

নেপাল
ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নতুন বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালের
লহেন্দে নদীর উজানে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী হ্রদ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক
করেছে চীন। হ্রদের পানির রং ক্রমেই গাঢ় হয়ে আসাকে সম্ভাব্য বিপদের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ
করেছে দেশটি।
নেপালের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক বার্তায় চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক দিন
আগে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর হ্রদটি তৈরি হয়। শুক্রবার পর্যন্ত এতে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার
পানি জমা হয়েছে। পানির উচ্চতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
চীনের
বার্তায় বলা হয়েছে, ‘গত পরশুদিন তৈরি হওয়া হ্রদের পানির রং ক্রমাগত গাঢ় হচ্ছে। এর অর্থ,
হ্রদটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।’
তবে
হ্রদটি ভেঙে গেলেও পানির প্রবাহ খুব বেশি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে চীন। দেশটির
হিসাব অনুযায়ী, বাঁধের কোনো অংশ ভেঙে গেলে নদীতে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার
পানি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম
বলে মনে করছে চীন।
উজানের
অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গেলে ভাটির এলাকার নদীর পানি বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় নদীর তীরবর্তী
বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
হিমবাহ
ধসে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের কারণে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়ে ওই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। চীনের
অংশে চোচেন নদী এবং নেপালের অংশে পুরেপু নদীর মিলনস্থলের কাছে হ্রদটি তৈরি হয়েছে বলে
জানিয়েছে চীন।
চীনের
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হ্রদটির পানির স্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে। এরই মধ্যে এতে
প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে
পারে বলেও এর আগে সতর্ক করেছিল চীন।
হ্রদটি
ভেঙে গেলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কতটা হতে পারে, তা জানতে বন্যার পানির প্রবাহ নিয়ে মডেলিংও
করেছে চীন। দেশটির হিসাব অনুযায়ী, বাঁধের কোনো অংশ ভেঙে গেলে নদীব্যবস্থায় সর্বোচ্চ
৫০০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ডে পানি প্রবাহিত হতে পারে। তবে পানি নদীর তীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ
থাকবে বলে চীনের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হ্রদটির
পরিস্থিতি ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার হ্রদটি উপচে লহেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে পানি পড়তে শুরু করে। তবে দুপুর
নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম
সিসিটিভি।
এর
মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্বেগ বেড়েছে নেপালে। বুধবারের আকস্মিক বন্যায় দেশটির
বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে নেপালে অন্তত ৫৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিব্বতে মারা গেছেন অন্তত সাতজন। বন্যার পর উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন করে হ্রদ ভেঙে
পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রীর
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা
মাহদী আমিন বলেছেন, দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না। বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা
উন্নয়ন এবং সুনাগরিক তৈরির অন্যতম সূতিকাগারে পরিণত হবে।
রোববার
(৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর
এই উপদেষ্টা বলেন, গত সাড়ে তিন মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে,
তার ভিত্তি প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী ভিশন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি
ম্যানিফেস্টো। আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চশিক্ষাকে শুধু সনদ নির্ভর না করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক
এবং জীবনঘনিষ্ঠ করতে হবে।
তিনি
বলেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ,
ক্যারিয়ার সেন্টার ও জব প্লেসমেন্ট কার্যক্রম চালু, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কলাবোরেশন
শক্তিশালীকরণ, এপ্রেন্টিসশীপ ও ইন্টার্নশীপের সুযোগ বৃদ্ধি, ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা
ও তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’
কর্মসূচি, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক
কর্মকাণ্ড হিসেবে খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব
উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটি যোগ্য, দায়িত্বশীল এবং আত্মনির্ভরশীল তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা।
প্রতিমন্ত্রী
পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্বে রয়েছেন।
মাহদী
আমিন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
অতি স্বল্প সময়ে যে অগ্রগতি ও অর্জনের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে, তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই পরিবর্তনের বার্তা নতুন আশার সঞ্চার করছে এবং উচ্চশিক্ষা
ব্যবস্থায় ইতিবাচক সংস্কারের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ধারাবাহিকতা বজায়
থাকলে এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
তিনি
বলেন, প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, নির্বাচিত সরকারের কাছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন এতো
গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতির মধ্যে। দেশের সর্বাধিক শিক্ষার্থী, অর্থাৎ ৩০ থেকে ৪০ লাখ ছাত্র-ছাত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ২,২৮৫টি কলেজে অধ্যয়ন করে। নারীর ক্ষমতায়নকে প্রস্ফুটিত
করে, কেবল এই বছরে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছে ৪ লক্ষেরও বেশি ছাত্রী। প্রতিবছর সর্বাধিক
সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বের হয়ে আসে। এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে,
সেই গ্র্যাজুয়েটদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান খুঁজে পায়না, ফলে শিক্ষিত বেকারত্বের বেড়াজালে
বন্দি হয়ে পড়ে। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তন মানে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন
নয়; বরং সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং লক্ষ-লক্ষ পরিবারের
ভাগ্যের পরিবর্তন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো জাতির বিনির্মাণ ও অগ্রগতির প্রশ্ন।
মাহদী
আমিন বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানীকেন্দ্রিক কোনো
প্রতিষ্ঠান নয়। এটি সারা দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক। শহর থেকে
মফস্বল, জেলা থেকে উপজেলা, একদম তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ
মানুষের ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।
তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালীকরণ মানে
প্রধানমন্ত্রীর যে রাজনৈতিক দর্শন, অর্থাৎ তৃণমূলের শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সম্ভাবনার
বিকাশ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথকে সুদৃঢ়
করা।
প্রধানমন্ত্রীর
এই উপদেষ্টা বলেন, জনগণের সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট সমস্যার দ্রুত সমাধান
এবং মানসম্মত শিক্ষার সম্প্রসারণে বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরীক্ষা ও ফলাফল প্রক্রিয়ায় ডিজিটাইজেশন, এবং বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ
ক্যাম্পাসে সেশনজট অপসারণকে প্রাধান্য দিয়ে একটি গৌরবময়, আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ে
রূপান্তরের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যার ইতিবাচক ফল শিগগিরই পাওয়া যাবে।
তিনি
বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা বিনির্মাণ
করতে চাই, যেখানে উদ্দীপ্ত শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং
মানুষের প্রতি মমত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হবে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সক্ষমতা ও ব্যবহারিক
জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ক্লাব
ভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন- বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাকে
উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ
নিশ্চিতকরণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা হবে। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট
অর্জনের মাধ্যম হবে না। বরং তা হবে প্রশিক্ষিত, কর্মদক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন
নাগরিক তৈরির প্রধান ভিত্তি।
তিনি
বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের সেই পথযাত্রায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে শুধুই একটি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। বরং গণমানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির প্রতীক। কারণ, ১৯৯২
সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, সাধারণ মানুষের
দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষায় বৈষম্যহীনতার মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষার মাধ্যমে জাতির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা।
দেশনেত্রীর
পরিকল্পনার যথার্থতা আমরা আশেপাশের দেশগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাই। বিভিন্ন দেশের
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তাদের ন্যাশনাল ডেভলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
National শব্দটি সেখানে কেবল নামের অংশ নয়; বরং জাতীয় উৎকর্ষ, চরিত্র গঠন ও নেতৃত্বের
প্রতীক।
তিনি
বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যান্য অংশের মতো শিক্ষা ব্যবস্থাকেও
ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যকেও।
দেশের সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এমনভাবে অবহেলা করা হয়েছে, যেখান থেকে কর্মসংস্থান
ও স্বনির্ভরতার সুযোগ ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও হতাশাজনক। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে
জাতীয় ঐতিহ্য, তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে
নিয়ে গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে একটি টেকসই, বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী
কর্মপরিকল্পনা। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুনভাবে তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব
পালন করবে। দেশের প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে আসা লক্ষ-লক্ষ শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রিধারী
নয়; বরং কর্মদক্ষ, সৃজনশীল, প্রযুক্তিবান্ধব ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে
তুলবে। তারা হবে আগামীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং
জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহত বীরদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখা। কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির অনুমোদনক্রমে আগামী ৬ মাসের জন্য এই আংশিক আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে যাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে:
আহবায়ক: মো. সিরাজুল হক
সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক: মো. রেজাউল করিম
সদস্যসচিব: মাসুমুল বারী কাওসার
সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব: প্রকৌশলী কাজী মো. জায়েদ
সাংগঠনিক সম্পাদক: লোকমান হোসাইন
দপ্তর সম্পাদক: মুহাম্মদ মুজাহিদুল পাটোয়ারী
কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ অঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন করেন। আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রণয়ন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য নবগঠিত কমিটিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আজ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে।
সকাল ৯টায় আবেদন কার্যক্রম শুরু হয় এবং আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত।
এনটিআরসিএর উপ-সচিব ওবায়দুর রহমান জানায় ,আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীদের বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সী কেউ আবেদন করতে পারবেন না।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, আগ্রহী প্রার্থীরা www.ntrca.gov.bd ও www.ntrca.teletalk.com এ ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩ ধাপের বাছাইয়ের প্রথমেই দিতে হবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের নির্ধারিত স্ব স্ব বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
প্রার্থীদের প্রথম ধাপে ১০০ নম্বরের বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ ধাপে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এতে পাস নম্বর ৪০। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে ০.২৫ নম্বর কাটা হবে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ, স্থান ও সময়সূচি পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন


সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আগামীকাল
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সেনাকুঞ্জে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়া।
এর আগে সর্বশেষ ২০১২ সালে সেনাকুঞ্জে
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসনের
একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী এ বি এম আব্দুস সাত্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এবার প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন
বেগম খালেদা জিয়া।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায়
সেনাকুঞ্জের উদ্দেশে গুলশানের বাসা থেকে বের হবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
একজন বীর উত্তমের স্ত্রী বা বিরোধীদলীয়
নেতা হিসেবে বিগত সময়ে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তা এ দিবসের
আমন্ত্রণ জানালেও এবার লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তা সস্ত্রীক সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমন্ত্রণপত্র দেন।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, ২০০৯ সালের
পর এবারই প্রথম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এ বছর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে মোট ২৬ জন আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এর মধ্যে আরও রয়েছেন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান এবং
অন্য পদমর্যাদার সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


২৬ আগস্ট ২০২৪ দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।
এ দিনটিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিবিধ অনুষ্ঠান ও উপাসনালয় সমূহের বিশেষ নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর এ তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণ।
উল্লেখ্য যে, দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সংঘর্ষ ও অন্যায়কে পরাভূত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা। এই শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে এই সকলের প্রত্যাশা।
জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাশে আছে এবং থাকবে।
মন্তব্য করুন


পঞ্চম
দিনের মতো রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি
পেয়ে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩০টি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি
হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
বাঘাইছড়ি
পৌর এলাকার মধ্যমপাড়া, মাস্টারপাড়া, মুসলিম ব্লক, হাজীপাড়া, এফ ব্লক ও পূর্ব লাইল্যাঘোনা
এলাকা পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সাজেক, মারিশ্যা, বঙ্গলতলী, রূপকারী, খেদারমারা,
বাঘাইছড়ি, সারোয়াতলী ও আমতলী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।
জেলা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং
বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জেলায় ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে জেলার ৪৪টি
আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলাতেই প্রায়
আড়াই হাজার পানিবন্দি মানুষ রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের তিন বেলা খাবার সরবরাহ
করা হচ্ছে।
এদিকে
জেলায় এ পর্যন্ত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম
সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের মাটি সড়কে পড়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ
ছিল।
অন্যদিকে,
সাজেকে ঘুরতে যাওয়া পাঁচ শতাধিক পর্যটক দ্বিতীয় দিনের মতো সেখানে আটকা পড়েছেন। দীঘিনালা-সাজেক
সড়কের পাঁচটি স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় তারা সাজেক ত্যাগ করতে পারছেন না।
এছাড়া
দ্বিতীয় দিনের মতো জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
কাপ্তাইয়ে
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মধ্যে বিজিবি জোনের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করেন জোন কমান্ডার
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী।
এদিকে
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন
করেন। এ সময় তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


ভারতের
অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ পরিবার, বন্ধু ও প্রেমিকার
জন্য ব্যয় করার অভিযোগ উঠেছে এক কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম অবিনাশ শুক্লা। তিনি
মন্দিরের অনুদানের অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা আটজন কর্মীর একজন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট
সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অবিনাশ শুক্লা চুরি করা অর্থ থেকে নিজের ও পরিবারের জন্য
প্রায় ১৯ লাখ টাকা খরচ করার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে ভাইয়ের বিয়েতে প্রায় ৬ লাখ
টাকা ব্যয় এবং আরেক ভাইকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
সূত্র
জানায়, শুক্লা তার প্রেমিকাকে একটি আইফোন উপহার দিয়েছেন। এ ছাড়া তাকে প্রায় আড়াই লাখ
টাকা পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
লাখো
ভক্তের অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনায় পুলিশ এখন অর্থের উৎস, ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট
সম্পদের তথ্য যাচাই করছে। অভিযোগ গঠনের আগে এসব লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহ করতে তদন্ত
চলছে।
পুলিশের
নথি অনুযায়ী, শুক্লার বিরুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের
মধ্যে এ পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সর্বোচ্চ।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
মেলান্দহে ইঞ্জিনচালিত ট্রলি গাড়ি ও সিএনজিচালিত রিকশার (অটোরিকশা) মুখোমুখি সংঘর্ষে
অজ্ঞাত দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চার জন।
রোববার
(১৯ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেতমারী তালতলা এলাকায়
দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা
গেছে, দেওয়ানগঞ্জ থেকে ৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা জামালপুর শহরের দিকে রওনা দিয়ে
মেলান্দহ উপজেলার বেতমারী তালতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিকে একটি ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির
ট্রলি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় গুরুতর
আহত হন অটোরিকশায় থাকা ৫ যাত্রী। পরে আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে
নেওয়া হলে অজ্ঞাত দুই নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়।
আহতরা
হলেন- দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মজিবর রহমান (৫৫), জীবন মিয়া (৩৫) ও শফিকুল ইসলাম (৪০) ও
এনজিও কর্মী ফাতেমা আক্তার (৫২)।
জামালপুর
জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল কর্মকর্তা উজ্জল কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত
করেছেন।
মন্তব্য করুন


বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের এ তারকা বলেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানে আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’
সেটা
ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়াম, যেখানে ২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক
হয়েছিল নেইমারের। ৩৪ বছর বয়সী এ তারকা তখন স্পষ্ট করে কিছু না বলায় সমর্থকদের মনে হয়তো
একটু ক্ষীণ আশা থেকে গিয়েছিল। হয়তো ব্রাজিলের হয়ে আবার দেখা যাবে নেইমারকে!
না,
নেইমার নিজেই সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন। আজ কোপা সুদামেরিকানার নকআউট প্লে–অফে
ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪–২ গোলে জয়ের পর এ নিয়ে কথা বলেন নেইমার।
সেটার অবশ্য একটু পটভূমি আছে।
সাও
পাওলোয় খেলা ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার লুকাস মউরা সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্তে রেকর্ড’কে
দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘আশা’ প্রকাশ করেছিলেন, নেইমার ২০৩০ বিশ্বকাপেও
খেলবেন। সান্তোসের ম্যাচ শেষে এ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল নেইমারের কাছে।
মিক্সড
জোনে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ এই গোলদাতা বলেন, ‘মউরাকে ধন্যবাদ। কিন্তু
এটা ঘটবে না। জাতীয় দলে আমার সময় শেষ হয়েছে। ইতিহাস গড়েছি, সুখী ছিলাম। নিজের জীবন,
রক্ত—সবই দিয়েছি। হলুদ জার্সিতে সব সময় লড়াই করেছি। কিন্তু এখন
আর এসব চাই না।’
সান্তোসের
এই ম্যাচে ৪৫ মিনিটে নেইমার বদলি হয়ে মাঠে নামেন। বেশ ভালোই খেলেছেন বলে জানিয়েছে
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম। দেশের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমারের হলুদ জার্সিতে শেষ
গোলটিও বিশ্বকাপেই, নরওয়ের বিপক্ষে ২–১ গোলে হারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে
পেনাল্টি থেকে।
মন্তব্য করুন


বরিশাল
সদর উপজেলার চরমদি ইউনিয়নে এক অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার কষ্টের উপার্জনে গড়া মাছের
খামারে বড় ধরনের নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। পেনশনের টাকায় বাড়ির পাশের তিনটি পুকুরে মাছ
চাষ শুরু করার মাত্র দুই দিনের মাথায় দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলেছে
বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী
অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম মজুমদার জানান, দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে সম্প্রতি
তিনি অবসর নেন। অবসরের পর পাওয়া পেনশনের অর্থের একটি অংশ বিনিয়োগ করে তিনি বাড়ির পাশের
তিনটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও বড় মাছ অবমুক্ত করেন। অবসরজীবনে মাছ চাষের
মাধ্যমে বাড়তি আয়ের একটি স্বাবলম্বী উৎস গড়ে তোলাই ছিল তার লক্ষ্য।
কিন্তু
মাছ ছাড়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কে বা কারা তার তিনটি
পুকুরেই সুকৌশলে বিষ প্রয়োগ করে। বুধবার সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পানির
ওপরে ভেসে উঠেছে বিপুল পরিমাণ মৃত মাছের পোনা ও বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ। এই আকস্মিক
নাশকতায় তার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে
এমন অমানবিক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন অবসরপ্রাপ্ত
মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে গড়ে তোলা উদ্যোগ এভাবে ধ্বংস করে দেওয়ায় তারা হতবাক। স্থানীয়রা
দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ
বিষয়ে চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভুক্তভোগী আবুল কালাম মজুমদার এ
ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের
সঙ্গে তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন