেজ-২)
(১ম সংশোধিত) প্রকল্প, (৮) র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)
প্রকল্প, (৯) নড়াইল শহরাংশের জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮০৬)
প্রশস্তকরণ
ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত), (১০) সৈয়দপুর ১৫০ মে. ও ৪+১০% সিম্পল সাইকেল (এইচএসডি ভিত্তিক)
বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (২য় সংশোধিত) এবং প্রকল্পের ১টি নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পরিবর্তন হলো
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন
করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাসদর। আগের নির্বাচনে যেখানে সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য
স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন, সেখানে এবার প্রথমবারের মতো
ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাতায়াত
ও আস্থা ফিরিয়ে আনতেই বাড়তি এই মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে, যা ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর
রয়েছে।
আজ
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন
এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে আয়োজিত
এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান
নির্বাচনে
১ লাখ সেনাবাহিনী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগের নির্বাচনে কত সদস্য মোতায়েন করা
হয়েছিলো। আগের থেকে বাড়তি মোতায়েন করা হলে কেন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে
এবার এক লাখ সদস্য কেন মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনে
আমাদের মোতায়েনের পার্থক্য হচ্ছে এবার ভোট কেন্দ্রের আঙ্গিনা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া
হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতে এই অনুমতি ছিলো না। আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা স্ট্রাইকিং
ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী জায়গাতে অবস্থান করেছি। এবার সাধারণ ভোটারা যেন নির্বিঘ্নে ভোট
কেন্দ্রে যেতে পারে সেটা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী প্রধান নূন্যতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্যদের
রেখে বাকি সকল সেনাসদস্যকে উনি নিয়োগ করেছেন সুষ্ঠু ইলেকশন করার জন্য।
তিনি
বলেন, যেকারণে আমরা চেষ্টা করছি,আমাদের যে প্রয়োজনীয় যানবাহন অপ্রতুল, আমরা অসামারিক
প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েছি যেন তারা রিকুজেশন করে আমাদের গাড়ি দেয়। সেটাও যখন দিতে
পারছে না তখন আমরা গাড়ি হায়ার করে হলেও সেনাসদস্যরা যাতে টহল দিতে পারে ব্যবস্থা করা
হচ্ছে। সেনাসদস্যরা প্রস্তুত এটার জন্য, অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দিনরাত টহল পরিচালনা
করছেন শুধুমাত্র ভোটারদের আস্থার জায়গাটা ফিরিয়ে আনার জন্য। এটা জোরদার করা হয়েছে গত
২০ জানুয়ারি থেকে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের
কিছু লেনদেন সাময়িকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ
সময় বিকাশ, রকেট, নগদসহ এমএফএসে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে
পারবেন, প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমা কার্যকর থাকবে।
একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা
স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র
জানায়, নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের
চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রস্তাবনা
দিয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী
সীমার অঙ্ক সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
বর্তমানে
এমএফএস গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন
করতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রস্তাব অনুযায়ী একজন গ্রাহক দিনে অন্য গ্রাহকের কাছে
সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যাবে—
যার সর্বোচ্চ সীমা ১ হাজার টাকা।
এদিকে
ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় ব্যক্তি গ্রাহকেরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০
লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা
স্থানান্তর বন্ধ রাখার প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট
সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চাহিদার
পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন
জারি করা হবে।’
এ
ছাড়া নগদ টাকা জমা ও উত্তোলনের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো
হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা
উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউতে নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন (সিটিআর) দাখিল
করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন জমা
দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সিটিআরে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যত্যয় হলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চারদিনের সম্মেলনে দুই দেশ সীমান্ত হত্যার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাসহ বেশ কিছু বিষয়ে একমত হয়।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। অপর দিকে বিএসএফের মহাপরিচালক দলজিৎ সিং চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিহতের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশসহ হত্যার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসএফ মহাপরিচালকের প্রতি জোর আহ্বান জানান। এ ছাড়া আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরে সীমান্তে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সম্মেলনে যেসব বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ একমত হয়েছে, সেগুলো হলো—
১. সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো, হত্যা, আহত বা মারধরের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যৌথ টহল বৃদ্ধি, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী উপকৃত হবে, এমন তাৎক্ষণিক এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্য একে অপরের মধ্যে আদান-প্রদান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, বিভিন্ন ধরনের আর্থসামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং সীমান্তে যেকোনো হত্যা সংঘটিত হলে তার যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২. আলোচনায় সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা, কাঁটাতারের বেড়া, প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত হয়, এমন কোনো স্থাপনা বা বাংকার নির্মাণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ পরিদর্শক দলের পরিদর্শন এবং যৌথ আলোচনার দলিলের ভিত্তিতে নির্মাণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বন্ধ থাকা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের ব্যাপারে যথোপযুক্ত পর্যায়ে জয়েন্ট ভেরিফিকেশনের (যৌথ যাচাই) মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে।
৩. বিভিন্ন ধরনের আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, বিশেষ করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও গবাদিপশু পাচার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, স্বর্ণ, অস্ত্র, জাল মুদ্রার নোট প্রভৃতি চোরাচালান রোধ এবং এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান করা হবে।
৪. আন্তর্জাতিক সীমানা আইন লঙ্ঘন করে উভয় দেশের নাগরিক ও বাহিনীর সদস্যদের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ফলে সৃষ্ট ভুল–বোঝাবুঝি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্তে উভয় বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
৫. মানব পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বিশেষ করে মানব পাচারের মতো অমানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত উভয় দেশের অপরাধী বা দালালচক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধে পরস্পরকে সহায়তা এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত দেশের আইন অনুযায়ী উদ্ধার ও পুনর্বাসন করা হবে।
৬. উভয় পক্ষ ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার’ আওতায় পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে উভয় বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষ আগামী দিনে যৌথ খেলাধুলা, জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনিসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।
৭. এ ছাড়া আগরতলা থেকে আখাউড়ার দিকে প্রবাহিত সীমান্তবর্তী চারটি খালের বর্জ্য পানি অপসারণে উপযুক্ত পানি শোধনাগার স্থাপন, জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে রহিমপুর খালের মুখ উন্মুক্তকরণ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তীব্র শৈত্যপ্রবাহ থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার একদিন পর আবারও দেশের সর্ব উত্তরের ২ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এতে ৫ ডিগ্রির ঘরে নামল জেলা দুটির তাপমাত্রা।
রোববার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রা এই মৌসুমে দেশের ও দুটি জেলারই সর্বনিম্ন।
আবহাওয়া অফিস জানায়, তাপমাত্রার পারদ নেমে যাওয়ায় জেলায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে কনকনে শীতে জনজীবনে নেমে এসেছে জনদুর্ভোগ। চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনাজপুরের তাপমাত্রা ওঠানামা করলেও ১০ ডিগ্রির নিচে থাকছে প্রায়শই।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক রোকনুজ্জামান রোকন জানান, আজ সকাল ৬টার দিকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড হয়েছে ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত শুক্রবার দেশের ও মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি। যা দুইদিনে দশমিক ৩ ডিগ্রি কমে গিয়েছে।
বর্তমানে বাতাসের গতিবেগ রয়েছে ঘণ্টায় ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার এবং বাতাসে আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ বলেও জানান তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক রোকনুজ্জামান রোকন।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী
অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের
নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় প্রদানকারী এই ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও
মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি
অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন প্রসিকিউশন।
অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া রাজসাক্ষী
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের খালাস চান তার আইনজীবী।
এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ
তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এছাড়া শুনানিতে
প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটরা
উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি
করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী
আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম
শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য
দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বোমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায়
সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান
খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর
আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে
(অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা
পড়ে।
মন্তব্য করুন