

১১ দলীয় জোটের
প্রার্থীদের দেশ ও জাতির মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ
মাহমুদ। তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক নয়, বরং কোন প্রার্থী ও কোন জোট দেশকে মুক্তির
পথে এগিয়ে নিতে পারবে সেটিই বিবেচ্য হওয়া উচিত।
আজ সোমবার দুপুরে
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা সদরে এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে
তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ
বলেন, ইতোমধ্যে ৩০০
আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “কার কী
মার্কা তা দেখার সময় নেই। দেশ ও জাতির মুক্তি যে প্রার্থী এনে দিতে পারবে, চোখ বন্ধ
করে তাকেই ভোট দিতে হবে। এই ভোটের মাধ্যমেই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাধীনতা
ও মুক্তি নিশ্চিত হবে।”
বোয়ালখালী আসনে
শাপলাকলি প্রতীকের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্বের
পথে এগিয়ে যাবে।
গণভোট প্রসঙ্গে
আসিফ মাহমুদ বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন সংস্কারের কথা বললেও বাস্তব সময় এলে
তারা নীরব থাকে। আমরা শুধু নির্বাচনের জন্য ভোট চাইছি না। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’
ভোট শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সুফল বয়ে আনবে।”
তিনি আরও বলেন,
পরাজিত ও নতুনভাবে মাথাচাড়া দেওয়া ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো গণভোটে ‘না’ ভোটকে জয়যুক্ত
করতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। “৫ আগস্ট যেভাবে তাদের প্রতিহত করা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট
বিপ্লবের মাধ্যমেও সেই অপচেষ্টা নস্যাৎ করা হবে,” বলেন তিনি।
সমাবেশে আরও
উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, এনসিপির চট্টগ্রাম
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক মো. জোবাইরুল
হাসান আরিফ।
এর আগে সকালে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ইশমামুল হকের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে
এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন।
এ সময় কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ মোল্লা টিপু , সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিব ও কুমিল্লার তরুণ বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজী ইয়াছিনকে বিএনপির ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আপনার নেতৃত্বে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রত্যেক প্রার্থী যেন বিজয়ী হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজী ইয়াছিনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সব কয়টি সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ কথা নিশ্চিত করেন।
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রোজায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন ।
আজ মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু করেন আইনজীবীরা।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এ এম) আমিন উদ্দিন। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ।
গত ১০ মার্চ পবিত্র রমজানে বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ পরের দিন সোমবার (১১ মার্চ) স্থগিত হয়নি। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এই আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি শুরু হয়।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মোহাম্মদ ইসহাক দার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আজ রোববার (২৪ আগস্ট) বৈঠকে দুই নেতা
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান
বৃদ্ধি, তরুণ প্রজন্মের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সার্কের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবনের
ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপপ্রধানমন্ত্রী দার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
মোহাম্মদ শেহবাজ শরিফের শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আন্তরিক
শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসও উষ্ণ শুভেচ্ছা
জানিয়ে শরিফের সঙ্গে অতীতে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বার আমাদের
সাক্ষাতে সার্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন, সার্ক আমাদের উভয়ের
কাছেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
ইসহাক দার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির
সুযোগ তুলে ধরে বলেন, আমাদের দুই অর্থনীতি পরিপূরক। বহু ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ
করতে পারি। তিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও কমিউনিটি ভিত্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে অধ্যাপক
ইউনূসের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সৌভাগ্যবান যে, আপনার মতো একজন সরকারপ্রধান
রয়েছে— আপনি এমন একজন নেতা যিনি বিশ্বকে অনুপ্রাণিত
করেন।
সফরকালে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি উপদেষ্টাসহ কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আহ্বান
জানিয়ে বলেন, আমি সার্ককে উৎসাহিত করি এবং পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের
সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি হিসেবে দেখি।
তিনি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে
ধরে বলেন, যখন পাকিস্তানি শিল্পীরা বাংলাদেশে গান পরিবেশনা করেন, সবাই তাদের প্রশংসা
করে। এই চেতনার ওপরই আমাদের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা পাকিস্তানের
কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসহাক দার। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে নৌ ও বিমান যোগাযোগ
উন্নত করার প্রচেষ্টা চলছে।
ইসহাক দার বলেন, অক্টোবরের মধ্যে ফ্লাই
জিন্নাহ ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া পিআইএও বেসরকারিকরণের
পর ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে।
বৈঠকে উভয় নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন
যে, বাণিজ্য বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়াকে আরও স্থিতিশীল
ও সমৃদ্ধ করবে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক
বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
(সূত্র- বাসস)
মন্তব্য করুন


ঢাক-ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে বাংলা নববর্ষ বরণে অনুষ্ঠিত হলো আজ শোভাযাত্রা। সকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ডিএমপি কমিশনার শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
এর
আগে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রায়
প্রদর্শনীর জন্য বিভিন্ন মুখোশ, পেঁচা, ঘোড়া, মূর্তি, ট্যাপা পুতুল, নকশি পাখি, বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হয়।
আজ
মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমরা তো তিমিরবিনাশী।তার সাথে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার ৩৫ বছর পূর্তি হলো ।
চারুকলা অনুষদের
উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা
১৯৮৯ সালে । বাঙালি এ উৎসব
সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। এরপর থেকে বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে ।
ইউনেস্কোর
বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে ২০১৬
সালের ৩০ নভেম্বর এ
শোভাযাত্রা।
মন্তব্য করুন


দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জান-মাল ও
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার
লক্ষ্যে দেশব্যাপী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ (২৯ অক্টোবর) আনুমানিক ৪ টার
সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা
করে ঝিলপাড় বস্তি, হাজী রোড, মিরপুর-২ এলাকা হতে অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও
চাঁদাবাজ মোঃ মাসুম বিল্লাহ (৩২), মোঃ শাকিল আহমেদ (৩০) এবং মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান
সনেট (২৮) কে আটক করা হয়। এই অভিযানে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে দুই রাউন্ড ৯ মিঃ মিঃ
পিস্তলের এ্যামোনিশন এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান
পরিচালনা করে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদেরকে আটক করা হয়।
জানা যায়, এদের বিরুদ্ধে গত ৪-৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের উপর আক্রমনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, বর্ণিত সন্ত্রাসীরা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। যৌথ অভিযানে এসব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরবর্তীতে আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য আটককৃত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদেরকে শাহ আলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনের আগে গ্রাহক প্রতি মোবাইল সিমের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৫তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী একজন মোবাইল গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নিবন্ধন করতে পারেন।
তিনি বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবরের পর এনআইডির বিপরীতে মোবাইল গ্রাহক প্রতি সিম নিবন্ধনের সংখ্যা ১০টিতে নামিয়ে আনা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গ্রাহক প্রতি সিমের সংখ্যা আরো কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, একজনের সিমকার্ড ব্যবহার করে অন্যজন অপরাধ করে। এতে করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তি অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এজন্য ব্যক্তি পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন করা সিমকার্ড কমিয়ে আনা হবে। কোনো ঘটনা ঘটার পর দেখা যায় সিমটি সেই ব্যক্তির নয়। সেজন্য নির্বাচনের আগে সিমকার্ডের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আপত্তি আসে নাই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আগেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোতে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি এ সময় নির্বাচন সুষ্ঠু ও ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব “নাসিমুল গনি “, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই
সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার
(১৪ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব
পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি একথা বলেন।
এসময়
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবরের বন্যা ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি
ছড়ানো হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিতে
অটল।
অন্তর্বর্তী
সরকার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর
করবে।
‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত
১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়,’ বলেন
প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।
নির্বাচনের
সময় অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ
নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে প্রধান উপদেষ্টা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের
সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ
মর্স ট্যান নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সফর করছেন।
প্রায়
এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও সফররত কূটনীতিকরা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান
ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে
লক্ষ্য করে ছড়ানো ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনে’র সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
জনগণের
সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের
কোনো সুযোগ রাখবে না।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির
উদ্দেশ্যে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন সচেতন। ক্রমেই তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।
সাবেক
আন্ডার সেক্রেটারি গোম্বিস একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ‘প্রধান
শত্রুদের একটি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো
প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে।
দুই
কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য
প্রশংসা করেন।
তারা
জানতে চান, বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন
উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার একজন বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ
অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছিলেন। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী
তাদের অপরাধ অস্বীকার করে যাওয়ায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সে ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণের
সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
তিনি
বলেন, ‘সময় এখনো উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই
সম্ভব, যখন কেউ স্বীকার করে যে সে ভুল করেছে, নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়, অনুশোচনা
প্রকাশ করে।’
‘কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো অনুশোচনা
নেই, কোনো অনুতাপ নেই। বরং তারা দাবি করছে যে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা সন্ত্রাসীদের
হাতে নিহত হয়েছে। তাদের অপরাধের বিপুল পরিমাণে প্রমাণ রয়েছে। তারা যা করেছে তা সম্পূর্ণ
বর্বরোচিত অপরাধ, তবু তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানেই রয়েছে।’
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা কর্তৃক চাঁদপুর জেলার সদর থানাধীন তর্পচন্ডী এলাকা থেকে পাসপোর্ট দালাল চক্রের মূলহোতা মোঃ ইয়াসিন (২২) সহ ১৬ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দেশের প্রচলিত নিয়ম, নীতি অনুসরণ করে পাসপোর্ট প্রাপ্তি সকল নাগরিকের অধিকার। তবে অধিকাংশ সময়ে অসংখ্য ভুক্তভোগী দালাল চক্রের সদস্যকে পাসপোর্ট করতে দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার পরেও যথাসময়ে পাসপোর্ট পায়নি মর্মে আমাদের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেন। এসকল অভিযোগ সমূহের সত্যতা যাচাই পূর্বক র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি টিম ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং দালাল চক্রকে হাতেনাতে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে।
গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ২৩ জুন ২০২৪ইং তারিখ দুপুরে চাঁদপুর জেলার সদর থানাধীন তর্পচন্ডী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে পাসপোর্ট দালাল চক্রের মূলহোতা সহ ১৬ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পাসপোর্ট দালাল চক্রের আসামীদেরকে গ্রেফতারকালে তাদের হেফাজত হতে ১৮৩ টি ডেলিভারি স্লীপ, ০৮ টি মোবাইল ও নগদ ৪৫,২০০/- টাকা’সহ পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো: ১। মোঃ ইয়াসিন (২২), পিতা-ইলিয়াস, সাং-বিমলের গা, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ২। মোঃ মামুন (৩৭), পিতা-হাতেম আলী, সাং-তর্পচন্ডী, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ৩। মুনকার আহমেদ রাজ (২২), পিতা- মনির হোসেন, সাং-সুবিদপুুর, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ৪। মোঃ তানভীর (২৩), পিতা-হাফেজ, সাং-পালতালুক, থানা-ফরিদগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর; ৫। মোবারক গাজী (৪০), পিতা-ছিটু গাজী, সাং-তর্পচন্ডী, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ৬। মোঃ রবিউল আলম (২৮), পিতা-মিজানুর রহমান গাজী, সাং-মধ্য তর্পচন্ডী, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ৭। মোঃ শরিফ হোসেন (৩৭), পিতা-মোঃ মুসলিম গাজী, সাং-মির্জাপুর, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ৮। মোঃ শাওন (২২), পিতা-মোঃ শাহজাহান প্রধানিয়া, সাং-উত্তর পাইক আচড়া, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ৯। মোঃ নুরুল ইসলাম মজুমদার (২৬), পিতা-মৃত আব্দুল বারেক মজুমদার, সাং-সহেদি পাঁচগাও, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ১০। মোঃ অমিত হাসান (২৮), পিতা-তাজুল ইসলাম, সাং-মধ্য তর্পচন্ডী, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ১১। মোঃ তোফাজ্জল দেওয়ান (৫৫), পিতা-কাশেম আলী দেওয়ান, সাং-দক্ষিণ তর্পচন্ডী, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ১২। মোঃ সেলিম (৪০), পিতা-মৃত সিরাজ মিজি, সাং-মধ্য তর্পচন্ডী, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ১৩। রানা (৩৭), পিতা-ইব্রাহিম, সাং-মৈশাদি মির্জাপুর, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ১৪। সাজ্জাদ (১৯), পিতা-শাহজাহান গাজী, সাং-মৈশাদি মির্জাপুর, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর; ১৫। মোঃ তামিম হোসেন (২৩), পিতা-মোঃ ইমরান মিজি, সাং-মৈশাদি পালকান্দি, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর এবং ১৬। আরমান হোসেন (৩০), পিতা-সাত্তার পাটোয়ারী, সাং-বিশকাটালী, পোঃ রামপুর বাজার, থানা-হাজীগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে গ্রেফতারকৃত আসামীরা সকলেই পাসপোর্ট দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পাসপোর্ট তৈরী করে দেওয়ার নাম করে ভূক্তভোগী লোকজনের নিকট থেকে সরকার নির্ধারিত রেট এর অধিক বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল বলে স্বীকার করে। মূলতঃ তারা সাধারণ মানুষকে সহজভাবে পাসপোর্ট তৈরী করার নাম করে বিভিন্ন এজেন্টের নিকট নিয়ে আসে। এই এজেন্ট গ্রুপ ভুক্তভোগীদের অনলাইন আবেদন ও ব্যাংক ড্রাফট করে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুতসময়ে পাসপোর্ট দিবে বলে ডেলিভারী স্লীপ নিজেদের নিকট রেখে দেয় এবং বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পাসপোর্ট ডেলিভারী করার নির্দিষ্ট তারিখ নিধারণ করে। এভাবেই তাদের কাছে টাকা জমা দিলে তারা বিভিন্নভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জালিয়াতি মাধ্যমে প্রস্তুত করে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করে আসছিল বলে মর্মে জানায়।
উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলার সদর থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আজ রোববার থেকে
সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে।
ভোটের
আগে চারদিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুইদিনসহ মোট সাতদিন তারা দায়িত্ব পালন করবে। এ
হিসেবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।
নির্বাচন
কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসস’কে জানান, রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে, তবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে
মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ভোটের চারদিন আগে, ভোটের দিন ও পরবর্তী দুইদিন মিলিয়ে
মোট সাতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।
ভোটের
পরিবেশ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা
মনেকরি নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে।’
নির্বাচনের
প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স জেলায়
জেলায় পাঠানো হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই এখন
ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’
এ
বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাতদিন দায়িত্ব
পালন করবে এবং আনসার বাহিনী থাকবে আটদিন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী অলরেডি মাঠে রয়েছে।
ইসি
সচিব জানান, ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন
(ডেপ্লয়েড) থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি
এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মাঠে রাখা হবে। এছাড়া ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড
এডজুডিকেশন কমিটি ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে।
ইসি
সচিব আরও জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ভোট গ্রহণের
৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় বন্ধ হবে।
এর
আগে গত ২২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি
বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। অতীতের
নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও
এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য
থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া,
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাদের
মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ,
নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন, যা একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।’
এজন্য
নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা
ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও
নির্বাচনে সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই ধাপে
বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম ধাপে যারা বর্তমানে মোতায়েন আছেন, তারা দায়িত্বে থাকবেন।
দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে চোখের যত্ন ও পরিষেবা সম্প্রসারণের জন্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সাথে কাজ ও সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের
প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেরেক হডকির সাথে এক বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে চোখের যত্নের সেবা
সম্প্রসারণ করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে আরা অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।
আজ শুক্রবার (২২
নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হড, অরবিস ফ্লাইং আই হাসপাতালের প্রশিক্ষণ
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডেরেক বাংলাদেশ সফর করছেন। এখন চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ চলছে। ডেরেকে
গত বুধবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীতে অধ্যাপক ইউনূসের সাথে তার কার্যালয়ে দেখা করেন।
অরবিস বাংলাদেশের
কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মুনির আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতের সময় ডেরেকের সাথে
ছিলেন। অরবিস প্রেসিডেন্ট প্রধান উপদেষ্টাকে ফ্লাইং আই হাসপাতালের একটি মডেল সংস্করণ
উপস্থাপন করেন। অধ্যাপক ইউনূস এটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ডেরেক অরবিস ইন্টারন্যাশনালের
কাজ সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবিহিত করেন। অরবিস ১৯৮২ সালে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি-সংরক্ষণ
কর্মসূচি শুরু করেছিল। অরবিস গত ৩৯ বছর ধরে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের
সাথে কাজ করছে।
ডেরেক বলেন, এই সময়ের
মধ্যে, অরবিস এ পর্যন্ত কমিউনিটি আউটরিচ ইভেন্টে ৭.৮ মিলিয়নেরও বেশি চোখের স্ক্রীনিং
পরিচালনা করেছে, প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ৪.৫ মিলিয়নেরও বেশি ব্যক্তিকে ওষুধ ও
অপটিক্যাল চিকিৎসা প্রদান করেছে, ২৫৮,০০০টিরও বেশি চোখের সার্জারি করেছে এবং বাংলাদেশের
৪০ হাজারের বেশি লোককে চোখের যত্ন নেয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষিত করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে
চক্ষু স্বাস্থ্য খাতে অরবিসের অবদানের কথা স্বীকার করেন এবং ফ্লাইং আই হাসপাতালের প্রতি
তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অরবিস এখন বাংলাদেশে ১১তম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা
করছে।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি
অরবিসকে ভালোবাসি। আমি ফ্লাইং আই হসপিটালকে ভালোবাসি।’ তিনি উলে¬খ করেন যে, অরবিস বাংলাদেশে
চোখের স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম।
ডেরেক বলেন, অরবিস
ব্যক্তি, পরিবার ও জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করার জন্য বিশ্বব্যাপী ২ শতাধিক দেশ ও ভূখণ্ডে
দৃষ্টি সংরক্ষণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বিশ্বজুড়ে প্রায় এক
বিলিয়ন মানুষ সম্পূর্ণভাবে পরিহারযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা নিয়ে
বসবাস করছে উলে¬খ করে ডেরেক বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অরবিস জোরদার ও টেকসই চোখের
যত্ন ব্যবস্থা নিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে।
অরবিস প্রেসিডেন্ট বলেন, অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকায় বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে এবং প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ করছে।
তিনি বলেন, গত চার
দশক ধরে অরবিস শিশুদের চোখের যত্ন, মাইক্রোসার্জারি, রেটিনাল সার্জারি, কর্নিয়ার রোগ,
প্রিম্যাচুরিটি রেটিনোপ্যাথি এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের
স্থানীয় অংশীদারদের দক্ষতা ও জ্ঞানের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।
ডেরেক এ সময় প্রধান
উপদেষ্টাকে আরো অবিহিত করেন যে, অরবিস সারা দেশে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ৪২টি দৃষ্টি
সেবা কেন্দ্র স্থাপন করে চোখের যত্নের সাথে জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেছে; ১৭টি সেকেন্ডারি
হাসপাতাল, চারটি তৃতীয় হাসপাতাল, দুটি ওয়েট ল্যাব, একটি মানসম্পন্ন রিসোর্স সেন্টার
ও একটি ডিজিটাল ট্রেনিং হাব প্রতিষ্ঠা বা উন্নতিতে সহায়তা করেছে।
মন্তব্য করুন