

ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের
তদন্তে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক
আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তার্ক।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার
(৩০ আগস্ট) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র
রাভিনা শামদাসানি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের এই মুখপাত্র
জানান, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সত্য অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনুসের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন ফলকার তার্ক। গত ১ জুলাই থেকে
১৫ আগস্টের ঘটনাগুলোর তদন্তে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য আগামী সপ্তাহের কোনো একসময় বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল আসার কথা রয়েছে। দলটিকে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানী সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজে (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ শক্তি ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছে মন্তব্য করে জাতির কল্যাণে আগামী দিনেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দেশ–বিদেশের কয়েকশ’প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন সম্মেলনে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো অন্যায়, অবিচার মোকাবিলা করা যায়। শুধু তাই নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। যেটা আমরা একশ’দিন জুলাই-আগস্ট মাসে দেখিয়েছি। তাই আগামী দিনেও সবাইকে দেশ-জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, কোনো অন্যায়, দোষ না করেও এ দেশের মানুষ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। অনেক বড় শক্তির মুখোমুখি হওয়াতে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু আমরা এটাও জানি যে, যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, যখন আমরা এক হয়ে কাজ করি, তখন আমাদের ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতা আছে, যেমনটি আমরা ১০০ দিন আগে বাংলাদেশে করেছি।
তিনি বলেন, মাত্র ১০০ দিন আগে একটি অনন্য রাজনৈতিক উত্থানের সম্মুখীন হয়েছিল বাংলাদেশ। গত ১৬ বছর ধরে চলা একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়েছে ছাত্ররা। আমি এ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অতিথিদের কাছে একটি সদ্য উদীয়মান দেশে স্বাগত জানাই। নতুন বাংলাদেশ বলে অভিহিত করছি।
জুলাই বিপ্লবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০ হাজার আহত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা তাদের সবাইকে শ্রদ্ধা জানাই যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যারা সারা জীবনের জন্য তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, চোখ এবং অনেক শারীরিক সক্ষমতা হারিয়েছে, তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদেশিদের জুলাই-আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড নিজের চোখে দেখার জন্য রাজধানীতে ঘুরে ঘুরে দেখার অনুরোধ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি আরও বলেন, ঠিক ১০০ দিন আগে এ শহরে যা ঘটে গেছে তা আপনার নিজ চোখে দেখে যান। জুলাই বিপ্লবের সময় তরুণদের আবেগ এবং আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে রঙিন চিত্রে আঁকা রাস্তার দেয়ালগুলো দেখুন। দেখতে পারবেন কীভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্ম কী চায়, তাদের অভিব্যক্তি দেখে যে কেউ অবাক না হয়ে পারবেন না। এ ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া না করার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এ বিপ্লবের কোনো ডিজাইনার ছিল না, কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ছিল না এবং কোনো সংস্থা এটিকে অর্থায়ন করেনি। তরুণরা তাদের নিজের শক্তিতে করেছে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


দেশের
গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে
জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।
আজ
মঙ্গলবার ( ৩০ ডিসেম্বর ) দুপুর ১২টায় জাতির
উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক
ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না
ইলাইহি রাজিউন।’
তিনি
বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।
এই
গভীর শোকের মুহূর্তে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকের
প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন সবাই এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি লাভ করেন।
ভাষণে
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত
ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে
তাঁর অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে
তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে
এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি
বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি খালেদা জিয়ার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে
স্মরণ করবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা
ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন মহান, দূরদর্শী
ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হবার নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শোকাবহ
এই সময়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সবাই যেন যার যার অবস্থান
থেকে মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই
সঙ্গে তিনি বলেন, জাতির এই কঠিন সময়ে আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি। ভাষণে তিনি সতর্ক করে
বলেন, শোকের এই সময়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে
বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই সময়ে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন অত্যন্ত জরুরি।
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাঁর নামাজে জানাজার দিনে এক দিনের (আগামীকাল বুধবার) সাধারণ
ছুটিও ঘোষণা করেন।
নামাজে
জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালন শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি বিনীত
আহ্বান জানান তিনি। ভাষণের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি জানেন, এই সময়ে মানুষ
আবেগাপ্লুত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই ধৈর্যের পরিচয় দেবেন এবং জানাজাসহ সব আনুষ্ঠানিকতা
পালনে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করবেন। শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর জন্য ধৈর্য,
শক্তি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষমতা কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


সেনাপ্রধান
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।
বৃহস্পতিবার
(৫ সেপ্টম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য
জানিয়ে বলা হয়, সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের ব্যক্তিগত কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।
সাথে
আরো বলা হয় যে, এ অবস্থায় সেনাবাহিনী প্রধানের পরিচয় বা ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
কোনো ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আইএসপিআর থেকে
অনুরোধ করা হয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে চলছে।
আজ সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তেজগাঁও কার্যালয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার বৈঠক চলছে।
এ বৈঠকে সমসাময়িক ইস্যু ও অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
মন্তব্য করুন


কোনো ব্যক্তি
গুম হওয়ার পর ন্যূনতম ৫ বছর নিখোঁজ থাকলে এবং জীবিত ফিরে না আসলে ট্রাইব্যুনাল তাকে
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিখোঁজ’ বা ‘ডিসাপিয়ার্ড’ ঘোষণা করতে পারবে এমন বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ
ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
একইসঙ্গে হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় নতুন অধ্যাদেশ এবং সুইজারল্যান্ডের বার্নে নতুন দূতাবাস
স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক
বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য
জানানো হয়েছে।
অনুমোদিত অধ্যাদেশ
অনুযায়ী, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা কমিশনের
পূর্বানুমতি ছাড়াই নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া সরকার মানবাধিকার
কমিশনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’-এর জন্য প্রয়োজনীয়
সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে। ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী ব্যক্তিগত উদ্যোগেও
ট্রাইব্যুনাল আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন।
বৈঠকে ‘বাংলাদেশ
হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। অপরিকল্পিত
বাঁধ নির্মাণ, কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাবে হুমকির মুখে
থাকা হাওর ইকোসিস্টেম রক্ষায় এই আইন করা হচ্ছে।
এই অধ্যাদেশের
মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
এতে সংরক্ষিত হাওর এলাকা ঘোষণার বিধান রাখা হয়েছে। হাওর এলাকায় নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা
করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া উন্নয়ন
প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের
রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা
পরিষদ। বর্তমানে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মাধ্যমেই জাতিসংঘ ও দ্বিপাক্ষিক
কাজ চালানো হচ্ছিল। সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হওয়ায় বার্নে
দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূত, ফার্স্ট সেক্রেটারি
ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে।
বৈঠকে জুলাই
গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক
অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার
চিকিৎসার তদারকি করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিঙ্গাপুরে অবস্থান
করছেন। এছাড়া মহান বিজয় দিবস সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে
ধন্যবাদ জানায় উপদেষ্টা পরিষদ।
মন্তব্য করুন


আগামী রোববার
থেকে শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক
কার্যক্রম শুরু
হতে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের প্রধান
উপদেষ্টা মুহাম্মদ
ইউনূস আগামী
১৮ অগাস্ট
থেকে স্বাভাবিক
শিক্ষা কার্যক্রম
শুরু করার
নির্দেশ দিযেছেন বলে বৃহস্পতিবার
মাধ্যমিক ও
উচ্চশিক্ষা বিভাগের
এক অফিস
আদেশে জানানো
হয়।
এর আগে
গত মঙ্গলবার
প্রাথমিক ও
গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
বুধবার থেকে
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
শ্রেণি কার্যক্রম
পুরোদমে চালুর
নির্দেশনা দিয়েছিল।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠক করেছেন ।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন উপদেষ্টারা। পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণসহ অগ্রাধিকার করণীয় নিয়েও আলোচনা হয় এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের নয়টি জেলা। বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো– ফেনী, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও খাগড়াছড়ি। এসব জেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি ও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, বন্যা কবলিত এলাকা ফেনী-নোয়াখালীর উদ্দেশে ২৫০ উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ইতোমধ্যে ৫০-এর বেশি উদ্ধারকারী নৌকা রওনা দিয়েছে এবং সারাদিনে আরও দুইশ নৌকা যাওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়াও,
পদোন্নতি বঞ্চিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনসহ বেশ কিছু বিষয়ে
বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


দেশের
গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন
বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতীয়
মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকের ইমামতিত্বে বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায়
উপস্থিত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার বড়ো ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ
পরিবারের অন্য সদস্যরা, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও
বিমানবাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথি, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ।
নামাজে
জানাজাকে ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সব এলাকায় বিপুল জনসমাগম ঘটে। নীরবতা
ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ দেশের এই শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রীকে শেষ বিদায়
জানাতে উপস্থিত হন।
এর
আগে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল
থেকে গুলশানে তাঁর বড়ো ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে নেয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য,
স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা শেষ বারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বেগম জিয়ার মরদেহ
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনা হয়।
নামাজে
জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর
রহমানের পাশে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
জানাজা
ও দাফন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় যান চলাচল
নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
বেগম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রীকে হারাল,
যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন


প্রায় ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জেরে এ দীর্ঘসময় সেবা বন্ধ ছিলো ।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় তাই হাসপাতালে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় হাসপাতালে ২ প্লাটুন বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের সঙ্গে দুইজন প্রবেশ করতে পারবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন ও দর্শনার্থীদের তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। লাঠি, ধারালো অস্ত্র বা জীবনহানি হয় এমন কোনো জিনিস নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রাতে ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা দেওয়া শুরু করেছেন। হাসপাতালে আসা রোগীরা টিকিট কেটে জরুরি বিভাগে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারছেন।
জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, শর্ত সাপেক্ষে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে সেবা দেওয়া শুরু করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে এবং মূল দাবি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকদের মারপিট করা দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি আমাদের নিরাপত্তায় হাসপাতালে সেনাবাহিনী এবং বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। আশা করব, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে।
প্রসঙ্গত
যে, গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি
অব বিজনেস টেকনোলজির (বিইউবিটি) শিক্ষার্থী আহসানুল হক দীপ্তর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের তিন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা
ঘটে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন চিকিৎসকরা।
এরই জেরে আজ দিনভর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন ঢামেকের চিকিৎসকরা।
মন্তব্য করুন