

জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দ্বিতীয় ধাপে জেলা প্রশাসক , পুলিশ সুপার এবং বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করতেই প্রশিক্ষণের জন্য নতুন করে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। ইটিআই-এর মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠি সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়।
গতকাল ইসি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সীমান্ত পারাপার চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার
করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। হাদিকে গুলির ঘটনায় এ নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা
হলো।
আজ
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত
কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায়
সন্দেহভাজনদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, রাজধানীর
পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় সন্দেহভাজনরা খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে
লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে রাজধানীসহ
দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না
পারে, সে জন্য তাদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা
জারি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত
কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা
করা হয়েছে। এরই মধ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে
লোক পারাপারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল
উদ্ধার করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেলের মালিককে র্যাব আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর
করেছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছে কি না—এমন
কোনো তথ্য এখনো ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে পাওয়া যায়নি। ফয়সাল করিম মাসুদের সর্বশেষ বিদেশ
যাত্রার তথ্য অনুযায়ী, তিনি জুলাই মাসে থাইল্যান্ড থেকে দেশে প্রবেশ করেন। এরপর তার
দেশত্যাগের কোনো রেকর্ড নেই।
হাদির
ওপর হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে এ কর্মকর্তারা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের একজন শীর্ষ সংগঠক
হিসেবে হাদি ছিলেন একটি পক্ষের প্রতিপক্ষ।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেই তাকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা চালানো
হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তিন দিনেও মামলা না হওয়ার বিষয় জানতে
চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা না হলেও আমরা জিডি করেছি। এখন বাদীপক্ষের
সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যদিও তারা রোগী নিয়ে ব্যস্ত, আমরা চেষ্টা করছি মামলার ড্রাফট
নিয়ে বাদীর স্বাক্ষর আনার। এটা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে।
নির্বাচনকালীন
সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকাতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট–টু’ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নজরুল
ইসলাম। তিনি বলেন, এই অভিযান শুধু ঢাকায় নয়,
সারাদেশে জোরদার করা হচ্ছে। যারা দুষ্কৃতকারী, অস্ত্রধারী কিংবা নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা
সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—তাদের আইনের আওতায় আনাই এই অভিযানের
মূল লক্ষ্য। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল বলেন, হাদি
একজন নন, দেশে হাজারো, লাখো জুলাইযোদ্ধা রয়েছেন। প্রত্যেকের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র ও রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি
যেসব সম্মুখসারির জুলাইযোদ্ধা উচ্চ ঝুঁকিতে
রয়েছেন, তাদের বিষয়ে আলাদা করে থ্রেট অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী হাই-প্রোফাইল
ও ঝুঁকিপূর্ণ জুলাই যোদ্ধার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ
সময় নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পুলিশ জানায়, কোনো এলাকায় সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী
বা অপরাধীর তথ্য পেলে তা দ্রুত পুলিশ বা ৯৯৯-এ জানানোর জন্য। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ
গোপন রাখা হবে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ
বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট আজ শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার
উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে। সারাদেশে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৫৮৫ সিঙ্গাপুরের
চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়
দুপুর ২টা ৩ মিনিটে) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা
করে। ফ্লাইটটি আজ সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের ফ্লাইট বিজি-৫৮৫ আজ
বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করেছে এবং শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ
নিয়ে সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শিশুরাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার। বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে শিশুদের সুন্দর বিকাশের জন্য গুরুত্ব প্রদান করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সোমবার (৭ অক্টোবর) ‘বিশ্ব শিশু দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষা, নিরাপত্তা, পুষ্টি ও সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই। শিশুরা স্নেহ, মমতা ও মুক্তচিন্তার চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে বেড়ে উঠলে আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীর শিল্পী, সাহিত্যিক, দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ নানা পেশায় দক্ষ হয়ে উঠবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার শিশুর প্রতি বঞ্চনা, শিশুশ্রম, অপুষ্টি ও বাল্যবিয়েসহ অন্যান্য সমস্যা যা শিশুর সঠিক বিকাশের অন্তরায়, সেসব চিহ্নিত করে সমাধান করতে বদ্ধপরিকর।
‘বিশ্ব শিশু দিবস ২০২৪' উদযাপনে নেওয়া কর্মসূচি শিশুর সার্বিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শিশু নিরাপদ ও নিবিড় স্নেহ যত্নে বেড়ে উঠুক- আজকের দিনে এটাই আমার প্রত্যাশা।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে “বিশ্ব শিশু দিবস ২০২৪” উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শিশুকে স্নেহ ও ভালোবাসা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঊষালগ্নে বিশ্ব শিশু দিবস পালনের গুরুত্ব নতুন মাত্রায় উপনীত হয়েছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের
অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম বলেছেন, আমাদের
অনিরাপদ করলে বাংলাদেশে ভারত
ও ভিনদেশের স্বার্থ রক্ষাকারীদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না।
আজ সোমবার
(১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয়
প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এই কথা
বলেন।
মাহফুজ
আলম বলেন, আমাদের হাতে যখন মুজিববাদী,
১৪ দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকের
বাড়ি চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা
ছিল, তখন আমরা নিজেদের
সংবরণ করার কারণে আজ
তারা এটি করার সাহস
করেছে। ক্ষমা করে যদি ভুল
করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নেব,
আর ক্ষমা করবো না।
তিনি
বলেন, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াই কেউ কেউ
দেশের বাইরে নিয়ে গেছে, তাদের
হুঁশিয়ার করতে চাই, মুক্তির
লড়াইও কিন্তু দেশের বাইরে যাবে।
মাহফুজ বলেন, আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। কোনো সুশীলতা করে লাভ নেই। অনেক ধৈর্য হয়েছে। অনেক রিকনসিলিয়েশন, অনেক কথা বলেছি। আমরা বলেছি, আইসিটি ট্রাইব্যুনালে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার করুন। কিন্তু একদিকে বিচার চলছে, অন্যদিকে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ভারত পালিয়ে আশ্রয় নেবেন, ভারত থেকে সন্ত্রাস করবেন, ভাইয়ের ওপর গুলি চালাবেন, আমরা এটা বরদাশত করব না।
বাংলাদেশে ভারতের এবং ভিনদেশিদের স্বার্থ যারা রক্ষা করবে, তাদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না। আমরা যদি নিরাপদ না থাকি, এই দেশে আমাদের শত্রুরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়াও দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।
আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তখন তিনি এসব কথা জানান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চলমান সংকট নিরসনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। আমাদের সমানে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাদের প্রতিহতের জন্য আমাদের অবশ্যই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় বৈঠকে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ড. খন্দকার মোশাররফ।
মন্তব্য করুন


রোববার ভোরে রাজধানীর পল্টনে বাস ও পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাকির হোসেন ভুইয়া (৫৪) নামে ১ বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।
রোববার (১৭ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে পল্টন মোড়ে।
মুমূর্ষু অবস্থায় জাকিরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জাকির মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নোয়াখালী সেনবাগ শাখার সেকেন্ড ম্যানেজার। তার বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায়। বর্তমানে দুই মেয়েসহ পরিবার নিয়ে তিনি রাজধানীর বাড্ডার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পাশের এলাকায় থাকতেন।
পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফউল্লাহ জানান, ভোরের দিকে পল্টন মোড়ে একটি ট্রাক ও ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে একটি রিকশাও চাপা পড়ে। এ সময় গুরুতর আহত হন রিকশাচালক ও এক আরোহী। খবর পেয়ে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন। রিকশাচালক স্বপন (৩৫) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনার পর ট্রাক ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক দুজনই পালিয়েছেন।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিরুল আমীন জানায়, পেঁয়াজ বোঝাই একটি ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় ট্রাকটি উল্টে পাশে থাকা একটি রিকশার ওপরে পড়ে। এতে রিকশায় থাকা ওই ব্যাংক কর্মকর্তা মারা যান। এ ঘটনার পরপরই দুটি যানবাহন পুলিশ জব্দ করলেও ট্রাক ও বাসের চালক এবং হেলপার পালিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা
নিয়ে তিন দিনের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন।
তিনি
আজ মঙ্গলবার ( ১৩ জানুয়ারি ) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের শিরোনাম ‘দক্ষিণ
এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন: উচ্চশিক্ষার অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা (সার্চে ২০২৬)’।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। সম্মানিত অতিথি
হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের
ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ
তানজিমউদ্দিন খান।
অনুষ্ঠানে
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাগণ, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, দেশি-বিদেশি
গবেষক ও শিক্ষাবিদ এবং কূটনীতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
ইউজিসি
কর্মকর্তারা জানান, হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের
আওতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি
এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
সম্মেলনে
যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০
জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ
করছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি সম্মেলন শেষ হবে।
এ
ছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিগণ,
বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
ইউজিসি
জানায়, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং সার্ক দেশগুলোর মধ্যে
ইউজিসির নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
তিন
দিনে মোট আটটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন আজ দুটি অধিবেশনে আলোচনা হবে—
‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা: শাসনব্যবস্থা, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি’
এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক সম্পৃক্ততা’
বিষয়ে।
দ্বিতীয়
দিনে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তি, ডিজিটাল
রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম, স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্প-একাডেমিয়া
সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথ: সহযোগিতা, সংহতি ও নেটওয়ার্কিং, উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে
অংশীজনদের সংলাপ: নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বর এবং হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে উপাচার্যদের
সঙ্গে সংলাপ।
শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর ‘ঢাকা উচ্চশিক্ষা ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।
মন্তব্য করুন


কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য দ্রুত মিশরের সঙ্গে
পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে
বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কূটনৈতিক
ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তির খসড়া অনুমোদনের জন্য
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিশরে পাঠানো হয়েছে। মিশরের পক্ষ
থেকে এটি অনুমোদিত হলে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হবে। তাছাড়া সাধারণ পাসপোর্টধারীদের
জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মিশরের
পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
ইস্যু, পুলিশের প্রশিক্ষণ, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস
দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক আইনি সহায়তা, সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা
বিনিময়সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূতকে
স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মিশর বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ।
দেশটি প্রাচীন সভ্যতা ও ইসলামি ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ নেটওয়ার্ক দমনের
বিষয়টি পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হতে হবে। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে
সহযোগিতা ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং পারস্পরিক আইনি
সহায়তা বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমানে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা
হুমকি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বড় ধরনের
কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে
একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ। কিছু রোহিঙ্গা সীমান্তে নিরাপত্তা সমস্যা
সৃষ্টি করছে।
উপদেষ্টা এ সময় মিশরকে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নৈতিক সহায়তার আহ্বান জানান।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে মিশর বাংলাদেশকে সহযোগিতা
করতে পারে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মিশরের সঙ্গে
ইসরায়েলের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বিরোধপূর্ণ সীমান্ত। তথাপি মিশরের
সীমান্তরক্ষী বাহিনী এটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করে আসছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কর্মশালা
ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এটি করা গেলে বিজিবি মিয়ানমার সীমান্তে আরও দক্ষতা ও নিপুণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে
সক্ষম হবে মর্মে আমি মনে করি।
এ সময় উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, গত ৫০ বছর
ধরে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক পারস্পরিক
শ্রদ্ধা ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে সেরা পুলিশ প্রশিক্ষণ
একাডেমি মিশরে অবস্থিত। মিশর বাংলাদেশকে পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা
করতে পারে। তাছাড়া মিশর বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল
গনি, জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব (রাজনৈতিক-১) মু. জসীম উদ্দিন খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক বি এম জামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা
বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে। সম্ভাব্য চুক্তিতে
মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা ও জ্বালানি
খাতে আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
আজ
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
তিনি
বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে
আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।
প্রসঙ্গত,
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’
ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে
তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য
দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে
হয়।
শুল্ক
কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন,
বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক
দেশে বেশি আছে। তবে, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে।
তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারব না; এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক
কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে
জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো
চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত
হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি
ভারত ইইউ-এর সঙ্গে একটি এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছে—
এটি নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখানে উদ্বেগের কিছু নেই।
আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম
রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ
রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত বেসিক
টেক্সটাইলে বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্ববাজারে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমরা কাঁচামালও
তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) অবস্থায়
আছে। তাদের উপকরণ উৎপাদন এবং নিজস্ব তুলাও আছে। ফলে ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং
পরিপূরক।
এলডিসি
থেকে উত্তরণের পর অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর পাশাপাশি নতুন শুল্ক যুক্ত হবে—সেক্ষেত্রে
এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন কিছু ভাবছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হ্যাঁ, আমরা
অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএ-র নেগোসিয়েশন শেষ করেছি।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি
বলেন, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা
করছি এই বছরের মধ্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে
আমরা এফটিএ-র প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব বাজারে আমরা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার
পাই, সবগুলোর কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। রমজানের
প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, রমজানের বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজানভিত্তিক
নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।
যুক্তরাষ্ট্র
থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিমান ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায়
আছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সাথে এই চুক্তির আগেও পরিকল্পনা ছিল। শুধু
বোয়িং নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা ছিল। সেটি এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে।
আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে যতদূর জানি, তাদের সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। বোয়িং
কতগুলো এবং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, দাম কী হবে এবং বিমানের ভেতরের কনফিগারেশন কেমন
হবে— এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।
এখানে
যুদ্ধবিমানও আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান
এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যু কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।
গত
ছয় মাসে রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে
পরিকল্পনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা পর্যালোচনা করেছি। বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ
ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই, সেই হিসেবে আমাদের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে,
আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ নয়, বরং ১.৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্লোবাল অ্যাভারেজের
চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।
যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তিতে থাকবে কি না—
জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন
বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে
শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা রপ্তানি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ
টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র
থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার এখনো
যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমাতে আগামী এক থেকে
দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, যাতে খরচ
হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে
গম আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি
তেল, ভোজ্যতেল ও তুলার আমদানি বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা হলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা জনমনে ভয় সৃষ্টি করছে। এ ধরনের তৎপরতা বন্ধে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে কী হতে পারে—এ নিয়ে বাইরে থেকে মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচনী প্রচারে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, কিছু এলাকায় প্রার্থীরা সীমা অতিক্রম করছেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান এবং বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
মন্তব্য করুন