

বিদ্যমান আইনকে
আরও শক্তিশালী করে প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন)
অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে এই
আইন কার্যকর হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে
পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে বিদ্যমান আইনে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা
করা হয়েছে। এ ছাড়া ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্যান্য অপরাধের শাস্তিও বাড়ানো
হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।
বার্তায় এ আইনের
মূল উদ্দেশ্যে বলা হয়, তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা
দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন, ই-সিগারেট,
ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ ইমাজিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
ধূমপান ও তামাকজাত
দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংযোজন:
১. ‘তামাকজাত
দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ
তামাকজাত দ্রব্যের
সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, Electronic Necotin Delivery System (ENDS), Heated Tobacco
Product(HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার এরূপ যেকোন
পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এছাড়াও,
‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনসহ ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে
সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
২. পাবলিক প্লেসে
নিষেধাজ্ঞা
সকল পাবলিক
প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে।
৩. বিজ্ঞাপন
ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক,
ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, OTT প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ,
বিক্রয়স্থলে (Point of Sales) প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ, CSR কার্যক্রমে
তামাক কোম্পানির নাম/লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান/কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির
আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ
করা হয়েছে।
৫. ই-সিগারেট
ও উদীয়মান তামাকপণ্য (ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
উৎপাদন, আমদানি,
রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। বিধান লংঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাস
কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
৬. কুম্ভি পাতা
ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ
উৎপাদন, বিপণন
ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল
করা হয়েছে।
৭. আসক্তিমূলক
দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ
তামাক বা তামাকজাত
দ্রব্যের সাথে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিধান
রাখা হয়েছে।
৮. স্বাস্থ্য
সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং
প্যাকেটের ৭৫%
জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত
দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৯. শাস্তি ও
প্রয়োগ জোরদার
জরিমানা ও কারাদণ্ডের
পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের
বিধান রাখা হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান সন্নিবেশ করা
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা
বিবেচনায় তাঁর নির্বিঘ্ন চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও যাতায়াত-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং তাঁর
উচ্চ মর্যাদা বিবেচনায় তাঁকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) ঘোষণা
করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ
মঙ্গলবার ( ২ ডিসেম্বর ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ
ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন
মাহমুদ যমুনার সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিবৃতিটি পড়ে শোনান।
বিবৃতিতে
উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও বিএনপি
চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। জাতির
কাছে তাঁর আরোগ্য কামনায় দোয়া ও প্রার্থনারও আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে
বলা হয়, সভায় বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতালে তাঁর
নির্বিঘ্ন চিকিৎসা, প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, তাঁর
নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধা এবং উচ্চ মর্যাদা বিবেচনায় তাঁকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তি (ভিভিআইপি) ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর
করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এ
বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার এবং দল অবগত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মনে করিয়ে দিয়েছেন, গণমাধ্যমকে নির্বাচনের সময় প্রপাগান্ডা, ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে দূরে থেকে শুধু যাচাই করা তথ্যই পরিবেশন করতে হবে।
আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “বিভ্রান্তিমূলক তথ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন।”
উপদেষ্টা আরও জানান, সরকার একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চায় যা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবে। “গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করাই সরকারের লক্ষ্য,” তিনি বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার গুরুত্বও উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার সঠিক তথ্য প্রচারের জন্য গণমাধ্যমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে এবং স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি বিশ্বাসযোগ্য মিডিয়া পরিবেশ গড়ে উঠবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) নূর মো. মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার ও প্রেস) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নব নিযুক্ত উপদেষ্টাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
মতবিনিময় শেষে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের জবাব দেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শুধু কথার রাজনীতি করে না, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করেছে।
আজ দুপুরে লালমাই উপজেলার দোশারীচোঁ মৌজাস্হ ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন এবং খাল সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই বিএনপি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিল এবং নির্বাচন শেষে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একইভাবে কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং পয়লা বৈশাখের আশপাশে তা চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এঁর সময়ের মতো আবারও খাল খনন কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেও এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হল কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
তিনি স্থানীয় জনগণকে খাল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খালগুলো সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা -১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) এর সংসদ সদস্য মো: মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: আজিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু: রেজা হাসান। এসময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্হানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জনসাধারণ উপস্হিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী “দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন” কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর আওতাধীন “বি-স্ট্রং” প্রকল্পের অধীনে খাল খননের কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে। এ খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে লালমাই উপজেলার ৪২টি গ্রামের জলাবদ্ধতা দূরীভূত হবে। ফলে এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন রমজানকে
সামনে রেখে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের দ্রুত বুকিং দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ভ্রমণসেবা সংশ্লিষ্টরা।
দেরি করলে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।
আজ রোববার এক
প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদেন
বলা হয়েছে, রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় লাখ লাখ মুসল্লির আগমনের কারণে পরিবহন ও আবাসন
ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ওমরাহ অপারেটরদের
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাসে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ প্রায় এক হাজার ২০০ দিরহাম হলেও আগামী
কয়েক দিনের মধ্যেই তা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে,
এই ব্যয় দুই হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা
জানান, অনেকেই শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় বুকিং পিছিয়ে দেন, কিন্তু রমজানের
মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় উল্টো বেশি দাম গুনতে হয়।
আকাশপথে ওমরাহর
ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজ শুরু
হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম থেকে। তবে রমজান শুরু হলে এই প্যাকেজের দাম ৫ হাজার
২০০ দিরহাম ছাড়িয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে
খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।
বিশ্লেষণে দেখা
গেছে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও হোটেল ভাড়াই ব্যয় বৃদ্ধির
প্রধান কারণ। মসজিদুল হারাম থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানে দ্বিগুণ
এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এছাড়া, হজের
প্রস্তুতির কারণে ওমরাহ ভিসার সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ মার্চের পর ওমরাহ ভিসা
আবেদন বন্ধ হবে এবং ২ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। ১৮ এপ্রিলের মধ্যে
দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
তাই খরচ ও সময়-দুটো বিষয় মাথায় রেখে আগেভাগে পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর সাবেক
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দাফন করা হবে চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
দুপুরে
উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে উপদেষ্টা
পরিষদকে অবহিত করেছেন।
মঙ্গলবার
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শুরু হয় এক মিনিটি নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। আসিফ নজরুল
বলেন, গোটা জাতির মতো সরকারে যারা আছেন তারাও শোকাহত। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় খালেদা
জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আগামীকাল
সাধারণ ছুটি।
সরকার
জানাজা ও দাফন ঘিরে সব ধরনের সহযোহিতা দেবে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ
করেন। সবশেষ সেনাসদরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলাপ হয়েছিল। তিনি সভায়
সেদিনের স্মৃতিচারণ করেন।
আইন
উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে বেগম জিয়ার অবদান অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। এমন একজন নেত্রীর
চলে যাওয়াটা একটি বিশেষ মুহূর্ত। সবাই শোকাহত। সবার উচিত জানাজা ও দাফনে যথাযথ সম্মান
প্রদর্শন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
উপদেষ্টা
পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস ও হাইকমিশন আছে সেগুলোতে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।
এদিকে
দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গোটা জাতি আজ গভীর
শোক ও বেদনায় আচ্ছন্ন। তাঁর ইন্তেকালে আমরা এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছি। দেশের গণতান্ত্রিক
রাজনীতিতে তাঁর অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন


জাহিদুল ইসলাম, হাইমচর প্রতিনিধিঃ
ঘন কুয়াশায় চাঁদপুরের হাইমচরে ভোলা থেকে ঢাকাগামী দুটি লঞ্চের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টায় চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় চরভৈরবী এলাকায় মেঘনা নদীতে লঞ্চ এমভি সুরভী-৮ লঞ্চের সঙ্গে ভোলা টিপু- ১৪ লঞ্চের সংঘর্ষ ঘটে।
এ ঘটনায় সোহেল নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের ওসমান আলি ফরাজি বাড়ির বাসিন্দা সেলিম ফরাজির ছেলে।
এম.ভি সুরভী-৮ লঞ্চের স্টাফ রাসেল বলেন, কাল রাতে টিপু-১৪ লঞ্চটি আমাদের লঞ্চকে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চটির কেবিনে পেছনের অংশ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় আমাদের লঞ্চে থাকা সোহেল নামে এক ব্যক্তি আহত হন। পরে তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে হাইমচরের নীলকমল নৌ পুলিশ ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, ৯৯৯ নাম্বারে এম.ভি সুরভী-৮ লঞ্চ থেকে আমাদের ফোন করা হয়। একটি অজ্ঞাতনামা লঞ্চ তাদের লঞ্চটি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়া জন্য তাদের ফোন করলে তারা জানায় এম.ভি সুরভী-৮ লঞ্চটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায়। তবে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি আমার জানা নাই।
চাঁদপুর উপপরিচালক সাহাদাত হোসেন আরও জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশায় নৌযান পরিচালনা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে নৌযান পরিচালনা করছেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
ভোলা বন্দর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, কাল সন্ধ্যা ৬টা সদর ঘাট থেকে ছেড়ে আসে টিপু-১৪ লঞ্চটি। রাত সাড়ে ১০টায় ভোলা ছাড়ে ঢাকাগামী লঞ্চ এমভি সুরভী-৮। চাঁদপুরের হাইমচরে টিপু-১৪ লঞ্চটি সুরভী-৮ লঞ্চটিকে ধাক্কায় দেয়। এ ঘটনায় এক যাত্রী আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। সুরভী-৮ লঞ্চটি এবং নিহত সোহেলে মরদেহ এখন সদর ঘাটে আছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ( ২২ জানুয়ারি ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন


কৌশলের
নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ কখনো বিএনপি ধরেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক
রহমান।
শনিবার
(১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারের
সদস্যদের নিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর
উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক
রহমান বলেন, “ষড়যন্ত্র করে কেউ বিএনপিকে দমন করে রাখতে পারবে না। সম্প্রতি নির্বাচন
কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা দেখেছি, কিন্তু রাজনেতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে
চাইব।
ফ্যাসিবাদী
আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া সব মামলাকে রাজনৈতিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “যারাই বিগত সময় নানাভাবে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন,
তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। আর গুম-খুন ও নানা নির্যাতনের পরও বিএনপির নেতাকর্মীরা
রাজপথ ছেড়ে যায়নি।”
তিনি
বলেন, “আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার করা হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মীকে হতে
হয়েছে গুমের শিকার।
তাদের
কিছু পরিবার এখানে আছে। ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড়
লক্ষের বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার বোঝা ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীকে বহন করতে
হয়েছে। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছেড়ে থাকতে হয়েছে।
তাদের
বিরুদ্ধে মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
যে
দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অকুতোভয় ভূমিকা রাখতে পারে, সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
বা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ কখনো দমন করতে পারবে না জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “কৌশলের
নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ কখনো বিএনপি ধরেনি।”
মন্তব্য করুন


সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি
আজ (১ অক্টোবর ২০২৪) ইসিবি চত্ত্বরে ঢাকা জেলার জন্য স্থাপিত মেডিকেল ডিসপেনসারিতে
উপস্থিত হয়ে ভিডিও টেলি কনফারেন্স (ভিটিসি) এর মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নতুন
করে স্থাপিত আরও ৩০টি মেডিকেল ডিসপেনসারির শুভ উদ্বোধন করেন।
এরপর তিনি অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাথে মতবিনিময়
করেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের
কল্যাণার্থে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড কর্তৃক সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী,
বিমান বাহিনী এবং সেনাকল্যাণ সংস্থার অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩১টি মেডিকেল
ডিসপেনসারি পরিচালিত হচ্ছে।
আজ আরও ৩০টি নতুন মেডিকেল ডিসপেনসারির কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে দেশের ৬১টি জেলায় অবসরপ্রাপ্ত ১,৫৫,২৬৪ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তদ্বীয় পরিবারবর্গের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির বিষয়টি আরও সহজতর হবে।
উল্লেখ্য, অবশিষ্ট ৩টি জেলায় সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত মেইন ড্রেসিং স্টেশন (এমডিএস) হতে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণ ও তদ্বীয় পরিবারবর্গ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকেন। প্রতিটি জেলায় মেডিকেল ডিসপেনসারি স্থাপনের ফলে তাদের অর্থ ও সময় উভয়ই বাঁচবে এবং দূর-দূরান্ত থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের ঔষধ সংগ্রহের সমস্যাও অনেকাংশে লাঘব হবে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের চিকিৎসা সেবায় সিএমএইচ সমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাইভেট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রেশন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক এ বিষয়ে আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও পরিবারবর্গের জীবনযাত্রার মান বহুলাংশে উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন জেলার বেসামরিক প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ (ভিটিসির মাধ্যমে), সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণ ও তাদের পরিবারবর্গ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বর্তমানে
দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তিনটি উপাদান বিরাজ করছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সীমানাকে রক্ষা করতে পারলে,
বাংলাদেশকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি আর থাকবে না।’
আজ
শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ
‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান
আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তথ্য
মন্ত্রী বলেন, ‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন সেই দূরদর্শী নেতা, যিনি মাওলানা ভাসানীর
ধানের শীষ প্রতীককে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায়
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই ধানের শীষের নেতৃত্ব আজ তারেক রহমানের হাতে।’
তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক প্রতীকী রূপান্তরের পেছনে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৃতিত্ব
মিশে আছে। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেও আজকের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় রাজনীতির
ভিত্তিভূমি তিনিই তৈরি করে দিয়েছিলেন।
জহির
উদ্দিন স্বপন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে
মূর্তমান করার কাজ করছে। আমাদের স্পষ্ট কথা—সবার আগে বাংলাদেশ। এ সময় তিনি আরও বলেন, দিল্লির প্রতি যাদের মোহ রয়েছে
কিংবা পিন্ডির প্রতি যাদের টান রয়েছে, আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’
স্লোগান দিয়ে সেই মোহগ্রস্তদের ঘুম ভাঙাতে চাই। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের
গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘একটি মহল অবাধ নির্বাচনকে বিতর্কিত
ও প্রলম্বিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অনিবার্য অনুষঙ্গ নির্বাচনকে
সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। তিনি আরও বলেন, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা
শুরু হয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় রাজনীতি নতুন করে
প্রাণ ফিরে পেয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদ ছিনতাই করেছিল, শেখ হাসনার শাসনামলে
ভুলন্ঠিত হয়েছিল, আমি-ডামি নির্বাচন, নিশি রাতের নির্বাচন ও এক তরফা নির্বাচনের মধ্য
দিয়ে।
তথ্য
ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন,
‘আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতির যাত্রা শুরু
হয়েছে।’আলোচনা সভায় মন্ত্রী তার বক্তব্যে ৭৫-এর পটপরিবর্তনের কথা
উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনের কারণেই সেই ভয়াল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক থেকে শুরু করে বিচারপতি সায়েম সাহেব পর্যন্ত
যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, সিপাহী-জনতা শহীদ জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মাধ্যমেই সেই
নৈরাজ্য থেকে জাতিকে উদ্ধার করেছিল। এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার
মতো নেতারা সেদিন শহীদ জিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো জন্ম
নিয়ে সংসদে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল।
বিশিষ্ট
ছড়াকার আবু সালেহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা
হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।
এ
ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে এতে বক্তব্য রাখেন— গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী
জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার
বকত ও রাজনীতিবিদ রিটা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন