

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট বয়কটের আলোচনা চলার মধ্যেই বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এ পরিস্থিতিতে স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার জানিয়েছে, আগামী ২৫ জানুয়ারি বিশ্বকাপ দলে থাকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক করবেন নাকভি। সেখানে বিশ্বকাপের পরিকল্পনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনার পেছনে বাংলাদেশের বাদ পড়ার বিষয়টি বড় কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেন পিসিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি পাকিস্তান সরকারের ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার দেশে ফেরার পরই জানানো যাবে। নাকভির ভাষায়, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং পিসিবি সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করবে, আইসিসির নয়।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আইসিসি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অন্যায় আচরণ করেছে। এই বিষয়টি তিনি আইসিসির বোর্ড সভাতেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন বলে জানান। নাকভির মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য নয়—যেখানে একটি দেশ ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পায়, অথচ অন্য দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এরপর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানায়, ভারত গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বাংলাদেশ দল।
এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত বুধবার আইসিসির সভা শেষে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
পরবর্তীতে আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। টাইগারদের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের মাটিতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
আজ রবিবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারা আমাদের জন্য ভালো মাইলফলক হবে। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশ একটা সংকটকালীন পার করছে, আবার একইসঙ্গে যারা আমাদের মেহমান হয়ে আসবেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। সবকিছু বিবেচনায় এটা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই, এখন এটা রাষ্ট্রীয় ব্যাপার। ড. মুহাম্মদ ইউনূস (অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) স্যার আছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নতুন নিয়োগ পেয়েছেন। সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব। আইসিসির সঙ্গেও আমাদের আলোচনা চলমান আছে। তারপর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।
বেশ কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে আগামী ২০ আগস্ট ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে বসবে আইসিসি। তারা চাচ্ছে সেই সময়ের মধ্যে যেন বিসিবি নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।
সূচি অনুযায়ী আগামী ৩-২০ অক্টোবর বাংলাদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যার জন্য আয়োজকদের হাতে আর মাত্র দেড় মাস বাকি। সে হিসেবে দ্রুত জটিলতার অবসান চায় আইসিসি।
মন্তব্য করুন


দেশের বেশিরভাগ জায়গায় রাতের তাপমাত্রা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আজ রাতেও তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে ।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাজশাহীতে। একদিন আগে সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে আগামী কয়েকদিন সারাদেশে কুয়াশা ফের বেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ সময়ে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। কুয়াশার কারণে সারাদেশে দিনে ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।
বুধ ও বৃহস্পতিবার সারাদেশে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বুধবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
তবে পরবর্তী পাঁচদিনে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও জানান তরিফুল নেওয়াজ কবির।
মন্তব্য করুন


ইন্টারপোলের ৯৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে মরক্কো গেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) তিনি মরক্কোর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।
আগামি সোমবার (২৪ নভেম্বর) থেকে ইন্টারপোলের সদস্যভুক্ত বিশ্বের ১৯৬ দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মরক্কোর মারাকেশে ৪ দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সম্মেলন শেষ হবে। আইজিপি সম্মেলন শেষে আগামী ৩০ নভেম্বর দেশে ফিরবেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সম্মেলনে ৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পুলিশ প্রধান বাহারুল আলম। তিনি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পুলিশ প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব অনুষ্ঠানে ইনফরমেশন শেয়ারিং (তথ্য আদান-প্রদান), যৌথ কার্যক্রম, সক্ষমতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। ইন্টারপোলের সাধারণ অধিবেশন বৈশ্বিক পরিসরে পুলিশি সহযোগিতার সর্ববৃহত আয়োজন। সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, সাইবার অপরাধ দমন, মানবপাচার, অর্গানাইজড ক্রাইম (সংঘবদ্ধ অপরাধ), ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সীমান্তপারের অপরাধ), পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়সহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্টারপোলের বার্ষিক সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে সংস্থাটির নীতি, কার্যপদ্ধতি, বাজেট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ইন্টারপোলের এবারের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয়সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের তথ্য প্রযুক্তগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি বলেন, সরকার সব ধরনের নাগরিক সেবাকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে অনেক সেবা দেশে ও বিদেশে অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। এসব সেবাকে সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্ন রাখতে হলে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
নাগরিক সেবার খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানউপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ যেসব প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তাদের নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকেও আরও দক্ষ করে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট জনবলকে একটি রেটিং পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাইবার সুরক্ষাসহ প্রকৃত মূল্যায়ন সহজ হয়।
ফিনান্সিয়াল সেক্টরে কোনো অপরাধ করে যেন কেউপার পেয়ে না যায়—সে বিষয়েও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশনসহ অন্যান্য সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি এবং বিটিআরসি’র মধ্যকার সমন্বয় সাধনের বিষয়ে জোর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের সাইবার নিরাপত্তা আরও দৃঢ় করতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়া তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্দোগের প্রশংসা করেন।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এজেন্সির কার্যক্রম ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনাসহ সাইবার পরিমন্ডলে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহন ও পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রণীত “Cyber Incident Reporting and Response System” এর বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইনউপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
২১ মে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রনয়নের পর এই সংশোধিত অধ্যাদেশের অধীনে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৬ আগস্ট জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠিত হয়।
২৫ সদস্যের এই কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সংস্কার কার্যক্রম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি আজ ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতকালে বাংলাদেশকে সমর্থনে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রস্তুতির কথা জানান।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি প্রধান মাইকেল মিলার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভূক্ত ২৭টি রাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করে পাম্পালোনি প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই স্পষ্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আপনাদের পাশে আছে। আমরা আপনাদের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন দিতে চাই।’
পাম্পালোনি বলেন, সংস্কারের জন্য অর্থের কোনো ঘাটতি হবে না এবং বাংলাদেশ সরকারের এই কাজ সম্পাদনের জন্য তারা প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেবে।
এই সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করায় প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন, তারা সেসময় বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ভন ডার লেয়েন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
পাম্পালোনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে অনেক দেশের পাশে এভাবে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া আপনার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছি এবং বুঝতে পেরেছি যে এখন বাংলাদেশে আমাদের কাজ করার মতো একজন আছেন। আপনাকে একা অনুভব করতে হবে না। আমরা সত্যিই আপনাকে সমর্থন দিতে আগ্রহী।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে করে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
রাষ্ট্রদূত মিলার প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে আরও ব্যবসায় সুযোগ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আগামী জানুয়ারিতে এই দেশ সফর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে শ্রম অধিকার সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন এবং বলেন, এর ফলে আরও বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হবে।
তিনি ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে শ্রম অধিকারের বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখব। এখানে কোনো লুকোচুরি হবে না। আমরা আর লুকোচরির খেলা খেলতে চাই না।’
ইইউ কর্মকর্তারা বিভিন্ন খাতে সংস্কারের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ইউনুসের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন।
পাম্পালোনি বলেন, ‘এই প্রথম আমরা দেখছি এমন কিছু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আপনি নির্ধারণ করেছেন, যা নিয়ে আগে আমরা কথা বলেছি। সুতরাং আমরা আপনার ওপর আস্থা রাখছি।’
প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নেপাল এবং ভারতের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, নেপালে বিশাল জলবিদ্যুৎ রয়েছে যা অপচয় হচ্ছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সহায়তা পেলে নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারত সবাই এতে লাভবান হতে পারে।
অধ্যাপক ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি বাংলাদেশের যুবসমাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দক্ষিণ এশীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েদের সাম্প্রতিক অর্জনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘তারা খেলতে গেছে এবং জয় করেছে, একবার নয়, বরং দু'বার।’
তিনি আরও অনুরোধ করেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেন একটি ইউরোপীয় ফুটবল দল পাঠায় যা বাংলাদেশের মেয়েদের অনুপ্রাণিত করবে।
মন্তব্য করুন


সোমবার ইসির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের জানান, ভোট শেষে যেসব এলাকা থেকে ভোট গণনার তথ্য পেতে সমস্যা হবে সেগুলোতে ভেরিফাইড হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৈরি অ্যাপের মাধ্যমে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ভোট পড়ার হার দুই ঘণ্টা পরপর নির্বাচনি অ্যাপে জানাবে নির্বাচন কমিশন।
৭ জানুয়ারির ভোটের দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি জানান, সেসময় মাঝারি শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে৷ ফলে চরাঞ্চল থেকে কুয়াশার কারণে ফলাফলের লিখিত তথ্যের কাগজ আসতে দেরি হতে পারে। এজন্য ফল সংগ্রহে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, তবে ভেরিফাইড হোয়াটসঅ্যাপে যেন তথ্য নিয়ে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা যায় সে চিন্তাভাবনা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির তৈরি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান সচিব।অ্যাপটির হালনাগাদ করার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটকন্দ্রের তথ্য এখনই জানা যাচ্ছে, কার ভোটকেন্দ্র কোনটি এবং লোকেশন কোথায়।
নির্বাচনের দিন দেশের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের গতিও কমবে না বলে জানান তিনি বলেন, আমাদের যতগুলো মোবাইল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম আছে সবগুলোই ফুল স্পিডে চালু থাকবে।
তবে অ্যাপটিতে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল পাওয়া গেলেও পার্বত্য অঞ্চলগুলোর মত ২০ শতাংশ এলাকা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় কেন্দ্রীভূত ফলাফল পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, কোনো কারণে ফলাফল পাঠাতে না পারলে ভোটের পারসেন্টেজে গরমিল হয়ে যেতে পারে। তবে সম্ভব হলে আমরা জানাব। আমরা সেখানে বিজিবি, পুলিশের ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করব।
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, নির্বাচনি অ্যাপে প্রায় ৩৯০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল; বাছাইয়ে টিকেছে ২৬টি।
এ অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম, প্রার্থী, দল ও আসনভিত্তিক তথ্য যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি আইনবিধি, ভোট পড়ার হার, ফলসহ নানা ধরনের তথ্যও জেনে নিতে পারবেন নাগরিকরা।
এতে একজন ভোটার সহজেই ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারবেন। আগের বছরগুলোর মতো কোথায় কোন কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন তা নিয়ে যেমন জটিলতায় পড়তে হবে না, তেমনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নম্বর খোঁজার বিড়ম্বনার মধ্যেও পড়বেন না।
মন্তব্য করুন


দেশের
গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন
বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতীয়
মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকের ইমামতিত্বে বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায়
উপস্থিত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার বড়ো ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ
পরিবারের অন্য সদস্যরা, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও
বিমানবাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথি, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ।
নামাজে
জানাজাকে ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সব এলাকায় বিপুল জনসমাগম ঘটে। নীরবতা
ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ দেশের এই শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রীকে শেষ বিদায়
জানাতে উপস্থিত হন।
এর
আগে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল
থেকে গুলশানে তাঁর বড়ো ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে নেয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য,
স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা শেষ বারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বেগম জিয়ার মরদেহ
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনা হয়।
নামাজে
জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর
রহমানের পাশে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
জানাজা
ও দাফন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় যান চলাচল
নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
বেগম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রীকে হারাল,
যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান
নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে
কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি
বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার সহযোগিতায়। গতকালই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের
সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। তারাও পুরোপুরি প্রস্তুত।’
আজ
সোমবার ( ১৫ ডিসেম্বর ) সকালে রাজধানীর গুলশান-১ এ অবস্থিত আলোকিতে ‘জেনভোট ফেস্টিভ্যাল’
উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে
ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল এফেয়ার্স)
ফিলিপ বার্নিয়ার আর্ক্যান্ড, বৃটিশ হাইকমিশনের হেড অব পলিটিক্যাল টিমোথি ডাকেট, সুইডেন
দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ইভা স্মেডবার্গ, আইএফইএস কান্ট্রি ডিরেক্টর পল গেরিন
ও ইসি সচিব আখতার হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন,
‘নির্বাচন পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী তাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতির কথা গতকালই আমাদেরকে জানিয়েছে। আপনারা সব দুশ্চিন্তা
ঝেড়ে দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে একটা সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক
নির্বাচন আমরা দেখতে পাব।’
সিইসি
বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। কারণ, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল
ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা গত ৫৪ বছরেও হয়নি। এছাড়া, প্রায় ১০ লাখ
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এমনকি কারাবন্দি এবং সরকারি কর্মচারী, যারা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের বাইরে পোস্টিংয়ে আছেন,
তাদের জন্যও ভোটের ব্যবস্থা করেছি আমরা। এবার একসঙ্গে একদিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
তাই এই সব কারণে এটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আমরাও সাহস করে নেমে পড়েছি।
আমাদের এই সাহসের সাহসী পদক্ষেপের সঙ্গে তরুণরা এতে অংশ নিলে সফল হব। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ
নির্বাচন আমরা সবাই মিলেই করব।’সিইসি দেশের তরুণদের ভোটে অংশগ্রহণের
গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমি সবসময় তারুণ্যের শক্তিতে বিশ্বাসী। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন
আমরা তারুণ্যের শক্তির ওপর ভর করে দেখি। ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালে, এবং চব্বিশের জুলাই-অগাস্টে
তরুণদের ভূমিকা দেখিয়েছে যে তারা দেশের জন্য কতদূর যেতে পারে।’
প্রধান
নির্বাচন কমিশনার তরুণদের সাহস, শক্তি ও সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘তোমাদের
যে সৃজনশীলতা ও চিন্তাধারা, এটা ছাড়া দেশ গড়া সম্ভব নয়। যখন আমি ভাবি আমাদের বিশাল
একটি তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে, এটা আমাকে উৎসাহিত করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত
হতে।’এ সময় তিনি দেশের তরুণ সমাজকে ভোটে অংশ নিয়ে একটি সুন্দর
ভবিষ্যৎ সম্পন্ন বাংলাদেশ গঠনের আহ্বানও জানান।
আজকের
‘জেনভোট ফেস্টিভ্যাল’-এ তরুণদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে মক
ভোটিং, কমিকস, ক্যারিকেচার, আর্ট ফেস্টিভ্যালসহ নানা আয়োজন রয়েছে। ভোট সংক্রান্ত তথ্য
প্রদানের জন্য বসেছে স্টল এবং তরুণ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ভোটারদের জন্য আকর্ষণীয়
সেশনও আয়োজন করা হয়েছে।
এই
উদ্যোগে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, সুইডিশ
এম্ব্যাসি, ক্যানাডিয়ান তহবিল বা সিএফএলআই এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল
সিস্টেমস।
মন্তব্য করুন


আগামী
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পুলিশের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলের জন্য
নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করা হবে।
আজ
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
প্রেস
উইং জানায়, এই প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতা এবং আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের
বাসস্থান, কার্যালয়, চলাচল, জনসভা ও সাইবার স্পেসে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন—সে
বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এছাড়া,
গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতৃত্বদানকারী ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের বাড়তি
নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তফসিল
ঘোষণার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
ঠেকাতে এবং জণগনের জান-মালের নিরাপত্তায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির
দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হাদির জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন তার বড় ভাই
আবু বকর সিদ্দিক।
আজ শনিবার
সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল
ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত
করা হয়।
এর আগে দুপুর আড়াইটার
দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ
প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে
শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার বড়
ভাই আবু বকর সিদ্দিকের
ইমামতিতে এ জানাজা আদায়
করা হয়। জানাজা শেষে
তাকে দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
কেন্দ্রীয় কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া
হয়।
শহীদ
ওসমান হাদির নামাজে জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধানসহ
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ
নেন।
জানাজার
আগে প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন,
ওসমান হাদি নির্বাচনে অংশ
নিতে চেয়েছিলেন এবং নির্বাচন কীভাবে
করা উচিত, তার একটি প্রক্রিয়াও
তিনি দেখিয়ে গেছেন।
তিনি
বলেন, হাদি যে নির্বাচনী
প্রক্রিয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেটি
আমাদের সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। কীভাবে
প্রচারণা চালাতে হয়, কীভাবে মানুষের
কাছে যেতে হয়- সবকিছুরই
শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন।
আমরা সেই শিক্ষা গ্রহণ
করেছি।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, হাদি কোথাও হারিয়ে
যাবে না। কোনোদিন তোমাকে
কেউ ভুলতে পারবে না। তোমাকে আমাদের
সবার পক্ষ থেকে আল্লাহর
কাছে আমানত রাখলাম। আমরা সবসময় তোমার
কথা রেখে জাতির অগ্রগতির
পথে চলতে থাকব।
ড. ইউনূস বলেন, আজ লাখ লাখ
মানুষ হাজির হয়েছেন। রাজপথে ঢেউয়ের মতো লোক আসছে।
এই মুহূর্তে কোটি কেটি মানুষের
চোখ এখানে। তারা তাকিয়ে রয়েছে
হাদির বিষয়ে জানার জন্য। প্রিয় ওসমান হাদি তোমাকে আমরা
বিদায় দিতে আসিনি। তুমি
আমাদের বুকের ভেতরে আছ। বাংলাদেশ যতদিন
আছে, ততদিন তুমি সব বাংলাদেশির
বুকে থাকবে। এটা কেউ সরাতে
পারবে না।
হাদির
কাছে ওয়াদা করে এসেছেন জানিয়ে
ড. ইউনূস বলেন, তুমি যা বলে
গেছ, সেটা যেন আমরা
পূরণ করতে পারি। সে
ওয়াদা করার জন্য আমরা
একত্রিত হয়েছি। সেই ওয়াদা শুধু
আমরা নয়, পুরুষানুক্রমে দেশের
সব মানুষ পূরণ করবে। তোমার
যে মানব প্রেম তোমার
যে ভঙ্গি, তোমার যে ওঠাবসা এবং
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, তা নিয়ে সবাই
প্রশংসা করছে। সেটা যেন আমাদের
মনে সবসময় জাগ্রত থাকে।
মন্তব্য করুন