

জামাল
উদ্দিন (৪৯) নামে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে ফেলে গেছেন স্ত্রী
ও সন্তানেরা। যে স্ত্রী-সন্তানের সুখের জন্য পরিবার ছেড়ে দীর্ঘ ১২ বছর মাথার ঘাম পায়ে
ফেলে প্রবাসে কাটিয়েছেন, সেই স্ত্রী-সন্তানেরাই গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে তাকে রাস্তার
পাশে ফেলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার
দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে রোববার দিনের
বেলায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি সবার নজরে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
করেছে।
জানা
যায়, ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন (৪৯)। তিনি কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাশবাড়ি
দক্ষিণ পাড়া, ইয়ার উদ্দিন মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে জীবিকার
তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে প্রায় ১২ বছর কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়দের
দাবি, প্রবাসজীবনে উপার্জিত টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। কয়েক বছর আগে কিডনি
জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে
ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারে অবহেলার অভিযোগ
ওঠে।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যান
তার স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানেরা। পরে রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মানবেতর অবস্থায়
পড়েন। পরবর্তীতে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে আশ্রয়
দেওয়া হয়।
এ
বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি
জানার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামাল
উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী সোমবার বিকেলে বলেন, আমার ভাইকে আমি অনেক আগেই সাবধান
করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে এলাকার কারও কথা শোনেনি। আজ শুনতে পেলাম,
তার স্ত্রী-সন্তানেরা অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে। এর চাইতে পৃথিবীতে
আর কষ্টের জীবন কী হতে পারে? ছোট ভাই জামাল খুবই অসুস্থ, কোনো কথা বলতে পারে
না।
স্থানীয়রা
অসুস্থ জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
জানিয়েছেন।
এদিকে
অভিযুক্ত স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, আমার স্বামীকে আমি কয়েক মাস আগে ডিভোর্স দিয়েছি।
তার সঙ্গে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাতের বেলায় তিনি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছালেন,
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
ঘটনার
বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা
সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগরে অটোরিকশা চালক মাহবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত দুই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৯ জুন বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা মাহবুব আলম।
রাত ১০টার দিকে তিনি জীবিত অবস্থায় শেষবারের মতো পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ জুন সকালে মুরাদনগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে একই দিন সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উনকী ইউনিয়নের বেলাবাড়ি গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি টিনশেড ঘরের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের মাথা, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাঞ্ছারামপুর বাজার তদন্ত কেন্দ্র ও বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা চলছে।
পরে অভিযান চালিয়ে দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ টিলি এলাকা থেকে মো. নাঈম ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং অপর সহযোগী আয়মান সরকার (২০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মাসুমকে হত্যা করা হয়েছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ সুপার আরও জানায়,গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


নৈতিক
স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার
(২২ জুলাই) বিকালে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়
প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়েছে, ‘আজ ২২ জুলাই (বুধবার) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়
নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মিন্ট রোডস্থ বিরোধীদলীয়
নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান
(এমপি)। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’
এতে
আরও বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন
মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের
৬২নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’
একই
সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত
করার সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা নাশকতা
কিনা তা তদন্তের পর বলা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলায় সড়ক পরিবহন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং
এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের এই আগুন লাগে।
আজ সকাল ৯ টায় উপদেষ্টা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সচিবালয়ে এক সংবাদ
সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সচিবালয়ে আগুনের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ১১
পর্যন্ত হতে পারে। কি হয়েছে তা আমরা দেখবো। পুরোটা সার্চ করার পরে কিছু পাওয়া য়ায় কিনা
আমরা জানাবো। সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলায় আগুন লেগে তা উপরে ছড়িয়ে পড়েছে। আনুমানিক
রাত ১টা ৫০ মিনিটে ৭ নম্বর ভবনের ছয়তলায় আগুন
ধরে। ১টা ৫২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ১টা ৫৪ মিনিট থেকে তারা তাদের কাজ
শুরু করে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন সর্ম্পূণ নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য
পাইপ নিয়ে সচিবালয়ের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় একজন ফায়ার ফাইটারের ট্রাকচাপায় মৃত্যু
হয়।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ
সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


তিস্তাসহ
বিভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একমত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইংয়ের বৈঠকে
এ ঐকমত্য হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
চীনের
রাজধানী বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’-এ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপ-প্রেস
সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা কামনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের
যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকারের চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে পানিসম্পদ
ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
দপ্তর জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে
চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা চান। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইং ইতিবাচক সাড়া দিয়ে
বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিস্তা
মহাপরিকল্পনা হল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা;
যার মূল লক্ষ্য—নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ।
এই
পরিকল্পনার আওতায় নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, খনন ও প্রশস্তকরণ, জলাধার ও ব্যারেজ উন্নয়ন,
এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। তাতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি কমানো
এবং বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
প্রকল্পটি
বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং নদীভাঙন
কমবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়বে।
তবে
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন। উজানে ভারতের পানি
ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশে তিস্তার পানিপ্রবাহ মৌসুমভেদে ব্যাপকভাবে
ওঠানামা করে। ফলে প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর
পানি বণ্টন চুক্তির ওপর।
২০১৬
সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি
সমীক্ষা চালিয়ে এই মহাপরিকল্পনার নকশা চূড়ান্ত করে।
পরে
ভারতও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে এই প্রকল্পে যুক্ত হতে এবং অর্থায়নে প্রবল আগ্রহ
প্রকাশ করে, যার ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্পটি ঝুলে যায়।
২০২৪
সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী
সরকার পুনরায় চীনের অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ২০২৯ সালের মধ্যে
প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
পাঁচ
বছর মেয়াদি প্রথম ধাপের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা (৭৫০ মিলিয়ন
ডলার)। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বা ৫৫০ মিলিয়ন ডলার চীনের কাছে ঋণ হিসেবে
চাওয়া হয়েছে এবং বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হবে।
এ
প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার
প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকার আশা করছে।
২০০৫
সালে সই হওয়া দুই দেশের সমঝোতা স্মারক এবং চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের গত বছরের বাংলাদেশ
সফরের প্রসঙ্গ টেনে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায়
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।
বাংলাদেশের
নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীন সরকারের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
চীনের
পানিসম্পদ মন্ত্রী লি কুওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে
লাগাতে পারে।
বাংলাদেশের
পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং এ খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান
জানান চীনের এ মন্ত্রী।
বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র
বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী
আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ছয়
বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে
গুরুতর আহত এক অভিযুক্তসহ মোট দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার
(২৩ মে) ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটির পাশে দাঁড়াতে এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নিতে থানায়
ছুটে গেছেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার
(২২ মে) বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানার বক্তাবলী এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার
পর শিশুটির মা বিষয়টি বুঝতে পারলেও প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু জানাননি। পরবর্তীতে
রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া
হয়।
সেখানে
তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল
কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং
তার স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) প্রক্রিয়া চলছে। মামলায় অভিযুক্ত দুইজন
হলেন, বক্তাবলীর ওই গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে হিরো এবং জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল।
শুক্রবার
রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ
জনতা রাতেই অভিযুক্ত হিরোকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায়
তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হিরো বর্তমানে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া রাতে
অভিযান চালিয়ে অপর অভিযুক্ত সোহেলকেও আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকালে
ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি
মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই দুইজনকেই আসামি করা হয়েছে।
শনিবার
সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় ভিকটিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে যান জেলা
প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান মুন্সী, এবং
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তারা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন এবং আইনি সহায়তাসহ পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
থানায়
সাক্ষাৎ শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সি গণমাধ্যমকে
বলেন, ছয় বছরের এক মেয়েকে দুজন ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে
এবং অভিযুক্ত দুজনই আমাদের হেফাজতে বা নজরদারিতে (একজন হাসপাতালে ও একজন থানায়) আটক
আছে। যেহেতু এটি একটি শিশু বাচ্চা, আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি।
মেয়েটির মেডিকেল টেস্ট করানোসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলছে।
ফতুল্লা
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুব আলম জানান, পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ
গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


কর্মবিরতির পরে
রাজধানীর সড়কে ট্রাফিকের কাজে ফিরেছে পুলিশ।
বিগত দিনে সারাদেশে বিভিন্ন থানায় হামলা হয়। সেই সাথে পুলিশ সদস্যদের মারধর ও হত্যার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ শূন্য ট্রাফিক সিগন্যাল ও সড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় ছাত্র-জনতা।
সড়কে ট্রাফিক পুলিশ ফিরলেও কিছু কিছু পয়েন্টগুলোতে এখনো দায়িত্ব পালন করছে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ আগস্ট) দেখা যায় রাজধানীর আগারগাঁও, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। অনেক জায়গায় পুলিশের সাথে আছে শিক্ষার্থীরা। আবার কিছু পয়েন্টে এখনোও ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে শুধু শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ঢাকাসহ সারাদেশের থানাগুলো চালুর চেষ্টা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর। ১৫ আগস্টের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের পলাতক দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
মন্তব্য করুন


খাবার,
পানি ও বাতাসের মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন মানুষের
শরীরে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয় কিন্তু দৈনন্দিন
জীবনে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে এ ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। জেনে নিন মাইক্রোপ্লাস্টিকের
ক্ষতি এবং তা থেকে বাঁচার ৭টি কার্যকর উপায় সম্পর্কে।
স্বাস্থ্যবিদরা
বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। নিয়মিত শরীরে প্রবেশ
করলে এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে, ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারে, প্রজনন ক্ষমতা
কমাতে পারে, এমনকি কোষও নষ্ট করে দিতে পারে। কিন্তু মাইক্রাপ্লাস্টিককে শরীরে প্রবেশ
থেকে আটকানো প্রায় অসম্ভব।
পরিবেশবিদরা
বলছেন, এ যুগে মাইক্রোপ্লাস্টিকের শরীরে প্রবেশ অবধারিত। একে পুরোপুরি আটকানো যাবে
না। কারণ, প্লাস্টিক কণা শুধু খাবারের সঙ্গে মিশে নয়, ত্বকের রন্ধ্র এমনকি, শ্বাস প্রশ্বাসের
মাধ্যমেও শরীরে ঢুকতে পারে। তবে কিছু কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে, শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের
প্রবেশ অনেকটাই এড়ানো যেতে পারে।
সব
সময় পানি ফিল্টার করুন
টিউবওয়েলের
পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। তাই পানি সব সময় ফিল্টার করে পার করুন। ফিল্টার
মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণাগুলোকে অনেকটাই ছেঁকে ফেলে।
বাইরের
প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
বাইরে
থেকে কেনা প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। প্লাস্টিকের পাত্র
থেকে খাবারে প্লাস্টিক কণা মেশার সুযোগ থাকে। বিশেষ করে গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে
থাকলে তা থেকে প্লাস্টিক কণা খাবারে মিশে যায়। বাড়িতে রান্না করা খাবার খেলে সেই বিপদ
এড়ানো সম্ভব।
ধাতব
বা কাচের পাত্র ব্যবহার করুন
বাড়িতেও
যেকোনো খাবার রাখার ক্ষেত্রে কাচ বা ধাতব পাত্র ব্যবহার করুন। এগুলো অনেক বেশি নিরাপদ।
কারণ, কাচ বা ধাতব পাত্র খাবারকে দূষিত করে না। কিন্তু প্লাস্টিক কোনোভাবে গরম হলে
বা ভেঙে গেলে খাবারে তা থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারে মিশতে পারে।
ব্যবহার
করা প্লাস্টিক বর্জন করুন
ব্যবহার্য
প্লাস্টিক যেমন-গ্লাস, প্যাকেট, স্ট্র এগুলো থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি ছড়ায়। প্যাকেটজাত
খাবারের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্লাস্টিক বেশি ব্যবহার হয়। প্লাস্টিকের কাঁটা-চামচ, বাটি,
ট্রে ইত্যাদি একবার ব্যবহার করার পর ফেলে দেওয়া উচিত।
পরিবেশবান্ধব
ব্যাগের ব্যবহার
প্লাস্টিক
ব্যাগের ব্যবহার কমাতে পরিবেশবিদরা পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
পরিবেশবান্ধব ব্যাগ, যেমন চট বা সুতির ব্যাগ ব্যবহার করুন। পোশাকের ক্ষেত্রেও সুতি,
উল, লিনেনের পোশাক ব্যবহার করুন। পলিয়েস্টার জাতীয় পোশাক এড়িয়ে চলুন। একই জিনিস
মাথায় রাখতে হবে নিত্য ব্যবহারের তোয়ালে, বিছানার চাদর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও।
সামুদ্রিক
খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি
সামুদ্রিক
মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছেন গবেষকেরা। সমুদ্রের পানিতে প্লাস্টিক
বর্জ্য জমে থাকে। সে পানিতে বেড়ে উঠে মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী। সমুদ্রের পানিতে
থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রথমে মাছের দেহে প্রবেশ করে পরে সেই মাছ খাওয়ার ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক
মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
প্লাস্টিকের
প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার না করা
নিত্যদিনের
শারীরিক পরিচর্যার সামগ্রীর মাধ্যমেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মাজন,
স্ক্রাব, প্রসাধনী কেনার আগে লেবেল দেখে নিন উপকরণের তালিকায় পলিথিন বা পলিপ্রপিলিন
জাতীয় কোনো নাম রয়েছে কিনা। যদি থাকে তাহলে ওই ধরনের পণ্য ব্যবহার করা বন্ধ করুন।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম
অঞ্চলে বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার
প্রভাবের কারণে স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।
বৃহস্পতিবার
(২৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম
এহছানুল হক মিলন জানান,
আগামী ২৭ জুলাই থেকে
৮ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত সব পরীক্ষা পূর্বের
প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ের পরীক্ষাগুলোর
সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
তিনি
আরও বলেন, আগে যেসব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী সময়ে পৃথক একটি রুটিন প্রকাশ করে নেওয়া হবে। সেই সূচি যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী
জানান, চট্টগ্রামে বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার
কারণে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
নিশ্চিত করা যায়।
এদিকে
বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় যেসব পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন সম্পন্ন করে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
পরীক্ষার্থীদের
সর্বশেষ নির্দেশনা ও নতুন রুটিন
জানতে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
চৌদ্দগ্রামে বন্ধুদের সাথে সাঁতার কেটে নদী পার হতে গিয়ে নিখোঁজ কলেজছাত্র মোহাম্মদ
শিহাব (১৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুবুরিরা। নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর ডাকাতিয়া নদী থেকে
তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার সংযোগস্থল জাগজোর-নারান্দিয়া
ব্রিজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে শিহাব নিখোঁজ হয়। সে পার্শ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার
ঢালুয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জাফর আহমেদ শিফনের ছেলে। সে চট্টগ্রাম বি.এন
কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের ছাত্র।
সিহাবের মামা আসিফ করিম বিষয়টি নিশ্চিত
করে জানান, শুক্রবার দুপুরে শিহাব তার অপর দুই বন্ধুকে নিয়ে নারান্দিয়া গ্রাম থেকে
পার্শ্ববর্তী জাগজোর গ্রামে যায় তালের শাঁস খাওয়ার জন্য। জুমার নামাজের সময় হওয়ায়
সেখান থেকে দ্রুত সাঁতার কেটে মসজিদে আসার জন্য নদীতে নামে তিন বন্ধু। এসময় অপর দুই
বন্ধু সাঁতার কেটে নদী পার হলেও শিহাব নদীতে হারিয়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম
ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমরা চাঁদপুর জেলা থেকে ডুবুরি টিমকেও
খবর পাঠাই। মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে চাঁদপুরের ডুবুরি টিম এসে বিকেল থেকে আনুমানিক এক
ঘণ্টা চেষ্টা করেও নিখোঁজ শিহাবকে উদ্ধার করতে পারেনি। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার
কার্যক্রম স্থগিত রাখে তারা এবং শনিবার সকালে উদ্ধার কার্যক্রম ফের শুরু করে। এ সময়
শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর মরদেহ নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা
হয়।
মন্তব্য করুন


বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা অনুদান পাবেন। তবে এ অনুদান পেতে আবেদন করতে হবে অনলাইনে ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের এ টাকা দেওয়া হবে। বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন স্কুল–কলেজ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা এ টাকা পাবেন। অনুদানের টাকা বিতরণে নীতিমালা (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের জন্য অনুসরণীয় নীতিমালা সংশোধিত-২০২০) অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের অনুদানের টাকা পেতে আবেদন করতে হবে।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বিশেষ অনুদানের টাকা বিতরণে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে । ওই দিন থেকে অনলাইনে অনুদান পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ মঞ্জুরির অনুদানের এ টাকা পেতে আবেদন করা যাবে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ–এর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ আরো জানিয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও নন–এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা, দৈব দুর্ঘটনা এবং শিক্ষা গ্রহণের কাজে ব্যয়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে দুস্থ, প্রতিবন্ধী, অসহায়, রোগগ্রস্ত, অস্বচ্ছল ও মেধাবী, অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
দেশের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র সংগ্রহ, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, পাঠাগার স্থাপন ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বান্ধব করার জন্য অনুদানের আবেদন করা যাবে। তবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার লেখাপড়ার মান ভালো থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে। আর বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক–কর্মচারীরা দুরারোগ্য ব্যাধি বা দৈব দুর্ঘটনার জন্য অনুদানের আবেদন করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন