

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে মুক্তার মিয়া (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুক্তার মিয়া চাতলপাড়ের কাঠালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার পর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে মুক্তারের সঙ্গে কচুয়া গ্রামের রাব্বান মিয়ার মেয়ে শেউলা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কের বিষয়টি দুই পরিবারের কাছে প্রকাশ পেলে মুক্তারের পরিবার বিয়ের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু মেয়ের পরিবার তা মানতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।ঘটনার দিন মুক্তার অটোরিকশায় চাতলপাড় বাজার থেকে কচুয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শেউলার বড় ভাই শাহালমের নেতৃত্বে ১০–১৫ জন তাকে আটকিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হাত, পা ও পেটে গুরুতর আঘাত পেয়ে মুক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নাসিরনগর থানার ওসি মাকছুদ আহাম্মদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক “ড. মুহাম্মদ ইউনূস” দেশের নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারকে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সারা দেশে ক্যান্সার বিষয়ে, বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারজনিত ও স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক “তোহ হান চং-এর সঙ্গে” এক বৈঠকে এই আহ্বান জানান।
গত শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সিঙ্গাপুরের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোহ হান চং-এর সঙ্গে বৈঠককালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এখন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগগুলো মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তিনি এই রোগগুলো প্রতিরোধে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস আরও বলেন, "আমাদের দেশে এসব রোগ নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ক্যান্সার বা হৃদরোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে হবে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের জন্য। বৈঠকে অধ্যাপক তোহ হান চং জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় শত শত মিলিয়ন মানুষ ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত, যা লিভার ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি এই রোগ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে স্বল্প ব্যয়ে ও ব্যাপকভাবে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর, বিশেষ করে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক তোহ জানান, চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রতি বছর অব্যাহত থাকবে। এই বৈঠকে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক তোহ হান চং-এর সঙ্গে ছিলেন সিংহেলথ ডিউক-এনইউএস গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক বিজয়া রাও এবং সিংহেলথ ও এডিনবারা ন্যাপিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ কালউইন্ডার কৌর।
মন্তব্য করুন


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের নিজ উপজেলা বা থানা (একই উপজেলা/থানার ভেতর) অনলাইন বদলি শুরু হয়েছে যা চলবে আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
শুক্রবার (২৯ মার্চ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদন করবেন। ২ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক কর্তৃক যাচাই সম্পন্নকরণ এবং ৩ ও ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যাচাই সম্পন্নকরণ হবে।
৫-৭ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যাচাই ও অগ্রায়ন সম্পন্নকরণ, ৮-১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক সহকারী শিক্ষকের যাচাই ও অনুমোদন এবং প্রধান শিক্ষকের। যাচাই ও অগ্রায়ন সম্পন্নকরণ; ১৫-১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগীয় উপপরিচালক কর্তৃক যাচাই ও অনুমোদন সম্পন্ন করবেন।
এতে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ ৩টি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে পছন্দ করবেন। তবে কোনো শিক্ষকের একাধিক পছন্দ না থাকলে শুধুমাত্র ১ বা ২টি বিদ্যালয় পছন্দ করতে পারবেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বদলির আদেশ জারি হলে তা বাতিল করার জন্য পরবর্তীতে কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
যাচাইকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর জারিকৃত সর্বশেষ 'সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা (সংশোধিত) ২০২৩ অনুযায়ী আবেদনকারীর আবেদন ও অন্যান্য কাগজপত্রাদি যাচাই করে অগ্রায়ণ করবেন।
যাচাইকারী কর্মকর্তা সতর্কতার সঙ্গে সংযুক্ত তথ্য ও কাগজপত্রাদি যাচাই করবেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলির আদেশ জারি হলে তা বাতিল করার জন্য পরবর্তীতে কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনকারীর পছন্দক্রম অনুযায়ী বদলি হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। একাধিক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীকে সফটওয়্যারের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনায় নির্বাচিত করা হয় বিধায় কোনো রকম হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক
উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায়
পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি
মনে করেন, ওই পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’
সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে
‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে।
বিরোধীদলীয়
নেতা শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে এ বিষয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি লেখা একটি চিঠি পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক
সম্পর্ক উন্নয়নে তার দক্ষতা ও পেশাদার নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ,
আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাংলাদেশ তথা রাষ্ট্রের জন্য দ্বিপক্ষীয়
সম্পর্ক বিচক্ষণতার সঙ্গে জোরদার করতে সক্ষম হয়েছেন।
নিজের
পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের প্রস্তাবকে ‘নতুন’
ও ‘অভিনব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার মতে, অধ্যাপক
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের পদায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’
বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা
করা যাবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
কাছে শফিকুর রহমান লিখেন, ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি একসঙ্গে পরিচালনার
জন্য পদায়নটি সরকারের কাছে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করছি।
মন্তব্য করুন


মুঠোফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে ফোনের দাম নিশ্চিতভাবেই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব মুঠোফোনের মূল্যে পড়বে।বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “যেহেতু আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে, তাই গ্রাহক পর্যায়ে দাম কমে আসাটাই স্বাভাবিক।”তিনি আরও জানান, আমদানি শুল্ক নির্ধারণ সরাসরি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়। এরপরও সংশ্লিষ্ট অংশীজন হিসেবে মুঠোফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। তার দাবি, এই খাতে শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা একটি বড় অর্জন। অন্য কোনো খাতে যদি কেউ এমন সহনশীল পর্যায়ে শুল্ক নামিয়ে আনতে পারে, তাহলে সেটি দেখানোর চ্যালেঞ্জও দেন তিনি।সরকার গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মুঠোফোনের দাম রাখতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের আমদানিকৃত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। অন্যদিকে, ৩০ হাজার টাকার নিচে দামের দেশে সংযোজিত ফোনগুলোর ক্ষেত্রে দাম কমতে পারে আনুমানিক দেড় হাজার টাকা।দাম হ্রাস কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে তদারকি থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এ বিষয়ে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে নজরদারি করবে।তিনি আরও বলেন, ৩০ হাজার টাকার নিচে দামের অধিকাংশ মুঠোফোন দেশেই উৎপাদিত হয়। যেসব ব্যবসায়ী বর্তমানে আন্দোলনে রয়েছেন, তারা মূলত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ফোন বিদেশ থেকে কেরিয়ার ও কন্টাক্টের মাধ্যমে নিয়ে আসেন। তাদের ওপর চাপ কমাতেই আমদানি শুল্ক প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছে।ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রায় সব দাবিই ইতোমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। স্টকে থাকা মুঠোফোনগুলোকে বৈধ করা হয়েছে এবং আগামী তিন মাস কোনো ফোন ব্লক করা হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপরও সড়কে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে
তার স্বামী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার
(৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে তাকে জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।
এর
আগে বিকেল ৩টার পর পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত
হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক তার জানাজা নামাজ পড়ান।
বেগম
জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী,
তিন বাহিনীর প্রধান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতরা,
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের
প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সে
সময় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, বিজয় সরণি, খামার বাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট,
শাহবাগ, মোহাম্মদপুর পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। যে যেখানে পারেন সেখানেই দাঁড়িয়ে
জানাজায় যোগ দেন। জানাজার আগে বেগম জিয়ার দীর্ঘ জীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
পরে
পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আপনারা
আমার মরহুমা মায়ের জন্য দোয়া করবেন। কারও কাছে আম্মার কোনো ঋণ থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ
করবেন। আমি পরিশোধ করবো। কেউ আমার মায়ের আচরণে বা কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকে
আমি ক্ষমাপ্রার্থী। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
এদিন
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের
দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়। তাকে বহন করা হয় লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি
ফ্রিজার ভ্যানে। সেনাবাহিনী হিউম্যান চেইন তৈরি করে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে তার মরদেহ
সেখানে নেন।
মন্তব্য করুন


থাইল্যান্ডের
জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাইবেনা ইন্তাচাইকে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ব্যাংককের ওয়াথানা জেলার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
ব্যাংকক
পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, রাইবেনার বিরুদ্ধে ঋণ গ্রহণে প্রতারণার অভিযোগ আনা
হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ অপরাধ দমন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে।
অর্থনৈতিক
অপরাধ দমন বিভাগের কমান্ডার পোল মেজর জেনারেল তাসাপুম জারুপ্রত জানান, রাইবেনার বিরুদ্ধে
অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে। যেখানে বলা হয়েছে তিনি প্রতারণার
মাধ্যমে প্রায় ১৯৫ মিলিয়ন বাথ ঋণ নিয়েছেন। এই বিষয়ে ১৭ জন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ
লেনদেনের তদন্ত শেষে ২ ডিসেম্বর তার সম্পত্তি জালিয়াতি এবং ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া, রাইবেনার প্রায় ১ কোটি বাথ মূল্যমানের সম্পদ জব্দ
করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাগ, অলঙ্কার ও শিল্প খেলার সামগ্রী।
পোল
মেজর আরও বলেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের রাইবেনা ব্যবসায়িক
বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। যা থেকে তারা নানা ধরনের সুবিধা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি
পেয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৪ থেকে ৭ শতাংশ মাসিক রিটার্ন এবং স্টক ট্রেডিং, বাস্কেটবল মাঠ
ও বিদেশী খাবারের দোকানে বিনিয়োগের কথা ছিল।
অভিযোগকারীদের
মধ্যে অন্যতম হলেন অভিনেত্রী জ্যানি তিয়েনফোসওয়ান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, রাইবেনা
তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি রেস্টুরেন্ট প্রোজেক্টে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন,
যা পরবর্তীতে সম্পূর্ণভাবে নকল প্রমাণিত হয়। জ্যানি তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ মিলিয়ন
বাথ হিসেবে জানিয়েছেন।
এদিকে
৪৪ বছর বয়সী রাইবেনার আইনজীবী সাইয়ুদ পেংবুনচু জানিয়েছেন, তার মক্কেলের জামিনের জন্য
৫ লাখ বাথের একটি সম্পদ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেছেন, রাইবেনার বিরুদ্ধে কোনো আগের
মামলা না থাকায় জামিনের আবেদন করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আইনজীবী এই বিষয়েও নিশ্চিত
নন যে ঋণদাতাদের মধ্যে কোনো আরেকটি সেলেব্রিটি জড়িত আছেন কিনা।
এ
প্রসঙ্গে পোল মেজর জেনারেল তাসাপুম জানিয়েছেন, ১ ডিসেম্বর তার আইনজীবী আত্মসমর্পণের
প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন রাইবেনাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। পরে
পুলিশ তদন্ত শেষ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
এখন
পর্যন্ত, অভিনেত্রী রাইবেনা তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন,
ঋণ নেয়া প্রক্রিয়াটি তিনি অবৈধ হিসেবে জানতেন না। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, তিনি তার সব
ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


পাবনা সদর ও বেড়া উপজেলার সীমানা ঘেঁষা পাবনা–নগরবাড়ি মহাসড়কের ২৪ মাইল দুর্গাপুর এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও দুইজন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— নান্দিয়ারা গ্রামের জবদুল (৫০) ও তার তিন বছরের মেয়ে জুবাইদা খাতুন। আহত হয়েছেন জবদুলের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মামুন এবং সাত বছর বয়সী ভাতিজা সিয়াম শেখ। চারজনই একই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, দুপুরে জবদুল তার সন্তান ও ভাতিজাকে নিয়ে সাঁথিয়ার গোপীনাথপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে দুর্গাপুর এলাকায় একটি মালবাহী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জবদুল ও তার ছোট মেয়ে মারা যান। খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনায় আহত দুজনকে দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাইওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের
সকল শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর
মুহাম্মদ ইউনূস।
আগামীকাল
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠেয় ‘গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’
উপলক্ষ্যে দেয়া আজ এক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে
এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক
প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম
ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।
তিনি
বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে
যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার
চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।
প্রধান
উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো
ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল
জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার
হবেন।
তিনি
বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, দেশের বিপুলসংখ্যক
তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে
পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত
ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়,
শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা
আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্র্বর্তীকালীন
সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একটি গণতান্ত্রিক
রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব
ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন
কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব,
নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক
দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার
আহ্বান জানাই।’
তিনি
বলেন, ‘গণতন্ত্রের এ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি শান্তিপূর্ণ,
স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে
যেতে সহায়তা করবে।’
মন্তব্য করুন


গোপন
প্রেমের সম্পর্কের জেরধরে দেবরের আত্মহত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন চাচাতো
ভাইয়ের স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার মধ্য মহিষার এলাকায়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার
(২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মধ্য মহিষার এলাকার এলিনা আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী ফয়সাল মল্লিকের স্ত্রী। এর আগে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার
মোহাম্মদপুর এলাকায় ইফতার শেষে নিজ কর্মস্থলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে
আত্মহত্যা করেন মিল্টন মল্লিক। তিনি ফয়সাল মল্লিকের চাচাতো ভাই। তার মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার
মধ্যে গ্রামের বাড়ি ভেদরগঞ্জের মধ্য মহিষার এলাকায় তার ভাবি, প্রবাসী ফয়সাল মল্লিকের
স্ত্রী এলিনা আক্তারের আত্মহত্যা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়
ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্য মহিষার এলাকার বাসিন্দা মিল্টন মল্লিকের সঙ্গে তার চাচাতো
ভাই ও মালয়েশিয়া প্রবাসী ফয়সাল মল্লিকের স্ত্রী এলিনা আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে কয়েক মাস
আগে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবারে উত্তেজনা
তৈরি হয়। এদিকে মিল্টনের লাশ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের
জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
স্থানীয়
বাসিন্দা মিঠু বলেন, মিল্টন সাত মাস আগে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে ঢাকায় একটি মিষ্টির
দোকানে কাজ করত। হঠাৎ তার আত্মহত্যার খবর পাওয়ার পরদিন এলিনার মৃত্যুর সংবাদ এলাকায়
শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তাদের নিকটাত্মীয় আব্দুল খালেক মাদবর বলেন, দুজনের সম্পর্ক
নিয়ে পরিবার আগে থেকেই অবগত ছিল। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক অশান্তি চলছিল।
ভেদরগঞ্জ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, আত্মহত্যার ঘটনায় একজনকে হাসপাতালে
আনার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা
হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ভারতের
মহারাষ্ট্রে ঘটে গেল ভালোবাসা ও নিষ্ঠুরতার এক মর্মন্তুদ ঘটনা। বর্ণবিভাজনের দেয়াল
ভেঙে উচ্চবর্ণের মেয়ে আঁচলের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন নিম্নবর্ণের তরুণ
সক্ষম তাঁতী (২০)। কিন্তু সেই প্রেম টিকল না সমাজের কঠোর জাত প্রথার কাছে—প্রেমের
অপরাধেই প্রাণ দিতে হলো সক্ষমকে।
স্থানীয়
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের অমতে প্রেম করার ‘দুঃসাহসের’
জেরে আঁচলের স্বজনদের হাতে নির্মম নির্যাতনের পর নিহত হন সক্ষম। তবে প্রেমিকের মৃত্যু
থামাতে পারেনি আঁচলকে সক্ষমের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় তাঁর কপালে সিঁদুর পরে মৃত প্রেমিককেই
স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে সক্ষমের পরিবারেই পুত্রবধূ
হিসেবে থাকবেন।
এনডিটিভির
খবর অনুযায়ী, আঁচলের ভাইদের মাধ্যমে সক্ষমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। বাড়িতে নিয়মিত ওঠা–নামার
মধ্য দিয়ে তিন বছরের সম্পর্কে রূপ নেয় তাঁদের বন্ধুত্ব। কিন্তু সম্পর্কের কথা জানতে
পেরে আঁচলের পরিবার তীব্র আপত্তি জানায়। হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করেও দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত
নেন।
গত
বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্তের খবর আঁচলের বাবা ও ভাই জানতে পারেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা
পরিকল্পিতভাবে সক্ষমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর নির্মমভাবে নির্যাতন, মাথায় গুলি
এবং পরে ভারী পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দিয়ে হত্যা করা হয় তাঁকে।
সক্ষমের
মৃত্যুসংবাদ পেয়ে আঁচল ছুটে যান তাঁর বাড়িতে। শেষকৃত্যের সময় প্রেমিকের নিথর দেহে হলুদ
মেখে নিজের কপালে সিঁদুর পরেন—অর্থাৎ মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তিনি সম্পন্ন
করেন বিয়ের আচার।
আঁচল
বলেন, সক্ষম আর আমি আমাদের ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত জিতেছে। আমার বাবা ও ভাইয়েরা পরাজিত
হয়েছে। সক্ষম নেই, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক এখনও জীবিত। তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের
সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
এদিকে
স্থানীয় পুলিশ এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণসহ একাধিক
ধারায় মামলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন