

বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস।
নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুতুলনাচ, বলী খেলা, বউচি খেলা, কাবাডি এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর থেকে জারুলতলা পর্যন্ত এক বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আল আমীন এবং চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা।
জারুলতলায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।
উপাচার্য ড. আল-ফোরকান বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন করতে পারছে, যা ক্যাম্পাসের জন্য ইতিবাচক দিক।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ও বহুত্ববাদের গুরুত্ব তুলে ধরে জিয়াউর রহমান-এর জাতীয়তাবাদী দর্শন এবং তারেক রহমান-এর ‘রংধনু জাতি’ ধারণার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘বৈশাখী উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা’র আয়োজন করেছে চাকসু ও ‘কারুবীথি’। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এই মেলায় প্রায় ৭৫টি স্টল অংশ নিয়েছে, যেখানে ঐতিহ্যভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
চবি প্রতিনিধি
মন্তব্য করুন


ঘটনার
দুই বছর পর তদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে সিআইডি উল্লেখ
করে, রাত দশটার কাছাকাছি সময়ে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের
ব্যবস্থাপক জিসানের নির্দেশে দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল যেন গ্রাহকদের
কেউ বিল না দিয়ে বের হতে না পারেন।
এই
ঘটনায় সেই রেস্টুরেন্টে থাকা অধিকাংশ গ্রাহকই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে এবং পরে আগুনে
দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ছাড়া ভবনটিতে নিয়ম না মেনে একাধিক রেস্টুরেন্ট চালানো, সিঁড়িতে
গ্যাস সিলিন্ডার রেখে দেয়া, জরুরি নির্গমন পদ না থাকা সহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের নানা
কারণ উঠে এসেছে। জানা গেছে, ২৯ ফেব্রুয়ারি লিপইয়ার উপলক্ষে ছাড় দেয়ায় স্বাভাবিকের
চেয়ে বেশি ভিড় হয়েছিল গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অবস্থিত কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে।
সিএমএম
কোর্টের অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, গ্রাহকরা যাতে বিল পরিশোধ
না করে বের হয়ে না যেতে পারেন সেজন্য রেস্টুরেন্টটির গেট আটকে দেন তারা। গেট আটকে দেয়ার
কারণে বেশিরভাগই ধোঁয়ায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছিলেন। পরবর্তীতে আগুনের ভয়াবহতায় মৃত্যুবরণ
করেন।
এদিকে
এ ঘটনায় উঠে এসেছে আরও নানা অভিযোগ। আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন তলায় থাকা কিছু
মানুষ ছুটে যান ছাদের দিকে। কিন্তু ভবনের আটতলা ও ছাদ মিলে অবৈধভাবে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’
থাকায় সেখানে গিয়েও আশ্রয় নিতে পারেননি তারা।
এক
পর্যায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসারও প্রাণপণ চেষ্টা করেন অনেকে। কিন্তু সিঁড়িতে খাবারের
দোকানের গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা জিনিসপত্র রেখে তৈরি করা হয়েছিল নানা প্রতিবন্ধকতা।
মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, ভবনটির বিভিন্ন
জায়গায় ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সিলিন্ডার ছিল। বহির্গমনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
এসব
‘অব্যবস্থাপনার জালে’ আটকা পড়ে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন
কোজি কটেজ ভবনের আগুনে সেদিন ৪৬ জন মারা গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে আগুনে পুড়ে তিনজন এবং
ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান ৪৩ জন। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা হয় রমনা থানায়।
পরে দায়িত্ব পায় সিআইডি। অভিযোগপত্রে ভবনটির
নিচতলায় চায়ের চুমুক কফি শপের বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাতের ঘটনা উল্লেখ
করা হয়েছে।
গত
মঙ্গলবার ভবনের মালিকপক্ষ আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো.
রমজানুল হক নিহাদসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি।
বাকিরা
হলেন আনোয়ারুল হক (২৯), মুন্সি হামিদুল আলম বিপুল (৪০), মো. সোহেল সিরাজ (৩৪), ইকবাল
হোসেন কাউসার (৫০), জেইন উদ্দিন জিসান (২৯), মোহর আলী পলাশ (৫০), মো. ফরহাদ নাসিম আলীম
(৫৫), আবদুল্লাহ আল মতিন (৩৫), মো. নজরুল ইসলাম খান (৫০), লতিফুর নেহাব (৬৫), খালেদ
মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ (৫৫), অঞ্জন কুমার সাহা (৫৫), মো. মুসফিকুর রহমান (৩১), জগলুল
হাসান (৬৫), আশিকুর রহমান (৩৫), হোসাইন মোহাম্মদ তারেক (৪১), রাসেল আহম্মেদ (৩২), মো.
সাদরিল আহম্মেদ শুভ (৩২), রাফি উজ-জাহেদ (৩৪), আদিব আলম (৩৯) ও শাহ ফয়সাল নাবিদ (৩৪)। তাদের মধ্যে গ্রেফতারের পর
জামিনে আছেন ৯ জন, বাকিরা পলাতক।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা
বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে। সম্ভাব্য চুক্তিতে
মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা ও জ্বালানি
খাতে আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
আজ
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
তিনি
বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে
আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।
প্রসঙ্গত,
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’
ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে
তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য
দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে
হয়।
শুল্ক
কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন,
বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক
দেশে বেশি আছে। তবে, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে।
তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারব না; এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক
কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে
জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো
চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত
হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি
ভারত ইইউ-এর সঙ্গে একটি এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছে—
এটি নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখানে উদ্বেগের কিছু নেই।
আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম
রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ
রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত বেসিক
টেক্সটাইলে বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্ববাজারে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমরা কাঁচামালও
তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) অবস্থায়
আছে। তাদের উপকরণ উৎপাদন এবং নিজস্ব তুলাও আছে। ফলে ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং
পরিপূরক।
এলডিসি
থেকে উত্তরণের পর অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর পাশাপাশি নতুন শুল্ক যুক্ত হবে—সেক্ষেত্রে
এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন কিছু ভাবছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হ্যাঁ, আমরা
অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএ-র নেগোসিয়েশন শেষ করেছি।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি
বলেন, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা
করছি এই বছরের মধ্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে
আমরা এফটিএ-র প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব বাজারে আমরা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার
পাই, সবগুলোর কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। রমজানের
প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, রমজানের বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজানভিত্তিক
নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।
যুক্তরাষ্ট্র
থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিমান ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায়
আছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সাথে এই চুক্তির আগেও পরিকল্পনা ছিল। শুধু
বোয়িং নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা ছিল। সেটি এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে।
আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে যতদূর জানি, তাদের সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। বোয়িং
কতগুলো এবং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, দাম কী হবে এবং বিমানের ভেতরের কনফিগারেশন কেমন
হবে— এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।
এখানে
যুদ্ধবিমানও আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান
এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যু কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।
গত
ছয় মাসে রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে
পরিকল্পনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা পর্যালোচনা করেছি। বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ
ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই, সেই হিসেবে আমাদের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে,
আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ নয়, বরং ১.৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্লোবাল অ্যাভারেজের
চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।
যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তিতে থাকবে কি না—
জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন
বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে
শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা রপ্তানি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ
টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র
থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার এখনো
যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমাতে আগামী এক থেকে
দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, যাতে খরচ
হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে
গম আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি
তেল, ভোজ্যতেল ও তুলার আমদানি বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।
মন্তব্য করুন


পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রশিক্ষণার্থীদের
সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে
পার্বত্য অঞ্চলকে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সম্পদে
পরিপূর্ণ পার্বত্য জেলাগুলো বাংলাদেশের সবচাইতে উন্নত অঞ্চল হতে পারতো, কিন্তু সবচেয়ে
পেছনে পড়ে আছে। এটা হওয়ার কথা না। আপনাদের ফসল, ফল-ফলাদি, ঐতিহ্যবাহী পণ্য দিয়ে অর্থনীতিতে
আপনাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা। পার্বত্য এলাকাগুলো দুর্গম, সেজন্য যোগাযোগ করা কঠিন হয়।
আর এ কারণেই সেখানে প্রযুক্তির প্রসার দরকার। প্রযুক্তি দিয়ে এই দূরত্ব জয় করা যাবে।
পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও
সদস্যবৃন্দের জন্য আয়োজিত 'পার্বত্য জেলা পরিষদ ব্যবস্থাপনা' শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ
দিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নারী ফুটবল টিমে পার্বত্য জেলা থেকে
আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠকের স্মৃতিচারণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবলে বিশ্বের
অন্যান্য দেশের টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। আপনাদের এলাকার মেয়েরা কী দুর্দান্ত
খেলল! কীভাবে বলবেন পিছিয়ে আছে? যারা আপনাদের এলাকা থেকে এসেছে তাদের সাথে আমি কথা
বলেছি। কী কঠিন পরিস্থিতি! কত কষ্ট করে পাহাড় ভেঙে বাড়িতে পৌঁছাতে হয়! বাবা মা ঢাকায়
আসলে কত কষ্ট করে তাদের আসতে হয়। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই কিন্তু তারা বিশ্বজয় করে এসেছে।’
পার্বত্য এলাকার তরুণরা যেন বিশ্ব নাগরিক
হয়ে গড়ে ওঠে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আপনাদের মেয়েরা ফুটবলে বিশ্বজয়
এনে দিয়েছে। তরুণরা শুধু বাংলাদেশের নাগরিক না, বিশ্ব নাগরিক হতে হবে। দুর্গম এলাকা
বলে পিছিয়ে থাকলে হবে না। সীমাবদ্ধতা থাকবে, কিন্তু মনের সীমারেখাকে বাড়িয়ে দিতে হবে।
সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে নিজ কৃতিত্ব দিয়ে পৌঁছে যেতে হবে।’ জানুয়ারিতে তারুণ্যের উৎসবে পার্বত্য
অঞ্চলের তরুণদের অংশ নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আপনাদের শিশুদের, তরুণদের
এ উৎসবে যোগ দিতে উৎসাহ দিন। স্থানীয় খেলা হোক, রচনা প্রতিযোগিতা, গান-নাচ তারা যা
পারে, যা চায় তা নিয়ে যেন অংশ নেয়। এটা সবার উৎসব। উৎসবটি বৈচিত্রময় হোক। সরকারি নির্দেশ
তাই অংশ নেবে এরকম না। তাদেরকে আপনারা উৎসাহ দিন, যেন নিজ থেকেই তারা উদ্যমী হয়ে এ
উৎসবে অংশ নেয়।
পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার
সংস্কার ও সঠিক পদ্ধতি, প্রশিক্ষণের গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি
আরও বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এক কঠিন সংকটে আছে। আপনাদের অঞ্চলে এটা আরও বেশি কঠিন।
শিক্ষকদের কষ্ট হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট হয়। আপনাদের পড়াশোনার দিকে মনোযোগী হতে হবে।
আমরাও চেষ্টা করব রাষ্ট্রীয় দিক থেকে কীভাবে কী করা যায়। পার্বত্য জেলার তরুণরা দুর্গম
অঞ্চলে আছে বলে বড় শহর থেকে লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকবে সেটা হতে দেওয়া যাবে না। লেখাপড়ায়
তাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
মন্তব্য করুন


নিজেকে
কোনো নির্দিষ্ট ইমেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি। তাই
অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তিনি বারবার ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন। বাস্তব
ঘটনার প্রেরণায় নির্মিত সাম্প্রতিক ছবি ‘হক’-এ তাঁর অভিনয় আবারও সেই ধারারই প্রমাণ।
এই ছবি, ফিটনেস, চরিত্র নির্বাচন এবং দীর্ঘ অভিনয়জীবন—সবকিছু
নিয়েই সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ইমরান।
মুম্বাইয়ের
একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকারে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন
প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি। বয়স ৪৬ হলেও ইমরানের ফিটনেস এখনো চোখে পড়ার মতো। ফিট
থাকার রহস্য জানতে চাইলে মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘কোনো রহস্য নেই। আমার স্ত্রী আমাকে
ঠিকমতো খেতে দেয় না।’ এরপর গম্ভীর হয়ে যোগ করেন, শৃঙ্খলাপূর্ণ
জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই আসল চাবিকাঠি। করোনা সময়ের কথাও
টেনে এনে তিনি বলেন, ‘অনেকে তখন যা খুশি খেয়েছে, আমি বরং ফিটনেসে মন দিয়েছিলাম। এখন
তার সুফল পাচ্ছি।’
ইয়ামি
গৌতমের সঙ্গে অভিনীত ‘হক’ ছবিটি ১৯৮০ সালের আলোচিত শাজিয়া বানো
মামলা থেকে অনুপ্রাণিত। বাস্তব ঘটনার ছায়া থাকায় দায়িত্ববোধ ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই
মনে করেন ইমরান। তাঁর ভাষায়, ‘সংবেদনশীল বিষয় হলে আরও বেশি সতর্ক হতে হয়। যাঁদের জীবনের
ঘটনা থেকে গল্প এসেছে, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান রাখতে হয়।’
তিনি জানান, ছবিটির জন্য বিস্তর গবেষণা করা হয়েছে, যাতে বাস্তব কাহিনি বিকৃত না হয়।
ইদানীং ইমরানকে ধূসর চরিত্রে বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি নিজে কোনো চরিত্রকে নেতিবাচক
বা ধূসর হিসেবে দেখতে চান না। বলেন, ‘চরিত্রকে বিচার করতে শুরু করলে অভিনয়েও পক্ষপাত
চলে আসে।’ ‘হক’ ছবিতে তাঁর চরিত্র আব্বাস খান—শাজিয়া
বানোর স্বামী। ইমরানের মতে, আব্বাস নিজের বিশ্বাস ও যুক্তির জায়গা থেকেই লড়াই করেছে।
দর্শকের চোখে সে ভুল হতে পারে, কিন্তু চরিত্রটির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে। এখানেই গল্পের
আসল শক্তি। চরিত্র প্রস্তুতির প্রসঙ্গে ইমরান জানান, প্রথমে তিনি পরিচালক ও লেখকের
দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেন। একজন আইনজীবীর চরিত্র হওয়ায় আদালতের নিয়মকানুন, সংলাপের
ভাষা—সবকিছু নিয়েই গবেষণা করেছেন। পরিচালক সুপর্ণ ভার্মার নির্দেশনায়
অতিনাটকীয়তা এড়িয়ে আদালতের মর্যাদা বজায় রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য।
একজন
মুসলিম অভিনেতা হিসেবে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করা কঠিন ছিল কি না—এই
প্রশ্নে ইমরান স্বীকার করেন, শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল। তবে তিনি নিশ্চিত ছিলেন, ছবিটি
কোনো সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে না। ‘আমরা বিচার করিনি, শুধু ঘটনার প্রেক্ষাপট
দেখিয়েছি,’ বলেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে টিকে থাকার বিষয়ে ইমরানের স্পষ্ট মত—বিভিন্ন
ধরনের চরিত্রে কাজ করাই একমাত্র উপায়। তাই এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেছে কাজ করেন।
বছরে এক বা দুইটির বেশি ছবি করেন না। তাঁর কথায়, ‘৫০টির বেশি ছবির পর নতুন কিছু খুঁজে
পাওয়া কঠিন, কিন্তু একই জায়গায় ঘুরপাক খেতে চাই না।’
আরিয়ান
খান পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’-এ তাঁর অভিনীত দৃশ্যগুলো দর্শকদের
মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘আমিও অবাক হয়েছিলাম। এতটা ভাইরাল
হবে ভাবিনি।’ সিরিজটির প্রশংসা করে তিনি আরিয়ান খানকে একজন পরিশ্রমী
ও মেধাবী নির্মাতা হিসেবেই দেখেন। সব মিলিয়ে, ইমরান হাশমির কাছে গল্পই আসল। ইমেজ ভাঙা,
নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া আর নিজেকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করাই তাঁর অভিনয়জীবনের মূল
দর্শন।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত
হয়েছে।
আজ
শনিবার ( ২৯ নভেম্বর ) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত
হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সভায়
বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর
খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায়
পরিবর্তন এসেছে। এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে। অনুদান অবমুক্তর শর্তগুলোও সহজ করা
হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন
হবে না।
এছাড়াও,
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর খসড়া উত্থাপিত হয়েছিল। তবে অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে
এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
সভায়
প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে
বিভিন্ন সময়ে বন্দী থাকা বাকি ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে
অবহিত করেন। তিনি জানান, দুই-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।
মন্তব্য করুন


ইলিশ
পোনাসহ (জাটকা) সকল মাছ রক্ষায় দুই মাসের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ ৬টি নদী অঞ্চলে
সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ হচ্ছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হয়ে মাছ
শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলবে।
নিষেধাজ্ঞার
এসময় চাঁদপুরের চরাঞ্চল সমৃদ্ধ মতলব উত্তর উপজেলার ৯ হাজার একশো জেলের প্রত্যেককে চার
কিস্তিতে ১৬০ কেজি চাল দেবে সরকার। এসময় জেলেরা নৌকা ও জাল মেরামতের কাজ করবেন। তবে
জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ধরা পড়লে কমপক্ষে এক বছর থেকে
দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত
হতে পারেন।
ইলিশের
উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও নদীতে জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিতে ২০০৬ সাল থেকে মার্চ-এপ্রিল
দুই মাস নদীতে সকল প্রকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এসময়ে চাঁদপুরের
মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার ও হাইমচরের চরভেরবী
পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ
নিষিদ্ধ।
এই
দুই মাস উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান
পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান
বলেন, ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। জাটকা রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা
কার্যকর হলেও জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই
হবে না। মতলব উত্তর (চাঁদপুর) উপজেলার মেঘনা নদীতে দুই মাসের অভয়াশ্রমের কারণে জেলে
নৌকাগুলো নদীর পাড়ে বাধা।
উপজেলা
সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে নির্ধারিত
ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। মা-জাটকা ইলিশ রক্ষায় অভিযান হবে কঠোর। দুই
মাসের এই অভয়াশ্রমে অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারে সেজন্য সব ধরনের
ব্যবস্থা নিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
মতলব
উত্তর উপজেলার মেঘনাপাড়ের মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, মতলব
উত্তরের ৩০ কিলোমিটারের এই নৌ সীমানার মধ্যে জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।
এরপরও যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করে, তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য
আইনে ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।
এ
বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা
কুলসুম মনি বলেন, অভিযানের সময় নদীতে নামলেই আইনি ব্যবস্থায় নেওয়া হবে। জাতীয় সম্পদ
রক্ষায় জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মন্তব্য করুন


চুয়াডাঙ্গা
জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে ‘ফুয়েল কার্ড’
চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে জ্বালানি
তেলের মজুদ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা
প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে যানবাহনের
জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হবে। কার্ড সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন
নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
তিনি
বলেন, ‘আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ
করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল প্রদান করা হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত
জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি চলবে। তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে।
কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বিক্রি করা হবে।
এছাড়া
কোনো পাম্প কর্মচারী অনিয়ম বা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের
নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পুলিশ
সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, ‘আগামী ৩০ মার্চ থেকে জেলায় রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স
ও হেলমেটবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি
বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে,
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্ত এলাকায় তেল পাচার
রোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সভায়
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি
এম তারিক উজ জামানসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পাম্প মালিক
সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজ চক্রের ৮ সদস্যকে
আটক করেছে সেনাবাহিনী।
আজ রোববার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ১১ বীরের (মেক) একটি দল বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন- ভোলা জেলার মো. জাকির হোসেন, কুমিল্লার শাকিল এবং বাকি মো. নবীর, মো. জসীম, মো. আব্দুল জলীল, মো. সুরুজ, মো. মাসুদ, মো. রকিব খান মুন্সীগঞ্জ জেলার।
সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, বিগত কয়েকদিন ধরে গুলিস্তান এলাকায় চাঁদাবাজির প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। চাঁদাবাজি ও ছিনতাই সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ গুলিস্তান ক্যাম্পে লিপিবদ্ধ করে ভুক্তভোগীরা। চাঁদাবাজ চক্রটিকে ধরার জন্য অত্র ক্যাম্পের এফএস বেশ কয়েকদিন থেকে নজর রাখছিল সেনাবাহিনী।
এফএসের তথ্যানুযায়ী, গুলিস্তান মোবাইল মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে চাঁদাবাজি হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ১১ বীরের একটি টহল দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান চালায়। অভিযানে ৭ চাঁদাবাজকে হাতেনাতে আটক করে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আটকদের দেহ তল্লাশি করে একাধিক অবৈধ মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ছোটাছুটি করার একপর্যায়ে তারা বেশ কয়েকটি মোবাইল ফেলে দিয়েছিল। যা পরবর্তীতে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরে আটকদের এবং জব্দ করা মালামাল পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন মুন্সীগঞ্জের গুয়াগাছিয়ায়
অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত নৌ-ডাকাত নয়ন-পিয়াসসহ একাধিক
আসামি পাশের দেশে পালিয়ে গেছে। ওরা দেশে ফিরলে ঠিকানা হবে কেরানীগঞ্জ কারাগার।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর)
বিকেলে গজারিয়ার দুর্গম অঞ্চল গুয়াগাছিয়ার জামালপুর গ্রামে নবনির্মিত অস্থায়ী পুলিশ
ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
আরও বলেন যে এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নৌ-ডাকাতদের
তৎপরতা ছিল। আমি নিজেও মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা হিসেবে তাদের সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবহিত।
থানায় হামলার সময় তারা অস্ত্র লুট করেছিল ধারণা করা হচ্ছে সেই অস্ত্রগুলো এখনো তাদের
কাছেই রয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন প্রাথমিকভাবে
অস্থায়ী ভিত্তিতে এ ক্যাম্পটি স্থাপন করা হলেও স্থায়ীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপনের
কাজ শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন


শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীসহ সারাদেশে এক হাজার ১৫১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার এর আওতায় ২৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
ইসি জানিয়েছিল, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী ৩ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের জন্য আদেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৩ জানুয়ারি থেকে সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামবে।
নির্বাচনকালীন সেনাবাহিনী মোতায়েনে গত ১৭ ডিসেম্বর নীতিগত অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরদিন ১৮ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে সেনা মোতায়েনে সশস্ত্র বাহিনীকে চিঠি দেয় ইসি।
গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখ রোজ রোববার ৩০০ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই হয় ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি করা হয় ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং অফিসাররা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৮ ডিসেম্বর।
মন্তব্য করুন