

সূর্য
ও পৃথিবীর মধ্যকার কক্ষপথে চাঁদ এসে পড়লে চাঁদের ছায়ায় পৃথিবীর একটা অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে
যায়।
সোমবার
(৮ এপ্রিল) বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আর এদিন
ভরদুপুরে চাঁদের ছায়া সূর্যকে প্রায় ৪ মিনিট সম্পূর্ণ ঢেকে রাখবে।
ব্রহ্মাণ্ডের এই প্রাকৃতিক ঘটনায় চাঁদ যখন পৃথিবী
ও সূর্যের মাঝে চলে আসবে, সে সময়ে চাঁদের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ২ হাজার ৪০০
কিলোমিটার।
নাসা
বলছে, আগামী ৮ এপ্রিল মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা
৭ মিনিটে প্রথম সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এছাড়া আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো, পশ্চিম
ইউরোপ প্যাসিফিক, আটলান্টিক, আর্কটিক, আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের উত্তর পশ্চিম
অঞ্চল থেকেও মহাজাগতিক এ দৃশ্য দেখা যাবে। তবে বাংলাদেশ থেকে এ পূর্ণগ্রাস
সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না।
এবারের
এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যকে ৪ মিনিটের জন্য পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে। এ
সময় দিন হবে রাতের মতো অন্ধকার। ফলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এইদিন গ্রহণ অঞ্চলে
শতাধিক গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং এইসব দুর্ঘটনায় মারা যেতে পারেন সহস্রাধিক
মানুষ। এমনকি এর ফলে বেশকিছু রাজ্যের স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, মেক্সিকোর স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে ধীরে ধীর
সূর্যকে ঢাকতে থাকবে চাঁদ। তবে পূর্ণগ্রাস শেষ হবে ৩টা ৩৫ মিনিটে। প্রায় চার মিনিট
স্থায়ী হতে পারে মহাজাগতিক ঘটনাটি। এ ধরনের বিরল আরেকটি ঘটনা দেখতে মানবজাতিকে
অপেক্ষা করতে হবে ২০৪৪ সাল পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে
সবশেষ সূর্যগ্রহণ ছিল ২০১৭ সালে। মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে আরেকটি পূর্ণগ্রাস
সূর্যগ্রহণ অস্বাভাবিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৭ এর আগে সূর্যগ্রহণ ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে
এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরের সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৪৪ সালের আগস্টের পর।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন।
আজ সোমবার (১১ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা
৭টা ৫০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটি কুয়ালালামপুরে অবতরণ
করে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ
তথ্য জানানো হয়। এর আগে দুপুর ২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি
ঢাকা ছাড়েন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
মালয়েশিয়া সফরে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই ও তিনটি নোট বিনিময় হবে। তবে প্রধান উপদেষ্টার
মালয়েশিয়া সফরে কর্মী নিয়োগ ও বিনিয়োগ প্রাধান্য পাবে।
রোববার (১০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার
প্রেস উইং থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ১১ থেকে ১৩ আগস্ট প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়া সফর করবেন। প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফরে
কর্মী নিয়োগ ও বিনিয়োগ প্রাধান্য পাবে। মালয়েশিয়ায় কীভাবে আরও জনশক্তি বাড়ানো যায়,
সে বিষয়ে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় যেসব কোম্পানি আছে,
কীভাবে তাদের বিনিয়োগ আনা যায় সেই চেষ্টা থাকবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের
আমন্ত্রণে উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেদেশে সফরে গেছেন। আগামী ১২ আগস্ট পুত্রজায়ায়
দুদেশের সরকারপ্রধান বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই
ও তিনটি নোট বিনিময় হবে।
যে সব বিষয় সমঝোতা স্মারক সই হবে-
সেগুলো হলো- ১. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ২. জ্বালানি সহযোগিতা। ৩. বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) ও মেমোসের (মালয়েশিয়ান কোম্পানি) মধ্যে সমঝোতা সই। ৪. বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (আইএসআইএস) মধ্যে সমঝোতা সই। ৫. ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ও মালয়েশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমআইসিসিআই) মধ্যে সমঝোতা সই। যে তিনটি বিষয়ে নোট বিনিময় হবে, সেগুলো হলো- ১. হালাল খাদ্য ব্যবস্থাপনা। ২. ফরেন সার্ভিস একাডেমি ও ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড ফরেন রিলেশানসের (আইডিএফআর) মধ্যে সহযোগিতা। ৩. দুদেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা।
মন্তব্য করুন


সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল
কোঅপারেশন অনকোলজির (এসএফও) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকায়
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন তিনি।
এ সময় তিনি সার্ক ফেডারেশন অব অনকোলজিস্টসের (এসএফও) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. এবিএমএফ
করিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের অভিজ্ঞতার কথা
উল্লেখ করেন।
এ সময় নিজের ছোটভাই বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক,
সমালোচক ও খ্যাতনামা টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে স্মরণ করেন অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাইয়ের ক্যান্সার শনাক্ত ও চিকিৎসার সময় তাঁর পুরো পরিবারকে কী
ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল সেসব অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। সেসময় ডা. করিম কীভাবে
তাঁর চিকিৎসায় সাহায্য করেছিলেন সে কথা উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ক্যানসার চিকিৎসায় যে প্রযুক্তিগত
সহায়তা প্রয়োজন, তা এখনো আমরা পাচ্ছি না। সার্ক যে ক্যান্সার চিকিৎসাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব
দিচ্ছে এটা অত্যন্ত জরুরি ও অনুপ্রেরণামূলক।
দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলো সার্ককে সক্রিয়
করে তোলার মধ্য দিয়ে লাভবান হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সার্ক আমার কাছে
বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই সার্ককে সক্রিয়
করার বিষয়ে বলেছি। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার কিছু ইস্যুর জন্য সার্ক সক্রিয় হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, আমি মনে করি, দুটি দেশের
মধ্যেকার সমস্যা অন্য দেশগুলোকে প্রভাবিত করা উচিত না। প্রতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা
যদি সাক্ষাৎ করেন, একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন তাহলে গোটা বিশ্বের কাছে বার্তা যায় যে
আমরা একসঙ্গে আছি। এটা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে বিশ্বের কাছে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন
করবে এবং এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজকের কনফারেন্সের
মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সার্ক সক্রিয় করতে আবারও আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানের যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান (সিজেসিসি) জেনারেল
সাহির শামশাদ মির্জা গতকাল (শনিবার) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে তাঁরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন
বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক
সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেনারেল মির্জা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নানা খাতে সহযোগিতা
আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য,
যোগাযোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
‘আমাদের দুই দেশ একে অপরকে সহায়তা করবে,’ বলেন জেনারেল
মির্জা।
তিনি আরও জানান, করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে দুইমুখী
নৌপথ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা-করাচি আকাশপথও চালু হবে।
দুই পক্ষ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে উত্তেজনা প্রশমনের
প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের
অপব্যবহারের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার প্রবণতার চ্যালেঞ্জ নিয়েও মতবিনিময়
হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য
এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই বিপদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা
ড. খলিলুর রহমান, সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে
নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
মন্তব্য করুন


উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
কিন্তু সোমবার (৮ এপ্রিল) শুরু হওয়া মহাজাগতিক এই দৃশ্য সরাসরি দেখা যাচ্ছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে।
সোমবার মহাজাগতিক এই দৃশ্য সরাসরি দেখা যাচ্ছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে।
মেক্সিকোর স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১১টা (বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১১টা) থেকে বিরল এ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
এরপর চাঁদের ছায়া ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে দৃশ্যমান হবে এ সূর্যগ্রহণ।
তবে সূর্যগ্রহণের সময় বাংলাদেশে রাত হওয়ায় বাংলাদেশ বা এশিয়ার অন্য জায়গা থেকে এটি দেখা যাবে না। কিন্তু মহাকাশপ্রেমীরা এ বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন নাসার ওয়েবসাইট লিংকে।
মন্তব্য করুন


থার্মোমিটারের পারদ ৪৮ ডিগ্রিতে উঠে যাচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দেশ মালিতে।তার সঙ্গে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। গরমের দেশ হলেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন গরম পড়েছে অনেক বেশি।
তীব্র গরমে দেশটির কিছু অংশে এখন রুটি ও দুধের চেয়ে বরফের টুকরার দাম বেশি।
নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় চলছে না ফ্রিজ। তার ফলে খাবার সংরক্ষণের জন্য বরফ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
গরমে স্বস্তি পেতে পানি ঠাণ্ডা করার জন্যও বরফের দরকার পড়ছে।
মালির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
গত মার্চ থেকে মালির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে গেছে, এতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্ক ও তরুণরা।
বামাকোর ইউনিভার্সিটি হসপিটালে কর্মরত অধ্যাপক ইয়াকুবা তোলোবা বলেন, আমরা প্রতিদিন গড়ে ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখছি। অনেক রোগী ডিহাইড্রেটেড হয়- প্রধান লক্ষণগুলি কাশি এবং শ্বাসনালী বন্ধ। কারও কারও শ্বাসকষ্টও রয়েছে।
তবে সতর্কতা হিসেবে কিছু এলাকার স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সেনেগাল, গিনি, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, নাইজার ও সাদের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহ প্রভাব ফেলছে।
মন্তব্য করুন


বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজনে মাছ-মাংস না থাকার কারণে কনেপক্ষকে
মারধর করে বিয়ে বাতিল করেছে বরপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
খবরে বলা হয়েছে, অভিষেক শর্মা নামের বর আনন্দনগরের বাসিন্দা দীনেশ শর্মার মেয়ে
সুষমাকে বিয়ে করতে আসেন। তবে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, এমনকি মালা বিনিময়ের অনুষ্ঠানও
সম্পন্ন হয়েছিল। বরপক্ষ যখন জানতে পারে যে খাবারের মেনুতে কোনো আমিষ খাবার
নেই, তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
বর
অভিষেক শর্মা, তার বাবা সুরেন্দ্র শর্মা ও অন্যান্য আত্মীয়রা কনেপক্ষকে অকথ্য ভাষায়
গালিগালাজ করে এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে।
এই মারধরের ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, উভয়পক্ষ হাতাহাতি ও কিলঘুষি
করছে এবং চেয়ার ছুড়ে মারছে। এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পর বর অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে
যান এবং বিয়ে বাতিল করা হয়।
কনের পরিবার বরপক্ষের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনা ও যৌতুকের অভিযোগ দায়ের
করে। অভিযোগে বলা হয়, বরপক্ষকে প্রায় ৫ লাখ রুপি এবং সোনার আংটি যৌতুক হিসেবে
দেওয়া হয়েছিল।
কনের বাবা দীনেশ শর্মা পুলিশের কাছে জানান, যৌতুকের পাশাপাশি একটি
গাড়ি কেনার জন্য বরকে সাড়ে ৪ লাখ রুপি দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র : এনডিটিভি
মন্তব্য করুন


ঈদুল আযহা উপলক্ষে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে
অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে
ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (১৯ জুন) প্রতিবেদনে (খবর এক্সপ্রেস
ট্রিবিউনের) বলা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে অতিরিক্ত খাবার
খেয়ে ১২০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি ঈদে অতিরিক্ত আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে সড়ক
দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৫০০ জন। তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ
অসিম জানান, শুধু পেশোয়ারে ২৪ ঘণ্টায় পাকস্থলী ও অন্ত্রের রোগে ৬১০ জন আক্রান্ত হওয়ার
তথ্য জানা গেছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই অতিরিক্ত খাবার ও মাংস খেয়েছেন। আর পাঞ্জাব
প্রদেশের ৬টি বড় হাসপাতালে ঈদের ছুটির সময় ২ হাজার ২০০ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে
১৮০ জন পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা, ডায়রিয়া ও পেটের ব্যথা নিয়ে আসেন। একইভাবে লাহোরের
জিন্নাহ হাসপাতালে ১৩০ জনেরও বেশি রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। এ ছাড়া লাহোরের সার্ভিসেস
হাসপাতাল, গঙ্গা রাম এবং মেয়ো হাসপাতালের প্রতিটিতে ১০০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ঈদুল আজহা উদযাপনে নাগরিকদের পরিমিতভাবে
মাংস খাওয়া এবং অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ নারী নেতৃবৃন্দের জন্য আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম ‘সাউথ এশিয়া ইয়ং উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট একাডেমি’তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লার উদীয়মান নারী নেত্রী সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী।
সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (IDEA) এই ফেলোশিপের আয়োজন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন (UN Women)-এর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের তরুণ নারী নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।
ফেলোশিপটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্ব বিকাশ, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী বলেন, “আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আমার জন্য গৌরব ও সম্মানের। দেশের তরুণ নারীদের অবস্থান ও সক্ষমতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার এই দায়িত্ব আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব ইনশাআল্লাহ। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে সমৃদ্ধ করবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব গঠনে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করবে।”
সুমাইয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল গবেষক এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য-প্রযুক্তি সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মহানগর মহিলা দলের সহ-সভাপতি এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের তরুণ রাজনৈতিক ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সুমাইয়া ইতোমধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
এই ধরনের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণ নারীদের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতাকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরছে। সুমাইয়া বিনতে হোসাইনীর মতো নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ নারীরা আগামী দিনের পরিবর্তনের রূপকার হয়ে উঠবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের মানুষের।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার বাংলাদেশের কর্মকর্তা, এনজিও এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে
বাকুতে কপ২৯ সম্মেলনে দেশের জলবায়ু সংকটের উদ্বেগ তুলে ধরতে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালাতে
বলেছেন।
জাতিসংঘের
বার্ষিক জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে আজারবাইজানের রাজধানীতে
পৌঁছার পরপরই বাকুতে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি
বাকুর একটি হোটেলে সমন্বয় সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে বলেন, আমাদের প্রধান প্রচেষ্টা
হবে আমাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলি কপ২৯-এর চূড়ান্ত ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত করা’।
বৈঠকে
পরিবেশ সচিব ফারহিনা আহমেদ সম্মেলনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান
সম্পর্কে কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
তিনি
বলেন, বাংলাদেশ শীর্ষ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষতি ও প্রশমন এবং শুধু রূপান্তর ও
অভিযোজন প্রক্রিয়াসহ সকল প্রধান ক্ষেত্রে আলোচনার জন্য নয়টি দল গঠন করেছে। বাংলাদেশের
অন্তত ২৯টি এনজিও এবং সুশীল সমাজ গোষ্ঠী কপ২৯-এ যোগ দিচ্ছে। গ্লোবাল নর্থের ধনী দেশগুলোর
আশ্বাস সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান এবং ২৫০ মিলিয়ন
মার্কিন ডলার ঋণ জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে পেয়েছে।
এর
আগে বিকেল ৫.১৫ মিনিটে স্থানীয় সময় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
বাকু পৌঁছান।
তিনি
আগামীকাল (মঙ্গলবার) কপ২৯-এর মূল শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।
মন্তব্য করুন


পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য ‘শূন্য বর্জ্য ও শূন্য কার্বন’-এর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন জীবনধারা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
বুধবার (১৩
নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ২৯-এর ওয়ার্ল্ড লিডারস ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি আহ্বান করেন।
একটি নতুন পৃথিবী গড়ার লক্ষে তিনটি শূন্যভিত্তিক তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের কথাও উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের আরেকটি সংস্কৃতি গঠন করতে হবে। একটি ভিন্ন জীবনধারার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি পাল্টা সংস্কৃতি গড়তে হবে। এটি হবে শূন্য বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে। এ সংস্কৃতি নিত্য পণ্যের ব্যবহারকে সীমিত করবে, কোন বর্জ্য অবশিষ্ট রাখবে না। এ জীবনযাত্রাও হবে শূন্য কার্বনের ওপর ভিত্তি করে যেখানে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি থাকবে না, শুধুমাত্র পুনঃনবায়নযোগ্য শক্তি থাকবে। এতে এমন একটি অর্থনীতি হবে যা প্রাথমিকভাবে সামাজিক ব্যবসার মতো ব্যক্তিগত পর্যায়ে শূন্য মুনাফার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। সামাজিক ব্যবসার একটি বিশাল অংশ পরিবেশ ও মানবজাতির সুরক্ষায় মনোযোগ দেবে। সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জীবন কেবল সুরক্ষিতই হবে না, গুণগতভাবে উন্নত হবে। এটি যুবকদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজতর করবে। উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন শিক্ষার মাধ্যমে তরুণরা প্রস্তুত হবে। চাকরিপ্রার্থী তৈরির শিক্ষা উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক শিক্ষা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
পরিবেশের সুরক্ষার জন্য একটি নতুন জীবনধারার প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, নতুন জীবনধারা চাপিয়ে দেয়া হবে না, এটি হবে পছন্দ বেছে নেওয়া। তরুণরা সে জীবনধারাকে পছন্দ হিসেবে বেছে নেবে। প্রতিটি যুবক তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে। এগুলো হচ্ছে- শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শুধুমাত্র সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলার মাধ্যমে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ও নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত করার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব। প্রত্যেক মানুষ তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং সারাজীবন তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে থাকবে। এটি নতুন সভ্যতা গড়ে তুলবে। এটা করা যেতে পারে আমাদের যা করতে হবে তা হল এ গ্রহের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন জীবনধারা গ্রহণ করা যেখানে সবাই বসবাস করে। আজকের তরুণ প্রজন্ম বাকিটা করবে। তারা তাদের আমাদের গ্রহকে ভালোবাসে। আমি আশা করি আপনারা এ স্বপ্ন দেখায় আমার সাথে যোগ দেবেন। আমরা যদি একসাথে স্বপ্ন দেখি তবে তা সম্ভব হবে। জলবায়ু সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং সে কারণে মানব সভ্যতা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানুষ আত্ম-বিধ্বংসী মূল্যবোধের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আত্ম-রক্ষাত্মক ও আত্ম-শক্তিবর্ধক একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের জন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক ও যুব শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা, এই গ্রহের মানব বাসিন্দারা এই গ্রহের ধ্বংসের কারণ। মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করছে এবং তারা এমন একটি জীবনধারা বেছে নিয়েছে যা পরিবেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। তারা এটিকে একটি অর্থনৈতিক কাঠামো দিয়ে ন্যায্যতা দেয়, যা এ গ্রহ ব্যবস্থার মতো প্রাকৃতিক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অর্থনৈতিক কাঠামো সীমাহীন খরচের ওপর ভিত্তি করে চলছে। আপনি যত বেশি ব্যবহার করবেন তত বেশি প্রবৃদ্ধি পাবেন। যত বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবেন, তত বেশি অর্থ উপার্জন করবেন। সর্বাধিক মুনাফা অর্জনকে সিস্টেমের সবকিছুকে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভূমিকা পালনের শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন