

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেবে—এমন দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভিন্ন কিছু বললেও তিনি আলোচনা ও তথ্য জেনেই এই বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে এনে বিচার কার্য সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এ বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞও মনে করেন—আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা কঠিন নয়।বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ চাইলে একে অপরের পলাতক আসামিকে হস্তান্তর করতে পারে। তবে চুক্তিতে থাকা কয়েকটি ধারা প্রক্রিয়াটিকে জটিল করে তুলেছে, যার ব্যাখ্যার ওপরই প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা নির্ভর করছে।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেন—মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কামালকে ভারত ফেরত পাঠাবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা সরকারি যোগাযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রেস সচিবের উল্লেখ করা তথ্য সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ বা বার্তা পায়নি।তবুও শফিকুল আলম তার বক্তব্যে অনড়। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশে ঘটে যাওয়া গুম-খুনসহ ভয়াবহ অপরাধের নেপথ্যে কামালের সম্পৃক্ততা ছিল, এবং তিনি এই তথ্য পুরোপুরি জেনে তবেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন—এটি কেবল “ফেসবুক পোস্ট” নয়, বরং নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রদত্ত মন্তব্য।
মন্তব্য করুন


শ্রীলংকায়
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা কবলিত জনগণের জন্য বাংলাদেশ জরুরী ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে।
বন্ধুপ্রতীম
দেশ শ্রীলঙ্কায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া'র প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের
মতো মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত মর্মাহত। এ পরিস্থিতিতে শ্রীলংকা সরকার জরুরী
অবস্থ জারী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
শ্রীলংকার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কলম্বোস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য, ঔষধ সামগ্রী
ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী প্রেরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানায়।
আন্ত:বাহিনী
জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি ১৩০জে পরিবহন বিমান ক্ষতিগ্রস্থদের মানবিক সহায়তা প্রদানের
লক্ষ্যে আজ বুধবার বাংলাদেশ বিনান বাহিনীর ১৫ জন ক্রুর একটি দল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের
একজন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কলম্বো
উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
বিমান
বাহিনীর এয়ার কমডোর মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম মিশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। আজ প্রেরণকৃত
সর্বমোট প্রায় ১০ টন ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে তাঁবু, শুকনো খাবার, মশারী, টর্চ লাইট,
গাম বুট, ভেস্ট, হ্যান্ড স্লোভস, রেসকিউ হেলমেট এবং বিপুল পরিমান ঔষধ।
উল্লেখ্য,
মানবিক সহায়তা প্রদান শেষে সি ১৩০জে পরিবহন বিমানটি একই দিন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন
করবে।
বাংলাদেশ
সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রেরিত এই মানবিক সহায়তা শ্রীলংকায়
সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা
পালন করবে।
আগামী
দিনগুলোতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈশ্বিক যে কোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
আত্মনিয়োগের জন্য সদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
উল্লেখ্য,
শ্রীলংকায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া'র প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে
এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২ শতাধিক জন নিখোঁজ রয়েছে। শ্রীলংকার দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য মোতাবেক উক্ত বন্যায় ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ
হয়েছে এবং ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ
ইসলাম বলেছেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি
পরিবহন খাতে রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
আজ শনিবার (২১ ডিসেম্বর) প্রেস ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে
প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার বিষয়ক জাতীয় সংলাপে তিনি একথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ
ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের কথিত উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
ওই আন্দোলনের মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাথায় নিরাপদ সড়কের বিষয়টি গেঁথে
গিয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
পাশাপাশি পরিবহন খাতে রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যেসব কাঠামোগত উন্নয়ন মানুষের
জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সেসব উন্নয়ন অর্থহীন। তাই, আমাদের মৌলিক উন্নয়ন
পরিকল্পনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনাকে কাঠামোগত হত্যাকান্ড
হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক
ও কাঠামোগত দুর্বলতা অনেকাংশে দায়ী।
পরিবহন খাতে বহুমুখী সমস্যার বর্ণনা
দিয়ে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।
এ সময়ে তথ্য উপদেষ্টা সড়ক নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যের বরাত
দিয়ে সংলাপে জানানো হয়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে সড়ক
দুর্ঘটনায় ৩৭ হাজার মানুষ নিহত ও ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সংলাপে আরও জানানো হয়, গণপরিবহন ৫৩
শতাংশ যাত্রী বহন করে, আর ব্যক্তিগত যানবাহন ১১ শতাংশ যাত্রী বহন করে। অথচ ব্যক্তিগত
যানবাহন ৭০ শতাংশ সড়ক দখল করে চলে। ৩০ শতাংশের কম জায়গায় চলে গণপরিবহন। এটি সাধারণ
মানুষের প্রতি চরম বৈষম্য।
সংলাপের শুরুতে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা
প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি
আব্দুলাহ এম ফেরদৌস খান।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক
ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক
ফারুক ওয়াসিফ, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের
নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাজারের ওরশে দেওয়া পোড়া খিচুড়ি নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে হোমিও চিকিৎসক আহমেদ আলী (৫০) নিহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটে বুধবার সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর মাজারসংলগ্ন শখের বাজারে।
নিহত আহমেদ আলী ছিলেন নয়ন সুখ গ্রামের মৃত আপিল উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধা সদর থানার মালীবাড়ী ইউনিয়নের মুর্শিদের বাজার থেকে ওরশের খিচুড়ি নেন খলিলুর রহমানের ছেলে রেনু আহমেদ ও তার ভাই মনু মিয়া। পরে সেই খিচুড়ি দেওয়া হয় আহমেদ আলীকে।
বুধবার সকালে আহমেদ আলী দোকানের সামনে রেনু ও মনুকে দেখে জানতে চান, কেন পোড়া খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে রেনু ও মনু তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আহমেদ আলীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তাজুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


পানিসম্পদমন্ত্রী
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, হ্যাঁ-না ভোটে হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ায় শপথ নেওয়ার কোনো
প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ অটোমেটিক জাতীয় সংসদে বসামাত্র কার্যকরী হবে এবং এটি জাতীয় সংসদে
বিল হিসেবে প্রযোজ্য হবে।
আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবসে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের
প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী
আরও বলেন, যেখানে না ভোট এসেছে, সেখানে পার্লামেন্টেই আলোচনা হবে ও সিদ্ধান্ত হবে।
বিরোধীদের
নোট অব ডিসেন্টও পার্লামেন্টে নির্ধারিত হবে। তিনি জানান, আইনজীবীরা ইতোমধ্যে বিষয়গুলো
সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
জামায়াতসহ
বিরোধীদের উদ্দেশে এ্যানি বলেন, মতপথ ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের উন্নয়নের জন্য
সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিরোধিতা দেশ গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়ালে চলবে না।
মব
সংস্কৃতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, মব মানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। এটি দেশের উন্নয়নের
পথে বাধা। যারা এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে, তারা দেশের শত্রু হিসেবে গণ্য হবেন। সকলকে
দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
এসময়
উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট
হাছিবুর রহমান, সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ
সম্পাদক শাহ্ মো. এমরান, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, জেলা যুবদলের সাধারণ
সম্পাদক সৈয়দ রশীদুল হাসান লিংকন ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


বিভিন্ন
সময়ে হারিয়ে যাওয়া ৫০টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দিয়েছে ঢাকা
মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্টন মডেল থানা পুলিশ।
পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানানো হয়, বিভিন্ন কারণে
মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মোবাইল মালিকদের সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে পল্টন মডেল
থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ০১ ফেব্রুয়ারি হতে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫০
টি মোবাইল ফোনসেট দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে
হারানো মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধারে মতিঝিল জোনের এসি হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী ও পল্টন মডেল
থানার এএসআই ইকবাল হোসেন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
গত সোমবার (০২ মার্চ) পল্টন মডেল থানার সম্মেলন কক্ষে
মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী ও পল্টন মডেল থানার অফিসার
ইনচার্জসহ অন্যান্য অফিসারদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত ৫০টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের
নিকট হস্তান্তর করা হয়।
থানা সূত্রে আরো জানা যায়, ইতিপূর্বেও বিগত প্রায়
০১ বছরে পল্টন মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক প্রায় ৭০০টির অধিক হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক
প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনসেটগুলো দ্রুততম সময়ে ফিরে
পেয়ে আনন্দিত মোবাইল ফোন মালিকরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত রিপাবলিক অব কসোভোর রাষ্ট্রদূত মি. লুলজিম প্লানা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
আজ সোমবার সকাল ৯টায় রাজধানীর বসুন্ধরাস্থ আমিরে জামায়াতের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রদূত বৈঠকের শুরুতেই আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তার পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ ও কসোভোর দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা খোলামেলা আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি কসোভোর দৃঢ় সমর্থন থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণা করলেন
তাঁর নাতনি জাইমা রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা।
তিনি আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে দাদু খালেদা জিয়ার
সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন ছিল, সে কথা তুলে ধরেন।
জাইমার
পোস্টটি হলো— দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো,
পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন! আমার বয়স তখন এগারো।
আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু
আমাকে সরাসরি দাদুর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা
বলতে পারি; তাঁকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখাতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার
হিসেবে কী কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আর স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচন্ড মনোযোগ নিয়ে
আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।
আমি সব সময়ই জানতাম, আমার দাদুর কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু
হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের
প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’।
আমাদের ‘দাদু’। তিনি সব সময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময়
বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন,
উজ্জীবিত করতেন। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি
হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।
বাংলাদেশের
বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার
শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ;
সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয়
প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি।
লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার
হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক
জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে
দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা
মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে
আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারও না কারও
জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার
হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে তাঁদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা
হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর
অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে
ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই। আমি আমার ‘দাদা’কে
কখনো দেখিনি। কিন্তু তাঁর সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’
আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের
সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা
রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে
তাঁদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।
অনেকগুলো
বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে
ইনশা আল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে
সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে
সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে
জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ
আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক। আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের
কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের
দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব
করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে।
সংক্ষেপে,
আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে।
এই গল্পগুলোকে ধারণ করে আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।
মন্তব্য করুন


তীব্র তাপপ্রবাহে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য
সুরক্ষায় আগামীকাল শনিবার (৪ মে) ঢাকা, রাজশাহী, খুলনাসহ মোট ২৫ জেলায় সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে চলমান তাপদাহের কারণে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া পূর্বাভাসের ভিত্তিতে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলার,
ঢাকা বিভাগের ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার, চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার এবং রংপুর বিভাগের
রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার সকল মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামীকাল শনিবার ৪ মে বন্ধ থাকবে।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের
ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে ‘নাকে খত’
দেওয়ানোর অপমান সইতে না পেরে মো. মাসুম (২০) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ
করেছে তার পরিবার।
রবিবার
(৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মো.
মাসুম ওই গ্রামের মিজি বাড়ির আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মো. নয়ন পাটওয়ারীর দুটি চীনা হাঁস ও একটি
দেশি হাঁস গত শুক্রবার রাতে চুরি হয়। পরদিন সকালে হাঁস না পেয়ে পরিবারের লোকজন জানতে
পারেন, একই গ্রামের মাসুম হাঁসগুলো চুরি করে রাবেয়া বেগম নামে এক গৃহবধূর কাছে বিক্রি
করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ
ঘটনার জেরে রবিবার দুপুরে মাসুমের বাড়িতে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রাম্য
সালিশ বসে। সালিশে সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে মাসুমকে অভিযুক্ত
করা হয়। সেখানে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কাজ না
করার শর্তে ‘নাকে খত’ দেওয়ানো হয়।
পরিবারের
দাবি, এ ঘটনায় মাসুম অপমানিত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সন্ধ্যায় পরিবারের অগোচরে ঘরের
আঁড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে
খবর দেন।
স্থানীয়
ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেছেন, মাসুম এর আগেও চুরির ঘটনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এবার হাঁস চুরির ঘটনায় সে অপরাধ স্বীকার করায় তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়
এবং নাকে খত দেওয়া হয়। পরে সে আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি।
মাসুমের
বাবা আলাউদ্দিন মিয়া অভিযোগ করেন, চুরির অপবাদ দিয়ে নয়ন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন তার ছেলেকে
মারধর করেছেন। ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে একতরফা সালিশ করে তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও
দাবি করেন তিনি।
তিনি
জানিয়েছেন, অপমান সইতে নানা পেরে তার ছেলে
আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনার জন্য ইউপি সদস্য, সালিশে থাকা ব্যক্তিরা ও নয়ন পাটোয়ারী দায়ী।
তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে
হাঁসের মালিক নয়ন পাটোয়ারী বলেছেন, হাঁস চুরির ঘটনায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো
হয়েছিল। তারা বিচার করেছেন এবং তিনি সেই রায়ে সন্তুষ্ট। তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ
সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ফরিদগঞ্জ
থানার উপপরিদর্শক মো. হেলালউদ্দিন বলেছেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি
করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন
পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


গণ-অভ্যুত্থান
পরবর্তী আগামী নির্বাচনকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের
মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে।
আজ
বুধবার ( ১০ ডিসেম্বর ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী
অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা
প্রদানকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সকল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের কর্মকর্তাগণ এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় ইউএনওদের উদ্দেশ্যে
আরও বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে
না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি না পারি তাহলে
জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, যে
কোনো সুস্থ মানুষ বলবে—এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।’তিনি
বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মতো নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা
যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও
ঐতিহাসিক হবে।’
উপজেলা
নির্বাহী অফিসারদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন
করেন তাহলেই সরকার তার দায়িত্বটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। আগামী নির্বাচন ও
গণভোট দুটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন আগামী
পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য। গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা
বাংলাদেশটাকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে চাই, তার
ভিতটা এর মাধ্যমে গড়তে পারি।’সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের উদ্দেশ্যে
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন
আয়োজন করা। তিনি ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট
সব পক্ষ, এলাকাবাসী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের
প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।
গণভোট
বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘ভোটারদের বোঝাতে হবে যে
আপনারা মন ঠিক করে আসুন—‘হ্যাঁ’-তে
দেবেন নাকি ‘না’-তে ভোট দেবেন—মন
ঠিক করে আসুন।’
প্রধান
উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও
ভালো হয়। তিনি কর্মকর্তাদের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য
ও গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
নির্বাচনে
অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীরা
যেন ঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। শীঘ্রই নির্বাচনের তফসিল
ঘোষণা করা হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন,
কীভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই
নিন।’
অনুষ্ঠানে
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর
রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন