

আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহেরের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেছেন। জামায়াতের এ প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছি। জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমরা বলেছি- এখন প্রয়োজন এটাকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করা। এই সনদে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে আগেই পাশ করিয়ে তার ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না হলে- তাহলে তো আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ উনি বলেছেন, ‘আমি এটা বাস্তবায়নের যথাযথ উদ্যোগ নেব।’
আমরা আরও বলেছি, একটা আদেশের মাধ্যমে এটাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে। ‘এটা কনস্টিটিউশন (সংবিধান) নয়। এটা হচ্ছে এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অ্যারেঞ্জমেন্ট; যেটা কোনো সরকার এরকম একটা পরিস্থিতিতে পড়লে দেয়ার এখতিয়ার রাখে। উনি আমাদের সাথে একমত হয়েছেন যে, একটা আদেশের মাধ্যমেই এটা হবে। সকলেই এ পরামর্শ দিয়েছেন যে, একটি আদেশের মাধ্যমে এটাকে বৈধতা দিতে হবে। আর সেই আদেশের উপরই গণভোট হবে। আমরা এটা ক্লিয়ারলি বলেছি।
জুলাই সনদের বিষয়ে অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের বলেন, অধ্যাদেশ খুব দুর্বল। এগুলোর সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার মতো স্ট্রেংথ (ক্ষমতা) অধ্যাদেশে নেই। কিন্তু আদেশ ইজ ইকুইভেলেন্ট (সমান) টু সাংবিধানিক পরিবর্তন পাওয়ার (ক্ষমতা) এবং অথরিটির দিক থেকে। আমরা আমাদের এক্সপার্ট কমিটির সঙ্গে বসেছি। আমাদের এক্সপার্ট কমিটি আবার ঐকমত্য কমিশনের এক্সপার্ট কমিটির সঙ্গে বসেছে। সবাই এই পরামর্শ দিয়েছেন যে একটি আদেশের মাধ্যম এটাকে বৈধতা দিতে হবে। আর সেই আদেশের ওপরেই গণভোট হবে। আমরা এটা ক্লিয়ারলি (পরিষ্কার) বলে আসছি। উনি আমাদের কথায় রাজি হয়েছেন বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি সেদিকেই যাবেন।
দ্বিতীয় কথা হলো- গণভোটের ব্যাপারে বিএনপি কোনভাবেই প্রথমত রাজী হচ্ছিল না। আমরা এটার উপর জোর দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত বিএনপি গণভোটে রাজী হয়েছে। আমরা বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাই। তারপরে বিএনপি একটা জটিলতা তৈরী করার চেষ্টা করছে। সেটা হলো গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন একদিনে হতে হবে। দু’টো একেবারে আলাদা জিনিস। একটা হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে দেশে কিভাবে সরকার চালাবে সেটার সিদ্ধান্ত। আর গণভোট হচ্ছে, আমাদের কতগুলো রিফর্মস; তাহলো কিভাবে সরকার পরিচালিত হবে, কিভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা থাকবে এসব মৌলিক বিষয়। এর সাথে জাতীয় নির্বাচনের কোন রিলেশন নেই। সেজন্য আমরা বলেছি গণভোটের মাধ্যমে রিফর্মস গুলো পাশ করাতে হবে। জনগণ যদি হ্যাঁ বলে পাশ হয়ে গেলো। জনগণ যদি না বলে পাশ হবে না। আর যদি হ্যাঁ হয় এর ভিত্তিতে নির্বাচন দিতে হবে। এটা যদি না হয় এটাকে মাইনাস করে নির্বাচন হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে দু’টি গণভোট হয়েছে, একটি হয়েছে ১৭ দিনের ব্যবধানে, আরেকটি হয়েছে ২১ দিনের ব্যবধানে। আমরা বলেছি, নভেম্বরের শেষে দিকে গণভোট করার জন্য। তারপরে আরও আড়াই মাস থাকবে জাতীয় নির্বাচনের জন্য। সুতরাং এখানে সময়ের কোন সমস্যা নেই।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় জটিলতা হলো নোট অব ডিসেন্ট বা পয়েন্ট অব ডিসেন্ট। আমরা ৩১টি দলের সঙ্গে আলোচনা করেছি, যার মধ্যে ২৯টি দল প্রায় একমত হয়েছে- সেটাই মূল সিদ্ধান্ত। এখন যদি দুইটি দল বলে যে তারা মানছে না, তাহলে সেটি সিদ্ধান্ত বাতিল নয়; বরং এটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত বা নোট অব ডিসেন্ট। এক-দুটি দলের অমতকে কেন্দ্র করে রেফারেন্ডাম ডাকা বা নতুন সিদ্ধান্তের দাবি করা ঠিক নয়। এসবই অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরির প্রক্রিয়া, যেটি এড়িয়ে আমরা সঠিক পথে এগিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং জনগণের অংশাগ্রহণমূলক নির্বাচন আমাদের জন্য জরুরি। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা জটিলতা তৈরি করছে। এজন্য কোন ধরনের জটিলতা তৈরী না করে আমরা সবাই মিলে যেন ফেব্রুয়ারিত একটি আনন্দমুখর পরিবেশে নির্বাচনে যেতে পারি, সেইভাবে আচরণ করার জন্য আমি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


শিগগিরই
স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার
আব্দুর রহমানেল মাছউদ। আজ রবিবার (১ মার্চ) রিপোটার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি
(আরএফইডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা জানান।
নির্বাচন
কমিশনার মাছউদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন শিগগিরই হবে। রমজানের পরেই স্থানীয় সরকার
পর্যায়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে।
একরে
পর এক বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে এবং এটি সারা বছর ধরে চলতে থাকবে।’
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ভালো হয়েছে। তবে
ভালোর ডিগ্রি নেই। আরো ভালো করা যায় কি না; আমাদের নিজস্ব ঘাটতি ছিল কি না, কমিশন সেই
বিষয়ে ভাবছে, কাজ করছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল
আলম বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে
সবচাইতে ভালো নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে- বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র
ফিরে আসে। এজন্য একটি ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবধরনের
পদক্ষেপ নিয়েছে।
আজ শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে খুলনা জেলা
প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে খুলনার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শফিকুল আলম এসব কথা
বলেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, খুলনার
দিকে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট দৃষ্টি রয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এর ফলাফল দেখা যাচ্ছে
না। তবে, আগামীতে ভালো ফলাফল দেখা যাবে। বিগত আওয়ামী সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে
গেছে। যে কারণে খুলনার জুট ও চিংড়ি সেক্টরে প্রত্যাশিত গ্রোথ হয়নি। বরং জুট মিলগুলো
যেভাবে বন্ধ করেছে তা নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তবে, খুলনায় একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমান সরকার খুলনার একটিসহ দেশের তিনটি জুট মিলের
স্কুল সরকারি করেছে। দেশের প্রত্যেকটা জুট মিলের স্কুল সরকারি করা হবে বলেও তিনি জানান।
মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক একটি ইকোনমিক
জোন গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এজন্য প্রাইভেট
সেক্টরকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা চীন সফরকালে এ
বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
আগামী দশক খুলনার জন্য গ্রোথের দশক
হবে উল্লেখ করে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, খুলনা আবার ঘুরে দাঁড়াবে, পুরনো গৌরব ফিরে
পাবে।
খুলনা অঞ্চলের উপকূলের বেড়িবাঁধ রক্ষা
এবং ভবদহ নিয়েও সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সাতক্ষীরার
শ্যামনগর ও গাবুরায় স্থাপনকৃত সুপেয় পানির প্রজেক্ট বাড়িয়ে সকল উপকূলীয় এলাকায় চালুর
উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের
জন্যও একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
খুলনা অঞ্চলে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ
না থাকা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, গ্যাস ছাড়াও অনেক
কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে খুলনায় জুতা এবং ব্যাটারি সেক্টর অনেক সম্ভাবনা
তৈরি করেছে। সুতরাং গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে দক্ষ শ্রমিক দিয়ে কিভাবে কর্মসংস্থান
বৃদ্ধি করা যায় সরকার সেদিকে জোর দিচ্ছে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্চ কমিটির মাধ্যমে
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ভিসি নিয়োগ দিয়ে সমস্যার সমাধানের
উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
খুলনাসহ দেশের সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতির
উন্নতির কথা উল্লেখ করে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, যারা ক্রাইম করবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো
টলারেন্স রয়েছে।
শফিকুল আলম সরকারের মৌলিক সংস্কারের
প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে।
একই সঙ্গে সুশাসনও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
মন্তব্য করুন


উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত রিকশাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ রোববার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, উচ্চ আদালত থেকে একটি ভালো নির্দেশনা আসবে বলে আশা করছি। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করব।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ
মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা
জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ
তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান
জানিয়েছেন।
শুক্রবার
নিউইয়র্কে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আগামী
বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান
জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
গুতেরেস
সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে, উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ
বজায় রাখার আহ্বান জানান। এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক
এ হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাদির
মৃত্যুর ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
জেনেভা
থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা কেবল বিভাজন
আরো গভীর করবে এবং সবার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে। একইসঙ্গে তিনি এ ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি
নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লৎস এর সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপি’র সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। রাজধানীর প্রগতি সরণীতে অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে এনসিপি’র এক প্রতিনিধি দল আতিথেয়তা গ্রহণ করে।
এনসিপি’র পক্ষ থেকে যুগ্ম আহবায়ক ও পররাষ্ট্র সেল প্রধান সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসিন রিয়াজ ও সাইফ মোস্তাফিজ, এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্।
রাষ্ট্রদূত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি, আগামী নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ নিয়ে এনসিপি’র পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। এনসিপি নেতৃবৃন্দ তাদের নতুন বাংলাদেশের ২৪ দফা ইশতেহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দুই পক্ষই জার্মানি-বাংলাদেশ এর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার ব্যাপারে একমত হন। এছাড়াও জার্মানিতে পড়াশুনা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার ব্যাপারে এনসিপি নেতৃবৃন্দ অনুরোধ করেন।
মন্তব্য করুন


জাতির
উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এ ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো
হয়েছে।
এতে
বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আজ সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে
ভাষণ দেবেন।
১২
ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম সাধারণ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোটকে সামনে
রেখে এই ভাষণ প্রদান করা হবে। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার
করা হবে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ আজ শেষ হচ্ছে।
নির্বাচন
কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে
বলেন, আজ রোববার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে সারা দেশে কতগুলো মনোনয়নপত্র বৈধ এবং কতগুলো
বাতিল হয়েছে তা প্রকাশ করা হবে।
এ
বিষয়ে ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের
মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই চলবে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের
বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ কোন প্রার্থী বা কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোন সরকারি
সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা প্রার্থী কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি
নির্বাচন কমিশনে আগামী ৫ জানুয়ারি হতে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫ টা পর্যন্ত আপিল দায়ের করতে
পারবেন। সেক্ষেত্রে নিম্নরূপভাবে আপিল দায়ের করতে হবে।
মনোনয়নপত্র
গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল: আপিল আবেদন কমিশন সচিবালয়ের সচিবের নিকট নির্ধারিত
ফরমেটে দায়ের করতে হবে।
আপিল
দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র
বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।
আপিল
আবেদনের ১টি মূলকপিসহ সর্বমোট ৭ টি কপি দাখিল করতে হবে।
আপিল
আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত
বুথে জমা দিতে হবে।
আপিল
আবেদন ৫ জানুয়ারি হতে ৯ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে দাখিল করতে হবে।
আপিল
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপি প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত ফরম-এ আবেদন দাখিল করতে
হবে। উক্ত ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ হতে সংগ্রহ
করা যাবে।
আপিল
দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে
পারবেন।
আপিল
নিষ্পত্তি: মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আপিলসমূহ নির্বাচন
কমিশন আগামী ১০ জানুয়ারি হতে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে।
নির্বাচনী
আচরণ বিধি অনুসরণ: সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী
বা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি এবং সরকারী সুবিধাভোগী অতি
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’
অনুসরণ করতে হবে।'
মন্তব্য করুন


সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন
বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে
রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাটে আছড়ে পড়েছে অগণিত
জনতার ঢেউ। মানিক মিয়া
অ্যাভিনিউ রূপ নিয়েছে জনসমুদ্রে।যতদূর
চোখ যায়, চারদিকে শুধু
মানুষ আর মানুষ।
জাতীয়
সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ
প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সকাল
থেকেই সমবেত হতে থাকেন শোকাহত
মানুষেরা।
মানিক
মিয়া অ্যাভিনিউ ঘুরে দ্য ডেইলি
স্টারের সংবাদদাতা জানান, দিনের শুরুতেই মানুষের সারি তৈরি হতে
থাকে এবং সময় গড়ানোর
সঙ্গে সঙ্গে তা আরও দীর্ঘ
হয়।
ধানমন্ডি
৩২ নম্বর এলাকা থেকে শোকাহত মানুষের
লাইন আসাদ গেট পেরিয়ে
কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। প্রধান সড়কের
সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাস্তা ও গলিপথে মানুষ
ধৈর্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকের হাতে ছিল দলীয়
পতাকা ও প্ল্যাকার্ড, আবার
অনেকেই নীরবে দোয়া করছিলেন।
জনসমাগম
কেবল সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন
এলাকায় মানুষকে উড়াল সড়কের ওপর
এবং আশপাশের ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে জানাজার
কার্যক্রম একনজর দেখার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
বিএনপি
সমর্থকদের পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দলের
সঙ্গে যুক্ত নন, এমন সাধারণ
নাগরিকদেরও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ব্যাপক প্রভাবের প্রতিফলন। বয়স্ক মানুষ, নারী ও তরুণ—সব বয়সের মানুষই
উপস্থিত ছিলেন; অনেককেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত দেখা
যায়।
এই অভূতপূর্ব জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল স্বাভাবিক
রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন
করা হয়। আশপাশের সড়কে
যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা
এড়াতে কর্তৃপক্ষ সবাইকে শান্ত থাকার এবং নির্দেশনা মেনে
চলার আহ্বান জানায়।
অনেক
শোকাহত মানুষ খালেদা জিয়াকে দেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস গড়ে দেওয়া এক
প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।আসাদ গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা
এক ব্যক্তি বলেন, 'খালেদা জিয়া শুধু একটি
দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন
এ দেশের সব মানুষের নেত্রী।'
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
বাংলাদেশকে এখনই পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে হবে,
যাতে দেশ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান
কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা
বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু
ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল
থাকার সামর্থ্য রাখে না। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে গুরুত্ব সহকারে বিকল্প পরিচ্ছন্ন
জ্বালানি বিবেচনা করার, যার মধ্যে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অন্যতম।
গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ
পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং হাইব্রিড সিস্টেমে অগ্রগতির কথা উল্লেখ
করেন, যা নির্ভরযোগ্য, শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো
সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতকে কয়েক দশক
ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
পেজ বলেন, পারমাণবিক শক্তি আজ আর বিশ্বব্যাংকের মতো
বড় উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে নিষিদ্ধ বিষয় নয়। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ইতোমধ্যেই
তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে এ প্রযুক্তি গ্রহণ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ভাবনে বাংলাদেশের শক্তিশালী
রেকর্ড রয়েছে। তাই দেশটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে পারে। এর সুফল
হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা
বৃদ্ধি।
পেজ আরও বলেন, বাংলাদেশ উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য
একটি কৌশলগত কেন্দ্র এবং পারমাণবিক উদ্ভাবনে শান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ
হতে পারে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি
একটি নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে। এতে সৌর জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোকে
অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক বিকল্প নিয়ে যেকোনো
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কঠোর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য।
তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এসব সুযোগ অনুসন্ধান করব।
তবে প্রতিশ্রুতিশীল এসব প্রযুক্তি নিয়ে গভীর গবেষণা দরকার। কোনো সন্দেহ নেই—বাংলাদেশকে
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত হ্রাস করতেই হবে।
উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সরকারের
সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
মন্তব্য করুন