

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট বয়কটের আলোচনা চলার মধ্যেই বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এ পরিস্থিতিতে স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার জানিয়েছে, আগামী ২৫ জানুয়ারি বিশ্বকাপ দলে থাকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক করবেন নাকভি। সেখানে বিশ্বকাপের পরিকল্পনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনার পেছনে বাংলাদেশের বাদ পড়ার বিষয়টি বড় কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেন পিসিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি পাকিস্তান সরকারের ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার দেশে ফেরার পরই জানানো যাবে। নাকভির ভাষায়, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং পিসিবি সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করবে, আইসিসির নয়।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আইসিসি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অন্যায় আচরণ করেছে। এই বিষয়টি তিনি আইসিসির বোর্ড সভাতেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন বলে জানান। নাকভির মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য নয়—যেখানে একটি দেশ ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পায়, অথচ অন্য দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এরপর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানায়, ভারত গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বাংলাদেশ দল।
এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত বুধবার আইসিসির সভা শেষে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
পরবর্তীতে আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। টাইগারদের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবীতে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সোমবার দুপুর ১২ টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কতিপয় অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রী শিক্ষা বোর্ডের এখতিয়ার বহির্ভূত দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে গেটে তালা ঝুলিয়ে অবরুদ্ধ করাসহ গালমন্দ এবং ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তারই প্রতিবাদে সারাদেশে আন্তঃবোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মানববন্ধন করে।
মন্তব্য করুন


মেয়ে শিশু জন্ম নেওয়ায় ওই নবজাতককে মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ওই ঘটনাটি ঘটে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। বিষয়টি জানাজানি হয় বিকেলে।
নবজাতক রেখে পালিয়ে যাওয়া দম্পতি হলো আলমগীর হোসেন ও পাপিয়া খাতুন। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই নবজাতককে মা-বাবা।
নিজেদের সন্তান হাসপাতালে ফেলে পালানোর বিষয়ে জানা যায়, তিন মেয়ের পর এবার ছেলেসন্তানের আশায় বুক বেঁধেছিলেন এ দম্পতি। ফের কন্যাসন্তান হলে স্ত্রী পাপিয়াকে তালাকের হুমকিও দেন আলমগীর! কিন্তু এবারও কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন পাপিয়া। তাই তারা হাসপাতালে সন্তান রেখেই পালিয়ে গেছেন।
হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, প্রসব বেদনা উঠলে সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে পাপিয়া খাতুনকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানেই কন্যাসন্তান প্রসব করেন পাপিয়া। পরে তাকে ভর্তি করা হয় গাইনি ওয়ার্ডে। কিছুক্ষণ পর নবজাতককে আলমডাঙ্গা উপজেলার ছত্রপাড়া গ্রামের বিলকিস বানু নামে এক নারীর কাছে রেখে পালিয়ে যান ওই নবজাতকের মা-বাবা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী।
পরে নবজাতকটিকে সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মালেকা খাতুনের তত্ত্বাবধায়নে রাখা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা ওই নবজাতকের নাম রাখেন ‘পুষ্প’।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী জানান, ওই দম্পতি হাসপাতালে যে নাম ও ঠিকানা দিয়েছেন তা যাচাই করা হয়েছে। তারা ভুল তথ্য দিয়েছেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও ছবি দেখে ওই নারী ও তার স্বজনদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নবজাতকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন।
এ সময় কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ মোল্লা টিপু , সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিব ও কুমিল্লার তরুণ বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজী ইয়াছিনকে বিএনপির ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আপনার নেতৃত্বে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রত্যেক প্রার্থী যেন বিজয়ী হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজী ইয়াছিনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সব কয়টি সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ কথা নিশ্চিত করেন।
মন্তব্য করুন


চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমনে এবং বোরোতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩ কোটি ৯২ লাখ মেট্রিক টন। তারই মধ্যে আমনে ১ কোটি ৭০ লাখ ও বোরোতে ২ কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে।
সম্প্রতি সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমন ধান কাটা চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এবার ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এ বছর চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমনে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টন আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়েছিল।
আসন্ন বোরো মৌসুমে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ৫০ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর ও ২ কোটি ২২ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ভালো হওয়ার কারণে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো চাল আমদানি করার প্রয়োজন হয়নি। প্রায় সাড়ে ২৯ লাখ কৃষকের মাঝে ১৯৮ কোটি টাকার সার, বীজসহ বিভিন্ন প্রণোদনা বিনামূল্যে বিতরণ কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কাভার্ডভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে ৫ যাত্রী নিহত হয়েছে।
রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা চাঁদপুর সড়কের মহানন্দ নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মরদেহ গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


এশিয়ান
নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (আনফ্রেল) একটি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
আজ
বুধবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাত সদস্যের
সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রোহানা হেট্টিয়ারাচ্ছি ।
এ
সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বর্তমান
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৩ দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে
বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী
আছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা
পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো, আরো উন্নতির চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি
বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ নিযুক্ত
হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে যাতে আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা করা
না হয় সে বিষয় তাদের বলা হয়েছে।’
সালাহউদ্দিন
আহমদ বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী কবে ব্যারাকে ফিরে যাবে সে ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে
সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’
চট্টগ্রামে
ব্যবসায়ের বাসায় গুলি বর্ষণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আইনের
আওতায় আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
লাইসেন্সকৃত
যেসব অস্ত্র এখনো জমা হয়নি সে ব্যাপারে একটি আইনি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে জানিয়ে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত
করতে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।’
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী
অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের
নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় প্রদানকারী এই ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও
মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি
অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন প্রসিকিউশন।
অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া রাজসাক্ষী
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের খালাস চান তার আইনজীবী।
এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ
তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এছাড়া শুনানিতে
প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটরা
উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি
করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী
আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম
শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য
দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বোমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায়
সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান
খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর
আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে
(অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা
পড়ে।
মন্তব্য করুন


বিশ্বব্যাপী আলোচিত এবং সমাদৃত প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ এবং ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ধারণাটি
বাস্তবায়নে সমবায় অধিদপ্তর অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী
উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব
ভুঁইয়া।
আজ রোববার (৫ জানুয়ারি) ঢাকায় সমবায়
অধিদপ্তর পরিদর্শন এবং পায়রা সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী
গৃহীত ‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’ একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যার ভিত্তি হচ্ছে
শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ। এ সময় ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’
এবং ‘সামাজিক ব্যবসায়’ ধারণাটি বাস্তবায়নে কাজ করতে সমবায় অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সমবায় অধিদপ্তরের
প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং পারফরম্যান্স নিম্নমুখী বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু তা ঊর্ধ্বমুখী
করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমবায় আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের
নির্দেশনা দেন তিনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার
বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সমবায় অধিদপ্তরের সদস্যদের
নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে পাইলটিং প্রকল্প গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। এছাড়াও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সুষম সম্পদের বণ্টনের
জন্য সমবায় অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভার শুরুতে সমবায় অধিদপ্তরের
নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সমবায় কার্যক্রম সম্পর্কে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন
দেন যুগ্ম নিবন্ধক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মোখলেছুর রহমান। সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আগামী
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ
ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ
রোববার ( ০৭ ডিসেম্বর ) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কমিশনারগণ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে
সাক্ষাৎ করে নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।
বৈঠকে
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত
ছিলেন।
জাতীয়
নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন
মিয়াও বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে সিইসি নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সব
ধরনের প্রস্তুতি সঠিক ও সুন্দরভাবে এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন
ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রস্তুতিকালে ইসিকে পূর্ণ
সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন
কমিশনাররা।
নির্বাচনের
প্রস্তুতিকালে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও
প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান।
তিনি
বলেন, ইতোমধ্যে নাগরিকরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন, যা দেশে নির্বাচনী
আমেজ সৃষ্টি করেছে।
এ
সময় নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সুষ্ঠু
ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে
সরকার।’
তিনি
বলেন, ‘জাতির জন্য প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে আপনারা (ইসি) চালকের আসনে আছেন। আমাদেরকে
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতিকে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয়ে
এগিয়ে চলছি।
মন্তব্য করুন