

চব্বিশের
জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার
ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে
মৃত্যুদণ্ড এবং অপর পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
পলাতক তিন আসামী হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ
কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল
ইসলাম। এছাড়া আজকের রায়ে পলাতক আসামী সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে
ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছরের
কারাদণ্ড, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের
কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বিচারপতি
মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১
আজ সোমবার ( ২৬ জানুয়ারি ) এই রায় ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন রায় ঘোষণা সরাসরি
সম্প্রচার করে।
ট্রাইব্যুনালে
প্রসিকিউশনের পক্ষে এই মামলায় শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর
মিজানুল ইসলাম। সেই সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম, সহিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ
আল নোমানসহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে আসামি ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী
মো. জিয়াউর রশিদ এবং পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন
কুতুবউদ্দিন আহমেদ।
উল্লেখ্য,
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি
চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার,
মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহীদ হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
গত
১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শেষে এই মামলার
প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। এরপর শহীদ আনাসের
মা ও নানাসহ মোট ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। এই মামলায় সাক্ষ্য দেন
সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এই
মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামী হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন)
মো. আরশেদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার
সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম
মো. আখতারুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুল।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-৬ সংসদীয়
আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার
ইশরাক হোসেন। তিনি গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা
বিভাগীয় কমিশনার শফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
ঢাকা-৬ আসনে
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
তিনি জানান,
সব আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই
করে নিজেই তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।
মনোনয়নপত্র
জমা দেয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত
ভালো রয়েছে। এর আগেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে
আত্মবিশ্বাসী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত
হবে এবং সব রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।
তিনি বলেন,
প্রত্যেক নাগরিক যেন নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ও বিনা বাধায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের
প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচনের
চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হওয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙা হলেও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে।
তবে ঢাকা-৬ আসন নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী বলে জানান। তিনি বলেন, এই আসনের সব থানা
ও ওয়ার্ডের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
ঢাকা-৬ আসনের
ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্মরণ করেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার
বাবা মরহুম সাদেক হোসেন খোকা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ৩০০ ভোটের
ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।
নির্বাচন বানচালের
আশঙ্কা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত এ ধরনের আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে যেভাবে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল,
সেই ঐক্যের সামনে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।
তরুণ ভোটারদের
উদ্দেশ্যে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে তরুণরা প্রকৃত অর্থে
ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এ কারণে বিএনপি তরুণদের প্রস্তুত করতে বিভিন্ন কর্মশালা
ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ছাত্রদল ও যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলো এ কাজে সক্রিয়ভাবে
যুক্ত রয়েছে।
ইশরাক হোসেন
বলেন, তরুণদের প্রতি আমার আহ্বান আপনারা অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কোনোভাবেই আপনার
মূল্যবান ভোটটি মিস করবেন না। যাকে ভোট দেবেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
আমরা চাই জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটুক।
তিনি আরও বলেন,
ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোতে আইনের মাধ্যমে এবং ব্যালটের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়া
জরুরি। আমি যদি কোনো অন্যায় করি, আমাকেও যেন জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়। সে জন্য
তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে যমুনায় গেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি প্রতিনিধিদল।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন
পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৈঠকে আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে
জানা গেছে।
এর আগে, রবিবার
রাতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, সোমবার তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করবেন।সেখানে
নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের নানা বিষয় তারা তুলে ধরবেন।
এর আগে গতকাল
রবিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা সারা দেশে
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে পক্ষপাতের অভিযোগ করেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তিনি বলেন , নির্বাচনে ষড়যন্ত্র হতে পারে তাই সকাল বেলায় ভোট কেন্দ্রে আসলে হবে না। বাড়িতে তাহাজ্জতের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে এসে জামাতে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে এসে ভোট দিতে দাঁড়াতে হবে। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের বাক্স পাহাড়া দিতে হবে। রবিবার রাত পৌনে ১১টায় জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ফুলতলী মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রায় ২৩ মিনিটের বক্তব্যে তারেক রহমান খাল কাটা, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, দরিদ্র জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবায় হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন এবং ভাগ্যের পরিবর্তন করা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে এই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মানুষ আবারো জীবন দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলেরই ৪১৯ জন মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর বাইরে আরো সহস্রাধিক মানুষ জীবন দিয়েছে। জুলাই যোদ্ধারা আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যখন ছিল নারীদের ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থা করেছে। বহু কৃষকের ঋণ মওকুফ করেছে। বিএনপি দেশের এবং মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাসী। বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে কিভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়। কিভাবে ছাত্রদের বা যারা তরুণ যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাব। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আমরা কাজ করব। তিনি বলেন, আমরা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করতে চাই না। আমরা মানুষের উন্নয়নের কথা বলতে চাই। কিভাবে উন্নয়ন করতে হয় সেই পরিকল্পনা মানুষের সামনে তুলে ধরছি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে আশা নিয়ে ৫ আগষ্ট দেশের একটি পরিবর্তন করেছিল সেই লক্ষ্যে দেশকে স্বনির্ভর ও দেশের মানুষকে ভালো রাখতে বিএনপি ভোট দিতে হবে। আগামি ১২ ফেব্রুযারি কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ উপকৃত হবে এমন কাজ করবে। কিন্তু তারা আমাদের ভালো কাজেরও সমালোচনা করছে। নির্বাচনী শ্লোগান স্মরণ করিয়ে দিয়ে সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘করবো কাজ গরবো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা-৬ আসনে দলের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-৭ আসনের প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ, চাঁদপুর-১ আসনের প্রার্থী এহসানুল হক মিলন, চাঁদপুর সদর আসনের ফরিদ উদ্দিন মানিক, চাঁদপুর-৫ আসনের হারুনুর রশিদ, কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, দলের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন,
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের ত্যাগের বিনিময়েই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা
শুরু হয়েছে। এই বিপ্লবের চেতনা থেকেই আমরা বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং সবার বাংলাদেশ
গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের
শাপলা হলে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা
এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, আজকের এই আয়োজন
শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন বাংলাদেশের
একটি নতুন দিগন্ত। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের তরুণদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং
প্রতিভাকে সামনে আনার জন্য ‘নতুন কুঁড়ি’ এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল
বা অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে সারাদেশ থেকে নতুন কুঁড়িতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাছাই
করা হয়েছে। এই তরুণরাই নতুন বাংলাদেশের পতাকাকে বহন করবে। নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রম
দিয়ে আমাদের সংস্কৃতি, সমাজ ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জুলাই শহীদ ও আহতদের কাঙ্ক্ষিত
সেই বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং সবার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। বাংলাদেশ বহু সংস্কৃতির,
ঐতিহ্যের এবং ভাষার দেশ। দীর্ঘদিন ধরে এই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য আমরা উপভোগ করতে পারিনি,
উপলব্ধি করতে পারিনি। আমাদের অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং যাদের প্রান্তিক করা হয়েছে,
তাদের সাংস্কৃতিক পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সাংস্কৃতিক জায়গায় ফ্যাসিবাদ
চেপে বসেছিল। আমরা চাই এখন থেকে আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোতে জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে
সবাই জায়গা করে নিক। আমাদের সংস্কৃতির শক্তি হবে অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্য এবং মানবতার
সম্মিলন। সভ্যতা হবে এই বাংলার অববাহিকায় থাকা বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সম্পদের প্রতিফলন।
প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা যখন একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় আছি, তখন প্রাতিষ্ঠানিক
সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বিটিভি’কেও স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হচ্ছে; যাতে বিটিভি বাংলাদেশের
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। আমরা চাই বিটিভি কোনো দলের বা কোনো রাজনৈতিক
শক্তির স্বার্থের হাতিয়ার না হোক। বিটিভি’কে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে নতুন
রিয়েলিটি শো, ভিন্ন বয়স ও পটভূমির প্রতিযোগীদের নিয়ে নতুন নতুন অনুষ্ঠান চালু করা হবে।
আশা করি, এগুলো পরবর্তীতেও অব্যাহত থাকবে। এখন থেকে বিটিভি হবে সবার, সব দলের এবং সব
মানুষের।
বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তথ্য ও
সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, আমি বিজয়ী ‘নতুন কুঁড়ি’র প্রতিযোগীদের আন্তরিক
অভিনন্দন জানাই। প্রতিযোগিতায় যারা জয়ী হয়েছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চল
থেকে ধারাবাহিকভাবে যারা আজ এই মঞ্চে এসে পৌঁছেছেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। তোমাদের
প্রতিভা, নিষ্ঠা এবং উদ্ভাবনী শক্তি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচির উদ্বোধন করে বলেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ ছাত্র, জনতা, রিকশাচালক, শ্রমিকরা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন-সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে আমরা গত বছরের প্রতিটি দিনকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করব। এই অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে আবার নতুন করে শপথ নেব এবং এটা আমরা প্রতি বছর করব, যাতে স্বৈরাচার আর যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে।
আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ ইতিহাসের এক গৌরবময় ক্ষণ। এক বছর আগে, এই জুলাই মাসে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছিল তা এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান রচনা করে আমাদের মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল। জুলাই ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক অমোঘ ডাক, জনতার এক জাগরণ। সেই আন্দোলনের মর্মবাণী ছিল- “ফ্যাসিবাদের বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ, রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থাণের স্বপ্ন ছিল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এই মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করার যে অনুষ্ঠানমালা নিয়েছি, এটা শুধু ভাবাবেগের বিষয় নয়, ক্ষোভ প্রকাশের বিষয় নয়। আমরা ১৬ বছর পরে বিরাট বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং যে কারণে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তাৎক্ষণিক তাঁর যে লক্ষ্য ছিল সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। কিন্তু তাঁর পেছনে ছিল একটা বিরাট স্বপ্ন- নতুনভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণ, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ।
স্বৈরাচার যেন আর কখনও ফিরে আসতে না পারে সে বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা প্রতি বছর এই সময়টা উদযাপন করব যাতে পরবর্তীতে আবার এই অভ্যুত্থান করার জন্য ১৬ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়। আমরা প্রতি বছর এটা করব, যাতে স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন দেখা গেলেই তাৎক্ষণিক ভাবে আমরা তার বিনাশ করতে পারি।
সেটার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচি পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের প্রথম পাতা মেলার আগেই যেন আমরা তাকে ধরে ফেলতে পারি। ১৬ বছর যেন আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জুলাই গণঅভ্যুত্থাণে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে গভীর গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, সেই সব তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, রিকশাচালকদের—যারা রাস্তায় নেমে গণতন্ত্রের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিলেন; সাহস, ত্যাগ আর দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন’।
জুলাইকে ঐক্যের মাসে পরিনত করার আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, আমরা আজ মাসব্যাপী যে কর্মসূচির সূচনা করছি, তা শুধুই স্মরণ নয় বরং একটি নতুন শপথ। গত বছরের জুলাইয়ে এ দেশের সকল শ্রেণি-পেশা-বয়সের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, আমরা চাই, এই জুলাইয়ে সেই ঐক্য আবার সুসংহত হোক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য— জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দাবি জানানো এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া সংস্কারের এই সুযোগকে হারিয়ে না ফেলা। আমাদের সামনের পথ অনেক কঠিন, কিন্তু মস্ত বড় সম্ভাবনাও আছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো শক্তিই তাদের রুখে দিতে পারে না। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমি আপনাদের আহ্বান জানাই—আসুন, এই জুলাই মাসকে পরিণত করি গণজাগরণের মাসে; ঐক্যের মাসে’।
জুলাই-আগস্টের পুনরুত্থান কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের স্বপ্ন আবার নতুন করে জেগে উঠুক। আমাদের ঐক্য সর্বমুখী হোক, অটুট হোক আমাদের এই অনুষ্ঠানমালার লক্ষ্য।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দুবাইয়ে দ্য ওয়ার্ল্ড পুলিশ সামিট-২০২৪ এ যোগ দিতে দুবাই গেলেন ।
আইজিপি দুবাইয়ে ৫ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় দ্য ওয়ার্ল্ড পুলিশ সামিটে অংশগ্রহণ করবেন। সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুলিশ প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করছেন।
সোমবার (৪ মার্চ) রাতে সরকারি সফরে দুবাইয়ের উদ্দেশে তিনি ঢাকা ছেড়েছেন।
বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পুলিশ প্রধান এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেবেন।
আইজিপি সম্মেলন শেষে আগামী ৮ মার্চ দেশে ফিরার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চীনের পর এবার আসছে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল। বুধবার তারা ঢাকায়
আসবেন।
আজ
মঙ্গলবার ( ২ ডিসেম্বর ) দুপুরে হাসপাতালের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান খালেদা
জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
খালেদা
জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা দিতে চীনের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সোমবার (১
ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন। তারা ওইদিনই এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের
সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে দলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
যুক্তরাষ্ট্র,
চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত ইতোমধ্যে চিকিৎসা সহায়তার হাত বাড়িয়েছে জানিয়ে
অধ্যাপক ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার জন্য যে কথাটি আমি
পূর্বেও বলেছি, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ওনাকে দেখেছেন। আজও ইউকে থেকে ওনাকে দেখার
জন্য বিশেষজ্ঞ আসবেন এবং ওনারা দেখবেন। দেখার পর ওনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের
যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে-মেডিকেল বোর্ড যদি মনে করে, তখনই সেই যথাযথ সময়ে
ওনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে; কিন্তু
সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে- রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের
বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।
মন্তব্য করুন


মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্ত করেছেন।
একই সঙ্গে ১০ টাকা মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম ও ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ডও অবমুক্ত করেন তিনি।
আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এগুলো অবমুক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান ও ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস.এম. শাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টাকে একটি স্মারক ডাক বাক্স ও ‘ন্যাচারাল বিউটি অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ’শীর্ষক একট বই উপহার দেন।
মন্তব্য করুন


আজ
রোববার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং
২৬ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন চারজন।
সরকারি
হিসাবে এখন পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮৩৩ জন।
আর মোট মৃত্যু ২৯ হাজার ৫০৩ জন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন এমন মানুষের
সংখ্যা ২০ লাখ ১৯ হাজার ৪১০ জন।
গত
২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হয় ২৯১ জনের নমুনা।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনার ‘নির্মমতা ও পাশবিকতার’ বিচার একদিন হবেই এবং তাকে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, 'হাসিনা মানবজাতির কলঙ্ক, মায়েরদের কলঙ্ক। তার বিচার হবেই, ক্ষমা নেই।
আজ
রোববার (২০ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত একটি স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা—সবুজ পল্লবে স্মৃতি অম্লান’ শীর্ষক এ কর্মসূচিতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে মাজার প্রাঙ্গণে নিম গাছ রোপণ করা হয়।
এক শহীদ মায়ের আহাজারির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এক মা তার সন্তানের স্বপ্ন দেখেছিলেন—পরিবার দেখেছিল ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই সন্তানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পড়ে গেলে একটি ভ্যানে তোলা হয়, মরে গেছে কি বেঁচে আছে তা না দেখেই আরও লাশসহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এটা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না।'
তিনি আরও বলেন, '১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছি একটি স্বাধীন দেশের জন্য। অথচ সেই রাষ্ট্রের পুলিশ, প্রশাসন—যাদের বেতন আমরা দেই, তারা আজ আমাদের সন্তানদের হত্যা করছে, পুড়িয়ে মারছে। এটা নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, আর সেই অপরাধের দায় থেকে হাসিনা রেহাই পেতে পারেন না।'
এই ঘটনায় শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করে বিএনপি মহাসচিব জানান, দলীয়ভাবে একটি পুনর্বাসন ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'আজই আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বলব, যেন শহীদ ও আহতদের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়। এরইমধ্যে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা শুরু হয়েছে।'
অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জারিফ তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন